Hub Nexus
Mis à jour

AuteurPas encore d'auteurLa reprendre

Quelque chose à améliorer ? Proposez une modification.

Soutien

দোংচেং জেলা (东城区 Dōngchéng Qū) চীনের রাজধানী শহর বেইজিংয়ের অন্তর্গত। স্থানীয় ভাষায় দোংচেং কথার আক্ষরিক অর্থ হল "পূর্বের শহর"। শহরের পূর্ব অংশ জুড়ে প্রাচীন এই অঞ্চলের বিস্তার। আগত বেশিরভাগ দর্শনার্থীরা মুলত তিয়ানানমেন চত্বর এবং শহরের নিষিদ্ধ অঞ্চলে (ফরবিডেন সিটি) অবস্থিত প্রাচীন রাজপ্রাসাদ দেখতেই আসেন। এছাড়াও এখানে প্রাচীন ও নবীন চীনা সংস্কৃতির বিবিধ নিদর্শন রয়েছে যেমন, প্রাচীন হুটং, মন্দির এবং ওয়াংফুজিং স্ট্রিটের আধুনিক বাজার যা পর্যটকদের আকর্ষন করার জন্য যথেষ্ট।

এই নিবন্ধে মধ্য দোংচেং জেলার বিভিন্ন দ্রষ্টব্য; মূলত তিয়ানানমেন স্কোয়ার এবং ওয়াংফুজিং স্ট্রিট সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। দোংচেং শহরের আরেকটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান হল নিষিদ্ধ শহর বা ফরবিডেন সিটি। তিয়ানানমেন চত্বর সংলগ্ন মেরিডিয়ান প্রবেশদ্বার দিয়ে সেখানে প্রবেশ করতে হয়। পরিখা ও উঁচু প্রাচীরের আড়াল এই অঞ্চলকে মূল শহর থেকে পৃথক করে রেখেছে।

পরিচিতি

দোংচেং বেইজিং শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল। শহরকে বেষ্টণকারী সড়ক দ্বিতীয় রিং রোডের অন্তর্বতী যে অঞ্চল, তার উত্তর-পূর্ব অংশের প্রায় এক চতুর্থাংশ এলাকা জুড়ে এর বিস্তার। তবে আধুনিক শহরের বেশ কিছু অঞ্চল মূল এলাকা ছাড়িয়ে জেলার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত তৃতীয় রিং রোড পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। এই বিস্তৃত অঞ্চলের মধ্যেই শহরের ঐতিহাসিক ও আধুনিক এলাকা এবং মূল পর্যটক আকর্ষন, যেমন তিয়ানামেন চত্বর, ফরবিডেন সিটি ইত্যাদির অবস্থান।

পার্শ্ববর্তী শিচেং জেলায় প্রধান সরকারি কার্যালায়সমূহ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাণিজ্যিক দপ্তরসমূহের অবস্থান হলেও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে দোংচেং পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষনীয়। বেইজিংয়ের জাতীয় পর্যায়ের প্রধান ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলোর এক-চতুর্থাংশের বেশি এই অঞ্চলেই অবস্থিত যাদের মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত কিছু মন্দির। এছাড়াও জাদুঘর, শিল্প প্রদর্শনী, নাট্যশালা ইত্যাদি বিবিধ দর্শনীয় স্থানে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল। কেনাকাটার জন্য রয়েছে বিভিন্ন বাজার এবং নৈশজীবন উপভোগের উপযুক্ত পরিবেশ। বেইজিং ভ্রমনকারী সকল পর্যটকদের অন্তত একবার হলেও (সম্ভব হলে একাধিকবার) দোংচেং আসা উচিত।

ইতিহাস

দোংচেংয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো তিয়ানানমেন স্কোয়ার যা আধুনিক চীনের জনজীবনের কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত। স্কোয়ারের উত্তরদিকে ফরবিডেন সিটির অবস্থান। এই প্রাচীন রাজপ্রাসাদটি ১৪২০ সালে নির্মিত হয়। তবে তার অনেক আগে থেকেই দোংচেং অঞ্চলে মানুষের বসতি ছিল।

দশম শতকে লিয়াও রাজবংশের শাসণকালে রাজকীয় বাসভবনের পাশাপাশি ছোট ছোট বসতি গড়ে উঠেছিল। তৎকালীণ শহরাঞ্চল পরিবেষ্টণকারী এক প্রাচীরের উত্তর-পূর্ব অংশে ছিল এই বসতিগুলির অবস্থান। দুই শতাব্দী পরে, জিন রাজবংশের সময়কালে শহরের বাইরে অপর এক প্রাচীরের নির্মান হয় (বর্তমানে এখানে দ্বিতীয় রিং রোডের অবস্থান) এবং ছোট ছোট বস্তিগুলিকে শহরাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যখন মিং রাজবংশের সম্রাট ঝংলে ফরবিডেন সিটির নির্মাণ করেন, ততদিনে দোংচেং অঞ্চলে প্রায় ১৫টি ছোট ছোট গলিপথের নির্মান হয়ে গিয়েছে। এই গলিপথগুলি বর্তমান শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক দ্রষ্টব্য হুটংয়ের পূর্বসূরী।

সপ্তদশ শতকে মিং রাজবংশের পতনের পর চীনের সর্বশেষ রাজবংশ চিংয়ের উত্থান ঘটে। সেই সময়ও দোংচেং অঞ্চলের সমৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। কিছু রাজকীয় কর্মকর্তারা ফরবিডেন সিটিতে বসবাসের যোগ্য পদমর্যাদার অধিকারী ছিলেন না;তাঁরা এবং রাজদরবারে পণ্য বিক্রয়কারী বণিক সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজেদের জন্য সুসজ্জিত বাড়ি নির্মাণ করতেন, যেগুলি স্থানীয় ভাষায় সিহেয়ুয়ান (উঠোন ঘেরা বাড়ি) নামে পরিচিত। নগর প্রাকারের কাছাকাছি রাজপ্রাসাদের খাদ্যগুদামগুলো অবস্থিত ছিল, যেগুলোর নামানুসারে পরবর্তীতে সেখানকার অনেক রাস্তার নামকরণ করা হয়। একপর্যায়ে রাজকীয় সেনাবাহিনীর চারটি দলকেও এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল।

দোংচেং, ১৯০০ সালে বক্সার বিদ্রোহের পর

দোংচেং, ১৯০০ সালে বক্সার বিদ্রোহের পর (ছবি: Unknown author Unknown author or not provided, Public domain)

উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বক্সার বিদ্রোহের সময় দোংচেং রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সে সময় পাশ্চাত্য বিরোধী জাতীয়তাবাদীরা লিগেশন কোয়ার্টার নামক স্থানে বিদেশী কূটনীতিক এবং চীনা খ্রিস্টানদের দুই মাস ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। পরবর্তীতে তিয়ানজিন থেকে প্রেরিত ৮টি দেশের যৌথ মিত্রবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। বিদ্রোহীদের আক্রমণে ইতিমধ্যেই শহরের অনেক ক্ষতি হয়েছিল। বৈদেশিক বাহিনীর লোকেরা এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে সাংস্কৃতিক সম্পদ ও ধনসম্পদ লুটপাট করে। এই অপমানজনক ঘটনার ফলস্বরূপ, ১১ বছর পর চিং রাজবংশের পতন ঘটে এবং চীন প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

সাম্রাজ্যবাদী শাসনের অবসান ঘটার পরই বর্তমান দোংচেং এলাকাটি প্রথমবারের মতো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এর ফলে এলাকাটি বসবাসের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে এবং বহু বিত্তশালী মানুষ এখানে এসে বসতি স্থাপন করতে শুরু করেন। ১৯১৯ সালের ৪ মে দোংচেঙে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভার্সাই চুক্তির সুবিধা নিয়ে চীন সরকারের ওপর জাপানের অন্যায় "একুশ দফা দাবি" চাপিয়ে দেওয়া এবং তাতে চীনা সরকারের দুর্বল ভূমিকার প্রতিবাদে এই আন্দোলন হয়েছিল। ঐতিহাসিক এই "৪ মে আন্দোলন" -এর নামানুসারেই পরবর্তীতে উসি (যার আক্ষরিক অর্থ "৫/৪") সড়কের নামকরণ করা হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে। এই আন্দোলন চীনের তৎকালীন বামপন্থী ও জাতীয়তাবাদীদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, যার ধারাবাহিকতায় কয়েক বছর পর গঠিত হয় চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। এর ঠিক ৩০ বছর পর গৃহযুদ্ধের সময় মাও জেদংয়ের নেতৃত্বে এই পার্টি জয়লাভ করে এবং ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর তিয়ানানমেন স্কোয়ার থেকেই তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেন (যা আজও চীনে জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়)।

ওয়াংফুজিং

ওয়াংফুজিং বেইজিংয়ের একটি অভিজাত এলাকা। এখানে অনেক বাণিজ্যিক বিপণন কেন্দ্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের দোকান রয়েছে। এই অঞ্চলকে রাজধানীর আধুনিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আগত দর্শনার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও আমন্ত্রণমূলক করে তোলার জন্য শহরের এই এলাকাকে বৃহৎ পরিসরে গড়ে তোলা হয়েছে।

তিয়ানানমেন

তিয়ানানমেনকে চীনের আধুনিক ইতিহাসের প্রধান ঘটনাবলীর কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে রয়েছে তিয়ানানমেন চত্বর, নিষিদ্ধ শহর (ফরবিডেন সিটি), ন্যাশনাল সেন্টার অফ পারফর্মিং আর্টস, চেয়ারম্যান মাওয়ের বিখ্যাত প্রতিকৃতি, চীনের জাতীয় সংগ্রহশালা এবং আরও অনেক বিখ্যাত ও জাঁকজমকপূর্ণ ভবন ও স্মৃতিস্তম্ভ। এখানকার তোরণটি ছিল রাজকীয় নগরীতে প্রবেশের প্রথম প্রধান প্রবেশদ্বার। শহরের প্রাচীন চারটি তোরণের মধ্যে এটিই একমাত্র যা আজও টিকে আছে।

এই পাতা কোথা থেকে এসেছে

এই পাতাটি উইকিভ্রমণ থেকে আনা হয়েছে। “বেইজিং/মধ্য দোংচেং” — উইকিভ্রমণ থেকে, এর অবদানকারীদের লেখা, CC BY-SA 4.0 লাইসেন্সে। এখানে যা বদলানো হয়েছে: পাতা হিসেবে সাজানো; সম্পাদনা-লিংক, মানচিত্র ও তালিকার মেটাডেটা বাদ; প্রতিটি ছবি নিজস্ব লাইসেন্সে, ক্যাপশনে উল্লেখসহ।

এটি এখনও কেউ লেখেননি: এটি নতুন ঠিকানায় রাখা মূল উপাদান, তাই সার্চ ইঞ্জিনকে এটি সূচিভুক্ত না করতে বলা হয়েছে এবং এ থেকে কেউ আয় করেন না। পাতাটি খালি: দায়িত্ব নিন, তাহলে এটি নতুন করে লেখা ও এ থেকে আয় করা আপনার।

LanguesবাংলাEnglishDeutschItaliano

Licence : CC BY-SA 4.0 · Adapté de bn.wikivoyage.org

1

0

0

0

Spinner Logo

commentaires

Spinner Logo