Hub Nexus
Atualizada

AutorAinda sem autorAssumir

Viu algo para melhorar? Proponha uma alteração.

Apoio

বেলফাস্ট (আইরিশ ভাষায় Béal Feirste) উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ও সবচেয়ে বড় শহর। শহরের বেশির ভাগটা পড়েছে লাগান নদীর পশ্চিম পাড়ে, ঐতিহাসিক কাউন্টি অ্যানট্রিমে। বাকি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পূর্ব পাড়ে, কাউন্টি ডাউনে। তবে শুরু থেকেই বেলফাস্ট চলেছে আলাদা একটা মহানগর হিসেবে। ২০২৪ সালে এখানকার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার। অতীতে শহরটা অনেক অশান্তি দেখেছে, তবে এখন বেড়াতে আসার জন্য নিরাপদ, আর পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা উত্তর আয়ারল্যান্ডের অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে এখানে ভালো। নিজের অবস্থানের জোরে বেলফাস্ট বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই দাবি করতে পারে, যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ড দ্বীপ, কোথাও এর চেয়ে আকর্ষণীয় শহর আর নেই।

পরিচিতি

বেলফাস্ট সিটি হল

বেলফাস্ট সিটি হল (ছবি: NorthernCounties ( talk ), Public domain)

এমন অভিজাত একটা শহরের নাম এসেছে এক কাদার চর থেকে, আর শহরটা দাঁড়িয়েও আছে কাদার ওপরেই। লাগান নদীর নিচের অংশে জোয়ার-ভাটা খেলে। ডজনখানেক ছোট উপনদী এসে এতে মিশেছে (এগুলো এখন মাটির নিচে কালভার্টে ঢাকা), আর সেগুলোর বয়ে আনা পলি জমে জমে তৈরি হয়েছে বালু আর কাদার চর। ভাটার সময় নদীর যে জায়গাটা সবচেয়ে ভাটিতে হেঁটে পার হওয়া যেত, সেখানেই এখন লাগান সড়কসেতু। আইরিশ ভাষায় জায়গাটার নাম Béal Feirste, মানে "বালুচরের পারঘাটার মুখ"। ঠিক সেখানে এসে মিশেছে ফারসেট নামের উপনদী, আর তার নামও এসেছে ওই কাদার চর থেকে, উল্টোটা নয়। মানুষের কাটা খাল আর কালভার্ট তো আছেই, তার বাইরেও লাগানের দুই পাড়ের পলিমাটি চুঁইয়ে প্রচুর পানি বয়ে যায়। নির্মাণকাজের জন্য এই মাটি এক পিচ্ছিল, থিক্সোট্রপিক ঝামেলা। খাদ খুঁড়ে কাদা তুললে মনে হয় সে বাড়ির জন্য মন খারাপ করছে, চোখের পলকে গড়িয়ে আবার গর্তে ফিরে যায়। উঁচু দালান তোলার পথেও এ মাটি বড় বাধা। তবে মনে রাখবেন, প্যারিসও কিন্তু এমন মাটির ওপরেই গড়ে উঠেছে।

শিল্পবিপ্লবের আগে বেলফাস্ট ছিল ছোট একটা মফস্বল শহর। আঠারো শতকে লিনেন ব্যবসার জোরে শহরটা দ্রুত বাড়তে থাকে, আর উনিশ শতকে বাড়ে ভারী শিল্পের হাত ধরে, বিশেষ করে মোহনার ধারের জাহাজ তৈরির কারখানাগুলোর কল্যাণে। কাজের টানে দলে দলে লোক আসতে থাকে, যাদের মধ্যে ছিল গ্রাম ছেড়ে আসা বহু ক্যাথলিক পরিবার। ১৯২১ সালে আয়ারল্যান্ড ভাগ হয়ে যায়। ডাবলিন আর আইরিশ প্রজাতন্ত্র অর্থনীতিতে পিছিয়ে পড়ে, আর বেলফাস্ট হয় উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী। মহামন্দা কাটিয়ে ওঠার পর শহরটা পুরোদমে লেগে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রসদ জোগানোর কাজে।

বিশ শতকের শেষ দিকে বিদেশি প্রতিযোগিতার সামনে টিকতে না পেরে বস্ত্রকল আর ভারী কারখানাগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যায়, শহরে নেমে আসে মন্দা। নানা গোষ্ঠী আর সম্প্রদায়ের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। সংখ্যালঘু ক্যাথলিকরা জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে খোলাখুলি বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল, আর দুই পক্ষেরই ছিল দুশো বছরের পুরোনো আধাসামরিক গুণ্ডামির ধারা। পরিস্থিতি একসময় হাতের বাইরে চলে যায়। ১৯৬৯ সাল থেকে টানা তিরিশ বছর গোটা উত্তর আয়ারল্যান্ড, আর সবচেয়ে বেশি বেলফাস্ট, পার করে কুখ্যাত "দ্য ট্রাবলস" বা গোলযোগের কাল। বেসামরিক প্রশাসন ভেঙে পড়ে। শৃঙ্খলা ফেরাতে বিপুলসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা নামানো হয়, আর একসময় তারাও হামলার নিশানা হয়ে ওঠে। দাঙ্গা, গোলাগুলি আর বোমাবাজি তখন সংবাদচিত্রের রোজকার খবর। মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড, তল্লাশিচৌকি আর সাঁজোয়া গাড়ি। ধোঁয়ায় কালো হয়ে যাওয়া ক্ষতবিক্ষত শহরের আকাশে ভটভট শব্দে চক্কর দিত হেলিকপ্টার।

নব্বইয়ের দশকে পৌঁছে সব পক্ষই লড়াই করতে করতে ক্লান্ত। একদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভেতরের রাজনৈতিক উদ্যোগ, অন্যদিকে ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, এই দুইয়ে মিলে ১৯৯৮ সালে সই হয় "গুড ফ্রাইডে চুক্তি"। এর আগে বহু যুদ্ধবিরতি আর শান্তি-উদ্যোগ অল্প দিনেই ভেস্তে গিয়েছিল। ওমা বোমা হামলার পর অনেকেরই মনে হয়েছিল, এই চুক্তিরও একই দশা হবে। কিন্তু মোটের ওপর এবারেরটা টিকে যায়। ধীরে ধীরে রাস্তা থেকে সেনা সরে যায়, জীবন স্বাভাবিক হতে থাকে। তবে বিবদমান পাড়াগুলোকে আলাদা রাখার "পিস ওয়াল" বা শান্তি-দেয়াল এখনো দাঁড়িয়ে আছে। হোটেল, পাব আর পর্যটকদের নানা সুবিধা আবার চালু হয়, আর আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে শহরের ভিক্টোরীয় ও এডওয়ার্ডীয় আমলের স্থাপত্য। ট্রাবলসকে ঘিরে পর্যটনেরও খানিকটা বাজার তৈরি হয়। কিন্তু বেলফাস্টের সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল নিজেকে নিয়ে গর্ব করার মতো নতুন একটা গল্প। সেই গল্প মেলে ২০১২ সালে, নদীর পূর্ব পাড়ে টাইটানিক কোয়ার্টার চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে।

পর্যটক তথ্য

  • ভিজিট বেলফাস্ট, 9 Donegall Square North BT1 5GB (সিটি হলের উল্টো দিকে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ৬৬০৯। সোম থেকে শনি: সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা; রবি: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা। এরা থাকার জায়গা আর ট্যুর বুক করে দেয়, কোথায় কী দেখবেন বা কীভাবে ঘুরবেন সে ব্যাপারে পরামর্শ দেয়, আর বিক্রি করে সস্তা চটকদার স্যুভেনির।
  • বেলফাস্ট সিটি কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে স্থানীয় সরকারি সেবার সব তথ্য পাবেন।

যেভাবে যাবেন

বিমানে

বেলফাস্ট ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট চালায় ইজিজেট

বেলফাস্ট ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট চালায় ইজিজেট (ছবি: Ryan kirk, CC BY-SA 3.0)

জর্জ বেস্ট বেলফাস্ট সিটি বিমানবন্দর

জর্জ বেস্ট বেলফাস্ট সিটি বিমানবন্দর (BHD আইএটিএ), Sydenham BT3 9JH (শহরকেন্দ্র থেকে ২ মাইল পূর্বে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৯৩ ৯০৯৩। শহরকেন্দ্রের একেবারে কাছের বিমানবন্দর। বেশির ভাগ ফ্লাইট আসে যুক্তরাজ্যের অন্যান্য জায়গা থেকে, আর তার বড় অংশই এয়ার লিঙ্গাসের, কারণ এখানে তাদের একটা ঘাঁটি আছে। এ ছাড়া লন্ডন হিথ্রো (ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ), আমস্টারডাম (কেএলএম) আর ফ্রাংকফুর্ট (লুফথানসা) থেকেও ফ্লাইট আসে, আর এই তিন জায়গা থেকে দুনিয়ার প্রায় সবখানে সংযোগ পাওয়া যায়। অ্যাবারডিন আর ইনভারনেস থেকে আসে লোগানএয়ার।

বিমানবন্দর থেকে শহরে:

বাস: ৬০০ নম্বর বাস আধা ঘণ্টা পরপর বিমানবন্দর থেকে কুইন্স স্কয়ার, ভিক্টোরিয়া স্কয়ার আর ওয়েলিংটন প্লেস হয়ে গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনে যায়। রোজ সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে, সময় লাগে ১৫ মিনিটেরও কম। ২০২৬ সালে বড়দের একমুখী ভাড়া £২.৩০।

ট্যাক্সি: শহরের বেশির ভাগ জায়গায় যেতে মোটামুটি £১৫ পড়বে। তবে গাড়িতে ওঠার আগেই জিজ্ঞেস করে নিন, বলা ভাড়ায় বিমানবন্দরের £২.৫০ বাড়তি চার্জ ধরা আছে কি না। নইলে নামার সময় চালক সেটা জুড়ে দিতে পারেন।

ট্রেন: টার্মিনালের ঠিক দক্ষিণ-পশ্চিমে সিডেনহাম রেলস্টেশন, সেখানে যাওয়ার জন্য বিনা পয়সার শাটল বাস আছে। ৬০০ নম্বর বাসের স্টপে গিয়ে বোতাম টিপলেই শাটল চলে আসবে। স্টেশনে পৌঁছাতে একটা ব্যস্ত বড় সড়কের ওপরের ফুটওভারব্রিজ পার হতে হয়, তাই সঙ্গে অনেক মালপত্র থাকলে একটু কষ্ট হবে। সিডেনহাম পড়েছে বেলফাস্ট থেকে হলিউড হয়ে উপকূলের শহর ব্যাঙ্গর পর্যন্ত রেললাইনে। সকাল ৬টা থেকে মাঝরাত পর্যন্ত ২০ মিনিট পরপর ট্রেন আছে, রবিবারে ঘণ্টায় একটা। ২০২৬ সালে বড়দের ভাড়া শহর পর্যন্ত £২.২০, ব্যাঙ্গর পর্যন্ত £৫.৭০। শহরকেন্দ্রে যেতে বাসের তুলনায় সামান্য কিছু পয়সা বাঁচে মাত্র। আসল লাভ হলো একই ভাড়ায় শহরের দক্ষিণ দিকেও যাওয়া যায়, যেমন কুইন্স ইউনিভার্সিটির কাছের বোটানিক স্টেশনে।

বেলফাস্ট ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দর

বেলফাস্ট ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দর (BFS আইএটিএ), Aldergrove BT29 4AB (শহরকেন্দ্র থেকে ২০ মাইল পশ্চিমে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯৪৪৮ ৪৮৪৮। উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। যুক্তরাজ্যের অন্যান্য জায়গা আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এখানে সস্তা এয়ারলাইনগুলোর ফ্লাইট আসে। ইজিজেট আসে লন্ডনের গ্যাটউইক, স্ট্যানস্টেড ও লুটন ছাড়াও ব্রিস্টল, বার্মিংহাম, লিডস, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার, নিউক্যাসল, সাউদাম্পটন, গ্লাসগো আর এডিনবরা থেকে। সারা বছর তারা আমস্টারডাম আর প্যারিসের শার্ল দ্য গল থেকেও ফ্লাইট চালায়, আর মৌসুমে বার্সেলোনা, নিস ও বোর্দো থেকে। জেট২ মৌসুমি ফ্লাইট চালায় ভূমধ্যসাগরের অবকাশকেন্দ্রগুলোতে। রায়ানএয়ার আসে ব্রিটেনের ইস্ট মিডল্যান্ডস, লন্ডন স্ট্যানস্টেড ও ম্যানচেস্টার থেকে, দক্ষিণ ইউরোপের আলিকান্তে, জিরোনা ও মিলান-বের্গামো থেকে, আর মধ্য ইউরোপের বুদাপেস্ট ও ক্রাকুফ থেকে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি থাকার জায়গা আর অন্যান্য সুবিধার খোঁজ পাবেন অ্যানট্রিম নিবন্ধে।

শহরে যেতে: আলস্টারবাসের ৩০০ নম্বর বাস বিমানবন্দর থেকে টেম্পলপ্যাট্রিক আর কুইন স্ট্রিট হয়ে গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনে পৌঁছায় ৫০ মিনিটে। দিনের বেলা ২০ মিনিট পরপর বাস, রাতে ঘণ্টায় একটা। বড়দের একমুখী ভাড়া £৯। ট্যাক্সিতে শহরকেন্দ্রে যেতে মোটামুটি £৪০ লাগবে।

অ্যানট্রিম শহরে যেতে: আলস্টারবাসের ১০৯এ নম্বর বাস ঘণ্টায় একবার ছাড়ে, লাগে ১৫ মিনিট, বড়দের ভাড়া £৩.১০। অ্যানট্রিমের বাস স্টেশনের পাশেই রেলস্টেশন। বেলফাস্ট থেকে ব্যালিমিনা, কোলরেইন, পোর্টরাশ আর ডেরির ট্রেন এই স্টেশন হয়েই যায়।

ডাবলিন হয়ে

ডাবলিন বিমানবন্দর (DUB আইএটিএ) হয়ে বেলফাস্টে আসাও অনেক সময় ভালো বুদ্ধি, কারণ যুক্তরাজ্য আর ইউরোপ থেকে এখানে প্রচুর ফ্লাইট আসে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো উত্তর আমেরিকা থেকে সরাসরি ফ্লাইট (ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন এখানেই সেরে নেওয়া যায়) আর উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে সরাসরি ফ্লাইট, যার সুবাদে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও সংযোগ মেলে। তা ছাড়া পুরো ভাড়ার এয়ারলাইনগুলো কানেক্টিং ফ্লাইট সামলায় সস্তা এয়ারলাইনের চেয়ে অনেক ভালোভাবে। ডাবলিন বিমানবন্দর ডাবলিন শহর থেকে কয়েক মাইল উত্তরে। গাড়ি ভাড়া নিলে সোজা উত্তরের মোটরওয়েতে উঠে পড়ুন, ১০০ মাইল (১৬০ কিমি) গেলেই বেলফাস্ট। ডাবলিনের বুসারাস বাস টার্মিনাল থেকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাস ছাড়ে, বিমানবন্দর ছুঁয়ে দুই ঘণ্টায় পৌঁছায় বেলফাস্টের গ্র্যান্ড সেন্ট্রালে। আলস্টারবাস আর এয়ারকোচ দুই কোম্পানিই এই পথে চলে, তাই ভাড়া নিয়ে প্রতিযোগিতা আছে। ট্রেনে যাবেন না, কারণ তাহলে আগে উল্টো দিকে ডাবলিন শহরের কনোলি স্টেশনে যেতে হবে। বিমানবন্দরের বাসস্টপের আশপাশে ঘুরঘুর করা ট্যাক্সিওয়ালাদের ধারেকাছেও ঘেঁষবেন না। আরেকটা পরামর্শ: এখানে টাকা ভাঙাবেন না। রেট খারাপ না, কিন্তু হাতে আসবে ইউরো। যাতায়াতের খরচ কার্ডে মিটিয়ে দিন, আর পাউন্ড স্টার্লিং কিনুন উত্তর আয়ারল্যান্ডে পৌঁছে।

ট্রেনে

গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশন শহরের যাতায়াতের মূল কেন্দ্র। ২০২৪ সালে এটা চালু হয় পুরোনো গ্রেট ভিক্টোরিয়া স্ট্রিট রেলস্টেশন আর ইউরোপা বাস স্টেশনের জায়গায়।

এন্টারপ্রাইজ ট্রেন ডাবলিনের কনোলি স্টেশন থেকে ঘণ্টায় একবার ছাড়ে। দ্রোহেডা, ডানডক, নিউরি আর পোর্টাডাউন হয়ে বেলফাস্ট পৌঁছাতে লাগে ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।

বাকি সব ট্রেন গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল ছাড়াও শহরের আরও কয়েকটা স্টেশনে থামে:

  • ডেরি থেকে ঘণ্টায় একটা, ক্যাসলরক, কোলরেইন, ব্যালিমিনা আর অ্যানট্রিম হয়ে। বেলফাস্ট ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে যেতে অ্যানট্রিমে নামুন।
  • পোর্টাডাউন থেকে আধা ঘণ্টা পরপর, লিসবার্ন হয়ে।
  • ব্যাঙ্গর থেকে ২০ মিনিট পরপর, হলিউড আর সিডেনহাম হয়ে। বেলফাস্ট সিটি বিমানবন্দরে যেতে সিডেনহামে নামুন।
  • লার্ন থেকে ঘণ্টায় একটা, ক্যারিকফার্গাস আর হোয়াইটঅ্যাবি হয়ে। নিউটাউনঅ্যাবি যেতে হোয়াইটঅ্যাবিতে নামুন।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের সব ট্রেন আর বাস চালায় ট্রান্সলিংক। সময়সূচি, ভাড়া আর টিকিট কেনার জন্য তাদের ওয়েবসাইট দেখুন।

বাসে

ডাবলিনের বুসারাস আর বিমানবন্দর থেকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাস আসে গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনে, লাগে ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট। আলস্টারবাস, বাস এরান আর এয়ারকোচ তিন কোম্পানিই এ পথে বাস চালায়, তাই ভাড়া নিয়ে প্রতিযোগিতা আছে। ডাবলিন থেকে একদিনের ঘোরার প্যাকেজেও বেলফাস্ট দেখানো হয়।

সিটিলিংক আর আলস্টারবাস মিলে ৯২৩ নম্বর বাস চালায়, দিনে দু-তিনবার। গ্লাসগো থেকে এয়ার হয়ে বাসটা যায় কেয়ার্নরায়ানের ফেরিঘাটে, সেখান থেকে বেলফাস্টের ফেরি। বাস ফেরিতে ওঠে না। তাই মালপত্র নামিয়ে টেনে নিয়ে ফেরিতে উঠতে হয়, আর ওপারে পৌঁছে আবার অপেক্ষমাণ বাসে তুলতে হয়।

হ্যানন কোচ এদের প্রতিদ্বন্দ্বী, আর এদের বাস মালপত্রসহ সোজা ফেরিতে উঠে যায়। দিনে দুবার গ্লাসগো থেকে ছাড়ে (এয়ারে থামে না), লাগে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। একটা বাস লিসবার্ন আর লুরগান পর্যন্ত যায়।

লন্ডন ভিক্টোরিয়া বা ম্যানচেস্টার থেকে বাসে আসতে চাইলে গ্লাসগো গিয়ে সিটিলিংক বা হ্যানন কোচ ধরতে হবে।

সীমান্ত পেরিয়ে একটা আলস্টারবাস ক্যাভান আর মোনাহান থেকে আরমা হয়ে দিনে চারবার আসে। ডোনেগাল থেকে এলে ডেরিতে বাস বদলাতে হবে, আর গলওয়ে, লিমেরিক বা কর্ক থেকে এলে ডাবলিনে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের সব বাসরুট বেলফাস্ট থেকে চারদিকে ছড়িয়ে গেছে। ডেরি থেকে ঘণ্টায় একটা বাস আছে, আসতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা।

সড়কপথে

বেলফাস্ট উত্তর আয়ারল্যান্ডের সড়ক যোগাযোগের কেন্দ্র, আর আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র থেকে সোজা মোটরওয়ে চলে এসেছে এখানে। বড় রাস্তাগুলোর অবস্থা ভালো, পুলিশের টহলও থাকে। আপনার কাজ শুধু অফিস-টাইমের ভিড়টা এড়িয়ে চলা।

ডাবলিন থেকে M1 / N1 / A1 ধরে চলে আসুন। পথে দ্রোহেডায় টোল দিতে হয়, গাড়িপ্রতি €১.৯০। সীমান্তে কোনো তল্লাশি নেই। শুধু কিছু সাইনবোর্ড চোখে পড়বে, যেগুলো জানিয়ে দেয় এখান থেকে গতিসীমা মাইলের হিসাবে।

গাড়ি ভাড়া: বড় সব কোম্পানিরই কাউন্টার আছে সিটি বিমানবন্দর, ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দর আর মধ্য বেলফাস্টে। তবে এদের গাড়ির সংখ্যা কম, তাই আগে থেকে বুক করে রাখাই ভালো। এসব জায়গার যেকোনোটা থেকে গাড়ি নিয়ে যেকোনোটায় ফেরত দিলে বাড়তি টাকা লাগার কথা নয়। কিন্তু ডাবলিনে গাড়ি নিয়ে বেলফাস্টে ফেরত দিলে (বা উল্টোটা করলে) মোটা অঙ্ক গুনতে হবে। ডাবলিন থেকে নিয়ে ডাবলিনেই ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে দেখে নিন, সেই ভাড়ার বিমায় উত্তর আয়ারল্যান্ড ধরা আছে কি না।

পার্ক অ্যান্ড রাইড: শুধু এক দিনের জন্য এলে এটা কাজে লাগবে। চারটা জায়গায় গাড়ি রাখার ব্যবস্থা আছে। পার্কিংয়ের জন্য কোনো টাকা লাগে না, শুধু স্বাভাবিক বাসভাড়াটা দিলেই হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বন্ধ হয়ে যায়, তাই সন্ধ্যায় কাজে আসবে না। জায়গাগুলো হলো:

  • স্প্রুসফিল্ড, লিসবার্নের কাছে M1 মোটরওয়ের ৮ নম্বর জংশনে। এখান থেকে ৬৫১ নম্বর বাস।
  • ব্ল্যাক'স রোড, M1 মোটরওয়ের ৩ নম্বর জংশনে। এখান থেকে ৬৫০ নম্বর বাস।
  • কেয়ার্নসহিল, A24 সেইন্টফিল্ড রোডে। এখান থেকে ৬৫২ নম্বর বাস।
  • ডানডোনাল্ড, A20 আপার নিউটাউনার্ডস রোডে। এখান থেকে G1 আর ৬৫৫ নম্বর বাস।

জলপথে

বার্কেনহেডে স্টেনা লাইনের ফেরি

বার্কেনহেডে স্টেনা লাইনের ফেরি (ছবি: Rept0n1x, CC BY-SA 3.0)

গাড়ি ছাড়া এলে বাস, ট্রেন আর ফেরি মিলিয়ে একটা টানা টিকিট খুঁজে নিন। আলাদা আলাদা টিকিট কাটার চেয়ে এতে খরচ অনেক কম, আর শহর থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত যাওয়াটাও এতে ধরা থাকে। পুরো যাত্রার মধ্যে প্রায়ই এই অংশটাই সবচেয়ে ঝামেলার।

  • কেয়ার্নরায়ান থেকে: স্কটল্যান্ডের স্ট্র্যানরারের কাছের এই ঘাট থেকে স্টেনা লাইন দিনে পাঁচবার দ্রুতগামী ক্যাটামারান চালায়, লাগে ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। পিঅ্যান্ডও কোম্পানিও কেয়ার্নরায়ান থেকে ফেরি চালায়, তবে সেটা যায় লার্নে।
  • বার্কেনহেড থেকে: লিভারপুলের উল্টো দিকে মার্সি নদীর ওপারের এই শহর থেকে স্টেনা রোজ ফেরি চালায়, লাগে ৮ ঘণ্টা। কেবিন আর খাবারের ব্যবস্থা আছে।
  • আইল অব ম্যানের ডগলাস থেকে: আইওএম স্টিম প্যাকেট সপ্তাহে চার দিন বেলফাস্টে আসে, লাগে ৩ ঘণ্টার একটু কম।

বার্কেনহেড, হোলিহেড, আইল অব ম্যান, শেরবুর্গ, রটারডাম আর জেব্রুগে থেকে ডাবলিনেও জাহাজ যায়। ইংল্যান্ড থেকে এলে সাধারণত হোলিহেড থেকে ডাবলিনের রুটটাই সবচেয়ে সুবিধার। ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে সরাসরি কোনো ফেরি নেই। তাই পুরো গ্রেট ব্রিটেন পাড়ি না দিয়ে রসলেয়ার বা ডাবলিনে জাহাজে নামাটা সহজ হতে পারে। ডাবলিন বন্দর থেকে একটা সুড়ঙ্গপথ সোজা উত্তরের মোটরওয়েতে গিয়ে উঠেছে, ফলে মধ্য ডাবলিনের যানজটে আটকে না থেকেই রওনা দিতে পারবেন।

বেলফাস্ট ফেরি টার্মিনাল ডারগান রোডের একেবারে শেষ মাথায়, শহরকেন্দ্র থেকে ৩ মাইল উত্তর-পূর্বে। কিছু ফেরির সময় মিলিয়ে ৯৬ নম্বর বাস আসে, যায় আপার কুইন্স স্ট্রিট পর্যন্ত। সেখান থেকে ইউরোপা বাস স্টেশন মাত্র এক ব্লক। বড়দের ভাড়া £২.১০। ট্যাক্সিতে শহরকেন্দ্রে যেতে মোটামুটি £১৫ পড়বে। গাড়ি নিয়ে এলে ডারগান রোড ধরে পশ্চিমে গিয়ে M2 মোটরওয়ে ধরুন।

শহরে ঘোরাফেরা

হেঁটেই শহরকেন্দ্রের সব দর্শনীয় জায়গা দেখা যায়। বোটানিক গার্ডেনস, কুইন্স ইউনিভার্সিটি বা টাইটানিক, সবই কেন্দ্র থেকে এক-দুই মাইলের মধ্যে।

বাসে

বেলফাস্টের বাস চালায় সরকারি সংস্থা ট্রান্সলিংক। সময়সূচি আর ডে-টিকিটের মতো ছাড়ের খোঁজ তাদের ওয়েবসাইটে পাবেন। ২০২৬ সালে শহরকেন্দ্রের ভেতরে বড়দের একমুখী ভাড়া £১.৮০। বাস মোটামুটি সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে, আর শুক্র ও শনিবার রাতে আলাদা নাইট বাস আছে। বাস আছে তিন রকমের:

  • মেট্রো বাসগুলো গোলাপি রঙের। কার্ড না থাকলে বাসে উঠে টিকিট কিনে নিন।
  • গ্লাইডার হলো লম্বা বেগুনি রঙের জোড়া-বাস। এতে উঠতে হলে আগেই স্টপের মেশিন থেকে টিকিট কাটতে হয়। গ্লাইডারের রুট দুটো। G1 চলে পশ্চিমের স্টুয়ার্টসটাউন রোড আর ফলস রোড থেকে শহর পেরিয়ে পূর্বের নিউটাউনার্ডস রোড পর্যন্ত। স্টরমন্ট আর আলস্টার হাসপাতালে যেতে এটাই ধরতে হয়। G2 চলে শহরকেন্দ্র থেকে টাইটানিক এলাকায়।
  • আলস্টারবাস নীল রঙের। এগুলো মূলত আশপাশের শহরে যায়, তবে শহরের ভেতরেও চড়া যায়। যেমন লিসবার্নের বাসে চড়ে বোটানিক গার্ডেনে নেমে যেতে পারেন।

প্রায় সব আলস্টারবাস গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল থেকে ছাড়ে, কিন্তু মেট্রো আর গ্লাইডার বাস সেখানে ঢোকে না।

লাগানসাইড বাসসেন্টার নদীর বাঁধের পাশে। ব্যাঙ্গর, হলিউড, নিউটাউনার্ডস আর আর্ডস উপদ্বীপের বাসগুলো এখানে এসে থামে। মেট্রো বাসেরও এটা একটা কেন্দ্র, তবে সেগুলোতে সাধারণত রাস্তার স্টপ থেকেই ওঠা হয়।

ব্ল্যাক ট্যাক্সি

ব্ল্যাক ট্যাক্সি হলো বেলফাস্টের নিজস্ব দলমুশ বা মারশ্রুতকা, মানে নির্দিষ্ট রুটে চলা শেয়ার-ট্যাক্সি। ভাড়াও প্রায় বাসের মতো। বেশির ভাগ সময় এরা বাসস্টপেই যাত্রী তোলে আর নামায়, তবে রাস্তায় সুযোগ থাকলে রুটের যেকোনো জায়গায় থামে। রুটগুলো শহরকেন্দ্রের সঙ্গে বাইরের আবাসিক এলাকাগুলোকে জুড়েছে।

ব্ল্যাক ট্যাক্সির শুরু সত্তরের দশকে, যখন শহরে বাস চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে পশ্চিম বেলফাস্টে বাস, যাত্রী আর কর্মীদের ওপর একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছিল। দাঙ্গা বা রাতারাতি গড়ে ওঠা ব্যারিকেডে রাস্তা, এমনকি গোটা পাড়া বন্ধ হয়ে যেত। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয় ১৯৭২ সালের ২১ জুলাই, যে দিনটা "ব্লাডি ফ্রাইডে" নামে পরিচিত। সেদিন প্রভিশনাল আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি শহরের পরিবহনব্যবস্থাকে নিশানা করে ২৪টা বোমা পাতে। এর ২০টা ফাটে, নিহত হন নয়জন আর আহত হন ১৩০ জন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় অক্সফোর্ড স্ট্রিট বাস স্টেশনের। এ ছাড়া স্মিথফিল্ড বাস স্টেশন, তিনটা রেলস্টেশন, ফেরি টার্মিনাল, একটা ট্রাক ডিপো, একটা ট্যাক্সি কোম্পানি আর বেশ কয়েকটা সেতু ও পেট্রলপাম্পেও বোমা ফাটে। সহিংসতার চক্র এতে আরও গভীর হয়। এর অনেক পরিণতির একটা ছিল, শহরতলির পাড়াগুলোতে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তখন কিছু লোক লন্ডনের পুরোনো কালো হ্যাকনি ক্যাব কিনে বেলফাস্টে নিয়ে আসেন। ধীরে ধীরে এটা পাড়ার মানুষের একটা সংগঠিত উদ্যোগ হয়ে দাঁড়ায়, গড়ে ওঠে ছোট ছোট ব্যবসা। এদের মধ্যে বেলফাস্ট ট্যাক্সিস সিআইসি হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড়, আর তারা আজও বিভিন্ন রুটে গাড়ি চালাচ্ছে। পঞ্চাশ বছর ধরে সেবাটা চলেছে, যদিও কোভিড মহামারির কারণে ২০২০ সালের গ্রীষ্মে ব্ল্যাক ট্যাক্সি বন্ধ রাখতে হয়েছিল। দলমুশ শব্দের আক্ষরিক মানে "ঠেসে ভরা"। এ নিয়ে একটা পুরোনো রসিকতা আছে। গাড়িতে কজন ধরে? উত্তর: "উমম, আর দুজন বোধহয় হয়ে যাবে।" শরৎকালে ট্যাক্সিগুলো আবার রাস্তায় নামে, তবে অনেক কম যাত্রী নিয়ে আর কোভিড ঠেকানোর নানা নিয়ম মেনে। ফলে ভাড়া না বাড়ালে ব্যবসা টেকানো কঠিন। ওদিকে বাসগুলো চলছে, আর তারা পাচ্ছে সরকারি ভর্তুকি, স্কুলের চুক্তি, ছাড়ে ভাড়ার যাত্রী, একসঙ্গে বেশি লোক নিরাপদে নেওয়ার সুবিধা, আরও কত কী। তাই ব্ল্যাক ট্যাক্সির ভবিষ্যৎ কী হবে, বলা মুশকিল। কোন রুটে এখন গাড়ি চলছে, কখন আর কতক্ষণ পরপর চলছে, তা স্থানীয়দের কাছে জেনে নিন।

সাংস্কৃতিক ইতিহাসের দিক থেকে ব্ল্যাক ট্যাক্সিকে টুকটুক বা রিকশার সঙ্গেও তুলনা করা যায়। বিভিন্ন ট্যুরে, বিশেষ করে পশ্চিম বেলফাস্ট ঘোরানোর জন্য, এগুলো ব্যবহার হয় ("যা করবেন" অংশ দেখুন)।

সাধারণ ট্যাক্সি

সাধারণ ট্যাক্সির জন্য ফোন করতে পারেন ফোনাক্যাব ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩৩ ৩৩৩৩, ভ্যালু ক্যাবস ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৮০ ৯০৮০ বা ক্যাসল ক্যাবস ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ১১১১ নম্বরে।

বেলফাস্টে উবার চলে। ২০২৬ সালে শহরের ভেতরে, সিটি বিমানবন্দর পর্যন্তও, মোটামুটি £১৫ ভাড়া পড়ে।

সাইকেলে

শহরের সাইকেল ভাড়ার ব্যবস্থার নাম বেরিল, ফোনের অ্যাপ দিয়ে চালাতে হয়। প্রতি রাইডের হিসাবে দিতে পারেন (আনলক করতে ৫০ পেন্স, তারপর মিনিটে ৭ পেন্স), আবার মিনিটের প্যাকেজও নিতে পারেন (আনলক বিনা পয়সায়, ১০০ মিনিট £৭)।

দর্শনীয় স্থান

শহরকেন্দ্র

বেলফাস্টের কেন্দ্রবিন্দু ডোনেগাল স্কয়ার আর তার মাঝখানের সিটি হল। স্কয়ার থেকে উত্তরে চলে গেছে প্রধান সড়ক ডোনেগাল প্লেস। দোকানে ঠাসা এই রাস্তা গিয়ে শেষ হয়েছে ক্যাথেড্রালের কাছে। কেন্দ্রের পূর্বে লাগান নদী, দক্ষিণে ডোনেগাল পাস, আর পশ্চিমে ওয়েস্টলিংক নামের বড় সড়ক, যেটা কাজের হলেও দেখতে বিশ্রী। দিনরাত যেকোনো সময়েই কেন্দ্র মোটামুটি নিরাপদ, তবে রাত ৮টার পর একেবারে শুনশান হয়ে যায়।

  • দ্য ক্রাউন সেই অপূর্ব ভিক্টোরীয় পাব, বাস আর রেলস্টেশন থেকে বেরোলেই যেটা প্রথমে চোখে পড়ে। মালিক ন্যাশনাল ট্রাস্ট। খোলার সময় ইত্যাদি "পানীয়" অংশে পাবেন। পান করার ইচ্ছা না থাকলেও একবার ভেতরে উঁকি দিয়ে আসা উচিত। আচ্ছা, চলুন, ছোট্ট করে একটা হয়েই যাক।
  • সিটি হল, Donegall Sq North BT1 5GS, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩২ ০২০২। সোম থেকে শুক্র: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা; শনি ও রবি: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। জমকালো পৌরভবন, ১৯০৬ সালে সাদা পোর্টল্যান্ড চুনাপাথরে বারোক রীতিতে তৈরি। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান সিটি হলের নকশাও হুবহু এক। এখানে বেলফাস্ট কাউন্সিলের সভাকক্ষ আর প্রশাসনিক দপ্তর। যখন খুশি ঢুকে এর অপূর্ব প্রবেশকক্ষ আর গোল গম্বুজঘরটা দেখে আসতে পারেন, তবে ভালো করে দেখতে চাইলে দিনে তিনবার হওয়া গাইডেড ট্যুরে যোগ দিন। বাইরে আছে টাইটানিক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভ আর রানি ভিক্টোরিয়ার মূর্তি। ট্যুর £৬।
  • লিনেন হল লাইব্রেরি স্কয়ারের উত্তর দিকে, সিটি হলের ঠিক উল্টো দিকে। ১৭৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রন্থাগারে প্রদর্শনী আর নানা অনুষ্ঠান হয়, আর আছে আইরিশ বইয়ের বিশাল সংগ্রহ। খোলা থাকে সোম থেকে শুক্রবার, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।
  • সেন্ট ম্যালাকিস চার্চ একটা রোমান ক্যাথলিক গির্জা, চালু হয় ১৮৪৪ সালে। বাইরেটা টিউডর রিভাইভাল রীতির, তবে আসল চমক ভেতরে। ছাদজুড়ে পাখার মতো ছড়ানো খিলানের এমন সূক্ষ্ম কারুকাজ যে কেউ কেউ একে বলেছেন "উল্টে রাখা বিয়ের কেক"। ঠিকানা ২৪ আলফ্রেড স্ট্রিট, ক্ল্যারেন্স স্ট্রিটের মোড়ে, সিটি হল থেকে দুই ব্লক দক্ষিণে। খোলা থাকে সোম থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা, আর শনি ও রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
  • সেন্ট অ্যানস ক্যাথেড্রাল, Donegall St BT1 2HB, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩২ ৮৩৩২। সোম থেকে শনি: সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা; শনি ও রবি: দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল ৩টা। চার্চ অব আয়ারল্যান্ডের (অ্যাংলিকান) এই ক্যাথেড্রাল তৈরি হয় রোমানেস্ক রীতিতে, পুরোনো প্যারিশ গির্জাটাকে ঘিরে। চালু হয় ১৯০৪ সালে। তারপর থেকে দফায় দফায় এর সম্প্রসারণ আর সংস্কার চলেছে। সবশেষে ২০০৭ সালে যোগ হয় ১৩০ ফুট উঁচু সরু ধাতব চূড়া, রাতে যেটা আলোয় ঝলমল করে। প্রচলিত ধাঁচের ভারী টাওয়ার বা পাথরের চূড়া এখানে বানানো যায়নি, কারণ নরম কাদামাটির ভিত সেই ভার সইতে পারত না। নিয়মিত প্রার্থনা হয়। বড়দের £৫, ছোটদের জন্য বিনা মূল্যে।
  • নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ওয়ার মেমোরিয়াল মিউজিয়াম, 21 Talbot St BT1 2LD (ক্যাথেড্রালের পাশে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩২ ০৩৯২। সোম থেকে শুক্র: সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শহরের মানুষের জীবন কেমন ছিল, তার ছবি। বিনা মূল্যে।
  • বেলফাস্ট এক্সপোজড, 23 Donegall St BT1 2FF, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৩ ০৯৬৫। মঙ্গল থেকে শনি: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা। সংস্কার করা পুরোনো গুদামঘরে আলোকচিত্রের গ্যালারি, কিছুদিন পরপর প্রদর্শনী বদলায়। ছবির বিশাল একটা আর্কাইভও আছে। ইচ্ছেমতো অনুদান।

দ্য বিগ ফিশ

দ্য বিগ ফিশ (ছবি: Ardfern, CC BY-SA 3.0)

  • বেলফাস্ট সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, Royal Ave BT1 1EA, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৫০ ৯১৫০। সোম ও বৃহস্পতি: সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা; মঙ্গল, বুধ ও শুক্র: সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা; শনি: সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা। ভিক্টোরীয় আমলের এই গ্রন্থাগারে আইরিশ বইয়ের চমৎকার একটা বিভাগ আছে। আছে সংবাদপত্রের আলাদা গ্রন্থাগারও, যেখানে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সব পত্রিকার পুরোনো সংখ্যা রাখা।
  • লিগ্যাল কোয়ার্টার হলো ভিক্টোরিয়া শপিং সেন্টার আর নদীর মাঝখানের ব্লক, যেখানে আদালত আর আইনসংক্রান্ত নানা ভবন। ঝামেলায় না পড়লে ভেতরে ঢোকার সুযোগ নেই, তবে বাইরে থেকেই ভবনগুলো দেখার মতো। যেমন পুরোনো টাউন হল (এখন আদালত), রয়্যাল কোর্টস অব জাস্টিস আর বার লাইব্রেরি।
  • লাগান ওয়্যার হলো ১৯৯৪ সালে লাগান সড়কসেতুর সামান্য উজানে তৈরি বাঁধ, তার ওপর দিয়ে পায়ে-চলা সেতু। বাঁধের ফলে নদীর পানি বেড়ে যায়, আর ভাটার সময় যে কুৎসিত, দুর্গন্ধওয়ালা কাদার চর বেরিয়ে পড়ত, সেগুলো ঢাকা পড়ে। দরকার হলে বাঁধটা দরজার মতো খুলে দেওয়া যায়, আবার জোয়ারের সময় বন্ধ করে পানি আটকানো যায়। পুরোনো সেতুটার জায়গায় ২০০৬ সালে আরও সহজে চলাফেরার উপযোগী নতুন সেতু বসানো হয়। পাড়ে বসানো বিশাল সিরামিকের মাছ দ্য বিগ ফিশ যেন খুশি খুশি চোখে বাঁধটার দিকে তাকিয়ে আছে। থাকবেই না বা কেন, বাঁধের কল্যাণে নদীর পানি এখন অনেক পরিষ্কার।

দক্ষিণ

এদিকটা শুরু হয় বেডফোর্ড স্ট্রিটের বাণিজ্যিক এলাকা আর ডোনেগাল পাসের লয়ালিস্ট পাড়া দিয়ে। শ্যাফটসবেরি স্কয়ার পেরিয়ে দক্ষিণে গেলে কুইন্স ইউনিভার্সিটি ঘিরে ছাত্রপাড়া। লিসবার্ন রোড ধরে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে আছে দোকানপাট আর পিৎজার দোকান, বাকিটা গাছে ছাওয়া রাস্তা আর ছাত্রাবাস। এটাই শহরের সবচেয়ে সচ্ছল এলাকা, অনেকে পোস্টকোড ধরে একে BT9 বলেও ডাকে। মাঝেমধ্যে দু-একজন মারমুখো মাতাল ছাড়া এলাকাটা সাধারণত যেকোনো সময় নিরাপদ। কেন্দ্র থেকে ৮এ, ৮বি, ৮সি আর ৮ডি বাস এদিকে আসে, আর আছে লিসবার্নগামী ২২ ও ২৪ নম্বর আলস্টারবাস।

  • গোল্ডেন মাইল: বাস আর রেলস্টেশন থেকে শ্যাফটসবেরি স্কয়ার হয়ে কুইন্স ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত রাস্তাটাকে লোকে ঠাট্টা করে এই নামে ডাকে। দেখার মতো কিছু নেই বললেই চলে, আছে দোকান আর বার। আর ফুটপাতে "সোনা" বলতে যা পড়ে থাকে, তা হলো হলুদে রাঙানো ভাতের বমি।
  • কুইন্স ইউনিভার্সিটি, University Rd BT7 1NN (ওপরে বলা বাসে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ৫১৩৩। ওয়েলকাম সেন্টার: সোম থেকে শুক্র, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৪টা। অক্সফোর্ডের ম্যাগডালেন কলেজের আদলে টিউডর রীতিতে তৈরি লাল ইটের গম্ভীর ভিক্টোরীয় ভবন, সঙ্গে বিশাল চত্বর। ইউনিভার্সিটি স্কয়ারের সুন্দর ইউনিয়ন থিওলজিক্যাল কলেজটাও খেয়াল করবেন। ১৯৩২ সালে স্টরমন্ট তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত উত্তর আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট প্রথম কয়েক বছর বসত এখানেই।
  • নটন গ্যালারি কুইন্স ইউনিভার্সিটির ল্যানিয়ন ভবনের দোতলায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিল্পকর্মের বড় একটা স্থায়ী সংগ্রহ আছে, পাশাপাশি পালা করে প্রদর্শনী হয়, বেশির ভাগই আধুনিক শিল্পের। খোলা থাকে মঙ্গল থেকে শনিবার, সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ঢুকতে টাকা লাগে না।
  • বোটানিক গার্ডেনস (ঢোকার পথ কয়েকটা, প্রধান ফটক ইউনিভার্সিটি রোডে আলস্টার মিউজিয়ামের পাশে)। রোজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাগান ১৮৯৫ সালে সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। গাছপালায় ছাওয়া বিশাল এই সবুজ চত্বর পাশের কুইন্স ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রী আর অফিসের লোকজনের খুব প্রিয়। ১৮৪০ সালে তৈরি পাম হাউস ঢালাই-লোহা আর কাচের এক মনোরম ঘর, নকশা ল্যানিয়ন আর টার্নারের। এঁরা পরে লন্ডনের কিউ গার্ডেন আর ডাবলিনের গ্লাসনেভিনেও এমন কাচঘর বানান। পাম হাউসের এক অংশ ঠান্ডা, আরেক অংশ গ্রীষ্মমণ্ডলের মতো গরম। কাছেই ট্রপিক্যাল র‍্যাভিন হাউস, যেখানে উঁচু বারান্দা ধরে হাঁটতে হাঁটতে নিচে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছপালা আর প্রাণী দেখা যায়। এ ছাড়া আছে বিস্তীর্ণ লন, জাম্বেজি নদীর মতো লম্বা ফুলের কেয়ারি, গোলাপবাগান আর ছোট একটা বন। প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে আছে লর্ড কেলভিনের মূর্তি। বিনা মূল্যে।
  • আলস্টার মিউজিয়াম, Stranmillis Road BT9 5AB (বোটানিক গার্ডেনসের ভেতরে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৪৪ ০০০০। মঙ্গল থেকে রবি: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। সব দিক থেকেই চমৎকার একটা জাদুঘর। প্রাকৃতিক ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, আইরিশ সংঘাতসহ দেশের ইতিহাস, বস্ত্র আর ফ্যাশন, সবকিছুরই গ্যালারি আছে, সঙ্গে বিশাল শিল্পসংগ্রহ। মূল ভবনটা নিওক্লাসিক্যাল রীতির, সত্তরের দশকে এর সঙ্গে জোড়া হয় আধুনিক ব্রুটালিস্ট ধাঁচের নতুন অংশ। জাদুঘরটা ন্যাশনাল মিউজিয়ামস অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের অংশ। এই সংস্থাই হলিউডের ট্রান্সপোর্ট ও ফোক মিউজিয়াম আর ওমার আলস্টার আমেরিকান পার্ক চালায়। বিনা মূল্যে।
  • রয়্যাল আলস্টার রাইফেলস রেজিমেন্টাল মিউজিয়াম, 28 Bedford St BT7 2FE, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৩ ২০৮৬। মঙ্গল থেকে বৃহস্পতি: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা। ১৮৮১ সালে গঠিত এই হালকা পদাতিক রেজিমেন্ট লড়েছে বোয়ার যুদ্ধ, দুই বিশ্বযুদ্ধ আর কোরিয়ার যুদ্ধে। জাদুঘরটা রয়্যাল আইরিশ রেজিমেন্টাল জাদুঘরগুলোর একটি। ইচ্ছেমতো অনুদান।
  • দক্ষিণ লাগান উপত্যকা: লিসবার্নের দিকে এগোলে শহর ক্রমে মিশে যায় পার্ক আর গলফ কোর্সে। A55 সেতুর উজানে মিনোবার্ন জায়গাটা বেশ সুন্দর।
  • ম্যালোন হাউস শহরের একেবারে কিনারায় জর্জীয় আমলের একটা প্রাসাদ। মূলত অনুষ্ঠান-ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার হয়, তবে ভেতরের শিল্পসংগ্রহ দেখা যায়, আর বিশাল বাগান ও ভাস্কর্য-উদ্যানে হেঁটে বেড়ানো যায়।
  • স্যার টমাস অ্যান্ড লেডি ডিক্সন পার্ক শহরের দক্ষিণ প্রান্তে নদীর ধারে বড় একটা পার্ক, কুকুর নিয়ে ঢোকা যায়। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর বিশাল গোলাপবাগান।
  • জায়ান্টস রিং ব্যালিনাহ্যাটি রোডের পাশে নবপ্রস্তর যুগের একটা মাটির বেষ্টনী, ব্যাস প্রায় ২০০ গজ। মাঝখানে আছে একটা ডলমেন, মানে পাথরের তৈরি প্রাচীন সমাধি।
  • লিসনাব্রিনি বনের ভেতর দিয়ে একটা হাঁটার পথ। পথে পড়ে মার্কিন সেনাদের অস্থায়ী কবরস্থানের স্মৃতিফলক, তারপর পথটা উঠে গেছে একটা র‍্যাথ পর্যন্ত। র‍্যাথ হলো প্রাচীন আমলের পাহাড়ি দুর্গ, যদিও এটা এখন নিছক গরু চরানোর মাঠ।

পশ্চিম

কুপার ওয়ে ধরে চলে যাওয়া পিস ওয়াল (ছবি: Duke Human Rights Center, CC BY 2.0)

ট্রাবলসের সময় বেলফাস্টের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা গেছে এই এলাকার ওপর দিয়ে। এটাই শহরের সবচেয়ে বড় "ইন্টারফেস এলাকা"। এখানে দুটো সম্প্রদায় গা ঘেঁষে থাকে। উত্তরে শ্যাঙ্কিল রোড আর ক্রামলিন রোড ধরে প্রোটেস্ট্যান্টদের পাড়া, যারা ইউনিয়নপন্থী আর ব্রিটেনের অনুগত। দক্ষিণে ফলস রোড ধরে ক্যাথলিকদের পাড়া, যারা জাতীয়তাবাদী আর আইরিশ রিপাবলিকান। এখানে দেখার মতো যা আছে, তার বেশির ভাগই সেই সংঘাতের স্মৃতি।

  • পিস ওয়াল: এমন দেয়াল উত্তর আয়ারল্যান্ডের অনেক জায়গাতেই আছে, সবচেয়ে বেশি পশ্চিম বেলফাস্টে। কুপার ওয়ে ধরে চলে যাওয়া এই দেয়ালটা তার ভালো নমুনা। ১৯৬৯ সালে অস্থিরতা বাড়তে থাকলে প্রথম দেয়ালগুলো ওঠে। তারপর বোমা আর ইট ছোড়া ঠেকাতে সেগুলো ক্রমেই লম্বা, মোটা আর উঁচু হতে থাকে। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তির পরেও দেয়াল বেড়েছে। দুই সম্প্রদায়ই এতে নিজেদের বেশি নিরাপদ মনে করত, আর ওমা বোমা হামলা দেখিয়ে দিয়েছিল, খুনে উপদলগুলো তখনো সক্রিয়। দেয়ালে কয়েকটা ফটক আছে। দিনের বেলা সেগুলো খোলা থাকে, তখন ঘুরে দেখায় কোনো ভয় নেই, তবে সন্ধ্যা নামার আগেই বন্ধ হয়ে যায়। একদিন সব দেয়াল ভেঙে ফেলা হবে, এ ব্যাপারে নীতিগতভাবে সবাই একমত। কিন্তু কথাটা তুললেই স্থানীয়রা লম্বা একটা শ্বাস টানেন আর বিষণ্ণ মুখে ধীরে ধীরে মাথা নাড়েন।
  • রাজনৈতিক ম্যুরাল: এগুলোও নানা জায়গায় আছে, তবে বেশি চোখে পড়ে ইন্টারফেস এলাকাগুলোতে। বেশির ভাগই আঁকা শ্যাঙ্কিল রোড আর ফলস রোডের ধারের বাড়িগুলোর পাশের দেয়ালে। কোন পাড়ার মানুষ কোন পক্ষের, ম্যুরাল দেখলেই বোঝা যায়। রাজনীতির হাওয়া বদলালে পুরোনো ম্যুরাল মুছে নতুন আঁকা হয়। একটু ভেতরের দিকে লুকিয়ে থাকা দেখার মতো কোনো ম্যুরাল আছে কি না, লোকজনকে জিজ্ঞেস করে নিন।
  • ডিভিস টাওয়ার ফলস রোডের শুরুতে দাঁড়িয়ে থাকা ম্যাড়মেড়ে একটা বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ি। পশ্চিমে যে পাহাড়টা দেখা যায়, তার নামেই এর নাম। ষাটের দশকে এখানে এমন ১২টা ভবন তোলা হয়েছিল, টিকে আছে শুধু এটাই। ট্রাবলসের সঙ্গে ডিভিস টাওয়ারের নাম জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। ১৯৬৯ সালে এক স্নাইপার কোথা থেকে গুলি করছে, আন্দাজ করে সেনা টহলদল টাওয়ারের দিকে মেশিনগান চালায়, আর তাতে মারা যায় ৯ বছরের একটা ছেলে। পরে ডিভিস পাহাড়ের মতো এই টাওয়ারের ওপরের তলাগুলোও হয়ে ওঠে সেনাবাহিনীর নজরদারির চৌকি। সৈন্যদের আনা-নেওয়া হতো হেলিকপ্টারে, কারণ লিফট বা সিঁড়িতে পা রাখার সাহস তাদের ছিল না। আপনিও সে চেষ্টা করবেন না। ২০০৯ সালে ওপরের তলাগুলো সংস্কার করে আবার ফ্ল্যাট বানানো হয়েছে। অর্থাৎ এখানে মানুষ থাকে, এটা চিড়িয়াখানা বা জাদুঘর নয়।
  • আইরিশ রিপাবলিকান হিস্ট্রি মিউজিয়াম (আইলিন হিকি মিউজিয়াম), Conway Mill, 5 Conway Place BT13 2DA, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ০৫০৪। মঙ্গল থেকে শনি: সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা। পুরোনো একটা সুতাকলের ভেতরে এই জাদুঘর, বিষয় বেলফাস্টে রিপাবলিকান আন্দোলনের ইতিহাস। আইলিন হিকি ছিলেন আরমা কারাগারে বন্দি প্রভিশনাল আইআরএ সদস্যদের সংগঠক। সংঘাতে নিজেদের পক্ষের নানা জিনিসপত্র আর স্মারক জোগাড় করে তিনি বিশাল এক সংগ্রহ গড়ে তোলেন। এখানে আপনি পাবেন ইতিহাসের সেই অর্ধেক, যেখানে ট্রাবলসের সময় বেলফাস্টে ১২০০ ক্যাথলিক বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর কথা। বাকি অর্ধেক, মানে ৬০০ প্রোটেস্ট্যান্ট বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর কাহিনি জানতে হলে শহরের ওপারে অরেঞ্জ হেরিটেজ সেন্টারে যেতে হবে। দুটোই সত্যি। ইচ্ছেমতো অনুদান।
  • কুলতুরলান ম্যাকঅ্যাডাম ও ফিয়াখ (আইরিশ ভাষা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র), 216 Falls Road BT12 6AH, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৯৬ ৪১৮০। সোম থেকে বৃহস্পতি: সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা; শুক্র ও শনি: সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা; রবি: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা। বেলফাস্টে আইরিশ ভাষাচর্চার মূল জায়গা। সাংস্কৃতিক এই কেন্দ্রে পর্যটকদের জন্য তথ্য, শিল্পকর্ম, আইরিশ লোকসংগীত, একটা ক্যাফে আর একটা বইয়ের দোকান আছে। একেবারে নতুন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে যারা ভাষাটা ভালোই জানেন, সবার জন্য নিয়মিত আইরিশ ভাষার ক্লাস হয়।
  • ফলস পার্ক সিটি সেমেটারির ঠিক দক্ষিণে আর মিলটাউন সেমেটারির উত্তরে বড় একটা সবুজ চত্বর। ১০ নম্বর রুটের সব বাস এ পথে যায়।
  • ডিভিস শহরের পশ্চিমে ব্যাসল্ট পাথরের খাড়া পাহাড় আর জলাভূমি, উচ্চতা ১৫৬৮ ফুট (৪৭৮ মিটার)। বহু বছর এখানে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ, টেলিযোগাযোগ আর নজরদারির কাজ চলত। ২০০৫ সালে জায়গাটা ন্যাশনাল ট্রাস্টের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ডিভিস রোডের পার্কিং থেকে সরু রাস্তা ধরে ওঠাই সবচেয়ে সহজ।

মিলটাউন সেমেটারি (ছবি: Bill Boaden, CC BY-SA 2.0)

  • সিটি সেমেটারি, 511 Falls Road, Belfast BT12 6DE (ফলস রোড আর হোয়াইটরক রোডের মোড়ে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩২ ৩১১২। সোম থেকে শনি: সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা; রবি: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা। ১৮৬৯ সালে চালু হওয়া এই কবরস্থান ভিক্টোরীয় আমলের সমাধিভাস্কর্যে ভরা। ক্যাথলিক আর প্রোটেস্ট্যান্টদের আলাদা অংশ আছে, আছে কমনওয়েলথের যুদ্ধে নিহতদের কবরও। ইহুদিদেরও বড় একটা অংশ রয়েছে। উনিশ শতকে এই সম্প্রদায়ের মানুষ রাশিয়া আর পোল্যান্ড থেকে পালিয়ে এসে আইরিশ লিনেন ব্যবসায় জাঁকিয়ে বসেন। তাঁদের মধ্যে বিখ্যাত কয়েকজন হলেন অটো জাফে, যিনি দুবার বেলফাস্টের লর্ড মেয়র হন; খাইম হারজগ, ইসরায়েলের ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট; আর গুস্তাভ উলফ, হারল্যান্ড অ্যান্ড উলফের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, যাঁর পরিবার ধর্ম বদলে প্রোটেস্ট্যান্ট হয়েছিল। অবশ্য এঁদের কারও কবর এখানে নয়।
  • মিলটাউন সেমেটারি, 546 Falls Rd, Belfast BT12 6EQ, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৬১ ৩৯৭২। রোজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা। রিপাবলিকানদের কবরের জন্যই এর নামডাক, তবে এখানে আরও অনেক কিছু আছে। শহরের বাড়তে থাকা ক্যাথলিক জনসংখ্যার কথা ভেবে এটাও চালু হয় ১৮৬৯ সালে। এর "গরিবদের অংশে" শুয়ে আছেন প্রায় ৮০ হাজার মানুষ, যাঁদের অনেকেই ১৯১৯ সালের ফ্লু মহামারিতে মারা যান। ১৯৪১ সালে জার্মান বোমাবর্ষণে নিহতদের গণকবর আছে, আছে কমনওয়েলথের যুদ্ধ-সমাধি, আর বড় বড় ক্যাথলিক যাজকদের সারি সারি কবর, যার নাম "প্রিস্টস রো"। আইরিশ তেরঙা পতাকার নিচে রিপাবলিকানদের নিজস্ব অংশে শুয়ে আছেন সংঘাতে নিহত বা কারাগারে মারা যাওয়া আধাসামরিক সদস্য ও কর্মীরা, যাঁদের মধ্যে ১৯৮১ সালের অনশনকারীরাও আছেন। পাশে একটা স্মৃতি-উদ্যানও আছে। অন্য রিপাবলিকানদের কবর ছড়িয়ে আছে গোটা কবরস্থানে। তবে এখানে সবাই যে শান্তিতে ঘুমাতে পেরেছেন, তা নয়। ১৯৮৮ সালের মার্চে জিব্রাল্টারে বোমা হামলার চেষ্টা করতে গিয়ে গুলিতে নিহত তিনজনের শেষকৃত্য চলছিল। তখন এক লয়ালিস্ট শোকযাত্রীদের ওপর হাতবোমা ছোড়ে আর পিস্তল চালায়। মারা যান তিনজন, আহত হন ৬০ জন।
  • ব্যালমোরাল সেমেটারি দক্ষিণ-পশ্চিমে স্টকম্যানস লেনে। পূর্বপুরুষের কবর খুঁজতে না এলে এখানে যাওয়ার দরকার নেই।

টাইটানিক কোয়ার্টার ও পূর্ব বেলফাস্ট

টাইটানিক বেলফাস্ট

টাইটানিক বেলফাস্ট (ছবি: Own work, CC BY-SA 4.0)

জাহাজটার পুরো কাহিনি জানতে আরএমএস টাইটানিক দেখুন
পূর্ব বেলফাস্ট মূলত আবাসিক এলাকা, বরাবরই প্রোটেস্ট্যান্টপ্রধান। পশ্চিমে এর সীমানা নদী আর A24 সড়ক। ভেতরের দিকে সারি সারি গায়ে-লাগা টেরেস বাড়ি, আরেকটু বাইরে গাছে ছাওয়া শহরতলি। উত্তরে নদীর ধার ধরে ছিল জাহাজঘাটা, এলাকাটা এখনো কলকারখানার। তবে ২০১২ সালে টাইটানিক প্রদর্শনী চালু হওয়ার পর এখানে নতুন প্রাণ ফিরে আসে, আর এলাকাটা নতুন পরিচয় পায়।

  • স্যামসন ও গোলিয়াথ, West Bank Drive BT3 9DF। সব সময় দেখা যায়। টাইটানিক কোয়ার্টারে ঢোকার মুখে দুটো দৈত্যাকার গ্যান্ট্রি ক্রেন। প্রথমে চোখে পড়বে গোলিয়াথ। এটা তৈরি হয় ১৯৬৯ সালে, উচ্চতা ৯৬ মিটার (৩১৫ ফুট)। স্যামসন তৈরি হয় ১৯৭৪ সালে, উচ্চতা ১০৬ মিটার (৩৪৮ ফুট)। দুটোই দাঁড়িয়ে আছে হারল্যান্ড অ্যান্ড উলফের ড্রাই ডকের ওপর, আর প্রতিটা ৮৪০ টন পর্যন্ত ভার তুলতে পারে। হলুদ রঙের এই ক্রেন দুটো এখন বেলফাস্টের আকাশরেখার চেনা প্রতীক। এখানে বড় আকারে জাহাজ তৈরি আর ভারী মাল তোলার কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, তবু ক্রেন দুটোকে সচল রাখা হয়েছে। অবশ্য এগুলোর ওপরে ওঠার কোনো ট্যুর নেই। হারল্যান্ড অ্যান্ড উলফ ২০১৯ সালে দেউলিয়া হয়ে যায়, এখন এর মালিক স্প্যানিশ কোম্পানি নাভান্তিয়া। ক্রেন দুটো সরকারিভাবে ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় আছে।
  • টাইটানিক বেলফাস্ট, 1 Olympic Way, Queens Road BT3 9EP, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৭৬ ৬৩৮৬। রোজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। পুরো একশো বছর বেলফাস্টে "টাইটানিক" ছিল প্রায় নিষিদ্ধ শব্দ, ট্রাবলসের চেয়েও বেশি। এমন এক দুর্ঘটনার অস্বস্তিকর স্মৃতি, যা শহরের সুনামে দাগ ফেলে দিয়েছিল। ২০১২ সালে নজরকাড়া একটা আধুনিক ভবনে এই প্রদর্শনী চালু হয়। এতে গোটা এলাকাটার চেহারাই বদলে গেছে, আর আরএমএস টাইটানিক হয়ে উঠেছে স্থানীয় মানুষের গর্বের বিষয়। গর্ব এর নির্মাণকৌশল নিয়ে, গর্ব এর নাবিকদের নিয়ে। প্রদর্শনী ধরে এগোলে প্রথমে পাবেন ভিক্টোরীয় আর এডওয়ার্ডীয় আমলের বেলফাস্ট, যখন শহরজুড়ে লোহা পেটানোর শব্দ আর কারখানার রমরমা। তারপর হারল্যান্ড অ্যান্ড উলফের হাতে জাহাজের নকশা, নির্মাণ, সাজসজ্জা আর পরীক্ষামূলক যাত্রা। সবশেষে প্রথম ও শেষ যাত্রার কাহিনি। ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল টাইটানিক সাউদাম্পটন ছাড়ে। শেরবুর্গ আর কর্কে ছোট নৌকায় করে যাত্রী তুলে পাড়ি দেয় আটলান্টিকে। পেছনে পড়ে থাকে আত্মবিশ্বাসী এক ব্রিটেন, যে তখন রোজ অপেক্ষা করছিল দক্ষিণ মেরু জয় করে ক্যাপ্টেন স্কটের ফিরে আসার খবরের জন্য। জাদুঘরে জাহাজডুবি নিয়ে তৈরি নানা চলচ্চিত্রের অংশও দেখানো হয়। যে হিমশৈলে ধাক্কা লেগে জাহাজের খোল ফেটে যায়, সেটা গ্রিনল্যান্ডের এক হিমবাহ থেকে ভেঙে বেরিয়েছিল মোটামুটি যেদিন জাহাজটা পানিতে ভাসানো হয়, সেদিনই। এখানে একটা ভুল ধারণাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৭ সালে জেমস ক্যামেরনের ছবিতে দেখানো হয়েছিল, নাক-উঁচু ব্রিটিশ অফিসাররা আইরিশ তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের প্রায় পানিতে চুবিয়ে রাখছে, অথচ ধনীদের যত্ন করে লাইফবোটে তুলে দেওয়া হচ্ছে, আর ওদিকে ব্যান্ড বেজেই চলেছে। আসলে তৃতীয় শ্রেণির চেয়েও কম মানুষ বেঁচেছিলেন একটা দলের, আর তাঁরা হলেন জাহাজের কর্মীরা। তাঁদের অনেকেই ছিলেন আইরিশ। প্রদর্শনীর শেষ অংশে আছে ডুবোযান থেকে তোলা ধ্বংসাবশেষের ছবি। নিউফাউন্ডল্যান্ডের উপকূল থেকে দূরে ১২,৫০০ ফুট (৩৮০০ মিটার) গভীরে জাহাজটা দুই টুকরো হয়ে পড়ে আছে। বড়দের £২৫, ছাড়ে £২২, ছোটদের £১১।
  • এসএস নোম্যাডিক, Hamilton Dock BT3 9DT (টাইটানিক ভবনের সামনে)। রোজ সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা। টাইটানিক আর তার জুড়ি জাহাজ অলিম্পিক এত বড় ছিল যে শেরবুর্গের ঘাটে ভিড়তে পারত না। তাই ১৯১১ সালে যাত্রী, মালপত্র আর ডাক আনা-নেওয়ার জন্য দুটো ছোট জাহাজ বানানো হয়, যেগুলোকে বলে টেন্ডার। এসএস নোম্যাডিক ছিল বেশি শৌখিন, এতে যেতেন প্রথম আর দ্বিতীয় শ্রেণির যাত্রীরা। তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের নিত এসএস ট্র্যাফিক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দুটোই সামরিক কাজে লাগানো হয়। যুদ্ধ শেষে এরা আবার অলিম্পিক জাহাজের টেন্ডার হিসেবে কাজে ফেরে, আর তা চলে ১৯৩৪ সালে শেরবুর্গ বন্দর বড় করা পর্যন্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আবার এদের সামরিক কাজে ডাক পড়ে। যুদ্ধের পর ধীরগতির আর বারবার দুর্ঘটনায় পড়া ট্র্যাফিক ভেঙে ফেলা হয়। নোম্যাডিক বেঁচে যায়, কারণ বোমায় বিধ্বস্ত শেরবুর্গে তখনো বড় জাহাজ ভিড়তে পারত না। ফলে কুইন মেরি আর কুইন এলিজাবেথের মতো বিশাল জাহাজের যাত্রী আনা-নেওয়া করে সে ১৯৬৮ সালে অবসরে যায়। এরপর কিছুদিন প্যারিসে ভাসমান রেস্তোরাঁ হিসেবে কাটে। মনে হচ্ছিল শেষমেশ তাকে ভাঙারির কাছেই যেতে হবে, কিন্তু একটা দাতব্য ট্রাস্ট তাকে সারিয়ে তোলার জন্য বেলফাস্টে নিয়ে আসে। টাইটানিকের টিকিটেই দেখা যায়।
  • এইচএমএস ক্যারোলাইন, Alexandra Dock BT3 9DT (টাইটানিক ভবনের পেছনে)। শুক্র থেকে রবি: সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা। ১৯১৪ সালে তৈরি রয়্যাল নেভির হালকা ক্রুজার, জাটল্যান্ডের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। যুদ্ধের পর ক্যারোলাইন কিছুদিন ভারত মহাসাগরে কাটায়, তারপর ১৯২৪ সাল পর্যন্ত অলস পড়ে থাকে। সে বছর প্রশিক্ষণ জাহাজ আর নৌবাহিনীর সদর দপ্তর হিসেবে তাকে বেলফাস্টে আনা হয়। বড়দের £১১, ছাড়ে £১০, ছোটদের £৯।
  • দ্য গ্রেট লাইট টাইটানিক ভবনের পেছনে জেটির ওপর বসানো জাহাজ চলাচলের একটা সংকেত-বাতি, যদিও কাজের তুলনায় জিনিসটা বেশ বাড়াবাড়ি রকমের বড়। এতে আছে দুটো বিশাল ফ্রেনেল হাইপার-রেডিয়াল লেন্স, যেগুলো ১৮৮৭ সালে ডোনেগালের কাছে টোরি দ্বীপের বাতিঘরের জন্য তৈরি হয়েছিল। বিশের দশকে বেলফাস্ট লকের মুখে মিউ দ্বীপের বাতিঘর মেরামতের সময় লেন্স দুটো সেখানে বসানো হয়। ২০১৪ সালে এলইডি বাতি আসার আগ পর্যন্ত এগুলোই জ্বলত। এখন লেন্স দুটো রাখা হয়েছে কাচের একটা স্তম্ভের ভেতরে। দেখলে মনে হয় আচারের বয়ামে দুটো মহাজাগতিক শসা ভরে রাখা হয়েছে।
  • টাইটানিক ডিস্টিলারি ও পাম্প হাউস, Queens Rd BT3 9DT (টাইটানিক ভবনের পেছনে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৭৩ ৭৮১৩। বৃহস্পতি থেকে মঙ্গল: সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। বিশাল যে ড্রাই ডক থেকে জাহাজটা পানিতে নামানো হয়েছিল, সেটা এখানে। আর আছে সেই পাম্প হাউস, যেটা ডকে পানি ঢোকাত আর বের করত। পাম্প হাউসটা এখন হুইস্কির কারখানা, যেখানে নিয়মিত ট্যুর হয় আর চেখে দেখার সুযোগ থাকে। ডক ট্যুর বড় বা ছোট সবার £১০।
  • W5, Queens Quay BT3 9QQ (এসএসই অ্যারিনার ভেতরে)। বৃহস্পতি থেকে সোম: সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। ছোট বাচ্চাদের জন্য বিজ্ঞান জাদুঘর, যেখানে সবকিছু হাত দিয়ে ছুঁয়ে-নেড়ে দেখা যায়। আগে থেকে বুকিং করতেই হবে। বড়দের £১২, ছাড়ে বা ছোটদের £১০.৫০।
  • শর্ট স্ট্র্যান্ড প্রোটেস্ট্যান্টপ্রধান পূর্ব বেলফাস্টের ভেতরে ছোট্ট একটা ক্যাথলিক পাড়া। কাজেই এটাও একটা ইন্টারফেস এলাকা, আর সাম্প্রদায়িক গোলমালের দুঃখজনক ইতিহাস আছে এখানে। সাম্প্রতিক ঘটনা বলতে ২০১১ সালে সশস্ত্র দাঙ্গা, আর ২০১৫ সালে পাল্টাপাল্টি খুন। দিনের বেলা এখানকার রাজনৈতিক ম্যুরাল আর পিস ওয়ালের কিছু অংশ দেখতে পারেন। সন্ধ্যার পর এদিকে ঘোরাঘুরি করবেন না।
  • বেলমন্ট টাওয়ার ১৮৯০ সালের গথিক ধাঁচের একটা ভবন, আগে এখানে স্কুল ছিল। ভেতরে ঢোকা যায় না।
  • কম্বার গ্রিনওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটা রেললাইনের ওপর দিয়ে বানানো হাঁটা আর সাইকেল চালানোর পথ। টাইটানিকের কাছের ডি স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে পূর্ব দিকে ডানডোনাল্ড হয়ে কম্বার পর্যন্ত চলে গেছে।
  • হাইন্ডফোর্ড স্ট্রিট: এই রাস্তার ১২৫ নম্বর বাড়িতে বড় হয়েছেন ভ্যান মরিসন, আর ৪৯ নম্বরে জর্জ ক্যাসিডি। ভ্যান মরিসন তাঁর প্রথম ব্যান্ড দ্য স্পুটনিকসের সঙ্গে যে গলিতে মহড়া দিতেন, সেটাও এখানে। "ভ্যান মরিসন ট্রেইল" ধরে হাঁটা শুরু করতে পারেন এখান থেকেই। বিয়ার্সব্রিজ রোড ধরে ৪ নম্বর বাসে আসুন।
  • স্টরমন্ট পার্লামেন্ট ভবন, Ballymiscaw, Stormont BT4 3XX (শহর থেকে ৩ মাইল পূর্বে, আলস্টার হাসপাতালের দিকের ৩ নম্বর বাসে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৫ ০০০০। সোম থেকে শুক্র: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা। ১৯২৬ সালে নব্য-জর্জীয় রীতিতে তৈরি বিশাল এই ভবনে বসে উত্তর আয়ারল্যান্ড অ্যাসেম্বলি। বুধ থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা আর ২টায় ৪৫ মিনিটের ট্যুর হয়। টাকা লাগে না, তবে আগে থেকে অনলাইনে বুক করতে হয়। ভবনটা বনে ঘেরা স্টরমন্ট এস্টেটের ভেতরে, নিউটাউনার্ডস রোড আর ম্যাসি অ্যাভিনিউ থেকে লম্বা একটা বীথিপথ ধরে যেতে হয়। কাছেই আধুনিক সরকারি অফিসের কয়েকটা ভবন, আর উনিশ শতকের দুর্গ-ধাঁচের স্টরমন্ট ক্যাসল, যেটা শুধু বিশেষ উপলক্ষে খোলা হয়।
  • মিউজিয়াম অব অরেঞ্জ হেরিটেজ, Schomberg House, 368 Cregagh Rd BT6 9EY, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৭০ ১১২২। মঙ্গল থেকে শুক্র: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। আলস্টারে তো কমলালেবু ফলে না, তাহলে এখানকার এত প্রতিষ্ঠান আর উৎসবের নামে "অরেঞ্জ" কেন, যেন স্পেনের কোনো রাস্তার মেলা? ব্যাপারটা হলো, খ্রিস্টপূর্ব ৩৫ সালে রোমান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈন্যরা দক্ষিণ ফ্রান্সে একটা জনপদ বসায়। নাম দেয় আরাউসিও, এক কেল্টিক জলদেবতার নামে। সেই জনপদই পরে অরেঞ্জ শহর হয়ে ওঠে, আর নামটা গুলিয়ে যায় ফলের নামের সঙ্গে। জাদুঘরের গল্প শুরু সতেরো শতক থেকে, যখন অরেঞ্জের যুবরাজ উইলিয়াম ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের ক্যাথলিক রাজাকে সিংহাসন থেকে সরিয়ে প্রোটেস্ট্যান্ট শাসন কায়েম করেন। এরপর যে বিরোধ শুরু হয়, তার মধ্যেই জন্ম নেয় অরেঞ্জ অর্ডার। আর সেই বিরোধ থেমে থেমে চলছে তিনশো বছরেরও বেশি সময় ধরে। বিনা মূল্যে।
  • আলস্টার ফোক মিউজিয়াম আর আলস্টার ট্রান্সপোর্ট মিউজিয়াম শহরকেন্দ্র থেকে ৮ মাইল উত্তর-পূর্বে, ব্যাঙ্গর রোডের দুই পাশে মুখোমুখি। দুটো জাদুঘরই চমৎকার, আর একই দিনে দুটো দেখে ফেলা যায়। বিস্তারিত পাবেন হলিউড নিবন্ধে। ব্যাঙ্গরের ট্রেনে উঠে হলিউড স্টেশন পেরিয়ে আরও দুই স্টপ পরে কাল্টরায় নামুন।

উত্তর

অ্যানট্রিম রোড আর লাইমস্টোন রোডের আশপাশে একটা "ইন্টারফেস এলাকা" আছে। ওদিকে সময় কাটানোর কোনো কারণ নেই।

  • কেভ হিল শহরের উত্তরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাসল্টের খাড়া পাহাড়। চূড়ার উচ্চতা ১২০৭ ফুট (৩৬৮ মিটার)। ওপর থেকে পুরো বেলফাস্ট দেখা যায়, আর আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা যায় আইল অব ম্যান আর স্কটল্যান্ডও। পাহাড়ের পূর্ব ঢালে বেলফাস্ট ক্যাসল। আরও ওপরে আছে তিনটে বড় গুহা আর ম্যাকআর্টস ফোর্ট নামের প্রাচীন গোল দুর্গ। হোয়াইট স্টোন নামের সাদা পাথরটা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অ্যালডারগ্রোভ বিমানঘাঁটির দিকে আসা আরএএফ বিমানের জন্য দিকচিহ্ন। সেই ঘাঁটিই এখন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ১ নম্বর রুটের সব বাস পূর্ব দিকে অ্যানট্রিম রোড ধরে ওপরে ওঠে। গাড়ি থাকলে পশ্চিম দিকে B95 আপার হাইটাউন রোডের পার্কিংও ব্যবহার করতে পারেন।
  • বেলফাস্ট ক্যাসল, Antrim Rd BT15 5GR (১ নম্বর রুটের বাস), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৭৭ ৬৯২৫। রোজ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। উনিশ শতকের ষাটের দশকে শ্যাফটসবেরি পরিবারের জন্য কেভ হিলে তৈরি দুর্গ-ধাঁচের প্রাসাদ। এখন এখানে বিয়ে আর নানা অনুষ্ঠান হয়, আছে একটা শৌখিন ক্যাফেও। সাহায্যকারী কুকুর ছাড়া অন্য কুকুর নিয়ে ঢোকা যায় না। জমকালো কয়েকটা ঘরে হয়তো উঁকি দেওয়ার সুযোগ পাবেন, তবে লোকে আসলে এখানে আসে শহরের দৃশ্য দেখতে। বিনা মূল্যে।
  • বেলফাস্ট চিড়িয়াখানা, Antrim Rd BT36 7PN (১ নম্বর রুটের বাস), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৭৭ ৬২৭৭। এপ্রিল থেকে অক্টোবর: রোজ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা; অক্টোবর থেকে মার্চ: রোজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা। কেভ হিলের উত্তর ঢালে অনেকখানি জায়গা নিয়ে চিড়িয়াখানা। রোজ প্রাণীদের নিয়ে কথাবার্তা আর খাওয়ানোর পর্ব হয়। গাড়ি রাখতে টাকা লাগে না। বড়দের £১৪.৫০, ছাড়ে বা ছোটদের £৭.২৫।

যা করবেন

  • কোথায় কী হচ্ছে? খোঁজ নিন ভিজিট বেলফাস্টের ওয়েবসাইটে, আর যে জায়গায় যেতে চান তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে।

রেডিওতে শুনতে পারেন ৮৯.৩ মেগাহার্টজের বেলফাস্ট ৮৯এফএম। পত্রিকার মধ্যে আছে দ্য বেলফাস্ট টেলিগ্রাফ, দ্য আইরিশ নিউজ আর দ্য নিউজ লেটার। তিনটাই রোজ বের হয়।

  • ওয়াটারফ্রন্ট হল, 2 Lanyon Place BT1 3WH, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩৩ ৪৪০০। নদীর পশ্চিম পাড়ে বড় একটা অনুষ্ঠানের হল। সামনে কী কী অনুষ্ঠান আছে, ওয়েবসাইটে দেখে নিন।
  • এসএসই অ্যারিনা (আগের নাম ওডিসি প্যাভিলিয়ন), 2 Queen's Quay BT3 9QQ (২৬ নম্বর বাস), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৪৫ ১০৫৫। এই কমপ্লেক্সে আছে ১২ পর্দার সিনেমা হল, নানা কাজে ব্যবহারের উপযোগী এসএসই অ্যারিনা, সম্মেলনের জায়গা, W5 বিজ্ঞান জাদুঘর (ওপরে দেখুন), আর কয়েকটা রেস্তোরাঁ ও বার।
  • গ্র্যান্ড অপেরা হাউস, 2 Great Victoria Street BT2 7HR। ১৮৯৫ সালে চালু হওয়া এই ভবন ভিক্টোরীয় আমলের প্রাচ্য ঘরানার স্থাপত্যের চমৎকার নমুনা, ২০২০ সালে সংস্কার করা হয়েছে। সারা বছর অনুষ্ঠান লেগে থাকে, বড়দিনের সময় পান্টোমাইমও হয়। "না, হয় না!" "হ্যাঁ, হয়!" (পান্টোর দর্শকেরা ঠিক এভাবেই মঞ্চের সঙ্গে চেঁচিয়ে তর্ক করেন।)
  • লিরিক থিয়েটার, 55 Ridgeway St BT9 5FB (বোটানিক গার্ডেনের দক্ষিণ কোণে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩৮ ১০৮১। লিরিকের মূল মঞ্চে আসন ৪০০টা, আর ছোট নটন স্টুডিওতে মোটামুটি ১৫০টা।
  • মেট্রোপলিটান আর্টস সেন্টার (দ্য ম্যাক), 10 Exchange Street West BT1 2NJ (সেন্ট অ্যানস ক্যাথেড্রালের পাশে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৩ ৫০৫৩। ২০১২ সালে চালু হওয়া দ্য ম্যাকে শিল্পকলার প্রদর্শনী, নাটক আর নাচের অনুষ্ঠান হয়।
  • কুইন্স ফিল্ম থিয়েটার, 20 University Square BT7 1PA (কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৯৭ ১৩০৫। বেলফাস্টের আর্ট ফিল্ম আর পুরোনো ধ্রুপদি ছবির প্রেক্ষাগৃহ। বেলফাস্ট চলচ্চিত্র উৎসবও মূলত এখানেই হয়।
  • পার্ক আর খোলা জায়গা: গুনে শেষ করা যাবে না। ওপরে যেগুলোর কথা বলা হয়েছে:

দক্ষিণে: স্যার টমাস অ্যান্ড লেডি ডিক্সন পার্ক, অরমো পার্ক, বোটানিক গার্ডেনস, আর লাগান নদীর পাড় ধরে লিসবার্ন পর্যন্ত হাঁটার পথ।

  • উত্তরে: ওয়াটারওয়ার্কস, বেলফাস্ট ক্যাসলের বাগান, কেভ হিল আর আলেকজান্দ্রা পার্ক।
  • পশ্চিমে: ডানভিল পার্ক, ফলস পার্ক, কলিন গ্লেন ফরেস্ট পার্ক, আর সিটি ও মিলটাউন সেমেটারি।
  • পূর্বে: অরেঞ্জফিল্ড পার্ক আর ভিক্টোরিয়া পার্ক।

খেলাধুলা

  • রাগবি ইউনিয়ন (প্রতি দলে ১৫ জন): আয়ারল্যান্ডের চারটা পেশাদার দলের একটা আলস্টার রাগবি। তারা খেলে ইউনাইটেড রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপে, যেটা ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতা, আর এর বেশির ভাগ দল কেল্টিক অঞ্চলের। আলস্টারের মাঠ অরমো পার্কের দক্ষিণে র‍্যাভেনহিল, আসন ১৮,০০০। রাগবি লিগ (প্রতি দলে ১৩ জন) আয়ারল্যান্ডে খেলা হয় না।
  • ফুটবল: প্রদেশের শীর্ষ লিগ এনআইএফএল প্রিমিয়ারশিপে বেলফাস্টের চারটা দল খেলে। যুক্তরাজ্যের বাকি অংশের মতো এখানেও মৌসুম চলে সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল, অথচ আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে খেলা হয় গ্রীষ্মকালে।

লিনফিল্ড এফসি প্রায়ই প্রিমিয়ারশিপ জেতে আর ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পায়। এদের মাঠ উইন্ডসর পার্ক, আসন ১৮,০০০। আন্তর্জাতিক ম্যাচও এখানে হয়। মাঠটা শহরকেন্দ্র থেকে দুই মাইল দক্ষিণে। বাউচার রোড ধরে বাসে যেতে পারেন, অথবা ট্রেনে গিয়ে অ্যাডিলেড স্টেশনে নামতে পারেন।

  • ক্লিফটনভিল এফসি ঘরের মাঠে খেলে শহরের উত্তরে ক্লিফটনভিল রোডের সলিচিউড স্টেডিয়ামে, আসন ৩২০০।
  • ক্রুসেডার্স এফসি খেলে সিভিউ মাঠে, আসন ৩৮৮০। মাঠটা কেন্দ্র থেকে এক মাইল উত্তরে, শোর রোডের পাশে।
  • গ্লেনটোরান এফসি একটা কারণে চিরকাল লজ্জিত হয়ে থাকবে। কিশোর জর্জ বেস্টকে তারা ফিরিয়ে দিয়েছিল বেশি ছোটখাটো আর হালকা-পাতলা বলে। এদের মাঠ দ্য ওভাল, কাগজে-কলমে আসন ১৫,০০০। মাঠটা কেন্দ্রের পূর্বে সিডেনহামে, বিমানবন্দরের দিকে। আর সেই বিমানবন্দরের নাম রাখা হয়েছে ওই রোগা-পটকা ছেলেটার নামেই।
  • গেলিক খেলা: আলস্টারে গেলিক খেলার পুরোনো স্টেডিয়াম ছিল ক্যাসমেন্ট পার্ক। কিন্তু সেটা এখন ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে, আর খেলাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ক্লোনসের সেন্ট টিয়ারনাখস পার্কে।
  • গলফ: রয়্যাল বেলফাস্ট গলফ ক্লাবের জন্য হলিউড নিবন্ধ দেখুন। শহরের দক্ষিণ প্রান্ত আর লাগান উপত্যকাজুড়ে অনেক গলফ কোর্স ছড়িয়ে আছে।
  • আইস হকি: বেলফাস্ট জায়ান্টস খেলে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ লিগ এলিট আইস হকি লিগে। এদের ঘরের মাঠ এসএসই অ্যারিনা।

ট্যুর

শহরের বাইরের দিকের পাড়াগুলোতে বা "ইন্টারফেস" এলাকায় একা যেতে অনেকেরই দ্বিধা হয়। সেসব জায়গায় ট্যুর খুব কাজে আসে, আর গাইডের কাছ থেকে যে স্থানীয় খুঁটিনাটি জানা যায়, তার দাম অনেক।

উৎসব ও অনুষ্ঠান

  • ক্যাথেড্রাল কোয়ার্টার আর্টস ফেস্টিভ্যাল হয় জানুয়ারিতে। একই আয়োজকেরা মে মাসে "আউট টু লাঞ্চ" উৎসবও করে।
  • জ্যাজ: ব্রিলিয়ান্ট কর্নার্স উৎসব হয় ফেব্রুয়ারি বা মার্চে।
  • সেন্ট প্যাট্রিক'স ডে ১৭ মার্চ, সপ্তাহের যেদিনই পড়ুক। আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের মতো এখানেও দিনটা প্রায় সমান ধুমধাম করে পালন হয়।
  • সিটি ম্যারাথন হয় মে মাসের শুরুতে। সেপ্টেম্বরে হাফ-ম্যারাথন হয়, আর বছরের অন্য সময়ে হয় মজার ছোট দৌড়।
  • বেলফাস্ট বুক ফেস্টিভ্যাল হয় জুনের শুরুতে, কুইন্স ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের ক্রিসেন্ট আর্টস সেন্টারে।
  • অরেঞ্জ অর্ডারের শোভাযাত্রা যেন চোখের সামনে চলমান ইতিহাস। সুযোগ পেলে একটা দেখে নেবেন। পুরো গ্রীষ্মজুড়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের নানা জায়গায় এমন শোভাযাত্রা হয়, তবে সবচেয়ে বড়টা হয় বেলফাস্টে, ১২ জুলাই। ১৬৯০ সালের বয়েন যুদ্ধের স্মরণে দিনটা সরকারি ছুটি। (১২ তারিখ রবিবার পড়লে শোভাযাত্রা আর ছুটি দুটোই হয় পরদিন সোমবার। এমনটা আবার ঘটবে ২০৩৭ সালে।) সকালে একটা আর বিকেলে একটা শোভাযাত্রা হয়। দুটোই শহরের নানা কোণ থেকে ছোট ছোট মিছিল হিসেবে রওনা দিয়ে ডোনেগাল স্কয়ারের কাছে এক হয়, তারপর দক্ষিণে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা আর লিসবার্ন রোড ধরে এগিয়ে যায়।
  • বেলফাস্ট প্রাইড হয় জুলাইয়ের শেষ দিকে।
  • ফেইলে আন ফোবাল এলাকার মানুষের শিল্প-সংস্কৃতির উৎসব, হয় জুলাইয়ের শেষ আর আগস্টের শুরুতে।
  • বেলফাস্ট ইন্টারন্যাশনাল ট্যাটু নাম শুনে উল্কি ভাববেন না। এটা সামরিক বাদ্য আর কুচকাওয়াজের প্রদর্শনী, হয় সেপ্টেম্বরে দুই দিন ধরে, এসএসই অ্যারিনায়।
  • বেলফাস্ট ইন্টারন্যাশনাল আর্টস ফেস্টিভ্যাল হয় অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত।
  • বেলফাস্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল হয় নভেম্বরের শুরুতে।

কেনাকাটা

সেন্ট জর্জেস মার্কেট

সেন্ট জর্জেস মার্কেট (ছবি: Ardfern, CC BY-SA 3.0)

  • মধ্য বেলফাস্টে কেনাকাটার বিশাল এলাকা। পশ্চিমে মিলফিল্ডের ক্যাসল কোর্ট থেকে শুরু করে কর্ন মার্কেট হয়ে পূর্বে ভিক্টোরিয়া স্কয়ার পর্যন্ত দোকানের পর দোকান।
  • স্মিথফিল্ড মার্কেট, Winetavern Street BT1 1JE। সোম থেকে শনি: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। ক্যাসল কোর্টের উত্তরে ছোট একটা মার্কেট, যেখানে প্রায় ৩০টা নিজস্ব মালিকানার দোকান আছে।
  • সেন্ট জর্জেস মার্কেট, 12-20 East Bridge Street BT1 3NQ। শুক্র: সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা; শনি: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা; রবি: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা। ১৮৯৬ সালের একটা ভবনের ভেতরে জমজমাট বাজার। খাবারদাবার, কাপড়চোপড় আর হাতের কাজের জিনিস, সবকিছুরই দারুণ সম্ভার।
  • নো অ্যালিবাইস, 83 Botanic Ave BT7 1JL (স্ক্যালিনির পাশে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩১ ৯৬০১। সোম থেকে শনি: সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা। নামকরা, একটু খামখেয়ালি মেজাজের নিজস্ব বইয়ের দোকান। বিশেষ করে রহস্য-রোমাঞ্চ আর মার্কিন সাহিত্যের বই বেশি পাবেন।
  • ও'নিলস স্পোর্টসওয়্যার এর দোকান আছে দুটো। একটা ক্যাসল কোর্ট শপিং সেন্টারের ভেতরে, খোলা সোম থেকে শনিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা আর রবিবার দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। আরেকটা ফলস রোডে (564 Falls Road BT11 9AE)। এরা নিজেদের ব্র্যান্ডের খেলার পোশাক বেচে, তবে আসল আকর্ষণ গেলিক খেলার সরঞ্জাম, জার্সি আর স্মারক। একটু অন্য রকম স্যুভেনির চাইলে এর চেয়ে ভালো জায়গা নেই।
  • ইনস ক্রস ফার্মার্স মার্কেট বসে শহরের দক্ষিণ প্রান্তে, A55 জংশনের কাছে সেইন্টফিল্ড রোডের (A24) পাশে। প্রতি মাসের প্রথম শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

খাওয়াদাওয়া

কম খরচে

  • ম্যাগি মেইজ, শাখা: Queens St, 50 Botanic Ave, 2 Malone Rd আর 44 Castle St। সোম থেকে শনি: সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা; রবি: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। আগের রাতের নেশা কাটাতে লোকে বরাবর এখানেই আসে, আর বিশাল প্লেট ভরে আলস্টারের সকালের নাশতা সাবাড় করে। বেকন, সসেজ, ডিম, ভাজা পাউরুটি, সোডা ব্রেড, আর হৃদযন্ত্রের জন্য যত রকম বিপজ্জনক খাবার আছে। তবে দিন বোধহয় বদলাচ্ছে, কারণ এখন এখানে নিরামিষাশী ভিগানদের জন্যও খাবার মেলে।
  • বুজাম, শাখা: Great Victoria St, Victoria Square আর Botanic Ave। রোজ দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা। মেক্সিকান খাবারের চেইন দোকান।
  • বানসেন, 6 Hill St। রবি থেকে বুধ: দুপুর ১২টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা; বৃহস্পতি থেকে শনি: দুপুর ১২টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা। বার্গারের দোকান।
  • ব্রাইটস রেস্টুরেন্ট, 23 High St BT1 2AA, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ৫৬৮৮। সোম থেকে শনি: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা; রবি: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা। সাবেকি ধাঁচের নাশতা আর দুপুরের খাবার। পরিবেশটাও পুরোনো দিনের। এতটাই যে আপনি খেতে বসেছেন, আর এক বয়স্ক মহিলা আপনার টেবিলের নিচে ঝাড়ু দিয়ে যাচ্ছেন।
  • লিটল ইতালি, 13 Amelia St BT2 7GS, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩১ ৪৯১৪। রবি থেকে বৃহস্পতি: বিকেল ৫টা থেকে রাত ১২টা; শুক্র ও শনি: বিকেল ৫টা থেকে রাত দেড়টা। বাস আর রেলস্টেশনের উল্টো দিকে, ক্রাউন বারের পেছনে পিৎজা কিনে নিয়ে যাওয়ার দোকান। গভীর রাতে খিদে পেলে এরাই ভরসা।
  • জন লংস গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনের পাশে (39 Athol St BT12) পুরোনো ধাঁচের ফিশ অ্যান্ড চিপসের দোকান। খোলা মঙ্গল থেকে শনিবার, দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত।
  • দ্য ব্রিজ হাউস (জেডি ওয়েদারস্পুন), 35-43 Bedford St BT2 7EJ, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৭২ ৭৮৯০। রোজ সকাল ৮টা থেকে রাত ১টা। ভরসা করা যায় এমন চেইন পাব, খাবার আর পানীয় দুটোই কম দামে।
  • এস্টাবলিশড কফি, 54 Hill St BT1 2LB (ক্যাথেড্রালের কাছে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩১ ৯৪১৬। রোজ সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা। হালকা খাবার আর কফি। কোন দেশের কোন কফিবীজ গুঁড়ো করা হবে, তা নিয়ে এখানে সমঝদারদের মতো বিস্তর আলোচনা চলে।
  • ডোরস্টেপস, 455 Lisburn Rd BT9 7EY, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৬৮ ১৬৪৫। সোম থেকে শনি: সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৩টা। ইয়া মোটা মোটা স্যান্ডউইচ আর সাবেকি খাবার। ব্রিটেনে খুব পুরু করে কাটা পাউরুটির টুকরোকে মজা করে "ডোরস্টেপ" বলে, দোকানের নাম সেখান থেকেই। পেট খালি করে যাবেন।

মাঝারি দামে

স্টরমন্ট

স্টরমন্ট (ছবি: Tony Hisgett from Birmingham, UK, CC BY 2.0)

  • ডিনস একটা রেস্তোরাঁ চেইন, শহরে এদের পাঁচটা শাখা আছে।
  • কুইন্স ক্যাফে বার, 4 Queens Arcade BT1 5FF, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ৯১০৫। সোম থেকে শনি: সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৫টা। শহরকেন্দ্রের একটা শপিং আর্কেডের ভেতরের পাব, এখানকার গ্রিল করা খাবার ভালো।
  • লি গার্ডেন, 14 Botanic Ave BT7 1JQ (বেনেডিক্টস হোটেল থেকে এক ব্লক পূর্বে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৭ ৮৮৮২। রোজ দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা। চোখ বুজে ভরসা করা যায় এমন জায়গা। দুপুরের খাবার আর ডিম সাম খেতে চাইলে দামের তুলনায় খুবই ভালো।
  • লিটল উইং পিৎজেরিয়া, 10 Ann St BT1 4EF, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ৭০০০। সোম থেকে শনি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা; রবি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা। ছিমছাম, আন্তরিক জায়গা, এখানে নেপলসের ধাঁচে পিৎজা বানানো হয়। লিসবার্ন রোড আর আপার নিউটাউনার্ডস রোডেও এদের শাখা আছে।
  • স্ক্যালিনি, 85 Botanic Ave BT7 1JL, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩২ ০৩০৩। মঙ্গল থেকে বৃহস্পতি: বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা; শুক্র থেকে রবি: বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা। কুইন্স ইউনিভার্সিটির কাছে চমৎকার ইতালীয় রেস্তোরাঁ, পিৎজা আর পাস্তা দুটোই ভালো। এরা যে খাঁটি ইতালীয়, সেটা আপনাকে বারবার মনে করিয়ে দেবে।
  • ডার্সিজ, 10 Bradbury Place BT7 1RS (বেনেডিক্টস হোটেলের উল্টো দিকে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩২ ৪০৪০। সোম থেকে বৃহস্পতি: বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা; শুক্র থেকে রবি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা। পুরোনো দিনের মোমবাতি জ্বালানো পরিবেশে বড় বড় প্লেটে বেলফাস্টের খাবার। নিরামিষ আর ভিগান খাবারের মেনুও চমৎকার।
  • আর্চানা, 53 Dublin Rd BT2 7HE, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩২ ৩৭১৩। রোজ বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা। ভালো ভারতীয় রেস্তোরাঁ। দুপুরের বিশেষ অফারগুলো খুবই সস্তা।
  • থাই ভিলেজ আর্চানার ঠিক উল্টো দিকে (50 Dublin Rd), খোলা মঙ্গল থেকে রবিবার, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

বিলাসী

  • গ্রেট রুম রেস্টুরেন্ট, 16 Skipper St BT1 2DY (মার্চেন্ট হোটেলের ভেতরে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৩ ৪৮৮৮। রোজ সকাল ৮টা থেকে ১০টা, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা। পরিবেশ দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে, তবে খাবার ঠিক ততটা ভালো নয়।
  • মাডলার্স ক্লাব, Warehouse Lane BT1 2DX (প্রিমিয়ার ইন বেলফাস্ট সিটি থেকে ৫০ গজ উত্তরে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩১ ৩১৯৯। বুধ ও বৃহস্পতি: বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা; শুক্র ও শনি: দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টা, আর বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা। মিশেলিন তারকা পাওয়া রেস্তোরাঁ। আগে থেকে টেবিল বুক না করে যাবেন না।
  • শু, 253 Lisburn Rd BT9 7EN, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩৮ ১৬৫৫। মঙ্গল থেকে শনি: দুপুর ১২টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা; রবি: দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা। রুচিশীল আধুনিক ফরাসি রেস্তোরাঁ।

পানীয়

শহরকেন্দ্র

ক্রাউন লিকার সেলুন (ছবি: David Stanley from Nanaimo, Canada, CC BY 2.0)

  • ক্রাউন লিকার সেলুন, 46 Great Victoria St BT2 7BA (ইউরোপা হোটেল আর স্টেশনের উল্টো দিকে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ৩১৮৭। রোজ সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১২টা। অপূর্ব, খাঁটি ভিক্টোরীয় পাব। উল্টো দিকে মাঝেমধ্যে "ভূমিকম্প" হতো বলে রঙিন কাচের জানালাগুলো কয়েকবার বদলাতে হয়েছে, তবে ভেতরটা মোটামুটি আগের মতোই আছে, আর আলো জ্বলে এখনো গ্যাসবাতিতে। ভেতরে কাঠের ছোট ছোট খুপরি আছে, একেকটায় প্রায় এক ডজন লোক বসতে পারে। কারুকাজ করা কাঠের দরজা টেনে দিলে বার থেকে পুরোপুরি আলাদা হয়ে যায়। শুক্রবার অফিস ছুটির পর এগুলো নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যায়, তাই একটা দখল করতে চাইলে তাড়াতাড়ি পৌঁছান। পাবটা চালায় নিকলসনস চেইন, তবে ভেতরের সাজসজ্জা যাতে একটুও না বদলায়, সেদিকে নজর রাখে ন্যাশনাল ট্রাস্ট। বেলফাস্টে হাতে গোনা যে কটা পাবে কাঠের পিপা থেকে খাঁটি এল বিয়ার ঢালা হয়, এটা তার একটা।
  • রবিনসনস বার (ফিবার ম্যাগিস), 38 Great Victoria Street BT2 7BA (ক্রাউন লিকার সেলুনের পাশে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ৭৪৪৭। রবি থেকে বুধ: সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১২টা; বৃহস্পতি থেকে শনি: সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১টা। ১৮৯৫ সাল থেকে চলে আসা সাবেকি ধাঁচের লম্বাটে পাব। গ্রেট ভিক্টোরিয়া স্ট্রিটের দিকের সামনের ঘরটা টাইটানিকের নানা স্মারক দিয়ে সাজানো। নিরিবিলিতে বসে এক পাইন্ট খেতে চাইলে এখানেই বসুন। খাবারের জন্য দোতলার রেস্তোরাঁয় যান, রাত ৯টা পর্যন্ত খাবার পাওয়া যায়। পেছনের বারটার নাম ফিবার ম্যাগিস, ট্রাভেলজ হোটেলের পেছনের গলি দিয়েও ঢোকা যায়। এখানে প্রতি রাতে আইরিশ লোকসংগীত বাজে।
  • ইউরোপা হোটেলের ("থাকার জায়গা" দেখুন) দোতলায় পিয়ানো বার, সেখানে সারাক্ষণ টুংটাং পিয়ানো বাজে।
  • দ্য গ্যারিক, 29 Chichester St BT1 4JB, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩২ ১৯৮৪। সোম থেকে শনি: সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১টা; রবি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা। ঝকঝকে ভিক্টোরীয় পাব, বিয়ার আর খাবার দুটোই ভালো।
  • দ্য নর্দার্ন হুইগ, 2-10 Bridge St BT1 1LU, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৫০ ৯৮৮৮। সোম থেকে বুধ: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১টা; বৃহস্পতি থেকে শনি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১টা; রবি: দুপুর ১টা থেকে রাত ১২টা। নর্দার্ন হুইগ বলা হতো ইউনাইটেড আইরিশমেনদের, যাঁরা ১৭৯৮ সালের বিদ্রোহের ছক কষেছিলেন। যেখানে তাঁদের গোপন ক্লাব ছিল, পরে সেখানে হয় নর্দার্ন হুইগ পত্রিকার অফিস। উদারপন্থী ইউনিয়নবাদী এই দৈনিকটা বের হয়েছে ১৮৩২ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৭ সালের দিকে জায়গাটা বার হয়ে যায়, আর ২০১৬ সালে একে ভিক্টোরীয় ঢঙে নতুন করে সাজানো হয়। পানীয় আর খাবার নিয়ে লোকজনের মতামত ভালো।
  • বিটলস বার, 70 Upper Church Lane BT1 4QL, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩১ ১০৮৮। রবি থেকে শুক্র: সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১১টা; শুক্র ও শনি: সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১টা। তিনকোনা একটা অদ্ভুত ভবনে ছোট্ট একটা পাব, ভেতরের পরিবেশটা জমাটি।
  • মর্নিং স্টার, 17 Pottinger's Entry BT1 4DT, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৩ ৫৯৮৬। সোম থেকে শনি: সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১২টা; রবি: দুপুর ১২টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা। ১৮১০ সাল থেকে চলে আসা জাঁকালো পানশালা। নিচতলায় সাবেকি বার, আর ওপরতলার লাউঞ্জে মূলত খাওয়াদাওয়া, সেখানকার বিশেষত্ব স্টেক আর হুইস্কি।
  • ম্যাকহিউস, 29 Queens Square BT1 3FG (লাগানসাইড বাসসেন্টার থেকে ৫০ গজ উত্তরে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৫০ ৯৯৯৯। সোম থেকে শনি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১টা; রবি: দুপুর ১টা থেকে রাত ১টা। ১৭১১ সালের একটা ভবনে। এখানে ১০০ আসনের রেস্তোরাঁ আছে, মাটির নিচের তলায় বার আছে যেখানে গানবাজনা হয়, আর আছে মূল গ্যালারি। প্রায়ই আইরিশ লোকসংগীত বাজে।
  • লাইমলাইট (কেটি ডেলিস), 17 Ormeau Ave BT2 8HD, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩২ ৭০০৭। সোম, বুধ ও বৃহস্পতি: রাত ১০টা থেকে ২টা; শুক্র ও শনি: বিকেল ৫টা থেকে রাত ২টা। সন্ধ্যার শুরুতে সাধারণ পাব। রাত বাড়লে খুলে যায় গানবাজনা আর নাচের চারটা আলাদা জায়গা: মূল বার কেটিস, লাইমলাইট ১ আর ২, আর ছাদের ওপরের রক গার্ডেন।
  • দ্য স্প্যানিয়ার্ড, 3 Skipper St BT1 2DZ (মার্চেন্ট হোটেলের উল্টো দিকে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৩ ২৪৪৮। রোজ দুপুর ১২টা থেকে রাত ১টা। ছোট্ট, আন্তরিক একটা বার, সঙ্গে স্প্যানিশ তাপাস আর ককটেল। দারুণ মজার জায়গা। সমকামী নারীরাও এখানে স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন।
  • ডিউক অব ইয়র্ক, 7 Commercial Court BT1 2NB, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ১০৬২। সোম থেকে শনি: সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১২টা; রবি: দুপুর ১টা থেকে রাত ৮টা। মূল ডিউক অব ইয়র্ক বারটা আয়নায় মোড়া পুরোনো ধাঁচের বিয়ার হল। হার্প বার সাবেকি ঘরানার, সেখানে গানবাজনা হয়। দ্য নিউ অর্ফিয়াস তার ঝাঁ-চকচকে নতুন অংশ। দ্য ফ্রেন্ড অ্যাট হ্যান্ডে সাজানো আছে নানা রকম হুইস্কি, আর দ্য ডার্ক হর্সে হয় নানা অনুষ্ঠান।
  • হোয়াইটস ট্যাভার্ন, 2 Winecellar Entry BT1 1QN, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩১ ২৫৮২। রবি থেকে বৃহস্পতি: সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১টা; শুক্র ও শনি: সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ২টা। ১৬৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত, সম্ভবত বেলফাস্টের সবচেয়ে পুরোনো পাব। আরামদায়ক বার, শুক্রবার রাতে গানবাজনা হয়। খাওয়াদাওয়ার জন্য আছে অয়েস্টার রুমস।
  • বেলফাস্ট এম্পায়ার, 42 Botanic Ave BT7 1JQ, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ৯২৭৬। সোম: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১টা; মঙ্গল থেকে শনি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১টা; রবি: দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত ১২টা। একসময় এটা গির্জা ছিল। এখন তিনতলাজুড়ে বার আর গানবাজনার জায়গা।
  • মার্চেন্ট হোটেলে ("থাকার জায়গা" দেখুন) বার আছে তিনটা। বার্টস জ্যাজ বার সাজানো আর্ট ডেকো ঢঙে, দ্য ক্লথ ইয়ার ভিক্টোরীয় ঢঙে, আর পকেটে কুলোলে শ্যাম্পেনের জন্য আছে ককটেল বার।
  • দ্য পয়েন্টস, 44 Dublin Rd BT2 7HN (আর্চানার উল্টো দিকে)। সোম থেকে বৃহস্পতি: বিকেল ৪টা থেকে রাত ১টা; শুক্র থেকে রবি: দুপুর ১টা থেকে রাত ১টা। খাঁটি আইরিশ পাব। অনেক রকম হুইস্কি পাবেন, আর গানবাজনাও হয়।
  • সানফ্লাওয়ার, 65 Union St BT1 2JG, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৩ ২৪৭৪। রবি থেকে বুধ: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা; বৃহস্পতি থেকে শনি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১টা। সরগরম পাব। দরজার সামনের লোহার নিরাপত্তা-খাঁচা দেখে ঘাবড়ে যাবেন না। ভেতরে ঢুকলেই দেখবেন লোকজন খুব আন্তরিক, ট্যাপে দারুণ সব ক্রাফট বিয়ার, আর শহরকেন্দ্রে এর চেয়ে সস্তায় পাইন্ট খুব কম জায়গাতেই পাবেন।
  • ক্রেমলিন, 96 Donegall Street BT1 2GW, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০১৮ ৪৪৩১। প্রতি রাতে ১০টা থেকে ৩টা। সোভিয়েত আমলের সাজে সাজানো সমকামীদের নাচের ক্লাব।
  • ইউনিয়ন স্ট্রিট বার, 8 Union St BT1 2JF (ক্রেমলিন থেকে এক ব্লক পশ্চিমে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩১ ৬০৬০। মঙ্গল থেকে বৃহস্পতি: বিকেল ৫টা থেকে রাত ১টা; শুক্র থেকে রবি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১টা। পাব আর ওয়াইন বার, এলজিবিটিকিউ মানুষদের জন্য স্বাগত জানানো পরিবেশ। ভূমধ্যসাগরীয় খাবার পাওয়া যায়। পাশেই শু ফ্যাক্টরি নামের ক্লাব, সেটা খোলা থাকে অনেক রাত পর্যন্ত।
  • কেলিস সেলারস, 30 Bank St BT1 1HL (ক্যাসল স্ট্রিটের পাশে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ৬০৫৮। রোজ সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১টা। চমৎকার পাব। সপ্তাহের শেষে আইরিশ লোকসংগীত হয়, আর ওপরতলায় রেস্তোরাঁ। ভবনটা ১৭২০ সালের। ১৭৯৮ সালে ইউনাইটেড আইরিশমেনরা এখানে বসেই বিদ্রোহের পরিকল্পনা করেছিলেন।
  • ম্যাডেনস বার, 74 Berry St BT1 1FJ, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ৪১১৪। সোম থেকে শনি: সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১টা; রবি: দুপুর ১টা থেকে রাত ১২টা। সরগরম পাব, সপ্তাহের শেষে আইরিশ লোকসংগীত বাজে।
  • মুরিয়েলস ক্যাফে বার, 12 Church Lane BT1 4QN, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩৩ ২৪৪৫। রোজ দুপুর ১২টা থেকে রাত ১টা। আন্তরিক পরিবেশের পাব, জিনের জন্য বিখ্যাত।

ক্রাফট বিয়ার

বেলফাস্টে ক্রাফট বিয়ারের চল দিন দিন বাড়ছে। শহরের ভেতরেই এখন সাতটার বেশি ছোট ব্রুয়ারি, যার মধ্যে দুটো ব্রুপাব, মানে নিজেদের বানানো বিয়ার নিজেরাই বিক্রি করে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের মদ বিক্রির আইন আর বিদেশি বড় কোম্পানিগুলোর দাপটের কারণে বেশির ভাগ বারে স্থানীয় বিয়ার পাওয়া যায় না। তবে ভালো মানের এল আর লাগার বিয়ার নিয়ে কাজ করছে এমন বেশ কয়েকটা জায়গা এখন খুলেছে।

  • আউট অব অফিস ব্রুয়িং, 96-98 High St, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৩ ০৭৭১। বৃহস্পতি থেকে শনি: বিকেল ৩টা থেকে রাত ১২টা। আলস্টার স্পোর্টস ক্লাবের একেবারে ওপরের তলায়। এই ব্রুপাবে সাধারণত নিজেদের বানানো চার থেকে আট রকমের বিয়ার পাওয়া যায়।
  • দ্য ডিয়ারস হেড, 1-3 Lower Garfield St, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৪৩ ৪৬৫৫। বৃহস্পতি থেকে শনি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১টা। উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম ব্রুপাব। নিজেদের বানানো অনেক রকম বিয়ার আছে, খাবারও ভালো।
  • দ্য জন হিউইট, 51 Donegall St, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৩ ৩৭৬৮। বৃহস্পতি থেকে শনি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১টা। পূর্ব বেলফাস্টের বাউন্ডারি ব্রুয়িং এই পাবটা চালায়। ১৯টা ট্যাপে ক্রাফট বিয়ার, আর ফ্রিজে ক্যান আর বোতলেরও দারুণ সংগ্রহ। ভেতরেই ফ্র্যাংকিস লাজানিয়েরিয়া নামে একটা খাবারের দোকান আছে। সেখানে বড় বড় প্লেটে চিকেন পারমেজান আর ডুবো তেলে ভাজা লাজানিয়ার টুকরো পাবেন।

দক্ষিণ

  • দ্য বোটানিক ইন (দ্য বট), 23 Malone Rd BT9 6RU, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৫০ ৯৭৪০। সোম থেকে বৃহস্পতি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা; শুক্র থেকে রবি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা। কুইন্স ইউনিভার্সিটির কাছের এই বার ছাত্রছাত্রীদের খুব প্রিয়। নিচতলায় বিশাল বার, সেখানে খেলা দেখানো হয়। ওপরতলায় নাইটক্লাব। খাবার আর পানীয় দুটোই ভালো।
  • হ্যাটফিল্ড হাউস, 130 Ormeau Rd BT7 2EB, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৪৩ ৮৭৬৪। রোজ দুপুর ১২টা থেকে রাত ১টা। উনিশ শতকের মাঝামাঝি তৈরি পুরোনো ভবনে শহরের দক্ষিণ দিকের সরগরম পাব। প্রায়ই গানবাজনা হয়, আর টিভিতে চলে গেলিক খেলা।
  • রায়ান'স বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, 116 Lisburn Rd BT9 6AH, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৫০ ৯৮৫০। সোম থেকে বৃহস্পতি: সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১১টা; শুক্র থেকে রবি: দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত ১টা। নিচতলায় পরিবার নিয়ে খাওয়ার মতো গ্রিল রেস্তোরাঁ, আর একটা বার, যেটা খোলা থাকে অনেক রাত পর্যন্ত।

পূর্ব

  • বাউন্ডারি ব্রুয়িং, 310 Newtownards Rd BT4 1AF। রোজ দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১টা। আধুনিক ক্রাফট বিয়ারের কারখানা। পাশের ট্যাপরুমে ট্যাপ থেকে ২০ রকমের বিয়ার ঢালা হয়। প্রতি পাইন্ট £৬।
  • বুলহাউস ইস্ট, 442-446 Newtownards Rd BT4 1HJ, ☏ +৪৪ ২৮ ৯৪৫৮ ০৪৪১। রোজ দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা। বুলহাউস ব্রুয়িংয়ের ট্যাপরুম, ট্যাপে প্রায় ২০ রকমের বিয়ার। কাঠের চুলায় সেঁকা পিৎজাও পাওয়া যায়। প্রতি পাইন্ট £৬।

থাকার জায়গা

কম খরচে

  • লাগান ব্যাকপ্যাকার্স, 121 Fitzroy Ave BT7 1HU, ☏ +৪৪ ২৮ ৯৫১৪ ০০৪৯। সাদামাটা ছোট হোস্টেল। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কখনো ভালো, কখনো ততটা নয়। ডরমিটরিতে এক বিছানা £২৭।
  • বেলফাস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ হোস্টেল, 22 Donegall Road BT12 5JN (বেনেডিক্টস হোটেলের পেছনে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩১ ৫৪৩৫। সাদামাটা হোস্টেল, তবে জায়গাটা ভালো, শ্যাফটসবেরি স্কয়ারের কাছেই। ডরমিটরিতে এক বিছানা £২৮।
  • বোটানিক্যাল ব্যাকপ্যাকার্স, 63 Fitzwilliam St BT9 6AX। কুইন্স ইউনিভার্সিটির কাছে ছোট একটা নিজস্ব মালিকানার হোস্টেল। ভালোভাবে চালানো হয়, পরিবেশ চমৎকার, আর এলজিবিটিকিউ অতিথিদের সাদরে গ্রহণ করে। ডরমিটরিতে এক বিছানা £৩৩।
  • গ্লোবাল ভিলেজ, 87 University Street BT7 1HP, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৯০ ৪৬৮৭। সারা বছর খোলা থাকে এমন হোস্টেল। শুধু সাধারণ ডরমিটরি, আলাদা ঘর নেই।
  • প্রিমিয়ার ইনের এখানে তিনটা হোটেল আছে: ওয়ারিং স্ট্রিটে "ক্যাথেড্রাল কোয়ার্টার", আলফ্রেড স্ট্রিটে "সিটি সেন্টার", আর মেরিনার কাছে "টাইটানিক কোয়ার্টার"।
  • আইবিসের হোটেল দুটো: ক্যাসল স্ট্রিটে "সিটি সেন্টার" আর ইউনিভার্সিটি স্ট্রিটে "কুইন্স কোয়ার্টার"।

মাঝারি দামে

  • বেনেডিক্টস, 7-21 Bradbury Place BT7 1RQ (বোটানিক রেলস্টেশনের পাশে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৫৯ ১৯৯৯। কুইন্স ইউনিভার্সিটির কাছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, প্রাণবন্ত মাঝারি মানের হোটেল। এখানকার রেস্তোরাঁও ভালো। নাশতাসহ দুজনের ঘর £১২০।
  • হলিডে ইন, 40 Hope St BT12 5EE (রেলস্টেশনের উল্টো দিকে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ২৪৯৪। শহরের মাঝখানে আরামদায়ক চেইন হোটেল। নাশতাসহ দুজনের ঘর £১৬০।
  • লিওনার্দো হোটেল (আগের নাম জুরিস ইন), Great Victoria Street BT1 6DY (রেল আর বাস স্টেশন থেকে এক ব্লক উত্তরে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৫৩ ৩৫০০। ভরসা করা যায় এমন মাঝারি মানের হোটেল। নাশতাসহ দুজনের ঘর £১৯০।
  • ম্যালোন লজ, 60 Eglantine Ave BT9 6DY, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৩৮ ৮০০০। এখন সংস্কারের কাজ চলছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবার খোলার কথা।
  • র‍্যাভেনহিল হাউস, 690 Ravenhill Rd BT6 0BZ, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৮ ২৫৯০। ছিমছাম, আন্তরিক একটা বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট। খোলা থাকে এপ্রিল থেকে অক্টোবর। ১০ বছরের কম বয়সী বাচ্চা বা কুকুর নিয়ে থাকা যায় না। দুজনের ঘর (শুধু থাকা) £১৩০।
  • ওল্ড রেক্টরি, 148 Malone Rd BT9 5LH, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৬৬ ৭৮৮২। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আরামদায়ক, মনকাড়া একটা বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট। কুকুর নিয়ে থাকা যায় না।
  • টারা লজ, 36 Cromwell Rd BT7 1JW (বোটানিক রেলস্টেশনের পাশে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৫৯ ০৯০০। বোটানিক আর কুইন্স ইউনিভার্সিটির কাছে ছিমছাম ছোট হোটেল। নাশতাসহ দুজনের ঘর £১৩০।
  • টেন স্কয়ার (ডাবলট্রি বাই হিলটন), 10 Donegall Square South BT1 5JD, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৪ ১০০১। শহরের এর চেয়ে মাঝখানে থাকা সম্ভব নয়, একেবারে সিটি হলের মুখোমুখি। তবে রাস্তার আওয়াজ আসতে পারে। এখন এটা হিলটন চেইনের অংশ। নাশতাসহ দুজনের ঘর £৩০০।
  • স্টরমন্ট হোটেল, 587 Upper Newtownards Rd BT4 3LP, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০৬৫ ১০৬৬। স্টরমন্টের ফটকের পাশে হেস্টিংস চেইনের হোটেল। আরাম আর খাবারদাবার নিয়ে অতিথিরা ভালো কথাই বলেন। নাশতাসহ দুজনের ঘর £১৩০।

বিলাসী

  • হিলটন বেলফাস্ট, 4 Lanyon Place BT1 3LP, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৭ ৭০০০। ওয়াটারফ্রন্ট হলের পাশে মোটামুটি মাঝারি মানের চেইন হোটেল, খারাপ নয়। নাশতাসহ দুজনের ঘর £২০০।
  • টাইটানিক হোটেল, 8 Queen's Rd BT3 9DT (ডক এলাকায়, টাইটানিক জাদুঘরের পাশে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯৫০৮ ২০০০। হারল্যান্ড অ্যান্ড উলফের পুরোনো অফিস ভবনে ঝকঝকে আধুনিক হোটেল। নাশতাসহ দুজনের ঘর £২৫০।
  • ইউরোপা হোটেল, Great Victoria St BT2 7AP (গ্রেট ভিক্টোরিয়া স্ট্রিটের বাস আর রেলস্টেশনের পাশে), ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৭ ১০৬৬। বিশ শতকে টিকে থাকতে ইউরোপাকে বেশ শক্তপোক্ত হতে হয়েছিল। তবে এখন এখানকার "গোলযোগ" বলতে শুধু হইহুল্লোড়ের পার্টি আর মাঝেমধ্যে কোনো গাড়ির অ্যালার্মের চিৎকার। জায়গাটা দারুণ, আর মাঝারি বাজেটের পর্যটকদের কাছে খুব জনপ্রিয়। হোটেলের নিজস্ব পার্কিং নেই। নাশতাসহ দুজনের ঘর £১৪০।
  • মালমেজোঁ বেলফাস্ট, 34-38 Victoria St BT1 3GH, ☏ +৪৪ ২৮ ৯৬০০ ১৪০৫। দারুণ জায়গায় চটকদার হোটেল, তবে আওয়াজ নিয়ে কিছু অভিযোগ শোনা যায়। নাশতাসহ দুজনের ঘর £২০০।
  • মার্চেন্ট হোটেল, 16 Skipper St BT1 2DZ, ☏ +৪৪ ২৮ ৯০২৩ ৪৮৮৮। পুরোনো একটা ব্যাংক ভবনকে বদলে বানানো অভিজাত হোটেল। স্পা আছে, ছাদের ওপরে জিম আছে। গ্রেট রুম রেস্তোরাঁটা রাজকীয় রকমের জমকালো। নাশতাসহ দুজনের ঘর £২৪০।

নিরাপত্তা

বেলফাস্ট মোটের ওপর নিরাপদ আর অতিথিপরায়ণ শহর। ভেতরে ভেতরে কিছু গোলমাল রয়ে গেছে ঠিকই, তবে সেটা স্থানীয়দের নিজেদের মধ্যে পুরোনো হিসাব মেটানোর ব্যাপার, পর্যটকদের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। অন্ধকার নামার পর আগে বলা "ইন্টারফেস এলাকাগুলো" এড়িয়ে চলুন। শ্যাফটসবেরি স্কয়ার (কুইন্স ইউনিভার্সিটি আর গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনের মাঝখানে), বোটানিক স্টেশন আর স্ট্র্যান্ডটাউনের আশপাশেও চোখ-কান খোলা রাখুন। বাকিটা অন্য যেকোনো বড় শহরের মতোই, সাধারণ সাবধানতাগুলো মেনে চললেই হবে। স্থানীয় রাজনীতিতে নাক গলাবেন না, আর ও নিয়ে মুখও খুলবেন না। এখানকার রাজনীতির শিকড় তিনশো বছরের পুরোনো। ভুল রঙের ফুটবল জার্সি গায়ে দিলে দু-চারটে খোঁচা শুনতে হতে পারে। হইচই করা কমবয়সী ছেলেদের দল দেখলে দূরে থাকুন, এরা কোনো কারণ ছাড়াই হামলা করে বসতে পারে।

দরকারি তথ্য

কনস্যুলেট

  • United States

Flag of the United States

(ছবি: Uploaded by Dbenbenn ; edited by users such as Zscout370 , Jacobolus , Indolence, Public domain)

  • Poland

(ছবি: See below., Public domain)

পোল্যান্ড, 67 Malone Rd BT9 6SB, ☏ +৪৪ ২৮ ৯৬২০ ৯৫০০। সোম: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা; মঙ্গল থেকে শুক্র: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা। অফিস বন্ধ থাকার সময় কোনো পোলিশ নাগরিক বিপদে পড়লে ফোন করুন +44 7880 712909 নম্বরে।

যোগাযোগ

আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র থেকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের কোনো নম্বরে ফোন করতে চাইলে দেশের কোড বাদ দিয়ে শুরুতে ০৪৮ লাগান। ওপরে দেওয়া +44 28 দিয়ে শুরু নম্বরগুলোতেও ফোন যাবে, তবে বিল হবে আন্তর্জাতিক কলের হারে।

২০২৬ সালের জানুয়ারির হিসাবে শহরে আর শহরে ঢোকার রাস্তাগুলোতে যুক্তরাজ্যের সব মোবাইল কোম্পানির ৫জি নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।

ফেরিতে সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে না। ফোনটা বন্ধ রাখুন। নইলে ফোন হয়তো ফেরি কোম্পানির নিজস্ব নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়বে, আর তারা পরম আনন্দে আপনার কাছ থেকে আন্তর্জাতিক হারে টাকা কাটবে।

এরপর কোথায়

  • যাতায়াতের সব পথ বেলফাস্ট থেকে চারদিকে ছড়িয়ে গেছে, তাই উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রায় যেকোনো জায়গায় এক দিনেই ঘুরে আসা যায়।
  • চমৎকার আলস্টার ফোক মিউজিয়াম আর আলস্টার ট্রান্সপোর্ট মিউজিয়াম দেখতে যান হলিউডে।
  • হিলসবরো ছবির মতো সুন্দর একটা গ্রাম। এখানেই আছে হিলসবরো ক্যাসল, উত্তর আয়ারল্যান্ডে ক্ষমতার জাঁকালো আসন।
  • উত্তর উপকূলের সেরা আকর্ষণ জায়ান্টস কজওয়ে, ট্রেন বা বাসে যাওয়া যায়। গাড়ি থাকলে উপকূলের রাস্তা ধরে ধীরেসুস্থে ক্যারিকফার্গাস আর লার্ন হয়ে অ্যানট্রিম গ্লেনস পেরিয়ে ব্যালিক্যাসল পর্যন্ত যেতে পারেন। ব্যালিক্যাসল থেকে র‍্যাথলিন দ্বীপের ফেরি ছাড়ে। গ্লেনস এলাকা এতই নিরিবিলি যে তারপর কজওয়েতে পৌঁছে মনে হবে বড্ড বেশি ভিড়।
  • ডেরি পুরোনো নগরপ্রাচীরে ঘেরা এক আশ্চর্য ঐতিহাসিক শহর।
  • ডাবলিন বাস বা ট্রেনে এক দিনে ঘুরে আসা যায়, তবে শহরটা আরও অনেক বেশি সময়ের দাবি রাখে।

{{#assessment:শহর|নির্দেশিকা}}

এই পাতা কোথা থেকে এসেছে

এই পাতাটি উইকিভ্রমণ থেকে আনা হয়েছে। “বেলফাস্ট” — উইকিভ্রমণ থেকে, এর অবদানকারীদের লেখা, CC BY-SA 4.0 লাইসেন্সে। এখানে যা বদলানো হয়েছে: পাতা হিসেবে সাজানো; সম্পাদনা-লিংক, মানচিত্র ও তালিকার মেটাডেটা বাদ; প্রতিটি ছবি নিজস্ব লাইসেন্সে, ক্যাপশনে উল্লেখসহ।

এটি এখনও কেউ লেখেননি: এটি নতুন ঠিকানায় রাখা মূল উপাদান, তাই সার্চ ইঞ্জিনকে এটি সূচিভুক্ত না করতে বলা হয়েছে এবং এ থেকে কেউ আয় করেন না। পাতাটি খালি: দায়িত্ব নিন, তাহলে এটি নতুন করে লেখা ও এ থেকে আয় করা আপনার।

IdiomasবাংলাEnglishРусскийEspañolDeutschItaliano

Licença: CC BY-SA 4.0 · Adaptado de bn.wikivoyage.org

1

0

0

0

Spinner Logo

Comentários

Spinner Logo
Versão: 1CC BY-SA 4.0
যুদ্ধ অঞ্চল বা প্রাক্তন যুদ্ধ অঞ্চল–যাকে শত্রুতাপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিবেশও বলা হয়–অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট মিশনের জন্য প্রেরিত পেশাদার বা যারা সেখানকার স্থানীয় এবং কোন বিশেষ কারণে সেখান থেকে সরে যেতে পারছে না, তারা ব্যতীত অন্য কারো এমন যুদ্ধ অঞ্চলে ঘোরাঘুরি করা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অস্বাভ