Hub Nexus
Opdateret

ForfatterIngen forfatter endnuOvertag den

Ser du noget at forbedre? Foreslå en ændring.

Støtte

স্প্যানিশ সাম্রাজ্য (স্প্যানিশ: ইম্পেরিও এস্পানিওল) ক্রিস্টোফার কলম্বাসের অভিযাত্রা থেকে প্রায় ১৯০০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। ইউরোপের বহু খ্যাতিমান অভিযাত্রী এখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন, আর শত শত বছর ধরে এ সাম্রাজ্য আমেরিকার বিশাল অংশ শাসন করেছিল।

জানুন

স্পেনের ক্যাথলিক শাসকদের রাজচিহ্ন

স্পেনের ক্যাথলিক শাসকদের রাজচিহ্ন (ছবি: Heralder, CC BY-SA 3.0)

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুররা (উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিমরা) স্পেনের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করেছিল। অবশেষে, সদ্যবিবাহিত সম্রাটী কাস্তিলের ইসাবেলা ও আরাগনের ফের্দিনান্দ নেতৃত্বে খ্রিস্টান বাহিনী মুরদের ইউরোপ থেকে বিতাড়িত করে। রিকনকুইস্তা শাসনের সমাপ্তি ঘটে এবং মুসলিম ও ইহুদিদের ধর্মান্তরিত হতে বা দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এভাবেই ওই শাসকদ্বয় লস রেয়েস ক্যাথোলিকোস (ক্যাথলিক সম্রাট) উপাধি দাবি করেন এবং নতুন ভূমি অন্বেষণে মনোযোগী হন। স্প্যানিশ সরকার কলম্বাসের অভিযানে সমর্থন দেয়, যার ফলে উত্তর আমেরিকার "আবিষ্কার" ঘটে (যদিও আদিবাসীরা এবং তারও আগে ভাইকিংরা এটি আবিষ্কার করেছিল)।

কলম্বাসের আবিষ্কার এবং ফার্দিনান্দ ম্যাগেলানের পৃথিবী প্রদক্ষিণ কাজে লাগিয়ে স্প্যানিশরা দ্রুত আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে। ১৬০০-এর দশক পর্যন্ত ব্রিটিশ ও ফরাসিরা তাদের পেছনে পড়ে ছিল। স্পেনের "স্বর্ণযুগে" দেশটি হ্যাবসবার্গ বংশ দ্বারা শাসিত হয়েছিল। হ্যাবসবার্গদের এক ভিন্ন শাখা অস্ট্রিয়ান সাম্রাজ্যও শাসন করত এবং ইউরোপীয় মহাদেশে আধিপত্য বিস্তার করে, যা ত্রিশ বছরের যুদ্ধে বিরোধী শক্তির কাছে পরাজিত হয়। হ্যাবসবার্গরা আত্মীয়বিবাহে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়ে এবং চার্লস দ্বিতীয় উত্তরাধিকার দিতে অক্ষম হলে এ শাখার অবসান ঘটে।

১৮০০-এর দশকের শুরুতে নেপোলিয়নিক যুদ্ধের সময় ফরাসিরা স্পেন আক্রমণ করলে ব্যাপক ভূখণ্ড হারাতে হয়। এর মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকা স্পেন থেকে স্বাধীন হয়। ১৭৮৮ সালে দক্ষ শাসক চার্লস তৃতীয়ের মৃত্যুর পর থেকেই সমস্যা শুরু হয়। তিনি অনেক সংস্কার এনেছিলেন, কিন্তু তাতে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত ক্রিওলো শ্রেণি অসন্তুষ্ট হয়। তার উত্তরসূরি চার্লস চতুর্থ শাসনব্যবস্থার চেয়ে শিকারেই বেশি মন দিতেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল গদয় (সম্ভবত রাণীর প্রেমিকও ছিলেন) কার্যত শাসন চালাতেন। এতে যুবরাজ ফের্দিনান্দ অসন্তুষ্ট হয়ে কয়েকবার অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন। অবশেষে ১৮০৮ সালে নেপোলিয়ন তাদের দুজনকেই বায়োনে ডেকে পাঠান। সালিশির অজুহাতে তাদের দুজনকে সিংহাসনত্যাগে বাধ্য করে নিজের ভাই জোসেফকে রাজা করেন। এতে স্পেনজুড়ে শোক ও ক্ষোভ দেখা দেয়। দেশজুড়ে জুন্তা গঠিত হয়, যারা ১৮১২ সালে একটি উদার সংবিধান প্রণয়ন করে। ফের্দিনান্দ সপ্তম রাজা হতে এ সংবিধান মানতে রাজি হন, কিন্তু পরে একনায়কতান্ত্রিক নীতি নিলে সমর্থন হারান। এদিকে আমেরিকার উপনিবেশগুলোও ধীরে ধীরে সরে যেতে থাকে। ১৮২০ সালে স্প্যানিশ সেনাদের বিদ্রোহের ফলে উপনিবেশগুলোতে আর সৈন্য পাঠানো সম্ভব হয়নি এবং স্বাধীনতার লড়াই সফল হয়।

১৭৯০ সালে স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ বিস্তার

১৭৯০ সালে স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ বিস্তার (ছবি: Nagihuin, CC BY-SA 4.0)

তবে মানচিত্র দেখে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। বিশাল এলাকা দাবি করলেও স্প্যানিশ শাসন প্রায়শই শুধু স্থানীয় শাসকদের জায়গায় স্প্যানিশদের বসিয়ে দেওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকত। ধীরে ধীরে ভাষা ও প্রশাসন বিস্তার লাভ করত। অনেক ক্ষেত্রে নাহুয়াতল বা গুয়ারানি ভাষার মতো দেশীয় ভাষাই ব্যবহৃত হতো। স্বাধীনতার পরও কিছু অঞ্চলে "জাতি গঠন" বা সরাসরি দখল অভিযান চালাতে হয়েছে। যেমন, নিকারাগুয়া ক্যারিবীয় নিকারাগুয়ার নিয়ন্ত্রণ পায় স্পেনের পতনের এক শতাব্দী পরে। আবার চিলি দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে আনে স্বাধীনতার পর। ১৭০০ সালে শিশুসম্ভবা না থাকা এবং জেনেটিক সমস্যায় ভোগা চার্লস দ্বিতীয়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হ্যাবসবার্গ শাসনের অবসান ঘটে। এর আগে স্পেন "স্প্যানিশ নেদারল্যান্ডস" ধরে রাখতে বিপুল সম্পদ ব্যয় করেছিল, যা আজকের বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও লুক্সেমবার্গের অংশ।

১৮৯৮ সালের স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধে পর স্পেন কার্যত সাম্রাজ্য হারায়। কিউবা, পুয়ের্তো রিকো, গুয়াম ও ফিলিপাইনসহ চূড়ান্ত উপনিবেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যায়। তবে আফ্রিকায় কিছু উপনিবেশ টিকে ছিল: ইকুয়েটোরিয়াল গিনি ১৯৬৮ পর্যন্ত এবং পশ্চিম সাহারা ১৯৭৫ পর্যন্ত। পশ্চিম সাহারা এখনো বিতর্কিত। আংশিক মরক্কো এবং আংশিক সাহারাউই আরব গণপ্রজাতন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দীর্ঘ "স্থবির" সংঘাত ২০২০ সালে আবার জ্বলে ওঠে।

ফার্দিনান্দ ও ইসাবেলার প্রতীকচিহ্ন, যা আজও স্প্যানিশ রাজকীয় চিহ্নের অংশ, স্পেনের ইতিহাস ও দাবি প্রকাশ করে। নিচে ইউগুম (লাতিন iugum) ও ফ্লেচাস (তীর) ছিল শক্তির প্রতীক, একইসঙ্গে ফার্দিনান্দ ও ইসাবেলার নামের আদ্যক্ষর। পরবর্তীতে এগুলো ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর শাসনামলে স্প্যানিশ ফ্যাসিস্ট দলের প্রতীক হয়। দুর্গচিহ্ন কাস্তিল, সিংহ লিওনের প্রতীক। লাল-হলুদ ডোরা আরাগন রাজ্যর, যা সিসিলির ঈগলের সঙ্গে মিলিয়ে আরাগনিজ সিসিলির প্রতীকচিহ্ন গঠন করে। নিচে থাকা ডালিম (গ্রানাদা) প্রতীক গ্রানাদা রাজ্যর, যা ১৪৯২ সালে খ্রিস্টান শাসকেরা দখল করে। সম্রাট চার্লস পঞ্চম থেকে শুরু করে প্রতীকচিহ্নে দুটি স্তম্ভ যুক্ত হয়, যা জিব্রাল্টার প্রণালীর প্রতীক, আর ‘প্লাস আলট্রা’ (লাতিন: "[আরও] দূরে") স্পেনের আমেরিকা ও ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জর দাবিকে প্রকাশ করে। ইউরোপীয়দের আমেরিকা-আবিষ্কারের আগে প্রচলিত ছিল ‘নন প্লাস আলট্রা’ ("এরপর কিছু নেই")।

আধুনিক ইতিহাসবিদেরা বলেন, রাজনৈতিকভাবে স্প্যানিশ সাম্রাজ্য না থাকলেও ঐতিহাসিকভাবে তার উত্তরাধিকার জীবিত। আজও স্পেন ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ও উত্তর আফ্রিকার ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে এবং বহু লাতিন আমেরিকান বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের আবাসস্থল, যা প্রাক্তন উপনিবেশ সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার বহন করে।

যে অঞ্চলগুলো একসময় স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল

  • মেক্সিকো স্প্যানিশ সাম্রাজ্যে "নতুন স্পেন" নামে পরিচিত ছিল। এ ভূখণ্ডের মধ্যে আজকের যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, নিউ মেক্সিকো, নেভাদা, টেক্সাস, উটাহ ও ওয়াইয়োমিং অন্তর্ভুক্ত ছিল। মেক্সিকো স্বাধীন হওয়ার পর ১৮২১ সালে এগুলো মেক্সিকান সাম্রাজ্যের অংশ হয়, কিন্তু ১৮৪৬-১৮৪৮ সালের মেক্সিকান-আমেরিকান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশে পরিণত হয় (দেখুন ওল্ড ওয়েস্ট প্রবন্ধ)।
  • যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও লুইজিয়ানাও নতুন স্পেনের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে এগুলো মেক্সিকো সিটির বদলে হাভানা শহর থেকে শাসিত হতো। মেক্সিকো স্বাধীন হওয়ার পর ফ্লোরিডা ও লুইজিয়ানা কখনোই মেক্সিকোর অংশ ছিল না। ১৮১৯ সালের অ্যাডামস-ওনিস চুক্তির মাধ্যমে স্পেন ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে দেয়। ১৮০০ সালে ফ্রান্স গোপনে তৃতীয় সান ইলদেফোনসো চুক্তির মাধ্যমে লুইজিয়ানা ভূখণ্ড পুনরায় লাভ করে, তবে ১৮০৩ সাল পর্যন্ত স্পেনই এর প্রশাসন চালিয়ে যায়। এরপর লুইজিয়ানা ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স থেকে কিনে নেয়।
  • দক্ষিণ আমেরিকা, তবে ব্রাজিল, গায়ানা, সুরিনাম ও ফরাসি গায়ানা বাদে।
  • মধ্য আমেরিকা, তবে বেলিজ বাদে। পানামা স্প্যানিশ আমলে দক্ষিণ আমেরিকার ভাইসরয়ালটির অংশ ছিল এবং ১৮১১ সালে স্বাধীনতার পর কলম্বিয়ার অংশ হয়। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের বেশিরভাগ (যেমন কিউবা, জ্যামাইকা, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র ও পুয়ের্তো রিকো) একসময় স্পেনের অধীনে ছিল।
  • ফিলিপাইন – ফার্দিনান্দ ম্যাগেলান তার পৃষ্ঠপোষক দ্বিতীয় ফিলিপের নামানুসারে এ নাম দেন।
  • ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, মধ্য আফ্রিকার একমাত্র স্প্যানিশ উপনিবেশ এবং আজও স্প্যানিশভাষী রাষ্ট্র।
  • পশ্চিম সাহারা, স্পেনের শেষ উপনিবেশগুলোর একটি। এখান থেকে স্পেনের "অগোছালো বিচ্ছেদ" এবং পরবর্তী মরক্কোর আক্রমণ এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্ম দেয়। এ অঞ্চল এখনো বিভক্ত এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
  • নেদারল্যান্ডস, "স্প্যানিশ নেদারল্যান্ডস" (আজকের বেলজিয়াম) ও পর্তুগাল।
  • গুয়াম, যা ১৮৯৮ সালের স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধের পর ফিলিপাইন ও পুয়ের্তো রিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অধিনে চলে যায়।

ঐতিহাসিক গন্তব্যসমূহ

স্পেন

  • এল এস্কোরিয়াল একটি বিশাল প্রাসাদ-মঠ, যা ফিলিপ দ্বিতীয় (ফিলিপাইনের নামকর্তা) তার পিতা চার্লস পঞ্চমের সমাধিসৌধ হিসেবে নির্মাণ করান। প্রাসাদটি বিশালাকৃতির হলেও তার নিজের "অফিস" বেশ সাধারণ, সেখান থেকেই তিনি বিশ্বের অর্ধেক শাসন করতেন। "বেসমেন্টে" একটি সমাধিকক্ষ ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ রয়েছে, যেখানে ফিলিপের সময় থেকে শুরু করে রাজা হওয়া স্প্যানিশ রাজা-রানিদের কবর রয়েছে। কাছেই রয়েছে "ভালে দে লস কাইদোস" সম্ভবত ফ্রাঙ্কোর ইচ্ছায় স্থানটি বাছা হয়েছিল। তাই একই দিনে দুটি জায়গা দেখা সম্ভব। এখানে আগে ফ্রাঙ্কোর দেহ রাখা ছিল এবং এখনো গৃহযুদ্ধের অনেক নিহতদের দেহাবশেষ রয়েছে। এখানেই ১৯৩৬ সালে রিপাবলিকানদের হাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান ফ্যাসিস্ট নেতা হুয়ান আন্তোনিও প্রিমো দে রিভেরার কবর রয়েছে।
  • মাদ্রিদ স্প্যানিশ দরবারের আসন হয়, যখন স্পেন বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছিল। তাই এখানে পুরনো সম্রাটদের সম্পদ ও ক্ষমতার নিদর্শন প্রচুর আছে। বর্তমান রাজা, সংসদ ও সরকারের আসনও এখানে।
  • সেভিল বন্দর দিয়ে সমুদ্রপথের ব্যবসা একচেটিয়া হওয়ায় অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্রে পরিণত হয়। এর সমৃদ্ধ স্থাপত্যশৈলী আজও তা প্রকাশ করে। এখানেই রয়েছে স্প্যানিশ উপনিবেশ ইতিহাসের প্রধান আর্কাইভ, যা গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
  • কাদিস ও আ কোরুনা ছিল ১৫৮৭ সালে স্যার ফ্রান্সিস ড্রেকের অভিযানের স্থান। তিনি বন্দর দখল করে ৩৭টি যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ ধ্বংস করেন। কাদিস থেকে প্রায় ২০ কিমি দক্ষিণে রয়েছে কেপ ট্রাফালগার, যেখানে ১৮০৫ সালের বিখ্যাত নৌযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

নতুন স্পেন (মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, কিউবা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, পুয়ের্তো রিকো)

ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে মিশন

ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে মিশন (ছবি: Sanfranman59, CC BY-SA 3.0)

  • কোর্তেস ১৫৩০-এর দশকের শুরুতে আকাপুলকোকে একটি প্রধান বন্দর বানান। ১৫৩১ সালে মেক্সিকো সিটি থেকে বন্দর পর্যন্ত প্রথম সড়ক তৈরি হয়। ১৫৩৩ সালে "মারকেস" নামে ঘাট তৈরি হয়। অচিরেই এটি একটি বড় প্রদেশে রূপ নেয়। দূরপ্রাচ্যের সঙ্গে বাণিজ্যের কারণে আকাপুলকো স্প্যানিশ উপনিবেশ অর্থনীতিতে বিশেষ স্থান পায়।
  • হাভানা ১৫১৯ সালে স্প্যানিশরা প্রতিষ্ঠা করে। ঔপনিবেশিক যুগে এটি ছিল স্প্যানিশ ধনরত্নবাহী গ্যালিয়ন জাহাজের যাত্রাবিরতির স্থান।
  • এল কামিনো রিয়ালের মিশনগুলো আলতা ক্যালিফোর্নিয়াতে ফ্রায়াররা দেশীয়দের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা দিতে ও শান্ত করতে তৈরি করেন। এগুলো আজও জাদুঘর বা চার্চ হিসেবে দেখা যায়। উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো লস অ্যাঞ্জেলেস, সান দিয়েগো ওল্ড টাউন এবং সান ফ্রান্সিসকোর মিশন জেলা।
  • মেক্সিকো সিটি - মেক্সিকো ও নতুন স্পেনের রাজধানী। এটি আজটেক নগরী তেনোচটিটলানের হ্রদভূমির উপর গড়ে ওঠে।
  • সান্তা ফে, নিউ মেক্সিকো রিও গ্রান্ডের উত্তরের রাজধানী ছিল। এর ইতিহাস স্প্যানিশ আগমনের বহু আগের। এটি ছিল পুয়েব্লো গ্রামের স্থান। বর্তমানে এটি মার্কিন নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী।
  • পেনসাকোলা (১৫৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত) ও সেন্ট অগাস্টিন (১৫৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত) ফ্লোরিডার প্রধান শহর ছিল।
  • সান আন্তোনিও ১৭১৮ সালে স্প্যানিশ মিশন ও উপনিবেশিক আউটপোস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭৩১ সালে এটি টেক্সাসের প্রথম অনুমোদিত নাগরিক বসতি হয়। ১৮২১–১৮৩৬ পর্যন্ত এটি মেক্সিকান প্রজাতন্ত্রের অংশ ছিল। এটি টেক্সাসের প্রাচীনতম পৌরসভা।
  • সান্তো দোমিনগো আমেরিকার প্রাচীনতম ইউরোপীয় বসতি। এটি নতুন দুনিয়ায় স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রথম কেন্দ্র ছিল। এর কৌশলগত অবস্থানের কারণে এখান থেকেই কনকিস্টাদোররা নতুন ভূমি জয়ের পথে রওনা হতো।
  • ভেরাক্রুজ কোর্তেসের প্রতিষ্ঠিত প্রথম স্প্যানিশ শহর। ১৫১৯ সালে "ভিলা রিকা দে লা ভেরা ক্রুজ" নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখান থেকেই আজটেক সাম্রাজ্য জয়ের সূচনা হয়। ঔপনিবেশিক যুগে এটি স্প্যানিশ অভিবাসী, আফ্রিকান দাস ও বিলাসবহুল পণ্যের প্রধান প্রবেশবন্দর ছিল।
  • ইউকোয়াট, নুটকা দ্বীপে (আজকের প্যাসিফিক উত্তর-পশ্চিম, আইডাহো ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়া), একসময় "সান্তা ক্রুজ দে নুকা" নামে পরিচিত ছিল। এটি উত্তর আমেরিকার প্রশান্ত উপকূলে স্প্যানিশ বসতির সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে বিবেচিত।

গুয়াতেমালার ক্যাপিটানসি (মধ্য আমেরিকা ও চিয়াপাস, পানামা বাদে)

  • অ্যান্টিগুয়া গুয়াতেমালা ১৬–১৮ শতকে মধ্য আমেরিকার ভাইসরয়ালটির রাজধানী ছিল। ১৭৭৩ সালের ভূমিকম্পে শহর ধ্বংস হলে রাজধানী নতুন গুয়াতেমালা সিটিতে সরানো হয়।
  • লিয়ন, নিকারাগুয়া ১৫২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৬১০ সালে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে শহর সরিয়ে আনা হয়। পুরনো শহরের ধ্বংসাবশেষ এখনো দেখা যায়। ১৮১২ সালে এখানে মধ্য আমেরিকার দ্বিতীয় প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • গ্রানাদা, নিকারাগুয়া ১৫২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত, আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে প্রাচীনতম ইউরোপীয় বসতি। এটি সমৃদ্ধ শহর ছিল এবং বারবার জলদস্যুদের আক্রমণের শিকার হয়েছিল। ১৮৫৬ সালে এক আমেরিকান শহরটি জ্বালিয়ে দেয়।

নতুন গ্রানাদা (কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পানামা, ভেনেজুয়েলা)

  • কার্তাহেনা দক্ষিণ আমেরিকার সম্পদ স্পেনে পাঠানোর প্রধান বন্দর ছিল। ১৭৪১ সালে মাত্র ৩,০০০ স্প্যানিশ সৈন্য ব্লাস দে লেজোর নেতৃত্বে ৩০,০০০ ব্রিটিশ সৈন্যকে পরাজিত করে। এখানকার দুর্গ এখনো অটুট।
  • সান্তা ফে দে বোগোতা ১৫৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এটি ভাইসরয়ালটি অফ নিউ গ্রানাডার রাজধানী হয়।
  • কুইটো - ইকুয়েডরের রাজধানী ও ঐতিহাসিক নগরী।

পেরুর ভাইসরয়ালটি (চিলি ও পেরু)

  • লিমা ১৫৩৫ সালে ফ্রান্সিসকো পিজারো প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ভাইসরয়ালটি অফ পেরুর রাজধানী ছিল।
  • কুসকো ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল ১৩ শতক থেকে ১৫৩২ সাল পর্যন্ত। স্প্যানিশরা দখলের পর এর উপর নিজেদের শহর তৈরি করে।
  • ত্রুজিল্লো (পেরু) - ২৯ ডিসেম্বর ১৮২০ সালে স্পেন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। ১৮২২ সালে পেরু কংগ্রেস শহরটিকে "মেরিটোরিয়াস সিটি অ্যান্ড ফেইথফুল টু দ্য ফাদারল্যান্ড" উপাধি দেয়।

রিও প্লাতা (আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে)

  • বুয়েনোস আইরেস অঞ্চলটির রাজধানী হয় এবং আজ আর্জেন্টিনার রাজধানী।
  • মন্তেভিদিও, এখনো সংরক্ষিত ঔপনিবেশিক কেন্দ্র।
  • লা পাজ, বলিভিয়া ২০ অক্টোবর ১৫৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ছিল পোটোসি রূপার খনি থেকে লিমা পর্যন্ত বাণিজ্যপথের সংযোগস্থল।
  • পোটোসি, ঔপনিবেশিক যুগে স্প্যানিশ রূপার টাকশাল ছিল। শহরের ঔপনিবেশিক স্থাপত্য ও সেরো রিকো পর্বত এখন ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।
  • সুক্রে ১৫৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫৫৯ সালে এটি নতুন অঞ্চলের রাজধানী হয়, যেখানে বর্তমান প্যারাগুয়ে, দক্ষিণ পেরু, উত্তর চিলি, আর্জেন্টিনা ও বলিভিয়ার অংশ ছিল।

ফিলিপাইন ও গুয়াম

  • মানিলা ইন্ট্রামুরোস, প্রাচীরঘেরা পুরনো শহর, ৩০০ বছরেরও বেশি সময় স্প্যানিশ ইস্ট ইন্ডিজের রাজধানী ছিল।
  • সেবু সিটি ফিলিপাইনে প্রথম স্প্যানিশ ঘাঁটি ও প্রাথমিক রাজধানী।
  • ভিগান - ফিলিপাইনের অন্যতম সংরক্ষিত ঔপনিবেশিক শহর।
  • টাল - আরেকটি সংরক্ষিত ঔপনিবেশিক শহর।

আরও দেখুন

  • আবিষ্কারের যুগ
  • আটলান্টিক দাস বাণিজ্য
  • লাতিন আমেরিকা-স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশসমূহের অঞ্চল, যা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণে অবস্থিত। ১৮১৯-১৮২১ সালের আগে পর্যন্ত এ অঞ্চল স্পেন ও পর্তুগালের সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। এরপর বেশিরভাগ দেশ স্পেন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। একই সময়ে ব্রাজিলও পর্তুগাল থেকে স্বাধীন হয়।
  • যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যসমূহ (অ্যারিজোনা, নিউ মেক্সিকো, নেভাদা, সিও, উটাহ); এবং পুয়ের্তো রিকোর কমনওয়েলথও স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। স্পেন থেকে স্বাধীনতার পর ক্যালিফোর্নিয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিম মেক্সিকোর অংশ হয়ে যায় এবং ১৮৪৮ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো যুদ্ধের সমাপ্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরিত হয়। টেক্সাস এর আগে ১৮৩৬ সালে মেক্সিকো থেকে আলাদা হয়ে ১৮৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দেয়। ফ্লোরিডা ১৮১৯ সালে স্পেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছেড়ে দেয়।
  • উত্তর আমেরিকার প্রাচীন শহরসমূহ-মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা, কিউবা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র এবং পুয়ের্তো রিকোর পুরনো শহরগুলির তালিকা, যা ১৮২১ সালের আগে স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার ফ্লোরিডা, টেক্সাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত ছিল।
  • ঔপনিবেশিক মেক্সিকো
  • দক্ষিণ আমেরিকার প্রাচীন শহরসমূহ-দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন শহর ও নগরীর তালিকা, যেখানে স্প্যানিশ সাম্রাজ্য মহাদেশের অর্ধেক অংশ নিয়ন্ত্রণ করত এবং অপর অর্ধেক ছিল পর্তুগালের (ব্রাজিল) দখলে।
  • আইবেরিয়ার প্রাচীন শহরসমূহ-স্পেন ও পর্তুগালের প্রাচীন শহরগুলো।
  • ফিলিপাইনের প্রাচীন শহরসমূহ-ফিলিপাইনও ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল, এরপর স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধের সমাপ্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর হয়।

অন্যান্য ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য

Categorisation-hierarchy-top2down

(ছবি: CC BY-SA 3.0)

{{#assessment:প্রসঙ্গ|ব্যবহারযোগ্য}}

এই পাতা কোথা থেকে এসেছে

এই পাতাটি উইকিভ্রমণ থেকে আনা হয়েছে। “স্প্যানিশ সাম্রাজ্য” — উইকিভ্রমণ থেকে, এর অবদানকারীদের লেখা, CC BY-SA 4.0 লাইসেন্সে। এখানে যা বদলানো হয়েছে: পাতা হিসেবে সাজানো; সম্পাদনা-লিংক, মানচিত্র ও তালিকার মেটাডেটা বাদ; প্রতিটি ছবি নিজস্ব লাইসেন্সে, ক্যাপশনে উল্লেখসহ।

এটি এখনও কেউ লেখেননি: এটি নতুন ঠিকানায় রাখা মূল উপাদান, তাই সার্চ ইঞ্জিনকে এটি সূচিভুক্ত না করতে বলা হয়েছে এবং এ থেকে কেউ আয় করেন না। পাতাটি খালি: দায়িত্ব নিন, তাহলে এটি নতুন করে লেখা ও এ থেকে আয় করা আপনার।

SprogবাংলাEnglishItaliano

Licens: CC BY-SA 4.0 · Bearbejdet efter bn.wikivoyage.org

1

0

0

0

Spinner Logo

Kommentarer

Spinner Logo