উন্নত করার কিছু দেখছেন? একটি পরিবর্তন প্রস্তাব করুন।
ইউরোপজুড়ে সারা বছরই ফুটবল নিয়ে এক ধরণের উন্মাদনা কাজ করে। বারগুলোতে খেলা দেখানো হয়, বিশাল সব স্টেডিয়ামে ম্যাচের আয়োজন হয়; রেলওয়ে স্টেশন ও মহাসড়কের বিশ্রামাগারগুলোতে ভিড় জমায় হাজার হাজার সফরকারী সমর্থক। পার্ক কিংবা রাস্তায় শিশুরা ফুটবল নিয়ে মেতে থাকে; আবার অতিরিক্ত ওজনের প্রাপ্তবয়স্করা স্থানীয় কোনো পাব টিমে বাজে ফুটবল খেলে ঘরে ফিরে টিভির পর্দায় খেলা দেখে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন—"ওই জায়গা থেকে তো আমার দাদিও গোল করতে পারতো!" ফুটবল একটি বৈশ্বিক খেলা হলেও দুটি বিষয় ইউরোপকে বাকি বিশ্ব থেকে আলাদা করে তোলে। প্রথমটি হলো এখানকার শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোর আধিপত্য—যারা প্রায়শই নিজেদের সামর্থ্যের বাইরের অর্থ ব্যয় করে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দলে ভেড়ায়। দ্বিতীয়টি হলো ফুটবল কাঠামোর গভীরতা ও ব্যাপকতা; যার ফলে এমনকি নিচের স্তরের ক্লাবগুলোরও রয়েছে শক্তিশালী স্থানীয় সমর্থকগোষ্ঠী।
এর অর্থ হলো ইউরোপে "ফুটবল" বলতে সর্বদাই সকারকে বোঝায়—এমনকি যেসব দেশে রাগবি খেলার প্রচলন ও জনপ্রিয়তা রয়েছে সেখানেও।
জানুন
ইউরোপে ফুটবল নামমাত্র একটি শীতকালীন খেলা, কিন্তু বাস্তবে জুলাইয়ের শেষে মাত্র এক সপ্তাহের বিরতি থাকে। আগস্টে ক্লাবের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচগুলো শুরু হয় এবং এর পর মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত নিয়মিত মৌসুম চলে। পুরো মৌসুমজুড়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতে থাকে, যা জুন বা জুলাইয়ে টুর্নামেন্টে গিয়ে চূড়ান্ত রূপ নেয়। এর পরেই আবার নতুন করে সবকিছু শুরু হয়।

"আমার দাদিও ওখান থেকে গোল করতে পারতো!" (ছবি: Ronnie Macdonald, CC BY 2.0)
আন্তর্জাতিক ম্যাচসমূহ: ফিফার ইউরোপীয় শাখা উয়েফার অধীনে ৫৫টি দেশ যুক্ত রয়েছে এবং এদের সবাই (এমনকি ক্ষুদ্রতম দেশগুলোও) বিশ্বকাপ ও ইউরো প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বে অংশ নেয়। এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যুক্তরাজ্য একটি সম্মিলিত দল হিসেবে খেলে না, বরং ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড আলাদা আলাদা দল হিসেবে খেলে থাকে। তবে অলিম্পিকের জন্য মাঝেমধ্যে যুক্তরাজ্য বা গ্রেট ব্রিটেনের নামে যে দল গঠন করা হয়, তবে প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরপরই তা ভেঙে দেওয়া হয়।
বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট চূড়ান্ত পর্বের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়, যা অতি সম্প্রতি ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এতে ইউরোপের ৫৫টি দেশের মধ্যে ১৬টি দেশ খেলার সুযোগ পায়। পরবর্তী চূড়ান্ত পর্ব ২০৩০ সালে (মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনে), এরপর ২০৩৪ সালে এবং এভাবে চলতে থাকবে, যা গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের সাথে দুই বছরের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হয় এবং এই চক্রটি অন্যান্য প্রতিটি ফুটবল টুর্নামেন্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে আবর্তিত হয়। নারীদের বিশ্বকাপ পুরুষদের বিশ্বকাপের ঠিক এক বছর পর অনুষ্ঠিত হয়।
ইউরোপের অভ্যন্তরে পুরুষদের জাতীয় দলের জন্য শীর্ষস্থানীয় টুর্নামেন্ট হলো ইউরো বা উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। এর সর্বশেষ চূড়ান্ত পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৪ সালে জার্মানিতে, যেখানে ২৪টি দেশ মূল পর্বে অংশ নেয়। পরবর্তী আসরটি ২০২৮ সালে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে এবং এরপর ২০৩২ সালে ইতালি ও তুরস্কে অনুষ্ঠিত হবে। এএই বছরগুলোতে অলিম্পিকও অনুষ্ঠিত হবে, তবে সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যাতে দুটি ইভেন্টের সময়সূচির সংঘর্ষ না ঘটে। অন্যদিকে নারী ইউরো অনুষ্ঠিত হয় পুরুষদের ইউরোর ঠিক এক বছর পর, যার পরবর্তী চূড়ান্ত পর্বটি ২০২৯ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বকাপ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্যবর্তী বিরতির বছরগুলোতে জাতীয় দলগুলোর জন্য খেলার মতো কোনো প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রাখা এবং প্রতিযোগিতাহীন প্রীতি ম্যাচের সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যেই মূলত উয়েফা নেশনস লিগ আয়োজন করা হয়। এতে দলগুলোকে তাদের দক্ষতা অনুযায়ী চারটি স্তরে ভাগ করা হয় (যেখানে পদোন্নতি ও অবনমনের ব্যবস্থা রয়েছে) এবং প্রতিটি স্তরকে আবার চারটি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়। শীর্ষ স্তরের বিজয়ী দলগুলো এরপর শিরোপার জন্য লড়াই করে; যদিও এই শিরোপা জয়ের বিষয়টি খুব একটা মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয় না, তবে কোনো দল বা কোচ যদি এতে বাজে পারফরম্যান্স করে তবে তাদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে দাঁড়ায়।
ক্লাব ম্যাচগুলো হলো এই খেলার প্রাণ এবং ভ্রমণের একটি বড় কারণ; কারণ সমর্থকরা নিজেদের দেশের সীমানা ছাড়িয়ে দূর-দূরান্তেও ছুটে যান। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ম্যাচের সূচি ঘোষণার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সমর্থকরা হন্যে হয়ে খোঁজখবর শুরু করে দেন ("স্কেন্ডারবেউ জায়গাটা আসলে কোথায়?"), কিন্তু ততক্ষণে রায়ানএয়ার তাদের টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে নিচের স্তরের ম্যাচগুলোর ক্ষেত্রে যেখানে বিশাল জনসমুদ্রের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না, সেখানে ফুটবল ম্যাচ দেখা স্থানীয় জীবনযাত্রার সাথে মিশে যাওয়ার চমৎকার মাধ্যম হতে পারে। নিচে দেওয়া নিরাপদ থাকুন বিষয়ক অংর্শটি দেখুন; তবে একা ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো নিজেকে নিরপেক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা, যাতে আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট দলের বিশেষ করে "সফরকারী" সমর্থক হিসেবে মনে না হয়। "কিন্তু স্কেন্ডারবেউতে এসে আপনাদের বিখ্যাত দলটির খেলা না দেখে কীভাবে যেতে পারি?" — এই কথাটি কেবল তখনই বলবেন যদি কোনো রকম বাঁকা হাসি বা ব্যঙ্গ ছাড়াই তা বলতে পারেন। ইউরোপীয় ক্লাব টুর্নামেন্টগুলো ঘরোয়া লিগের পরিবর্তে নয়, বরং ঘরোয়া লিগ খেলার পাশাপাশি প্রতি বছর আয়োজিত হয়, যেখানে আগের মৌসুমে স্ব-স্ব লিগের শীর্ষ স্থানে থাকা দলগুলো অংশগ্রহণ করে। যোগ্যতা অর্জনের স্থানের সংখ্যা উক্ত লিগের শক্তির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়; উদাহরণস্বরূপ, জার্মানির বুন্দেসলিগার জন্য সাতটি স্থান রয়েছে, যেখানে আলবেনিয়ার ক্যাটেগোরিয়া সুপিরিওরের রয়েছে চারটি স্থান বরাদ্দ থাকে। এসব টুর্নামেন্টে খেলার মতো অবস্থান নিশ্চিত করা শীর্ষ ক্লাবগুলোর জন্য আর্থিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এটি ঘরোয়া লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও তাদের পুরো মৌসুমের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রাখে।
ইউরোপীয় এই ম্যাচগুলোকে তিনটি স্তরবিশিষ্ট একটি একক টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করাই সবচেয়ে সহজ। শুরুতে একটি প্রাথমিক নক-আউট পর্ব থাকে যার মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোকে বাদ দেওয়া হয়, উচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের দলগুলো অবশ্য এই ধাপ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়; এরপর থাকে লিগ পর্ব যেখানে বিভিন্ন স্তরের মধ্যে দলের ওঠানামা ঘটে এবং সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় চূড়ান্ত নক-আউট পর্ব। এর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরটি হলো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ। দ্বিতীয় স্তরটি উয়েফা ইউরোপা লিগ এবং তৃতীয় স্তরটি উয়েফা কনফারেন্স লিগ। নারীদের জন্যও সমান্তরাল টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে।
ঘরোয়া লিগগুলো সাধারণত 'রাউন্ড-রবিন' পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়; এতে প্রতিটি দল অন্য সব দলের বিপক্ষে অন্তত একবার করে নিজেদের মাঠে এবং একবার প্রতিপক্ষের মাঠে খেলে, যা ছোট লিগগুলোর ক্ষেত্রে ম্যাচের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বিভিন্ন স্তরের মধ্যে দলগুলোর উন্নীতকরণ ও অবনমন ব্যবস্থা থাকে, যা টেবিলের একদম শীর্ষে ও তলানিতে থাকা দলগুলোর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে হতে পারে, আর অন্যান্য দলগুলোর জন্য প্লে-অফের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। ২০২০-এর দশকে অনেক দেশ তাদের প্লে-অফ পর্ব সম্প্রসারণ করেছে, যাতে পয়েন্ট তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যকার গুরুত্বহীন বা "ডেড-রাবার" ম্যাচের সংখ্যা যথাসম্ভব কমানো যায়।
অধিকাংশ দেশেই একটি "কাপ" টুর্নামেন্ট থাকে, যা একটি সাধারণ নক-আউট প্রতিযোগিতা। উচ্চস্তরের ক্লাবগুলো প্রাথমিক রাউন্ডগুলো এড়িয়ে সরাসরি পরের রাউন্ডে খেলতে পারে, তবে এর বাইরে কোনো সিডিং ছাড়াই র্যান্ডম ড্রয়ের মাধ্যমে দল নির্ধারিত হয়। ফলে বড় বড় ক্লাবগুলো শুরুতেই একে অপরকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয়, অন্যদিকে কোনো অখ্যাত শহরের দল ভাগ্যের জোরে টানা জয় পেয়ে কোনো বিখ্যাত প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেয় এবং শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিছু দেশে দুটি কাপ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়, একটি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং অন্যটি কেবল পেশাদার ক্লাবগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এই কাপ টুর্নামেন্টগুলোর মাধ্যমেই ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব হয়।
একবিংশ শতাব্দীতে নারী ফুটবলের অগ্রগতি ছিল ধীরগতির; তখন সুযোগ-সুবিধার অভাব ও পারিশ্রমিকের স্বল্পতা ছিল প্রকট, আর খেলাগুলো হতো দূরবর্তী ও অনুন্নত সব প্রশিক্ষণ মাঠে—যেখানে গুটিকয়েক দর্শক উপস্থিত থাকত। তবে বর্তমানে প্রায় ডজনখানেকরও বেশি দেশে পেশাদার লিগ চালু হয়েছে এবং খেলাগুলো বেশ ভালো দর্শকপ্রিয়তা পাচ্ছে। নারীরা এখন পুরুষদের শীর্ষস্থানীয় ম্যাচের রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে, পাশাপাশি প্রশিক্ষক ও ব্যবস্থাপক হিসেবেও কাজ করছে, যার মাধ্যমে তাঁরা এই খেলায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এছাড়া তারা নতুন প্রজন্মের তরুণ দর্শকদেরও ব্যাপকভাবে আকর্ষণ করছেন। ভবিষ্যত প্রজন্ম হয়তো গর্বের সঙ্গে বলবে "আমার দাদি ঠিক ওই জায়গাটি থেকেই গোল করেছিলেন।"
এই পাতা কোথা থেকে এসেছে
এই পাতাটি উইকিভ্রমণ থেকে আনা হয়েছে। “ইউরোপে অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল” — উইকিভ্রমণ থেকে, এর অবদানকারীদের লেখা, CC BY-SA 4.0 লাইসেন্সে। এখানে যা বদলানো হয়েছে: পাতা হিসেবে সাজানো; সম্পাদনা-লিংক, মানচিত্র ও তালিকার মেটাডেটা বাদ; প্রতিটি ছবি নিজস্ব লাইসেন্সে, ক্যাপশনে উল্লেখসহ।
এটি এখনও কেউ লেখেননি: এটি নতুন ঠিকানায় রাখা মূল উপাদান, তাই সার্চ ইঞ্জিনকে এটি সূচিভুক্ত না করতে বলা হয়েছে এবং এ থেকে কেউ আয় করেন না। পাতাটি খালি: দায়িত্ব নিন, তাহলে এটি নতুন করে লেখা ও এ থেকে আয় করা আপনার।
লাইসেন্স: CC BY-SA 4.0 · গৃহীত হয়েছে bn.wikivoyage.org
1
0
0
0

মন্তব্য






