¿Ves algo que mejorar? Propón un cambio.
আরুশা তানজানিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটা শহর। ২০১২ সালের হিসাবে এখানে প্রায় ৪ লাখ ১৬ হাজার মানুষের বাস। উত্তর তানজানিয়ার বিখ্যাত সাফারি পথ, যাকে বলে নর্দার্ন সাফারি সার্কিট, সেখানে যেতে হলে সাধারণত আরুশা হয়েই যেতে হয়।

আরুশার বাজার (ছবি: neiljs, CC BY 2.0)

আরুশার বিশপস ক্যাথেড্রাল (ছবি: Alexander Johmann, CC BY-SA 2.0)
পরিচিতি
স্থানীয়রা আরুশাকে আদর করে ডাকে "এ টাউন"। শহরটা আফ্রিকার পঞ্চম উঁচু পর্বত মেরু পর্বতের পায়ের কাছে। বেশ উঁচুতে বলে এখানকার আবহাওয়া আরামদায়ক, আর চারপাশ ঘন সবুজে ঘেরা।
দেখতে আরুশা আহামরি কোনো শহর নয়। অনেক পর্যটক একে সাফারি শুরুর আগে এক রাত কাটানোর জায়গার বেশি কিছু ভাবেন না। তবে তানজানীয়দের স্বভাবসুলভ আন্তরিকতা আর দ্রুত বেড়ে ওঠা একটা শহরের প্রাণচাঞ্চল্য মিলিয়ে আরুশায় দেখার আর জানার মতো অনেক কিছুই আছে। শর্ত একটাই, এসি লাগানো সাফারি গাড়ি আর স্যাটেলাইট টিভিওয়ালা হোটেলের ঘরের বাইরে একটু চোখ মেলে তাকাতে হবে।
আরুশায় আছে ইউএনআইসিটিআর, রুয়ান্ডা বিষয়ক জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিখ্যাত আরুশা ঘোষণাও সই হয়েছিল এই শহরেই।
যেভাবে যাবেন
বিমানে
আরুশায় বিমানবন্দর দুটো।
- কিলিমানজারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JRO আইএটিএ) (শহরকেন্দ্র থেকে প্রায় ৬০ কিমি, গাড়িতে ৪৫ মিনিটের পথ)। আমস্টারডাম থেকে কেএলএমের নিয়মিত ফ্লাইট আসে। এ ছাড়া ফ্লাইট আসে আদ্দিস আবাবা, দার এস সালাম, জাঞ্জিবার আর নাইরোবি থেকে। ট্যাক্সিতে শহরে যেতে ৫০ ডলার লাগে, তবে অনেক এয়ারলাইন বিনা পয়সায় বা ১০ ডলারে শাটল বাসে পৌঁছে দেয়।
- আরুশা পৌর বিমানবন্দর (ARK আইএটিএ) (শহরের একেবারে কিনারায়)। এখানে শুধু দেশের ভেতরের ফ্লাইট আর ভাড়া করা চার্টার বিমান নামে, বেশির ভাগই জাঞ্জিবার আর দার এস সালাম থেকে। এয়ার ভিভা আরুশা থেকে জাঞ্জিবার, দার এস সালাম, কিলিমানজারো আর দেশের আরও কয়েকটা জায়গায় ফ্লাইট চালায়।
কিলিমানজারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই ভিসা নেওয়া যায়। খরচ ৫০ ডলার, কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য ১০০ ডলার। টাকাটা দিতে হবে মার্কিন ডলারে, আর ১ ডলারের নোট বা কয়েন নেওয়া হয় না। অ্যারাইভাল হল থেকে বেরোলেই একটা এটিএম আর একটা মুদ্রা বিনিময়ের দোকান আছে। সঙ্গে দরকারি নগদ না থাকলে সেখান থেকে জোগাড় করে নিতে পারবেন।
বাসে
আরুশার মিনিবাসের ভেতরে ঠাসাঠাসি ভিড় (ছবি: Flickr user: islodelba, CC BY-SA 2.0)
আরুশা যাতায়াতের বড় একটা কেন্দ্র, সারা দেশের সঙ্গেই এর বাস যোগাযোগ আছে। কিছু কোম্পানির ফার্স্ট ক্লাস টিকিট আছে, তাতে একটু বেশি আরাম পাবেন। তবে মান মোটামুটি আফ্রিকার আর দশটা বাসের মতোই। বিশেষ করে লম্বা পথে গেলে ভালো কোনো কোম্পানির বাস ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ, যেমন দার এক্সপ্রেস, কিলিমানজারো এক্সপ্রেস বা মডার্ন কোস্ট বাস। টিকিট অন্তত এক দিন আগে কেটে রাখুন।
যেসব জায়গায় সরাসরি এক্সপ্রেস কোচ যায়:
- নাইরোবি (কেনিয়া): ৬ ঘণ্টা, ২২,০০০ থেকে ২৫,০০০ টানজানিয়ান শিলিং। চালায় দার এক্সপ্রেস, রিভারসাইড শাটল সার্ভিস, মডার্ন কোস্ট আর ইমপালা শাটল সার্ভিস।
- দার এস সালাম (উবুঙ্গো টার্মিনাল): ১১ ঘণ্টার বেশি। বেশির ভাগ বাস ছাড়ে সকালে, কোম্পানিও অনেক। যেমন দার এক্সপ্রেস (৩৩,০০০ টানজানিয়ান শিলিং) আর কিলিমানজারো এক্সপ্রেস (৩৩,০০০ টানজানিয়ান শিলিং)।
- কারাতু: ৩ ঘণ্টা, ৫,০০০ টানজানিয়ান শিলিং। দার এক্সপ্রেস আর সাইবাবার বাস দিনে কয়েকবার যায়।
- কাম্পালা (উগান্ডা): ১৭ ঘণ্টা।
- মোশি: ১ ঘণ্টা, ২,০০০ টানজানিয়ান শিলিং। আরুশা আর মোশির মধ্যে নানা শাটল বাসও চলে, সেগুলো বড় কোচের চেয়ে আরামের।
- মোয়ানজা: ১২ ঘণ্টার বেশি।
- লোলিওন্দো আর ওয়াসো: লোলিওন্দো এক্সপ্রেসের বাস, ১০ ঘণ্টার বেশি, ২২,০০০ টানজানিয়ান শিলিং। সপ্তাহে মাত্র দুয়েকটা বাস ছাড়ে, আর যাত্রী ঠেসে তোলার জন্য এদের বদনাম আছে। পথে তিনটা টোলগেট পড়ে, প্রতিটায় ৮ থেকে ১৫ ডলার দিতে হয়।
- টাঙ্গা আর লুশোতো যাওয়ার বাসও আছে।
- দার এক্সপ্রেস (স্টেডিয়ামের উত্তর-পূর্ব কোণ থেকে কয়েক মিটার দূরে)। টিকিট অফিস, বাসও এখান থেকেই ছাড়ে। আশপাশে আরও কয়েকটা কোম্পানির টিকিট অফিস আছে।
ট্রেনে
দার এস সালাম থেকে মোশি হয়ে রাতের ট্রেন আসে, চালায় টিআরসি। টিকিট বেশ সস্তা, পুরো পথ যেতে ১৭ ঘণ্টার একটু বেশি লাগে। আরুশা থেকে মোশি রেলপথে ৮৬ কিমি, ট্রেনে লাগে দুই থেকে তিন ঘণ্টা।
- আরুশা রেলস্টেশন (শহরকেন্দ্রের দক্ষিণ-পূর্বে)।
শহরে ঘোরাফেরা
শহরে গণপরিবহন বলতে মূলত "দালাদালা", মানে ছোট মিনিবাস। শহরের সব বড় রাস্তায় এগুলো গিজগিজ করে, আর ভাড়াও খুব কম। তানজানিয়ায় সব যানবাহনের ভাড়া সরকার ঠিক করে দেয়। কোন দূরত্ব বা কোন স্টপ পর্যন্ত কত ভাড়া, তা দালাদালার গায়েই লেখা থাকে, আর তার বেশি দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। দুনিয়ার আর সব জায়গার মতো এখানেও লাভ বাড়াতে যত পারে তত যাত্রী তোলে। দালাদালার দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে, আর তাতে যাত্রীদের ক্ষতিও হয় মারাত্মক। পকেটমারও বেশ হয়। তবে ব্যাগ কোলের ওপর রেখে বসলে আর দামি জিনিস পকেটে না রাখলে সহজেই বাঁচা যায়। তা ছাড়া এখানকার মানুষ খুবই সৎ। কেউ আপনার জিনিস চুরি করতে বা আপনাকে ঠকাতে গেলে আশপাশের লোকজনই অনেক সময় তাকে থামিয়ে দেয়।
ট্যাক্সি অনেক, ভাড়াও কম। তবে রওনা দেওয়ার আগে ভাড়া ঠিক করে নিতে ভুলবেন না। শহরের ভেতরে ছোটখাটো দূরত্বে সাধারণত Tsh ৪,০০০ থেকে ১৬,০০০ লাগে, কতদূর যাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে। মাথায় রাখবেন, তানজানিয়ায় জ্বালানির দাম চড়া, তাই ট্যাক্সিওয়ালারা যেভাবে পারে খরচ তুলে নিতে চায়।
গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়, তবে বেশির ভাগ কোম্পানি নিজেদের চালকসহ গাড়ি দিতে চায়। নিজে চালানোও সম্ভব। পাকা রাস্তাগুলো ভালো, কিন্তু নুড়ি বিছানো কাঁচা রাস্তায় চালানো বেশ কঠিন হতে পারে। এবড়োখেবড়ো পথে গাড়ি চালানোর কিছু অভিজ্ঞতা থাকা দরকার (যেমন নামিবিয়া বা বোতসোয়ানায় চালিয়েছেন), আর চাই খানিকটা দুঃসাহস। চাকা পাংচার হওয়া এখানে রোজকার ঘটনা, তবে তাতে তেমন ঝামেলা হয় না। সঙ্গে বাড়তি চাকা থাকবেই, আর যেকোনো পেট্রলপাম্পে চাকা সারানো যায়।
দর্শনীয় স্থান
সাফারি গাড়ি থেকে দেখা হাতির পাল (ছবি: Flickr user: bigmick, CC BY-SA 2.0)
- আরুশা ঘোষণা জাদুঘর। ১৯৬৭ সালের আরুশা ঘোষণা নিয়ে জাদুঘর। আফ্রিকান সমাজতন্ত্রের রূপরেখা দাঁড় করানোর যত চেষ্টা হয়েছে, তার মধ্যে এই ঘোষণা আজও সবচেয়ে আলোচিতগুলোর একটা। কয়েক দশক ধরে তানজানিয়ার রাজনীতি চলেছে এই ঘোষণার পথ ধরেই। জাদুঘরের চত্বরে ঘোষণার বিশাল স্মৃতিস্তম্ভটাও আছে।
- আরুশা কালচারাল হেরিটেজ সেন্টার, ☏ +২৫৫ ২৭ ২৫৪ ৭৫৪৮।
- আরুশা জাতীয় প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর, ☏ +২৫৫ ২৭ ২৫৪ ৫৫৪০।
- তানজানিয়া ট্যুরিস্ট বোর্ড আশপাশের গ্রামে সাংস্কৃতিক ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দেয়, খরচ Tsh ১৫,০০০ থেকে ৫০,০০০। পূর্ব আফ্রিকা সফরের সবচেয়ে মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতাগুলোর কয়েকটা হতে পারে এসব গ্রাম-ভ্রমণ। সাফারিতে তো সারাক্ষণ বন্যপ্রাণী দেখবেন, এখানে দেখবেন মানুষ আর তাদের জীবন, দুটো মিলে সফরটা পূর্ণ হয়। কয়েকটা কর্মসূচির জায়গা (ইলকিডিঙ্গা, এনগিরেসি) আরুশা থেকে হেঁটে এক ঘণ্টার পথ। আরও কয়েকটা গাড়িতে এক ঘণ্টার মধ্যে (মোন্ডুলি জুউ, লোঙ্গিডো, মুলালা, টেঙ্গেরু, ইলকুরোট, ওলডোনিয়ো সাম্বু)। কাছাকাছি থাকা মাসাই আর মেরু জনগোষ্ঠীর মানুষদের কাছ থেকে দেখার দারুণ সুযোগ এগুলো। জানতে পারবেন তাদের পশুপালন, চাষবাস, গল্প আর উপকথা, আর স্থানীয় অর্থনীতির কথা। মেরু পর্বতের আশপাশে হাঁটার কয়েকটা ভালো পথ আছে, পথে পড়ে সুন্দর কিছু জলপ্রপাত। লোঙ্গিডোতে উটের পিঠে চড়ে সাফারিও হয়। ব্যবস্থাগুলো বেশ নমনীয়, এক ঘণ্টার জন্য যেতে পারেন, আবার পুরো দিনও কাটাতে পারেন। কোনো কোনো জায়গায় রাতে থাকার বা তাঁবু খাটানোর ব্যবস্থা আছে। মনে রাখবেন, আপনার গাইড সম্ভবত তাদের স্কুল বা এতিমখানার জন্য চাঁদা চেয়ে ঘ্যানঘ্যান করবে। কিছু অসৎ গাইড সেই টাকা নিজের পকেটে ভরে, তাই দান করতে চাইলে নামকরা কোনো দাতব্য সংস্থার হাতে দেওয়াই ভালো। নিজের মন যা বলে, তাই করুন।
যা করবেন
- সেঞ্চুরি সিনেমায় ছবি দেখতে Tsh ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ লাগে। এটা এনজিরো রোডের একটা আধুনিক কমপ্লেক্সের ভেতরে। সেখানে কয়েকটা আধুনিক, দামি রেস্তোরাঁও আছে, যেমন জনপ্রিয় ভারতীয় রেস্তোরাঁ খান'স, স্টেকের দোকান ম্যাকমুডিজ আর নানা দেশের খাবারের স্পাইস রিট্রিট। তবে রাতে এনজিরো রোডে হাঁটা নিরাপদ নয়, তাই কমপ্লেক্সে হেঁটে না গিয়ে অন্য কোনোভাবে যান। শহরকেন্দ্র থেকে ট্যাক্সিভাড়া Tsh ৪,০০০ ছাড়ানোর কথা নয়।
- মেরু পর্বতে উঠুন (উচ্চতা ৪,৬৬৭ মিটার)। শরীরের অবস্থা বুঝে তিন-চার দিনে ওঠা যায়। মেরুতে উঠতে গাইড বা কুলি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে সশস্ত্র রেঞ্জার সঙ্গে থাকতেই হবে। ওপরে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যেতে পারে, তাই গরম কাপড় আর স্লিপিং ব্যাগ নিয়ে যাবেন।
সাফারি
আরও দেখুন: সাফারি, আফ্রিকার বন্যপ্রাণী
সামর্থ্যে কুলোলে একবার অবশ্যই করবেন। নানা বাজেটের নানা রকম সাফারি আছে। সাধারণত যত বেশি খরচ, তত গভীরে সেরেঙ্গেটির ভেতরে নিয়ে যায়, যেখানে মানুষের পা কম পড়েছে। তবে কম খরচের সাফারিতে কাছের সংরক্ষিত বন আর পার্কে গেলেও ঠকবেন না। জীবনকে দেখার চোখ যদি কোনো একটা ভ্রমণ বদলে দিতে পারে, তবে সেটা আফ্রিকার সাফারি।
সব গাইড সমান জানেন না। যেসব জায়গায় যাবেন, সেগুলো নিয়ে আগে থেকে একটু পড়াশোনা করে গেলে ক্ষতি নেই। তাহলে গাইডকে যখন জিজ্ঞেস করবেন, "ওটা কী পাখি?", আর তিনি উত্তর দেবেন, "ওটা আফ্রিকার পাখি", তখন বুঝবেন পাখি চেনার বইটা ব্যাগ থেকে বের করার সময় হয়েছে। বাজারদরের চেয়ে বেশি টাকা দেওয়া থেকে সাবধান। বেশি দিলেও আপনি থাকবেন সেই একই জায়গায়, যেখানে ন্যায্য দাম দেওয়া লোকটা থাকছে। খাবেন একই খাবার, আর আপনার গাড়িও ঠিক একইভাবে মাঝপথে বিগড়ে যেতে পারে।
অনেক টাকা বাঁচাতে চাইলে লম্বা পথটুকু নিজেই পাড়ি দিন। এনগোরোংগোরো দেখতে চাইলে নিজে কারাতু পর্যন্ত চলে যান, আর মানিয়ারা জাতীয় উদ্যানের জন্য ম্তো ওয়া ম্বু পর্যন্ত। সাফারি ধরুন সেখান থেকে।
কেনাকাটা
বাজারের হইচই (ছবি: Flickr user: andresfib, CC BY-SA 2.0)
- স্থানীয় কাঁচাবাজার। শহরের মাঝখানের বাজারগুলো কোনোভাবেই বাদ দেবেন না। এখানে দরদাম করতেই হবে। জিনিসটা কী আর আপনি কতটা সজাগ, তার ওপর নির্ভর করে দাম হতে পারে পানির মতো সস্তা, আবার পর্যটক-ঠকানো চড়াও।
এসব বাজারে প্রায় সবকিছুই পাবেন। খাবারদাবার, কাপড়চোপড় থেকে শুরু করে বাড়ির লোকজন আর বন্ধুদের জন্য টুকটাক উপহার পর্যন্ত। উজ্জ্বল রঙের বাটিক আর ছাপা কাপড় অবশ্যই দেখবেন। সাধারণত থান থেকে কেটে বিক্রি হয়, বাড়ি ফিরে যা খুশি বানিয়ে নিতে পারবেন। তানজানিয়ার মেয়েরা যে কিকোই কাপড় পরেন, তা দিয়ে চমৎকার, একেবারে অন্য রকম প্যাঁচানো স্কার্ট হয়। - মাসাই নারীরা হাতে পুঁতি গেঁথে সুন্দর গয়না বানিয়ে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করেন, অনেক সময় ছেলেমেয়ের স্কুলের খরচ জোগাতে। এমন কারও দেখা পেলে কয়েকটা কিনেই ফেলবেন। গয়নাগুলো ভীষণ সুন্দর, আর উপহার হিসেবে একেবারে অনন্য।
- মাসাই মার্কেট। স্থানীয় তানজানীয়দের হাতে তৈরি জিনিস কেনার জন্য এক জায়গাতেই সব। আবলুস, লাল কাঠ আর নানা কাঠের হস্তশিল্প পাবেন, আর পাবেন স্থানীয় শিল্পীদের আঁকা নানা ধরনের ছবি। বাজারটা মূলত পর্যটকদের জন্যই (কেউ কেউ একে ট্যুরিস্ট মার্কেটও বলে), তবু দাম বাড়িয়ে রাখা হয় না। অবশ্য দরদাম করার সুযোগ সব সময়ই অনেকখানি থাকে।
মল ও সুপারমার্কেট
- ভিলেজ সুপারমার্কেট, এনজিরো কমপ্লেক্স, এনজিরো রোড, ☏ +২৫৫-২৭২৫৪০১০৫। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ৯টা। যা দরকার সব এক ছাদের নিচে। দার এস সালামেও এদের সুপারমার্কেট আছে।
- শপার্স সুপারমার্কেট, সোকোইনে রোড। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা। বড় সুপারমার্কেট। দার এস সালাম আর দোদোমাতেও এদের দোকান আছে।
- সানা সুপারমার্কেট, সোমালি রোড। সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা। বড় সুপারমার্কেট।
- রুশাদা সুপারমার্কেট, আজিমিয়ো রোড। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। বড় সুপারমার্কেট।
ব্যাংক ও এটিএম
- ইকুইটি ব্যাংক। মাস্টারকার্ড আর ভিসা কার্ডে টাকা তোলার এটিএম আছে।
- স্ট্যানবিক ব্যাংক। মাস্টারকার্ড আর ভিসা কার্ডে টাকা তোলার এটিএম আছে।
- কেসিবি। মাস্টারকার্ড আর ভিসা কার্ডে টাকা তোলার এটিএম আছে।
- ইকোব্যাংক। মাস্টারকার্ড আর ভিসা কার্ডে টাকা তোলার এটিএম আছে।
- আইঅ্যান্ডএম ব্যাংক, জাকারান্ডা স্ট্রিট। মাস্টারকার্ড আর ভিসা কার্ডে টাকা তোলার এটিএম আছে।
- ডিটিবি, ওল্ড মোশি রোড। এটিএম ২৪ ঘণ্টা খোলা। মাস্টারকার্ড আর ভিসা কার্ডের এটিএম। কোনো চার্জ নেই।
খাওয়াদাওয়া
আরুশায় নানা রকম রেস্তোরাঁ আর ঘরোয়া খাবারের দোকান আছে। তার মধ্যে ভারতীয় খাবারের দোকানই বেশি, আর মোটামুটি ধরে নিতে পারেন, ভারতীয় খাবারই এখানে সবচেয়ে ভালো। কারণ শহরে ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের বড় একটা সমাজ আছে। এনজিরোর লিকুইড ব্লু আর সোয়াহিলি রোডের বিগ বাইট সবচেয়ে জনপ্রিয় ভারতীয় রেস্তোরাঁগুলোর মধ্যে পড়ে। 'নিয়ামা চোমা', মানে তানজানিয়ার ঝলসানো মাংস খেতে চাইলে এনজিরোর নিক বারও বেশ জনপ্রিয়। দামের ফারাক বিশাল। রাস্তার খাবার ৪০ সেন্টেও মেলে, আবার দামি হোটেলে একটা মূল পদের দাম ১৫ ডলার পর্যন্ত ওঠে।

সাধারণ দুপুরের খাবার, মুরগি আর আলু (ছবি: Flickr user: advencap, CC BY-SA 2.0)
- আফ্রিকাফে কফি হাউস, ওল্ড বোমা রোড (ক্লক টাওয়ারের কাছে)। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা। ইউরোপীয় ধাঁচের ছিমছাম ক্যাফে, বিদেশিদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। নানা রকম ভালো কফি পাবেন, আর মজাদার পেস্ট্রি, যেমন গাজরের কেক বা চকলেট-কলার কেক। সঙ্গে আছে মাফিন, সকালের নাশতা, বার্গার, সালাদ আর স্মুদি। নাম শুনে ঘাবড়াবেন না, এখানে আফ্রিকাফে ব্র্যান্ডের ইনস্ট্যান্ট কফি নয়, আসল কফিই দেওয়া হয়। মাঝেমধ্যে ওয়াইফাই চলে। কেক Tsh ৫,০০০ থেকে শুরু।
- বে লিফ, ১০২ বিজানা রোড। ইউরোপীয় ধাঁচের রুচিশীল রেস্তোরাঁ। খাবার দারুণ সুস্বাদু, যদিও দামটা একটু বেশি। ভেতরে বসতে পারেন, আবার বাগানেও। Tsh ২০,০০০ থেকে শুরু।
- ক্যাফে ব্যাম্বু রেস্টুরেন্ট। একটু উঁচু মানের ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ, তবে বিদেশি পর্যটকদের পকেটের হিসাবে দাম কম। সিঙাড়া, চিপস আর কাবাবের মতো হালকা খাবার আছে। পশ্চিমা, ভারতীয় আর আফ্রিকার সাবেকি খাবারও পাওয়া যায়। পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
- চাইনিজ ড্রাগন। আরুশায় চীনা খাবারের ভালো জায়গা, দামও মাঝারি। লুইকে একবার হাই বলে দেখুন, বিশেষ ছাড় মিলে যেতে পারে! Tsh ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০।
- খান'স চিকেন অন দ্য বনেট। পাকিস্তানি বারবিকিউ: মুরগি, গরু, খাসি, নানা রকম সালাদ আর নান। শহরের সেরা বারবিকিউগুলোর একটা, টক্কর দেয় এনজিরোর নিক'স পাবের সঙ্গে। দোকান দুটো। শহরকেন্দ্রেরটা দিনের বেলা গাড়ি সারানোর গ্যারেজ, আর রাত নামলে সেখানেই বসে বারবিকিউর আসর। নতুনটা এনজিরোর সিনেমা হলের কমপ্লেক্সে। জনপ্রতি Tsh ৪,৫০০ থেকে ৯,০০০।
- ম্যাকমুডিজ। সপ্তাহে সাত দিন, সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা। শহরের মাঝখানে, ফাস্ট ফুডের দোকানের মতো পরিবেশ, সব রকম খাবারই একটু একটু পাবেন। এনজিরো রোডে সিনেমা হলের কমপ্লেক্সেও এদের একটা শাখা আছে। মূল পদের দাম Tsh ৬,০০০ থেকে ১৫,০০০ (জুলাই ২০১৭)।
- অনসি হাউস রেস্টুরেন্ট, ☏ +২৫৫ ৭৮৭ ১১২ ৪৯৮। পূর্ব আফ্রিকার সেরা ফরাসি আর বেলজিয়ান রেস্তোরাঁ বলে এর নামডাক আছে। মোমবাতির আলোয় রোমান্টিক ডিনার বা বিশেষ কোনো উদযাপনের জন্য দারুণ। আগে থেকে টেবিল বুক করে যাওয়াই ভালো।
- ভিয়া ভিয়া কালচারাল ক্যাফে, ওল্ড বোমা রোড (প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের বাগানে, এআইসিসি ভবনের পাশে)। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে খোলা। শান্ত, সুন্দর পরিবেশ, আইসিটিআরের কর্মীদের খুব প্রিয়। প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে গানবাজনা আর পার্টি হয়। এখান থেকে গ্রাম ঘোরার সাংস্কৃতিক ট্যুরও বুক করা যায়। Tsh ৬,০০০ থেকে শুরু।
- স্পাইস রিট্রিট রেস্টুরেন্ট, ১ম তলা, এনজিরো কমপ্লেক্স, ☏ +২৫৫ ৭৫৪ ২৭৪৯৭৭। দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা। ভারতীয়, এশীয়, মেক্সিকান আর আন্তর্জাতিক খাবার। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে মেরু আর কিলিমানজারো দুটো পাহাড়ই দেখা যায়। একটা নাইটক্লাবও আছে। Tsh ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০।
- কিতি মোতো, মাকাও মাপিয়া পাড়া (ট্যাক্সিতে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো। প্রধান বাস স্টেশন থেকে Tsh ৩,০০০ (বড়জোর ৫,০০০), আর শহরকেন্দ্র থেকে Tsh ৫,০০০ (বড়জোর ১০,০০০)। প্রিমিয়ার প্যালেস হোটেলের ঠিক পাশে সেউরি গেস্টি (গেস্টহাউস), তার দোতলায় সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। শহরের অন্য প্রান্তের দ্য প্যালেস হোটেলের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না)। সপ্তাহে সাত দিন, দুপুর আর রাতের খাবার, রাত ৯টা বা ১০টা পর্যন্ত। এই রেস্তোরাঁয় শুধু শূকরের মাংস পাওয়া যায়, পূর্ব আফ্রিকায় যা খুব একটা চোখে পড়ে না। সঙ্গে প্রধান খাবার উগালি, মানে ভুট্টার আটায় বানানো শক্ত মণ্ড, জাউয়ের মতো পাতলা নয়। বেশির ভাগ দিন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই (পূর্ব আফ্রিকায় একে বলে "চিপস") বা চাপাতিও থাকে, দেখতে অনেকটা পাতলা পরোটার মতো। স্থানীয়দের দাম, পর্যটকদের নয়: দুজনের Tsh ১০,০০০ থেকে ২০,০০০।
পানীয়

দ্য রিং, আরুশার শহরকেন্দ্র (ছবি: User:Digr, CC BY-SA 3.0)
আরুশায় মজার মজার অনেক বার আর রেস্তোরাঁ আছে। স্থানীয় বার তো গুনে শেষ করা যাবে না, আর একটু সাহসী বিদেশি গেলে সেখানে সাধারণত সাদরেই জায়গা পান। যাঁরা অতটা ঝুঁকি নিতে চান না, তাঁরা বসেন পুরোনো জার্মান দুর্গের চত্বরে, ভিয়া ভিয়ায়। জায়গাটা একটা মজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আর একটা বেসরকারি সংস্থা এটা চালায়, যারা স্থানীয় তরুণদের হোটেল-রেস্তোরাঁর কাজ শেখায়।
কোনো অজানা কারণে যাঁরা স্থানীয়দের একেবারেই এড়িয়ে চলতে চান, তাঁদের জন্যও বার আর রেস্তোরাঁর অভাব নেই। এমন জায়গা খুঁজে পাওয়া খুবই সহজ।
নাইটক্লাবের মধ্যে ভেলোসিটি, কলোবাস ক্লাব, মাসাই ক্যাম্প, ট্রিপল এ, ৭৭৭ আর পলিগন ট্রায়াঙ্গল স্থানীয় আর বিদেশি সবার কাছেই জনপ্রিয়। এগুলো জমে দেরিতে, আর ভাঙে অনেক, অনেক দেরিতে, বা বলা ভালো অনেক ভোরে। পকেটমারের উৎপাতের খবর পাওয়া গেছে, আর সবগুলো ক্লাবেই স্থানীয় যৌনকর্মীদের আনাগোনা আছে, তাই চেনা সাবধানতাগুলো মেনে চলুন।
থাকার জায়গা
আরুশায় সব বাজেটের জন্য প্রচুর থাকার জায়গা আছে। শহরের মাঝখানেই অনেক হোটেল। একেবারে ওপরের দিকে আছে শহরে আর শহরের আশপাশে বহু বিলাসবহুল লজ। এগুলোর কোনো কোনোটার চারপাশের দৃশ্য চোখ ধাঁধানো, আর থাকার ব্যবস্থাও সেরা মানের।
দালালদের এড়িয়ে চলবেন। হোটেল বা হোস্টেল এদের টাকা দেয় পর্যটক ধরে আনার জন্য। দুজন একসঙ্গে গেলে একজন ব্যাগ নিয়ে লবি বা রেস্তোরাঁয় বসুন, আর অন্যজন ঘর দেখে আসুন। ব্যাগ ছাড়া গেলে ভাড়া সম্ভবত কম বলবে, আর ধুরন্ধর দালালদের নজরেও পড়বেন না। এরা রিসেপশনে ইশারা করে বা আপনার পেছনে ঘুরঘুর করে, আর নিজের কমিশনের জন্য আপনার ভাড়া ৫ থেকে ১০ ডলার বাড়িয়ে দেয়।
কম খরচে থাকতে চাইলে অনেকে মাসাই ক্যাম্পের কথা বলেন (শহরকেন্দ্র থেকে হেঁটে প্রায় ৪৫ মিনিট), অথবা স্নেক পার্কের (দোদোমা রোড ধরে প্রায় ১৬ কিমি দূরে মেসেরানি গ্রামে)। দুটোই জমজমাট জায়গা, বারগুলো জনপ্রিয়, সেবাও ভালো, আর দাম খুবই কম। নিরিবিলিতে থাকতে চাইলে আছে সেন্টার হাউস। এটা চালান সন্ন্যাসিনীরা, ক্লক টাওয়ার থেকে হেঁটে কয়েক মিনিট। ঘরগুলো সাদামাটা, ডরমিটরিও আছে, ছোট ঘরও আছে। সিস্টারদের কাছ থেকে খাবার আর পানীয় পাওয়া যায়, এমনকি বিয়ারও।
কম খরচে
- আরুশা ব্যাকপ্যাকার্স, সোকোইনে রোড (বাস স্টেশনের কাছে)। হোটেলের সবচেয়ে ওপরের তলায় রেস্তোরাঁ আর বার, সেখানেই একটা ইন্টারনেট ক্যাফে, ঝটপট একটু ইন্টারনেট দেখে নিতে পারবেন। এ ছাড়া বাথরুমে ২৪ ঘণ্টা গরম পানি, টিভির ঘর, পড়ার ঘর, এমনকি ম্যাসাজের ঘরও আছে। এক ঘণ্টার ম্যাসাজে মোটামুটি Tsh ৪০,০০০ নেয়। দুজনের ঘর ২০ ডলার।
- আরুশা বাই নাইট অ্যানেক্স, স্টেডিয়াম রোড ও কর্নেল মিডলটন রোড, ☏ +২৫৫ ২৭২ ৫০৬ ৮৯৪। স্টেডিয়াম আর বাস স্টেশনের কাছে কম খরচের হোটেল। দুজনের ঘর Tsh ৩৫,০০০ (অক্টোবর ২০১৯), সঙ্গে সাদামাটা নাশতা। গরম পানি আসে শুধু নির্দিষ্ট কিছু সময়ে। রাস্তার দিকের ঘরগুলোতে খুব আওয়াজ। দুজনের ঘর Tsh ৩৫,০০০।
- মেরু হাউস ইন (শহরের মাঝখানে)। কম খরচের জায়গা, দুজনের ঘর রাতপ্রতি মাত্র Tsh ৭,০০০। ঘরগুলো পরিষ্কার, তবে টয়লেট আর গোসলখানা সবার জন্য একসঙ্গে। নিচতলায় দারুণ একটা ভারতীয় রেস্তোরাঁ আছে, দামও খুব ন্যায্য। তবে মেরু হাউস ইনে চুরির বদনাম আছে। বেশ কয়েকজন অতিথির ঘর থেকে জিনিস খোয়া গেছে, সম্ভবত কর্মীদেরই কারও হাতে। দামি জিনিস আর পাসপোর্ট অবশ্যই লকারে রাখবেন।
- কিগোঙ্গোনি লজ। একটা বেসরকারি সংস্থা লজটা চালায়। লাভের পুরো টাকা যায় কাছের একটা স্কুলে, যেখানে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরা পড়ে। ফলে আপনি আরামে থাকবেন, আবার আশপাশের মানুষের উপকারও হবে।
- রাহা লেও, স্টেডিয়াম রোড। শান্ত, পরিষ্কার হোটেল, পরিবেশ ভালো, কর্মীরাও আন্তরিক, ব্যাকপ্যাকারদের মধ্যে বেশ পরিচিত। একটা গির্জা হোটেলটা চালায়, তাই দুজনের ঘর দেওয়া হয় শুধু বিবাহিত দম্পতিকে। বাস স্টেশন কাছে বলে সুবিধা হতে পারে। দুজনের ঘর Tsh ৩০,০০০ থেকে।
- সেউরি গেস্টি (গেস্টহাউস), প্রিমিয়ার প্যালেস হোটেলের ঠিক পাশে (দ্য প্যালেস নয়) (মাকাও মাপিয়া পাড়া)। অর্ধেক ঘরে নিজস্ব বাথরুম, সেখানে গরম পানির শাওয়ার আর কমোড আছে। গেস্টহাউসে দুটো রেস্তোরাঁ আর একটা বার। একটা রেস্তোরাঁ হলো ওপরে বলা কিতি মোতো, যেখানে শুধু শূকরের মাংস পাওয়া যায়, আর পূর্ব আফ্রিকায় সেটা খুঁজে পাওয়া কঠিন। একেবারে স্থানীয় ঘরানার জায়গা। মালিক স্টিভেন নামে এক মজার মাসাই ভদ্রলোক, চমৎকার ইংরেজি বলেন। Tsh ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ (অক্টোবর ২০১৪)।
- আরুশা টর্চ বাজেট ইন। ঘরগুলো পরিষ্কার, খোলামেলা আর আলো-ঝলমলে, কর্মীরা আন্তরিক, আর জায়গাটা শহরের মাঝখানে। তাই পর্যটক আর ব্যবসার কাজে আসা লোকজন, দুই দলই এখানে ওঠেন। নাশতায় থাকে মজার ফলের রস, কফি বা চা, অমলেট আর জ্যাম-পাউরুটি। নাশতাসহ দুজনের ঘর ৩০ ডলার থেকে।
- তানজানিয়া মাউন্টেন রিট্রিট লজ অ্যান্ড ক্যাম্প, ☏ +২৫৫ ৭৫৬ ৯২১ ৪১২। মেরু পর্বতের পাদদেশে বাগানে ঘেরা শান্ত একটা জায়গা। কম খরচ থেকে শুরু করে বিলাসবহুল, সব রকম থাকার ব্যবস্থা আছে। তাঁবু খাটিয়ে থাকা শুরু €৫ থেকে, লজে থাকা €৩৫ থেকে। তাঁবুতে থাকলেও শাওয়ার, বাথটাব আর অন্যান্য সুবিধা ব্যবহার করা যায়। শুধু খেতে চাইলে আগে থেকে বুক করতে হয়, দাম €৩ থেকে। সকালের নাশতা বুফে, থাকে ফলের থালা, কফি বা চা, ডিম, চাপাতি, মাছ, আরও অনেক কিছু। €৫।
মাঝারি দামে
- মাউন্ট মেরু হোটেল, মোশি নাইরোবি রোড। হোটেলটা একটা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ভেতরে। কফিতে চুমুক দিতে দিতে দেখবেন, দশ ফুট দূরে উটপাখি আর বানর ঘুরে বেড়াচ্ছে। ৯০ ডলার।
- তুমাইনি কটেজ, আরুশা (নাইরোবি রোড থেকে আসার পথে হ্যাপি সসেজে পৌঁছানোর আগেই বাঁয়ে ঘুরুন, তারপর রাস্তাটা ধরে একেবারে শেষ মাথা পর্যন্ত যান), ☏ +২৫৫ ৭৫৪ ৫৮৮ ৬৯৮। ওয়াইফাই আছে।
- আরুশা নাজ হোটেল, সোকোইনে। যাঁরা হিসাব করে খরচ করেন, অথচ এসি, টিভি আর ওয়াইফাইসহ নিজের একটা ঘর চান, তাঁদের জন্য ভালো জায়গা। নিরাপদ, আর শহরের মাঝখানে। কর্মীরা খুব অমায়িক, রেস্তোরাঁও ভালো। ৫০ ডলার।
- দ্য আরুশা হোটেল, মেইন রোড। চার তারকা হোটেল। ঘরগুলো আধুনিক আর সুন্দর করে সাজানো, কর্মীরাও চমৎকার। ১৬০ ডলার।
- দ্য আউটপোস্ট লজ, সেরেঙ্গেটি রোড। গ্রিজিমেক পরিবারের পুরোনো প্রাসাদে একটা লজ। সুইমিং পুল, সবুজ বাগান, দ্রুতগতির ওয়াইফাই আর বার আছে। ঘরগুলো বড়সড়, মেঝে পাথরের, গরম পানির অভাব নেই। দ্য আফ্রিকান টিউলিপ থেকে মোড় ঘুরলেই। দুজনের ঘর ৮১ ডলার।
- ব্রিস্টন হোটেল। পাঁচ তারকা হোটেল, ঘরগুলো বড় আর পরিষ্কার। দুজনের ঘর ৫০ ডলার।
বিলাসী
- অনসি হাউস। মাত্র পাঁচটা ঘরের বিলাসবহুল বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট, আরুশার একমাত্র বুটিক হোটেল। শহরকেন্দ্র থেকে মাত্র ৭ কিমি দূরে, কেতাদুরস্ত আর নিরিবিলি একটা আশ্রয় হিসেবে সবাই এর নাম করেন। ১৮৫ ডলার।
- দ্য আফ্রিকান টিউলিপ, ৪৪/১ সেরেঙ্গেটি রোড। ছোট, সবার পছন্দের একটা বিলাসবহুল হোটেল, দামও ন্যায্য। এক কথায়, ভালো! ২৩০ ডলার।
- দ্য বে লিফ বুটিক হোটেল, ১০২ বিজানা রোড (আরুশার করিডোর এলাকায়। 'ফিলিপস' রোড ধরে উত্তরে যাওয়ার পথে ইমপালা গোলচত্বর পেরিয়ে প্রথম স্পিড ব্রেকারের ঠিক পরে বাঁয়ে ঘুরুন। রাস্তায় সাইনবোর্ড আছে। বাঁ দিকের দ্বিতীয় বাড়িটাই হোটেল), ☏ +২৫৫ ২৭ ২৫৪ ৩০৫৫। ছোট একটা বুটিক হোটেল, ঘর মাত্র ছয়টা, প্রতিটা আলাদা করে সাজানো। খুবই কেতাদুরস্ত, খুঁটিনাটিতেও যত্নের ছাপ। ব্যাংক, স্থানীয় দর্শনীয় জায়গা আর ক্লক টাওয়ার হাঁটা দূরত্বে। দুপুরের খাবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত, গড়ে Tsh ১০,০০০ থেকে ১২,০০০। রাতের খাবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত, গড়ে Tsh ২০,০০০ থেকে ৪০,০০০। ২০০ থেকে ৩৫০ ডলার।
নিরাপত্তা
রাতে হাঁটাহাঁটি না করাই ভালো, একা হোক বা দল বেঁধে। ট্যাক্সি অনেক, কিন্তু ওঠার আগেই ভাড়া ঠিক করে নেবেন। ট্যাক্সিতে মিটার নেই, তাই গন্তব্যে পৌঁছে ভাড়া বাড়িয়ে বলা খুবই সহজ। মোটরসাইকেল ট্যাক্সিতে উঠবেন না, বিশেষ করে রাতে ক্লাবের সামনে থেকে। চোরেরা এই সুযোগে সহজেই মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নেয়।
শহরের মাঝখানে (সোকোইন রোডে) আর কিছু এলাকায় (পুরোনো মোশি রোড ধরে) পর্যটকদের ওপর প্রায়ই হামলা হয়, বিশেষ করে যখন তাঁরা ব্যাকপ্যাক বা ব্যাগ নিয়ে হাঁটেন। আরুশায় পৌঁছানোর সময় আর চলে যাওয়ার সময় অবশ্যই ট্যাক্সি নেবেন, কারণ ব্যাকপ্যাকাররা কখন কোথায় নামে, ছিনতাইকারী দলগুলো সাধারণত তা জানে। শহরে হাঁটার সময় ব্যাগ সঙ্গে নেবেন না।
বিদেশি হলে দালালরা আপনার কাছে আসবেই, এটা প্রায় নিশ্চিত। বিশেষ করে যখন তারা পিছু নেয় আর ছাড়তে চায় না, তখন একটু ভয় লাগতে পারে। তবে সাধারণত এরা ক্ষতিকর নয়। এমন হলে থামবেন না, হাঁটার গতি কমাবেন না, চোখে চোখও রাখবেন না। কিছু জিজ্ঞেস করলে বা কিছু বেচতে চাইলে শুধু বলুন "হাপানা আসান্তে" (না, ধন্যবাদ)। ওদের সঙ্গে কথায় না জড়ালে অনেক ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবেন। শহরের মাঝখানের এলাকার বাইরে কোথাও হেঁটে যেতে হলে একজন গাইড সঙ্গে নেওয়াই ভালো। পুরোনো মোশি রোডের সেতুটা ছিনতাইয়ের জন্য বিশেষভাবে কুখ্যাত। পুলিশ প্রায়ই সেখানে টহল দেয়, তবু পায়ে হেঁটে থাকলে জায়গাটা এড়িয়ে চলুন।
২০১৩ আর ২০১৪ সালে আরুশায় বোমা হামলা হয়েছিল। নিশানা ছিল ধর্মীয় স্থান আর ধর্মীয় নেতারা, আর পর্যটকেরা যেসব রেস্তোরাঁ ও হোটেলে যান, সেগুলো।
স্থানীয় পানি খাবেন না, পানি বিশুদ্ধ করার ড্রপ বা ট্যাবলেট দিলেও না। এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পানিতে ফ্লোরাইডের মাত্রা অস্বাভাবিক রকম বেশি।
দরকারি তথ্য
- মাইকা কম্পিউটার সার্ভিসেস, আজিমো স্ট্রিট (আরুশা ঘোষণা জাদুঘরের উল্টো দিকে), ☏ +২৫৫ ২৭২ ৫০৬৭৩৭। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। শহরের একেবারে মাঝখানে কম্পিউটারের দোকান, লোকজন আন্তরিক। কম্পিউটার, নানা যন্ত্রাংশ আর সফটওয়্যার পাবেন, সঙ্গে প্রিন্টারের টোনার ও কালির কার্তুজ আর খালি সিডি-ডিভিডি। আপনার তোলা ছবিগুলো বিনা পয়সায় ডিস্কে তুলে দেবে।
স্বেচ্ছাসেবার সুযোগ
আরুশায় কয়েকটা সংস্থায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার সুযোগ আছে।
- দুনিয়া সালামা ফাউন্ডেশন, উসা রিভার। পরিবেশ রক্ষা, শিশুদের পড়াশোনায় সাহায্য, স্বাস্থ্য, ডিজিটাল অধিকার আর ইন্টারনেটের প্রসার নিয়ে কাজ করে
এরপর কোথায়
- আরুশা জাতীয় উদ্যান
- এনগোরোংগোরো জ্বালামুখ
- মানিয়ারা হ্রদ জাতীয় উদ্যান
- সেরেঙ্গেটি জাতীয় উদ্যান
- কিলিমানজারো
- কাটাভি জাতীয় উদ্যান
- মাহালে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যান
- গোম্বে স্ট্রিম জাতীয় উদ্যান
{{#assessment:শহর|নির্দেশিকা}}
এই পাতা কোথা থেকে এসেছে
এই পাতাটি উইকিভ্রমণ থেকে আনা হয়েছে। “আরুশা” — উইকিভ্রমণ থেকে, এর অবদানকারীদের লেখা, CC BY-SA 4.0 লাইসেন্সে। এখানে যা বদলানো হয়েছে: পাতা হিসেবে সাজানো; সম্পাদনা-লিংক, মানচিত্র ও তালিকার মেটাডেটা বাদ; প্রতিটি ছবি নিজস্ব লাইসেন্সে, ক্যাপশনে উল্লেখসহ।
এটি এখনও কেউ লেখেননি: এটি নতুন ঠিকানায় রাখা মূল উপাদান, তাই সার্চ ইঞ্জিনকে এটি সূচিভুক্ত না করতে বলা হয়েছে এবং এ থেকে কেউ আয় করেন না। পাতাটি খালি: দায়িত্ব নিন, তাহলে এটি নতুন করে লেখা ও এ থেকে আয় করা আপনার।
Licencia: CC BY-SA 4.0 · Adaptado de bn.wikivoyage.org
1
0
0
0

Comentarios





