This page is also in English: History of organized labor
এটি একটি ভ্রমণ-সম্পর্কিত বিষয়, যা আধুনিক শিল্পশ্রমের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করে। এটি ১৮শ শতকের শেষ এবং ১৯শ শতকের শুরুতে বাষ্প শক্তি ও শিল্পায়নের বিকাশের সঙ্গে উদ্ভূত হয় এবং শ্রমিকদের ধর্মঘটের অধিকার, আট ঘণ্টার কর্মদিবস, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং আরও অনেক অগ্রগতির সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। সোভিয়েত ইউনিয়ন সাত দশক ধরে নিজেকে "বিশ্ব মেহনতি মানুষের মাতৃভূমি" বলে দাবি করেছিল। কিন্তু শ্রমের ইতিহাস শাসকশ্রেণী প্রায়ই উপেক্ষা করেছে, ভুলে গেছে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কে জানে কেন ১ মে-কে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে "শ্রমিক দিবস" হিসেবে পালন করা হয়, অথচ সেই দেশেই নয় যেখানে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। আবার কে জানে যে "রেডনেক" শব্দটি, যা আজ আমেরিকার দরিদ্র শ্বেতাঙ্গ গ্রামীণ দক্ষিণীদের জন্য অবমাননাকর অর্থে ব্যবহৃত হয়, তা মূলত বোঝাত ধর্মঘটরত শ্রমিকদের, যারা লাল গলাবন্ধনী পরিধান করে তাদের প্রভুদের ভাড়াটে গুন্ডাদের বিরুদ্ধে লড়াই করত। তবে আজও শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসের অনেক স্থান কোনো না কোনোভাবে সংরক্ষিত আছে এবং সেসব স্থানে ভ্রমণ করা যায়।
| “ | বিশ্বের শ্রমিকরা, এক হও! তোমাদের হারানোর কিছু নেই, হারানোর আছে শুধু শৃঙ্খল! | ” |
|---|---|---|
| —মার্ক্স ও এঙ্গেলস |
জানুন
ধর্মঘট, বিদ্রোহ ও অন্যান্য শ্রমিক সংঘাত প্রাচীন মিশর থেকেই পরিচিত ছিল। তবে শিল্পবিপ্লবের আগে অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করত, কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না এবং সংগঠিত হওয়ার সুযোগও ছিল অতি সীমিত। ১৯শ শতকেও বিশ্বের অনেক দেশে দাসপ্রথা, দাসত্ব, চুক্তিভিত্তিক শ্রম বা অন্যান্য আইন ছিল, যা অধিকাংশ মানুষের নাগরিক অধিকার সীমিত করেছিল। এমনকি যারা আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্ত নাগরিক ছিল, তারাও বাস্তবে জমিদারের করুণার উপর নির্ভরশীল ছিল।
প্রথম আধুনিক শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয় শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী ব্রিটেনে। সেখানে ছোট ছোট শিশুরা পর্যন্ত কারখানায় কাজ করত এবং দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বা অঙ্গহানি ছিল প্রতিদিনের ঘটনা। শ্রমিকদের অধিকার সংক্রান্ত প্রায় প্রতিটি অগ্রগতি রক্ত, ঘাম ও অশ্রুর বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল, যেখানে পুরুষ, নারী এবং অনেক সময় শিশুরাও লড়াই করেছে। শিল্পায়নের শুরুর সময়ে অনেক মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে (ইংল্যান্ডে যেমন "এনক্লোজার" প্রথায় সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত জমিকে ব্যক্তিগত মালিকানায় নিয়ে নেওয়া হয়েছিল) উন্নত জীবনের আশায় শহরে আসে। কিন্তু সেখানে তারা পায় অতি সামান্য মজুরি, বস্তির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অতিরিক্ত ভাড়া এবং রোগব্যাধি, অপুষ্টি ও নানান অমানবিক পরিস্থিতি। এ অবস্থাকে মাঝে মাঝে "ম্যানচেস্টার পুঁজিবাদ" বলা হয়, যা জার্মান শিল্পপতির ছেলে ফ্রিডরিশ এঙ্গেলস-কে তার বিখ্যাত বই ইংল্যান্ডের শ্রমিক শ্রেণীর অবস্থা লিখতে উদ্বুদ্ধ করে। তার বন্ধু কার্ল মার্ক্স এদিকে পুঁজিবাদের সমালোচনামূলক এক তত্ত্ব গড়ে তুলতে শুরু করেন, যা তিনি তার মহাগ্রন্থ দাস ক্যাপিটাল-এ ব্যাখ্যা করেন। এই বইটি এঙ্গেলস তার মৃত্যুর পর সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। এঙ্গেলস ও মার্ক্সের অনুপ্রেরণা এবং ভয়াবহ শ্রম-পরিস্থিতির কারণে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ইউনিয়ন ও শ্রমিক দল গঠন করতে থাকে, যাতে তারা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি, বেশি মজুরি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
শাসকগোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া প্রধানত দমননীতির মাধ্যমে প্রকাশ পায়, এবং অনেক ধর্মঘট ভেঙে দেওয়া হয় পুলিশ বা মালিকদের ভাড়াটে সশস্ত্র বাহিনী দিয়ে। তবে কিছু শিল্পপতি বুঝতে পারেন, শ্রমিকদের সামান্য ভালো ব্যবহার করলে বিদ্রোহের আশঙ্কা কমে। জার্মানির ক্রুপ নামের সামরিক-শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের জন্য "আদর্শ সম্প্রদায়" গড়ে তোলে এবং গড় মজুরির চেয়ে বেশি বেতন দেয়, কিন্তু একইসঙ্গে তারা ইউনিয়ন, সমাজতন্ত্র ও প্রকাশ্য অসন্তোষকে নির্মমভাবে দমন করে। রক্ষণশীল নেতা বিসমার্ক "গাজর ও লাঠি" নীতি অনুসরণ করেন-একদিকে সমাজতন্ত্রীদের দমন করেন, এমনকি খেলাধুলা বা সঙ্গীত ক্লাবের মতো আপাত-অরাজনৈতিক শ্রমিক সংঘগুলোকেও, যেগুলো রাজনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হতো। অন্যদিকে তিনি আধুনিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সূচনা করেন, যেমন বার্ধক্যভাতা, স্বাস্থ্যবীমা ও দুর্ঘটনাবীমা।
১৮৭১ সালে, নেপোলিয়ন তৃতীয়ের প্রুশিয়ান নেতৃত্বাধীন জোটবাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধ বিপর্যয়কর হলে, প্যারিসের জনগণ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও সম্রাজ্য-উভয়ের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ করে "প্যারিস কমিউন" গঠন করে। কিন্তু এটি এডলফ থিয়ের নেতৃত্বাধীন প্রজাতন্ত্রী বাহিনী ও প্রুশিয়ানদের নীরব সমর্থনে রক্তাক্তভাবে দমন করা হয়। এটি ছিল প্রথম প্রকৃত প্রলেতারিয় বিপ্লবের চেষ্টা এবং মার্ক্স-এঙ্গেলস জীবদ্দশায় একমাত্র উদাহরণ। পরে মার্ক্স প্যারিস কমিউন নিয়ে একটি সমালোচনামূলক বই লেখেন, যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে তারা ব্যর্থতা এড়াতে পারতো।
মার্ক্স ও এঙ্গেলসের আদর্শ, যাকে কমিউনিজম বলা হয়, কল্পনা করেছিল এক শ্রেণিহীন সমাজের, যেখানে শ্রমিকরাই উৎপাদনের উপকরণের মালিক হবে, সবাই সমাজের কল্যাণে কাজ করবে এবং সমান বেতন পাবে। ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়, যা নিজেকে প্রথম কমিউনিস্ট রাষ্ট্র বলে দাবি করে। পরবর্তীতে এই শাসনব্যবস্থা পূর্ব ইউরোপ, কিউবা, চীন, ভিয়েতনাম, লাওস, মঙ্গোলিয়া ও উত্তর কোরিয়াসহ অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ দেশগুলোর কোনোটি-ই মার্ক্স ও এঙ্গেলসের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি। ১৯৯০-এর দশকে এসে অধিকাংশ দেশ কমিউনিজম ত্যাগ করে। আজ অবশিষ্ট কয়েকটি "কমিউনিস্ট" রাষ্ট্র বাস্তবে অনেকটাই পুঁজিবাদী নীতি অনুসরণ করে। তবে ২০শ শতকে মার্ক্স ও এঙ্গেলসের প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী "সমাজতন্ত্র" ধাপের অনেক সংস্কার-যেমন শ্রমিক ও দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা-অনেক দেশেই গৃহীত হয়েছিল এবং আজও নানাভাবে বজায় আছে।
ধর্ম সংগঠিত শ্রম আন্দোলনে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেছে। খ্রিস্টীয় সমাজতন্ত্র ১৯০০ সালের আশপাশে প্রভাবশালী ছিল এবং কিছু ইউনিয়নের খ্রিস্টীয় দর্শনও ছিল। কিন্তু মার্ক্স ধর্মকে "গরিব মানুষের আফিম" হিসেবে আখ্যা দিয়ে স্বীকার করেছিলেন যে এটি দারিদ্র্য কিছুটা লাঘব করে, তবে পুঁজিবাদ সমালোচনার ক্ষেত্রে এটি অকার্যকর। অনেক কমিউনিস্ট পার্টি ছিল নামেমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ বা ধর্মবিরোধী, আবার একইসঙ্গে জীবিত বা মৃত নেতাদের ঘিরে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতিও গড়ে উঠেছিল।
শ্রমিক দিবস

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত আট ঘণ্টা শ্রম দিবসের স্মৃতিস্মারক (ছবি: Takver from Australia, CC BY-SA 2.0)
অনেক দেশেই সংগঠিত শ্রমিকদের সম্মানে জাতীয় ছুটির দিন রয়েছে। অধিকাংশ দেশে এটি ১ মে (যা ইউরোপের কিছু বসন্ত উৎসবের সঙ্গে মিলে যায়)। তবে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক দিবস পালিত হয় সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সোমবারে।
ইংরেজিভাষী দেশগুলো যেহেতু শিল্পায়নের পথিকৃৎ, তাই এসব দেশে শ্রমিকদের পদযাত্রা ও উৎসব পালনের ইতিহাসও অনেক পুরনো। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ১৮৫৬ সালের ২১ এপ্রিল দিনমজুর ও নির্মাণশ্রমিকেরা সফলভাবে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলন করে, যা পরবর্তীতে বার্ষিক স্মরণোৎসবে পরিণত হয়। বর্তমানে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্য ও অঞ্চল নিজ নিজ দিনে “শ্রম দিবস” পালন করে।
টরন্টোতে ১৮৭২ সালের ১৫ এপ্রিল শ্রমিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে, কারণ তখনও কানাডায় শ্রমিক সংগঠনগুলো আইনত অবৈধ ছিল। সংগঠন বৈধ হওয়ার পর, কানাডার শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বর্ণাঢ্য মিছিলের আয়োজন শুরু করে, যা ছিল উৎসব ও প্রতিবাদ উভয়েরই প্রতিফলন। এর মধ্যে একটি বৃহৎ মিছিল হয় ১৮৮২ সালের ২২ জুলাই, যেখানে আমেরিকান শ্রমিক নেতা পিটার জে. ম্যাকগুয়ার অংশগ্রহণ করেন। পরে তিনি নিউ ইয়র্ক সিটিতে ফিরে গিয়ে ১৮৮২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সোমবারে বার্ষিকভাবে অনুরূপ একটি দিবস পালনের পরিকল্পনা করেন।
১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। শিকাগোতে এই প্রতিবাদ “হে মার্কেট কাণ্ডে” সহিংস রূপ নেয়। ১৮৯০ সালের ১ মে “হে মার্কেট কাণ্ড” স্মরণে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক । শুধু উত্তর আমেরিকা নয়, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার শ্রমিক সংগঠনগুলোও মিছিলে অংশ নেয়। এরপর থেকেই উত্তর আমেরিকার শ্রমিক আন্দোলনে বিভক্তি দেখা দেয়: একপক্ষে ছিল ১ মে-র রাজনৈতিক বার্তা, অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সোমবারের উৎসবধর্মী চরিত্র।
১৮৯৪ সালে ক্লিভল্যান্ডে দাঙ্গার পর, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই সেপ্টেম্বরের শ্রমিক দিবসকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১ মে-র তাৎপর্যকে কমিয়ে ফেলে। ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার শ্রমিক সংগঠনগুলো দ্রুতই ১ মে-কে গ্রহণ করে, কারণ এটি অনেক দেশের লোকজ উৎসবের সঙ্গেও মিলেছিল।
গন্তব্য
কিছু স্থানে শ্রমিক সমাবেশ ভবন রয়েছে, যেখানে শ্রমিক সংগঠনগুলোর কার্যালয় ছিল।
- হে মার্কেট শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ (শিকাগো, যুক্তরাষ্ট্র)। "হে মার্কেট কাণ্ডে" অভিযুক্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের স্মৃতিতে উৎসর্গীকৃত। এটি বহু দেশে ১ মে শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রে নয়।
- কমিউনারদের প্রাচীর (প্যারিস, ফ্রান্স)। প্যারিস কমিউনের ১৭৪ যোদ্ধাকে এই প্রাচীরের সামনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে বিজয়ী প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী।
- টলপাডল শহিদ জাদুঘর (টলপাডল, ডরচেস্টারের কাছে, ইংল্যান্ড)। ১৯ শতকের শুরুতে শ্রম অধিকার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী টলপাডল শহিদদের ইতিহাসবিষয়ক জাদুঘর।
- সাবেক ট্রায়াঙ্গল শার্টওয়েস্ট কারখানা (নিউ ইয়র্ক সিটি, যুক্তরাষ্ট্র)। ১৯১১ সালের ২৫ মার্চ নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা ঘটে এখানেই। এতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডে বহু শ্রমিকের প্রাণহানি হয়। পরবর্তীতে নিউ ইয়র্ক রাজ্যে অগ্নি নিরাপত্তা আইন সংস্কার হয়। আজ এটি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির মালিকানাধীন, এবং ভবনের বাইরের দেয়ালে একটি স্মারক ফলক রয়েছে।
- আরবেতেতস মিউজিয়াম (শ্রম জাদুঘর) (নরশেপিং, সুইডেন)। জাদুঘরটির পাশাপাশি আশপাশের “ইন্ডাস্ট্রিলান্ডস্কাপেট/স্ত্র্যুকইয়ারনেট” এলাকাটি ঘুরে দেখার মতো, যেখানে রয়েছে কনসার্ট হল, বিজ্ঞান পার্ক, পর্যটন কেন্দ্র, গির্জা, অন্যান্য জাদুঘর, শিল্প বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অংশ এবং একটি মনোরম জলপ্রপাত।
- জো হিল জাদুঘর (গেভলে, সুইডেন)। ১৮৭৯ সালে জন্মগ্রহণকারী জোয়েল ইমানুয়েল হ্যাগলুন্ডের জন্মস্থান। তিনি "ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স অফ দ্য ওয়ার্ল্ড" বা "ওব্বলিসের" একজন সংগঠক, সংগীতকার ও শ্রমিক নেতা ছিলেন। ১৯১৪ সালে সাল্ট লেক সিটিতে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ দুর্বল হলেও নিজের গুলির ব্যাখ্যা না দেওয়ায় তিনি দণ্ডিত হন বলে অনেকেই বিশ্বাস করেন।
- কার্ল মার্ক্স হাউস (ট্রিয়ার, জার্মানি)। শ্রমিক আন্দোলনের অগ্রদূত কার্ল মার্ক্সের জন্মস্থান, যার লেখনী সমাজতান্ত্রিক ও কমিউনিস্ট দর্শনের ভিত্তি তৈরি করে।
- এঙ্গেলস হাউস (ভুপার্টাল, জার্মানি)। কার্ল মার্ক্সের সহযোগী ও শ্রমিক অধিকারের প্রবক্তা ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের শৈশবকাল এই বাড়িতে কেটেছে। এখন এটি একটি জাদুঘর এবং সমাজতান্ত্রিকদের মাঝে একটি গন্তব্যস্থান।
- ন্যাশনাল সিভিল রাইটস মিউজিয়াম (লোরেন মোটেল) (মেমফিস, টেনেসি, যুক্তরাষ্ট্র)। এই জাদুঘরটি তৈরি হয়েছে সেই মোটেলটি ঘিরে যেখানে ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল নিহত হন। তিনি শুধু বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধেই নয়, বরং শ্রমিক অধিকার আন্দোলনেরও একজন প্রবক্তা ছিলেন এবং শ্রমিক ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মধ্যে সেতুবন্ধ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তার মৃত্যুর সময় তিনি আফ্রিকান-আমেরিকান পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধর্মঘটে সমর্থন জানাতে মেমফিসে ছিলেন।
- ব্রোকেন হিল ট্রেডস হল (ব্রোকেন হিল, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া)। ভিক্টোরিয়ান যুগের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই ভবনটি রূপালী খনির শহর ব্রোকেন হিলে শ্রমিক সংগঠনগুলোর কার্যালয় ছিল। এখানে ১৮ মাসব্যাপী ধর্মঘটের মাধ্যমে ১৯২১ সালে খনিশ্রমিকদের জন্য ৩৫ ঘণ্টার কর্ম সপ্তাহ নিশ্চিত হয়।
- ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া মাইন ওয়ার্স মিউজিয়াম (লোগানের কাছে, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র)। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও কেনটাকির সীমানা ঘেঁষা পাহাড়ি অঞ্চলে এই জাদুঘরটি অবস্থিত। এখানে ধর্মঘটরত কয়লা খনিশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে “ব্লেয়ার পর্বতের যুদ্ধ” ছিল মার্কিন গৃহযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় বিদ্রোহ, যা দমন করতে মার্কিন সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে।
- লুন্ডে (ক্রামফোর্সের কাছে, সুইডেন)। ১৯৩১ সালের আদালেন আন্দোলনের স্থল, যেখানে সেনাবাহিনী গুলি চালিয়ে পাঁচজন আন্দোলনকারীকে হত্যা করে। এটি ২০ শতকের শুরুর সুইডিশ শ্রমিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- গ্র্যান্ড হোটেল সাল্টশোবাডেন (স্টকহোম দ্বীপপুঞ্জ, সুইডেন)। এই “গ্র্যান্ড ওল্ড হোটেল”-টি সুইডেনের ইতিহাসে বিখ্যাত ১৯৩৮ সালের সাল্টশোবাডেন চুক্তি (সল্টসজোবাদ চুক্তি) স্মরণে উল্লেখযোগ্য। এটি ছিল নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি, যার মাধ্যমে শ্রম বাজারে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর থেকেই সুইডেনের অধিকাংশ কর্মস্থলে সমষ্টিগত চুক্তি চালু হয় এবং ধর্মঘটের হার কমে যায়।
আরও দেখুন
- সরকার ও রাজনীতিভিত্তিক পর্যটন
- শ্রমিক সমাবেশ ভবন
- শিল্প পর্যটন
শিল্প বিপ্লবকালীন ব্রিটেন
- যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পায়ন এবং আমেরিকান শিল্প ভ্রমণ
- জাপানের মেইজি শিল্প বিপ্লবের স্থানসমূহ
- জার্মানির শিল্প ঐতিহ্য পথ
- ইউরোপীয় শিল্প ঐতিহ্যের রুট
- গাড়ি শিল্পের ইতিহাস; গাড়ি শিল্পে সাধারণত ইউনিয়ন সদস্যতার হার বেশি
- স্টকহোম শ্রমিক ভ্রমণ; ২০ শতকের অধিকাংশ সময় সুইডেন শাসনকারী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস
{{#assessment:প্রসঙ্গ|রূপরেখা}}
এই পাতা কোথা থেকে এসেছে
এই পাতাটি উইকিভ্রমণ থেকে আনা হয়েছে। “সংগঠিত শ্রমের ইতিহাস” — উইকিভ্রমণ থেকে, এর অবদানকারীদের লেখা, CC BY-SA 4.0 লাইসেন্সে। এখানে যা বদলানো হয়েছে: পাতা হিসেবে সাজানো; সম্পাদনা-লিংক, মানচিত্র ও তালিকার মেটাডেটা বাদ; প্রতিটি ছবি নিজস্ব লাইসেন্সে, ক্যাপশনে উল্লেখসহ।
এটি এখনও কেউ লেখেননি: এটি নতুন ঠিকানায় রাখা মূল উপাদান, তাই সার্চ ইঞ্জিনকে এটি সূচিভুক্ত না করতে বলা হয়েছে এবং এ থেকে কেউ আয় করেন না। পাতাটি খালি: দায়িত্ব নিন, তাহলে এটি নতুন করে লেখা ও এ থেকে আয় করা আপনার।
Licence: CC BY-SA 4.0 · Adapted from bn.wikivoyage.org
1
0
0
0

Comments






