Hub Nexus
АвторАвтора пока нетВзять себе

Есть что улучшить? Предложите правку.

Поддержка

Эта страница есть и на языке «Русский»: Киото: путеводитель

কিয়োমিজু-দেরা মন্দির, যার বিখ্যাত বড় বারান্দা রয়েছে

কিয়োমিজু-দেরা মন্দির, যার বিখ্যাত বড় বারান্দা রয়েছে (ছবি: Tmv, CC BY-SA 4.0)

কিয়োতো (京都) কয়েক হাজার বছর ধরে জাপানের রাজধানী ছিল। আজও এটি জাপানের অন্যতম সুন্দর শহর ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এমনকি ২০২৩ সালে জাতীয় সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থাও এখানে স্থানান্তরিত হয়েছে। তবে ভ্রমণকারীরা যখন প্রথম শহরে প্রবেশ করেন, তখন কিয়োতোর প্রকৃত সৌন্দর্য তাদের চোখে নাও পড়তে পারে। আধুনিক কাঁচ ও ইস্পাতে গড়া বিশাল রেলস্টেশন ঘিরে থাকা বিশৃঙ্খল নগরচিত্রই প্রথমে নজরে আসে। এ দৃশ্য একদিকে ঐতিহ্যবাহী শহরের রূপ, অন্যদিকে আধুনিকতার সঙ্গে তার সংঘর্ষের প্রতীক।

কিন্তু একটু সময় নিয়ে খুঁজে দেখলে প্রকাশ পায় কিয়োতোর আসল রূপ। শহরের চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন মন্দির, শান্ত উদ্যান আর ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যে লুকিয়ে আছে সেই সৌন্দর্য, যা প্রথম দেখাতেই ধরা পড়ে না।

শহরের জন্য একটি বহুভাষিক সরকারি ভ্রমণ নির্দেশিকা সাইট রয়েছে।

অঞ্চলসমূহ

কিয়োতোর বিভিন্ন অঞ্চল (ছবি: Stefan Ertmann & Openstreetmap.org, CC BY-SA 2.0)

কিনকাকু-জি মন্দিরের স্বর্ণমণ্ডিত প্যাভিলিয়ন (ছবি: D. Guillaume, CC BY-SA 4.0)

আয়তনে অন্যান্য বড় জাপানি শহরের মতো না হলেও, কিয়োতো ঐতিহ্যে ভরপুর। এক হাজার বছরেরও বেশি সময় রাজধানী থাকার কারণে শহর জুড়ে রয়েছে অসংখ্য প্রাসাদ, মন্দির, উপাসনালয় আর ঐতিহাসিক নিদর্শন। এসব ছড়িয়ে আছে নিচের অঞ্চলগুলোতে-

জানুন

পশ্চিম হোনশুর কানসাই অঞ্চলের পাহাড়ের কোলে অবস্থিত কিয়োতো ৭৯৪ সাল থেকে মেইজি পুনর্স্থাপন (১৮৬৮) পর্যন্ত জাপানের রাজধানী ও সম্রাটের আবাস ছিল। এক সহস্রাধিক বছর ধরে ক্ষমতা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ধর্মের কেন্দ্র হিসেবে এখানে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য প্রাসাদ, মন্দির ও উপাসনালয়-যেগুলো নির্মিত হয়েছিল সম্রাট, শোগুন ও ভিক্ষুদের জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কিয়োতো ছিল মিত্রশক্তির বোমা হামলা থেকে রক্ষা পাওয়া কয়েকটি শহরের একটি। ফলে এখনো এখানে টিকে আছে বহু প্রাচীন স্থাপনা, যেমন ঐতিহ্যবাহী টাউনহাউস ‘মাচিয়া’। তবে শহরে আধুনিকায়নের ধারা চলমান, আর অনেক পুরোনো ভবনের জায়গা দখল করেছে নতুন স্থাপনা, যেমন আধুনিক কিয়োতো স্টেশন কমপ্লেক্স। এখানে রয়েছে কিয়োতো বিশ্ববিদ্যালয়, যা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

অবস্থান

৭৯৪ সালে কিয়োতোর নগর পরিকল্পনাকারীরা তৎকালীন চীনা রাজধানী চাং’আন (বর্তমান শিয়ান)কে অনুসরণ করে শহরটিকে একটি গ্রিড আকারে সাজান। সেই ধারা এখনো শহরের কেন্দ্রে বিদ্যমান। পশ্চিম–পূর্বমুখী সড়কগুলোর ধারাবাহিক নম্বর রয়েছে-উত্তরে ইচিজো-দোরি (“প্রথম সড়ক”) থেকে শুরু করে দক্ষিণে জুজো-দোরি (“দশম সড়ক”) পর্যন্ত। তবে উত্তর–দক্ষিণমুখী সড়কের নামকরণে এমন কোনো নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।

আবহাওয়া

কিয়োতোতে চার ঋতুই স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়- বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীত। বসন্তে নানা ফুল ফোটে, আর শরতে পাতার রঙ বদলে যায়, যা অসংখ্য পর্যটককে টেনে আনে। শহরটি পাহাড়ে ঘেরা হওয়ায় গ্রীষ্মকালে আর্দ্রতা বেশ বেশি থাকে। জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত চলে বর্ষাকাল; এ সময় অনেক ভ্রমণকারী আসা এড়িয়ে চলেন। বৃষ্টি কখনো হালকা ঝিরিঝিরি, আবার কখনো প্রবল বর্ষণে রূপ নেয়। আগস্টের শেষভাগ ও সেপ্টেম্বর মাস টাইফুন মৌসুম হিসেবে পরিচিত। শীতে সাধারণত ঠান্ডা পড়ে, যদিও তুষারপাত খুব একটা হয় না। ডিসেম্বরের শেষ থেকে মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয় শীতকাল। মার্চে বরই ফুল ফোটার পরপরই শুরু হয় চেরি ফুল ফোটা, যা বসন্তের আগমনী বার্তা বহন করে।

কীভাবে যাবেন

বিমানে

কিয়োতোর নিজস্ব কোনো বিমানবন্দর নেই। শহরে পৌঁছানোর জন্য ওসাকার দুটি বিমানবন্দর- কানসাই আন্তর্জাতিক ও ইটামি ব্যবহৃত হয়। রেলপথ ও সড়কপথে দুটি শহরের মধ্যে চমৎকার যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।

রেলে

আপনি যদি কানসাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেে (কেআইএক্স আইএটিএ) নামেন, তবে সেখান থেকে ট্রেনে কিয়োতো যেতে পারবেন। আগমন লবির বিপরীতে কানসাই বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ওয়েস্ট জাপান রেলওয়ের (জেআর ওয়েস্ট) হারুকা লিমিটেড এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়ে। এই ট্রেনে কিয়োতো পৌঁছাতে সময় লাগে ৭৫–৮০ মিনিট। ভাড়া একমুখী ¥২,৯০০ (অরক্ষিত আসন) বা ¥৩,৪৩০ (রিজার্ভ আসন)।

বিদেশি পর্যটকরা চাইলে ছাড় মূল্যে হারুকায় ভ্রমণ করতে পারেন। এর মধ্যে একটি হলো কানসাই এরিয়া পাস, যার দাম মাত্র ¥২,৪০০ (অনলাইনে বুক করলে ¥২,৩৫০)। এটি সাধারণ টিকিটের চেয়ে ¥৫০০ কম। তবে কেনার সময় বিদেশি পাসপোর্ট ও জাপানের অস্থায়ী ভিজিটর ভিসা দেখাতে হবে। একটি ভ্রমণে শুধু একটি পাস কেনা যায়, তাই ফেরার সময় হারুকা ব্যবহার করলে সাধারণ ভাড়া দিতে হবে।

এই টিকিট অনলাইনে বা বিমানবন্দর স্টেশনে কেনা যায়। আরও কিছু পাস রয়েছে, যেমন কানসাই ওয়াইড এরিয়া পাস এবং সানিও এরিয়া পাস, যেগুলোতেও হারুকা ব্যবহার করা যায়।

কানসাই বিমানবন্দর থেকে নানকাই রেলওয়ের ট্রেনও চলে। তারা একটি বিশেষ ছাড় টিকিট দেয়- কিয়োতো অ্যাক্সেস টিকিট। ¥১,২৫০ টাকায় এই টিকিটে ওসাকার তেনগাচায়া স্টেশনে নামার পর ওসাকা সাকাইসুজি সাবওয়ে লাইনে যাত্রা করতে হয়। এরপর আওয়াজি স্টেশনে বদল করে হানকিউ মেইন লাইনে কিয়োতো পৌঁছানো যায়। এভাবে প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে কেন্দ্রীয় কিয়োতো পৌঁছানো সম্ভব। চাইলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে দ্রুততর নানকাই ট্রেন ‘রাপিৎ’-এ যাতায়াত করা যায়।

বাসে

কানসাই বিমানবন্দর থেকে আরামদায়ক লিমুজিন বাস চলে কিয়োতো স্টেশনে, প্রতি আধা ঘণ্টায় একবার। ভাড়া একমুখী ¥২,৬০০ বা রাউন্ড ট্রিপে ¥৪,২৬০। যাত্রার সময় প্রায় ৮৮ মিনিট, তবে ট্রাফিক থাকলে ৯০–১৩৫ মিনিট পর্যন্ত লাগতে পারে।

ইটামি বিমানবন্দর দিয়ে

ইটামি বিমানবন্দর (আইটিএম আইএটিএ), যদিও নাম “ওসাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর”, এখন আর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে না। এটি কানসাই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় দেশীয় বিমানবন্দর এবং কিয়োতো’র নিকটতম বিমানবন্দর। জাপানের ভেতর থেকে আসা যাত্রীরা সাধারণত এখানে নামেন। এখান থেকে কিয়োতো যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় লিমুজিন বাস, যা সারাদিন প্রায় প্রতি ২০ মিনিট পর পর ছাড়ে। যাত্রার সময় ৫০ মিনিট, ভাড়া ¥১,৩৪০।

অন্য উপায় হলো মনোরেল ও ট্রেন মিলিয়ে যাত্রা করা, তবে এতে এক বা দুইবার ট্রেন বদলাতে হয়-

  • ওসাকা মনোরেলে হোতারুগাইক পর্যন্ত, সেখান থেকে হানকিউ তাকরাজুকা লাইন ধরে জুসো, এবং শেষে হানকিউ কিয়োতো লাইন ধরে কিয়োতো (১ ঘণ্টা, ¥৬৭০)
  • ওসাকা মনোরেলে মিনামি-ইবারাকি পর্যন্ত, সেখান থেকে হানকিউ কিয়োতো লাইন ধরে কিয়োতো (১ ঘণ্টা, ¥৭৬০)

লিমুজিন বাস আপনাকে কিয়োতো স্টেশনে নামিয়ে দেবে, যা শহরের দক্ষিণ দিকে। অন্যদিকে হানকিউ রেলওয়ে চলে শিজো সড়ক পর্যন্ত, যা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত।

রেলে করে

শিনকানসেন ট্রেন কিয়োতো স্টেশনে প্রবেশ করছে (ছবি: Ellywa at Dutch Wikipedia, CC BY-SA 3.0)

বেশিরভাগ ভ্রমণকারী টোকিও থেকে শিনকানসেন (বুলেট ট্রেন) ধরে জেআর কিয়োতো স্টেশনে পৌঁছান। নোজোমি ট্রেনে যাত্রা করতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট এবং একমুখী ভাড়া ¥১৪,১৭০। টোকিও ও কিয়োতোর ট্রাভেল এজেন্সিগুলো এই টিকিটে ¥৭০০-১,০০০ ছাড় দেয়। এজেন্সি থেকে কেনা টিকিট “ওপেন ডেট” হয়- অর্থাৎ ট্রেন খালি থাকলে যেকোনো ট্রেনে উঠতে পারবেন। শুধু স্টেশনে গিয়ে টিকিট নিবন্ধন করলেই আসন সংরক্ষিত হয়ে যাবে।

হিকারি ট্রেন কম চলে এবং কয়েকটি বেশি স্টেশনে থামে, তাই সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। অন্যদিকে সব স্টেশনে থামা কোদামা ট্রেন যেতে সময় নেয় প্রায় ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। জাপান রেল পাস থাকলে শুধু হিকারি ও কোদামা ট্রেন ব্যবহার করা যায়, যদি না আলাদাভাবে নোজোমি টিকিটের বাড়তি টাকা পরিশোধ করেন।

জাপান রেলওয়ের সরকারি স্মার্টইএক্স অ্যাপ (ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় পাওয়া যায়) দিয়ে অগ্রিম টিকিট কেনা যায়, যেখানে ¥২০০ ছাড়ও দেওয়া হয়। এখানে হায়াতোকু ভাড়া খুঁজে দেখুন- এগুলো অন্তত তিন দিন আগে টিকিট কিনলে বড় ছাড় দেয়। যেমন, দুইজন যাত্রী টোকিও থেকে নোজোমিতে সাধারণ শ্রেণিতে ভ্রমণ করলে ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ¥১২,০২০, আর কোদামা ট্রেনে গ্রীন কার (প্রথম শ্রেণি) ব্যবহার করলে ভাড়া জনপ্রতি ¥১১,২০০।

আরেকটি জনপ্রিয় অফার হলো প্লাট কোদামা টিকিট (জাপানি ভাষায়), যা অন্তত এক দিন আগে কিনতে হয়। এতে আসন সংরক্ষণসহ একটি বিনামূল্যের পানীয় কুপন (বিয়ারও অন্তর্ভুক্ত) পাওয়া যায়, যা স্টেশনের কনভিনিয়েন্স কাউন্টারে ব্যবহার করা যায়। এই টিকিটে টোকিও থেকে কিয়োতো ভাড়া ¥১০,৫০০। টোকিও থেকে প্রতি ঘণ্টায় মাত্র একটি কোদামা ট্রেন চলে, আর কয়েকটি ভোরের ট্রেনে এই টিকিট ব্যবহার করা যায় না। নাগোয়া থেকে কিয়োতো ভাড়া পড়ে ¥৪,৪০০।

সেইশুন ১৮ টিকিট চালু থাকলে, কেবল লোকাল ট্রেন ব্যবহার করে দিনে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে টোকিও থেকে কিয়োতো যাওয়া যায়। দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ করলে খরচ কমে যায়। সাধারণ ভাড়া ¥৮,৩৬০ হলেও ৩ জনের দলে জনপ্রতি প্রায় ¥৪,০০০ আর ৫ জন একসঙ্গে ভ্রমণ করলে জনপ্রতি ভাড়া নেমে আসে ¥২,৪১০।

কানসাই অঞ্চলে ভ্রমণের জন্য আরও সস্তা এবং প্রায় একই গতির বিকল্প হলো জেআর শিনকাইসোকু (新快速) দ্রুতগামী সেবা, যা ওসাকা, কোবে ও হিমেজির সঙ্গে যুক্ত। সামান্য কম খরচে হানকিউ বা কেহান লাইনে ওসাকা ও কোবে যাওয়া যায়, কিংবা কিন্তেতসু লাইন ধরে নারা। কানসাই থ্রু পাসে এসব প্রাইভেট লাইনও অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা কয়েকদিন থাকলে জেআর পাসের চেয়ে সস্তা হতে পারে।

হোকুরিকু অঞ্চল থেকে ভ্রমণকারীরা তসুরুগা থেকে থান্ডারবার্ড এক্সপ্রেস ট্রেনে কিয়োতো আসতে পারেন। তসুরুগা থেকে হোকুরিকু শিনকানসেন ধরে ফুকুই, কোমাতসু, কানাজাওয়া ও আরও দূরে যাওয়া যায়।

হোকুরিকু আর্চ পাস

হোকুরিকু আর্চ পাস দিয়ে টোকিও থেকে কানসাই পর্যন্ত হোকুরিকু হয়ে সীমাহীন যাতায়াত করা যায়। এতে টোকিও থেকে কানাজাওয়া পর্যন্ত হোকুরিকু শিনকানসেন আর কানাজাওয়া থেকে কিয়োতো ও ওসাকা পর্যন্ত থান্ডারবার্ড ট্রেন অন্তর্ভুক্ত। ৭ দিনের ভাড়া ¥২৪,৫০০ (জাপানে কিনলে ¥২৫,৫০০), যা জাতীয় জাপান রেল পাসের প্রায় অর্ধেক। তবে টোকিও থেকে কিয়োতো যেতে সময় লাগে দ্বিগুণ, কারণ এটি কানাজাওয়া ঘুরে যায়। তবে ১৬ মার্চ ২০২৪-এ নতুন লাইন চালু হলে সময় কিছুটা কমবে।

রাতের ভ্রমণ

অতীতে টোকিও ও কিয়োতোকে সরাসরি যুক্ত করা বহু রাতের ট্রেন ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে এগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে বাসই রাতের ভ্রমণের সবচেয়ে সহজ উপায়।

তবে অন্য শহরে বিরতি নিয়ে রাতের ট্রেনে টোকিও থেকে কিয়োতো আসা এখনো সম্ভব। জাপান রেল পাস বা একাধিক দিনের বৈধ লং-ডিস্ট্যান্স টিকিট থাকলে এটি বেশ সুবিধাজনক।

গাড়িতে করে

নাগোয়া আর ওসাকার মাঝের মেইশিন এক্সপ্রেসওয়ে ধরে সহজেই গাড়িতে কিয়োতো আসা যায়। তবে শহরের ভেতরে ঢোকার পর গাড়ি রেখে গণপরিবহন ব্যবহার করাই ভালো। বেশিরভাগ দর্শনীয় স্থান তৈরি হয়েছিল গাড়ির যুগের আগে, তাই পার্কিং খুবই সীমিত, আর থাকলেও খরচ প্রচণ্ড বেশি।

বাসে করে

টোকিও ও কিয়োতো সংযোগকারী জেআর হাইওয়ে বাস (ছবি: Cassiopeia sweet, Public domain)

কিয়োতো বড় শহর হওয়ায় এখানে সারা জাপান থেকে অসংখ্য দিনের ও রাতের বাস চলে। এগুলো শিনকানসেনের চেয়ে সস্তা বিকল্প। সাংস্কৃতিক রাজধানী হওয়ায় কিয়োতোর বাস সংযোগ প্রায় টোকিওর মতোই ঘন। বিভিন্ন শহর থেকে এখানে রাতের বাস আসে, যেমন- ইয়ামাগাতা, সেনদাই, ফুকুশিমা, সাইতামা, ইয়োকোহামা, নিগাতা, তোয়ামা, শিজুওকা, হিরোশিমা, ফুকুওকা ইত্যাদি। একই দিনে যেসব শহর থেকে হাইওয়ে বাস আসে সেগুলো হলো নাগোয়া, তাকায়ামা, ওকায়ামা, কুরাশিকি, ফুকুয়ামা, অনোমিচি ইত্যাদি।

বেশিরভাগ বাস কিয়োতো স্টেশন থেকে যাত্রী ওঠানামা করে। জেআর বাসগুলো উত্তরের কারাসুমা এক্সিট ব্যবহার করে, অন্যরা দক্ষিণের হাচিজো এক্সিট। আরেকটি স্টপ হলো কিয়োতো ফুকাকুসা, যা স্টেশন থেকে ৪.৫ কিমি দক্ষিণে। কাছাকাছি ফুজিনোমরি ও তাকেদা স্টেশন থেকে সহজেই কেন্দ্রীয় কিয়োতো পৌঁছানো যায়।

টোকিও থেকে

টোকিও থেকে কানসাই অঞ্চলের বাস চলাচল জাপানের সবচেয়ে ব্যস্ত। বাসগুলো টোমেই বা চুও এক্সপ্রেসওয়ে ধরে নাগোয়া হয়ে মেইশিন এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে কিয়োতো আসে। সময় লাগে ৭-৯ ঘণ্টা।

প্রতিযোগিতার কারণে ভাড়া অনেক সস্তা আর সেবাও উন্নত হয়েছে। দিনের যাত্রা, সপ্তাহের মাঝের দিন, অগ্রিম টিকিট কেনা এবং বেশি আসনের বাস হলে ভাড়া কম হয়। রাতের যাত্রা, ছুটির দিন ও বিলাসবহুল বাসের ভাড়া বেশি হয়। সাধারণত দিনে জনপ্রতি ¥৪,০০০-৬,০০০ আর রাতে ¥৫,০০০-৮,০০০। শিশুদের ভাড়া অর্ধেক।

বড় দুটি বাস কোম্পানি হলো উইলার এক্সপ্রেস ও জেআর বাস। টিকিট স্টেশন বা কনভিনিয়েন্স স্টোর থেকেও কেনা যায়। উইলার এক্সপ্রেসের জাপান বাস পাস বেশ জনপ্রিয়।

ঘুরে দেখুন

শহরটি বড় এবং দর্শনীয় স্থানগুলো চারপাশে ছড়িয়ে থাকায় কিয়োতোর গণপরিবহন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সহজ রুট পরিকল্পনার জন্য নাভিটাইম সাইট ব্যবহার করতে পারেন। এখানে ট্রেন, সাবওয়ে আর বাসের সব রুট পাওয়া যায়।

শহরের বাইরে ভ্রমণ করলে সুরুত্তো কানসাই টিকিট উপকারী। পশ্চিম জাপানে (কিয়োতোসহ) আইসিওসিএ (ICOCA) নামের স্মার্ট কার্ডও ব্যবহার করা যায়। এর দাম ¥২,০০০ (যার মধ্যে ¥৫০০ জমা ফেরতযোগ্য)। কিয়োতো ভ্রমণের জন্য বিশেষ টিকিটও আছে:

  • কিয়োতো সাইটসিয়িং কার্ড- একদিনের জন্য (প্রাপ্তবয়স্ক ¥৯০০/শিশু ¥৪৫০) বা দুই দিনের জন্য (¥১,৭০০/¥৮৫০)। এতে সাবওয়ে আর সিটি বাস সীমাহীন ব্যবহার করা যায়।
  • ট্রাফিকা কিও কার্ড- ¥১,০০০ বা ¥৩,০০০ মূল্যের প্রিপেইড কার্ড। টিকিট গেটে ব্যবহার করলেই হবে। এতে ১০% বাড়তি মূল্য যোগ হয়।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য দেখুন কিয়োতো সিটি বাস ও সাবওয়ে গাইড।

রেলে করে

কিয়োতো নগরের রেলপথের মানচিত্র

কিয়োতো নগরের রেলপথের মানচিত্র (ছবি: Stefan Ertmann, CC BY-SA 2.0)

কিয়োতো শহর জুড়ে একাধিক রেললাইন রয়েছে, আর প্রতিটি স্টেশনে ইংরেজি নির্দেশনা পরিষ্কারভাবে লেখা থাকে। লাইনগুলো আলাদা কোম্পানি পরিচালনা করে, তাই ভাড়ায় কিছুটা পার্থক্য আছে, তবে বেশিরভাগ টিকিট মেশিন থেকেই ট্রান্সফার টিকিট কেনা যায়। কেইহান লাইন পূর্ব কিয়োতো ভ্রমণের জন্য সুবিধাজনক। উত্তর-পশ্চিমে ঘোরার জন্য আকর্ষণীয় দু’টি কেইফুকু (বা র‍্যান্ডেন) ট্রাম লাইন রয়েছে। কেইহান লাইনের উত্তর প্রান্ত থেকে সামনের রাস্তায় শুরু হয় আইডেন লাইন, যা মাউন্ট হিয়েই এবং কুরামা পর্যন্ত চলে। হানক্যু লাইন শহরের কেন্দ্রস্থল শিজো-কাওয়ারামাচি থেকে শুরু হয়ে এক স্টেশন পরে কারাসুমা লাইনে যুক্ত হয়। এটি দিয়ে সহজেই আরাশিয়ামা আর কাতসুরা রিক্যু যাওয়া যায়; লাইনটি ওসাকা এবং কোবে পর্যন্ত চলে। জেআর লাইনের রুট কিয়োতো স্টেশন থেকে উত্তর-পশ্চিমে (জেআর সাগানো লাইন), দক্ষিণ-পশ্চিমে (জেআর কিয়োতো লাইন) এবং দক্ষিণ-পূর্বে (জেআর নারা লাইন) বিস্তৃত। লোকাল ও এক্সপ্রেস উভয় ধরনের ট্রেন আছে, তাই ওঠার আগে দেখে নিন ট্রেনটি আপনার গন্তব্যে থামবে কি না।

মেট্রো রেলে করে

কিয়োতো স্টেশনের ভূগর্ভস্থ অংশে ব্যাগেজ লকার

কিয়োতো স্টেশনের ভূগর্ভস্থ অংশে ব্যাগেজ লকার (ছবি: Marek Ślusarczyk ( Tupungato ) Photo gallery, CC BY 3.0)

শহরে দুটি মেট্রো লাইন রয়েছে, যা কেবল অল্প অংশে সেবা দেয়। উত্তর-দক্ষিণমুখী কারাসুমা লাইন কিয়োতো স্টেশনের নিচ দিয়ে চলে, আর পূর্ব-পশ্চিমমুখী তোজাই লাইন শহরের কেন্দ্রে এর সঙ্গে যুক্ত হয়। শহরের মধ্যে চলাচলের জন্য এগুলো ভালো, তবে মন্দির ভ্রমণের জন্য ততটা কার্যকর নয়। তবে তোজাই লাইন কেইহান লাইনের সঙ্গে যুক্ত, যা কামো নদীর সমান্তরাল চলে, এবং গিয়ন ও দক্ষিণ কিয়োতো পৌঁছাতে সুবিধাজনক। এর কাছাকাছি পূর্ব কিয়োতোর অনেক দর্শনীয় স্থানও পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়।

মেট্রোর এক দিনের পাসের দাম ৮০০ ইয়েন।

বাসে করে

কিয়োতোর বড় বাস নেটওয়ার্কের অংশ এমন বাস (ছবি: JKT at Japanese Wikipedia, CC BY-SA 3.0)

উত্তর-পশ্চিম কিয়োতোর অনেক দর্শনীয় স্থানে পৌঁছানোর একমাত্র সহজ উপায় হলো বাস। পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে এখানে বাসে ইংরেজি ও জাপানি- দুই ভাষাতেই গন্তব্য ঘোষণা হয়। অন্য শহরের তুলনায় কিয়োতোতে পর্যটকদের জন্য বাস ব্যবহার করা আসলেই সবচেয়ে ভালো উপায়।

তবে শহরে দুটি আলাদা বাস কোম্পানি আছে, এবং মাঝে মাঝে তাদের লাইন নম্বরও মিলে যায়। সবুজ-সাদা কিয়োতো সিটি বাস (শি-বাসু) শহরের মধ্যে চলে, আর ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এই গাইডে উল্লেখিত সব বাস মূলত সিটি বাস। অন্যদিকে, লাল-সাদা কিয়োতো বাস শহরতলিতে চলে, এবং পর্যটকদের জন্য কম কার্যকর।

বেশিরভাগ বাস কিয়োতো স্টেশন থেকে ছাড়ে। তবে শহরের কেন্দ্রে সানজো-কাওয়ারাবাতা (সানজো কেইহান মেট্রো স্টেশনের বাইরে) এবং উত্তরে কিতাঅওজি মেট্রো স্টেশনের কাছে বড় বাস টার্মিনালও আছে। বেশিরভাগ সিটি বাস এবং কিছু কিয়োতো বাসে ভাড়া স্থির ২৩০ ইয়েন। চাইলে বাস-মেট্রো মিলিয়ে একদিনের পাস (বড়দের জন্য ১১০০ ইয়েন, শিশুদের জন্য ৫৫০ ইয়েন) কেনা যায়, যা দিয়ে এক দিনে যতবার খুশি যাতায়াত করা যায়। এগুলো মেট্রো স্টেশন বা কিয়োতো স্টেশনের বাইরে বাস তথ্যকেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়। বহু জায়গা দেখতে চাইলে এই পাস খুবই কাজে লাগে। ৭০০ ইয়েনের শুধুমাত্র বাসের একদিনের পাস সেপ্টেম্বর ২০২৩-এর শেষে বন্ধ হয়ে গেছে।

শহরের পরিবহন কর্তৃপক্ষ বাস নাভি নামে একটি লিফলেট প্রকাশ করে। এতে বাস রুটের মানচিত্র ও তথ্য থাকে। প্রধান স্টেশনের তথ্যকেন্দ্র থেকে এটি নেওয়া যায়।

  • রাকু বাস - পর্যটকদের সুবিধার্থে ১০০, ১০১, আর ১০২ নাম্বার তিনটি বিশেষ রুট রয়েছে। এগুলো অপ্রয়োজনীয় অনেক স্টপ বাদ দিয়ে শুধু দর্শনীয় জায়গায় যায়, তাই দ্রুত পৌঁছানো যায়। ১০০ ও ১০১ নাম্বার রাকু বাস কিয়োতো স্টেশনের ডি১ ও বি২ প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়ে। ভাড়া ২৩০ ইয়েন, তবে একদিনের পাস ব্যবহার করা যায়।
  • কেইহান লুপ বাস - কেইহান কোম্পানি ৩০০ নাম্বার একটি লুপ বাস চালায়, যা কিয়োতো স্টেশন থেকে কেইহান রেলওয়ের মধ্যে যাতায়াতের জন্য। প্রতি ১৫ মিনিট পরপর হোটেল থাউজ্যান্ড কিয়োতো (কেন্দ্রীয় প্রবেশদ্বারের কাছে) থেকে শিচিজো স্টেশন পর্যন্ত বাস চলে। সাধারণ ভাড়া ২৩০ ইয়েন, তবে শিচিজো স্টেশন থেকে ট্রান্সফার টিকিট কিনলে কিয়োতো স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া মাত্র ১০০ ইয়েন। হোটেল থাউজ্যান্ড কিয়োতো বা পাশের কিয়োতো সেঞ্চুরি হোটেলে থাকলে হোটেল থেকেই ১০০ ইয়েনের টিকিট কেনা যায়। তবে মনে রাখবেন, শহরের অন্যান্য বাস (যেমন ২০৬ ও ২০৮) একই রুটে চলে, কিন্তু ১০০ ইয়েনের ছাড়কৃত ভাড়া কেবল কেইহান লুপ বাসেই প্রযোজ্য।

সাইকেলে করে

কোনো ঋতুতেই কিয়োতো ঘোরার জন্য সাইকেল একটি দারুণ উপায়, বিশেষ করে বসন্ত ও শরতে। স্থানীয়রা সারাবছরই ব্যক্তিগত যাতায়াতের জন্য সাইকেল ব্যবহার করে। শহরটি সমতল ও গ্রিড আকারে সাজানো, তাই চলাচল সহজ। শুধু আশেপাশের কিছু পাহাড়ি এলাকা বাদে বেশিরভাগ জায়গায় সাইকেল চালানো আরামদায়ক। জাপানে অনেক জায়গা থেকেই সহজে সাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়। ভিড়ের মৌসুমে, যখন রাস্তা ব্যস্ত থাকে আর বাসে ভিড় হয়, তখন সাইকেলই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শহরের চওড়া সোজা রাস্তায় অনেক যানজট থাকে, তবে ছোট গলিতে গেলে শান্ত পরিবেশে ঘোরা যায়, আর অনেক অজানা সৌন্দর্যও আবিষ্কার করা যায়। বড় রাস্তায় সাইকেল চালানো ঠিক আছে, তবে ট্রাফিকের সঙ্গে চালাতে অভ্যস্ত হতে হবে। এখানে বাঁ দিক দিয়ে চলতে হয়, সেটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

মনে রাখবেন, অনুমোদিত নয় এমন জায়গায় সাইকেল রাখলে সেটি তুলে নিয়ে জরিমানা করা হয়। তাই যেখানে যাচ্ছেন, কাছেই বৈধ সাইকেল পার্ক খুঁজে সেখানে রাখতে হবে। তবে যদি কোনো জায়গা (যেমন হিগাশিয়ামার দার্শনিকের পথ) পায়ে হেঁটে ঘোরার জন্য নির্ধারণ করেন, তবে সাইকেল সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হবে না।

  • কিয়োতো সাইক্লিং ট্যুর প্রজেক্ট (কেসিটিপি), ☏ +৮১ ৭৫-৩৫৪-৩৬৩৬। কিয়োতো স্টেশনের উত্তর প্রবেশদ্বার (যেখানে বাস আর কিয়োতো টাওয়ার আছে) থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটার দূরত্বে। সাইকেলের ভাড়া প্রতিদিন ১০০০ থেকে ২০০০ ইয়েন, ২৭ গিয়ার বিশিষ্ট পাহাড়ি সাইকেলও পাওয়া যায়। অতিরিক্ত খরচে যোগ করতে পারেন: দ্বিভাষিক মানচিত্র ১০০ ইয়েন, হেলমেট ২০০ ইয়েন, ব্যাকপ্যাক ১০০ ইয়েন, রেইনপঞ্চো ১০০ ইয়েন। ভ্রমণের সময় তাঁরা আপনার লাগেজ রেখে দেয়। শহরে তাদের আরও চারটি শাখা আছে, তাই ভিন্ন শাখায় সাইকেল জমা দিতে পারেন, তবে অতিরিক্ত ৪০০ ইয়েন চার্জ লাগে। গাইডেড ট্যুরও রয়েছে (৩ ঘণ্টার জন্য ৩৯০০ ইয়েন থেকে ৭.৫ ঘণ্টার জন্য ১২০০০ ইয়েন পর্যন্ত)। ট্যুরে অন্তর্ভুক্ত থাকে গাইড, সাইকেল ভাড়া, খাবার, দুর্ঘটনা বিমা ও কিছু স্থাপনার প্রবেশ ফি। ন্যূনতম ২ জনে ট্যুর শুরু হয়, সর্বোচ্চ ১০ জন। তিন দিন আগে বুকিং করতে হয়।
  • কেইহান দেমাচিয়ানাগি স্টেশনের সামনে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ভাড়ার দোকান আছে। প্রতিদিন ৫০০ ইয়েন, দিন-রাত মিলিয়ে ৭৫০ ইয়েন, আর মাসে ৩০০০ ইয়েন। জামানত ৩০০০ ইয়েন (আইডি দেখালে ২০০০ ইয়েন)। শিশুদের সাইকেলও আছে।
  • সানজো কেইহান স্টেশনের উত্তরে কাওয়ারাবাতা দোরি সড়কে একটি ছোট দোকান আছে, যেখানে প্রতিদিন ১০০০ ইয়েনে সাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়। তবে ইংরেজি বোঝেন না।
  • এক সপ্তাহ বা তার বেশি থাকার জন্য পুরনো সাইকেল কেনা লাভজনক হতে পারে। প্রায় সব দোকানেই আলো, বেল, ঝুড়ি ও তালাসহ পুরনো সাইকেল ৫০০০-১০,০০০ ইয়েনের মধ্যে বিক্রি হয় (৫০০ ইয়েন রেজিস্ট্রেশন ফি আলাদা)। চাইলে ফেরার আগে আবার বিক্রিও করা যায়। শহরজুড়ে থাকা "সাইকেল এইরিন" চেইন দোকান থেকে শুরু করতে পারেন।

ভাষা

আরও দেখুন: কানসাই#ভাষা
কিয়োতো খুবই পর্যটকবান্ধব শহর। তাই বড় বড় হোটেল আর জনপ্রিয় ভ্রমণস্থলের কর্মীরা সাধারণত ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন। এসব জায়গায় ইংরেজি মেনু ও সাইনবোর্ডও প্রচলিত। তবে এর বাইরে শহরে ইংরেজি খুব একটা ব্যবহৃত হয় না। বড় পর্যটনকেন্দ্রে কখনও কখনও ইতালীয়, ফরাসি, কোরীয় বা মান্দারিন ভাষাও শোনা যেতে পারে।

কিয়োতোর জাপানি ভাষা আসলে কানসাই উপভাষার একটি রূপ, যা পশ্চিম জাপানজুড়ে প্রচলিত। যারা নতুন করে জাপানি শিখতে শুরু করেছেন, তাঁদের জন্য এটি কিছুটা কঠিন লাগতে পারে। কিয়োতো উপভাষার দুটি পরিচিত শব্দ হলো ওইদেয়াসু, অর্থাৎ "স্বাগতম", আর ওকিনি, অর্থাৎ "ধন্যবাদ"। যদিও মানক জাপানি সর্বত্র বোঝা যায়, স্থানীয়রা প্রায়ই মানক ভাষায় কথা বললেও জবাব দেন উপভাষায়। বুঝতে না পারলে বিনয়ের সঙ্গে বলতে হবে যেন তাঁরা মানক জাপানিতে বলেন (হিয়োজুঙ্গো), সাধারণত তাঁরা তাতে রাজি হন।

কিয়োতোর মানুষ তাতেমায়ে ব্যবহারে বিখ্যাত, যার অর্থ আসল অনুভূতিকে আড়াল করার জন্য বাইরের মুখোশ পরা। একটি প্রচলিত গল্প হলো কেউ যদি আপনাকে বুবুজুকে (এক ধরনের ভাতের খিচুড়ি) খেতে বলেন, তবে এর মানে হলো আপনি বোধহয় অনেকক্ষণ ধরে বসে আছেন। তবে চিন্তার কিছু নেই, কিয়োতোর অভিজাত সমাজে বছরের পর বছর মিশতে না চাইলে এসব ব্যাপারে ভাববার দরকার নেই।

কী দেখবেন

স্বতন্ত্র তালিকাগুলি কিয়োতো-এর জেলা নিবন্ধে পাওয়া যেতে পারে।

কিয়োতোতে দর্শনার্থীদের জন্য অসংখ্য আকর্ষণ রয়েছে। তাই যত বেশি সম্ভব জায়গা ঘুরে দেখতে চাইলে আগে থেকে পরিকল্পনা করে নেওয়াই ভালো।

জাপান ন্যাশনাল ট্যুরিস্ট অর্গানাইজেশনের নিজস্ব ভ্রমণ গাইড "Kyoto Walks" পুস্তিকা নতুন ভ্রমণকারীদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। এতে বাসের নম্বর, স্টপেজের নাম আর হাঁটার রুট স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে। শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে আলাদা আলাদা হাঁটার পথ সাজানো হয়েছে যাতে ভ্রমণকারীরা নানা ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান দেখতে পারেন।

কামিগামো মন্দিরের তাতে যুনা

কামিগামো মন্দিরের তাতে যুনা (ছবি: KENPEI, CC BY 3.0)

বিশ্ব ঐতিহ্য

১৯৯৪ সালে কিয়োতো ও আশেপাশের ১৭টি ঐতিহাসিক স্থানকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় প্রাচীন কিয়োতোর ঐতিহাসিক নিদর্শন নামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১৪টি কিয়োতো শহরের ভেতরে, ২টি পাশের উজি শহরে এবং ১টি ওৎসু শহরে।

কিয়োতো শহরের ১৪টি বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান অঞ্চলভেদে-

  • উত্তর কিয়োতো: কিনকাকু-জি, রিওয়ান-জি, নিন্না-জি, কোজান-জি, শিমোগামো মন্দির, কামিগামো মন্দির
  • কেন্দ্রীয় কিয়োতো: নিঝো প্রাসাদ, নিশি হোঙ্গান-জি, তো-জি
  • পূর্ব কিয়োতো: কিয়োমিজু-দেরা, গিনকাকু-জি
  • শ্চিম কিয়োতো: তেনরিউ-জি, কোকেদেরা
  • দক্ষিণ কিয়োতো: দাইগো-জি

সম্রাজ্ঞী প্রাসাদ ও অট্টালিকা

সম্রাজ্ঞী প্রাসাদ ও দুটি সম্রাজ্ঞী অট্টালিকায় রয়েছে উদ্যান আর ঐতিহ্যবাহী চা ঘর। এগুলো ইম্পেরিয়াল হাউসহোল্ড এজেন্সি পরিচালনা করে। এগুলো হলো- ইম্পেরিয়াল প্যালেস (কিয়োতো-গোশো) এবং সেনতো ইম্পেরিয়াল প্যালেস (সেনতো-গোশো) কেন্দ্রীয় কিয়োতোতে, কাতসুরা ইম্পেরিয়াল ভিলা ( কাতসুরা-রিক্যু) পশ্চিম কিয়োতোতে এবং শুগাকুইন ইম্পেরিয়াল ভিলা (শুগাকুইন-রিক্যু) উত্তর কিয়োতোতে। এগুলোতে ভ্রমণ করার জন্য আগে থেকে সংরক্ষণ করতে হয়। বসন্তের চেরি ফুলের মৌসুম আর শরতের রঙিন পাতার সময় উদ্যানগুলো সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর লাগে। মাঝে মাঝে এগুলো এখনো সরকারি অনুষ্ঠান বা রাজপরিবারের ব্যক্তিগত সফরের জন্য ব্যবহার করা হয়।

ইম্পেরিয়াল হাউসহোল্ড এজেন্সি প্রতিটি সফরের জন্য দর্শনার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখে। প্রবেশ ফি নেই। ইম্পেরিয়াল প্যালেসে ইংরেজি গাইড পাওয়া যায়, তবে সেনতো প্রাসাদ, কাতসুরা ভিলা ও শুগাকুইন ভিলার ভ্রমণ কেবল জাপানিতে হয় (প্রবেশের সময় ইংরেজি পুস্তিকা দেওয়া হয়)। বিদেশিরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন এখানে। আবেদন তিন মাস আগে থেকে খোলা হয় এবং চাহিদা বেশি হওয়ায় প্রায়ই লটারির মাধ্যমে দর্শনার্থী বাছাই করা হয়। ইম্পেরিয়াল প্যালেসে প্রবেশ সাধারণত সহজ, তবে সেনতো প্রাসাদ ও দুটি ভিলায় যেতে চাইলে প্রথম দিনেই আবেদন করা উচিত, কারণ দ্রুতই সব স্লট পূর্ণ হয়ে যায়। শীতকালে প্রতিযোগিতা কম হলেও তখন বাগানগুলো ততটা সুন্দর থাকে না।

  • ইম্পেরিয়াল হাউসহোল্ড এজেন্সি কিয়োতো অফিস, ৩ কিয়োতো গিওয়েন, কামিগিও-কু, ☏ +৮১-৭৫-২১১-১২১৫। যদি আবেদন গ্রহণ না হয়, তবুও সরাসরি অফিসে গিয়ে খালি জায়গার খোঁজ নেওয়া যায়। সাধারণত ইম্পেরিয়াল প্যালেসের জন্য কিছু আসন সংরক্ষিত থাকে, তবে অন্যগুলোর ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই আগে পৌঁছানোই ভালো।

কী করবেন

স্বতন্ত্র তালিকাগুলি কিয়োতো-এর জেলা নিবন্ধে পাওয়া যেতে পারে।

সার্বজনীন স্নানঘর

কিয়োতোতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্নানঘর সমাজের একটি বড় অংশ। ১৩শ শতাব্দীতে প্রথম সেনতো বা সার্বজনীন স্নানঘরের উল্লেখ পাওয়া যায়। এগুলো এমন জায়গা ছিল যেখানে সামাজিক অবস্থান কোনো গুরুত্ব পেত না। অভিজাত, সাধারণ মানুষ, এমনকি যোদ্ধারাও একই সঙ্গে স্নান করতেন। আজও কিয়োতোতে ১৪০টির বেশি স্নানঘর চালু রয়েছে। এর মধ্যে ফুনাওকা অনসেন সবচেয়ে পুরোনো, যাকে বলা হয় "সেনতোদের রাজা"। তবে নতুন স্নানঘর আর সুপার সেনতোও জাপানি স্নানের সংস্কৃতির বড় অংশ। সময় থাকলে অবশ্যই এসব স্নানঘরের একটিতে যাওয়া উচিত।

  • ফুনাওকা অনসেন (ফুনাওকা অনসেন), কিয়োতো, কিতা ওয়ার্ড, মুরাসাকিনো মিনামিফুনাওকাচো ৮২-১ (কিয়োতো স্টেশন থেকে ২০৬ নম্বর বাসে), ☏ +৮১-৭৫-৪৪১-৩৭৩৫। ১৫:০০ - ০১:০০। ফুনাওকা অনসেন কিয়োতোতে এখনো চালু থাকা সবচেয়ে পুরোনো স্নানঘরগুলোর একটি। এর প্রাচীন স্থাপত্য ২০শ শতাব্দীর গোড়ার দিককার স্নানঘর নকশার চমৎকার উদাহরণ। এটি স্থানীয় ও পর্যটক উভয়ের কাছেই জনপ্রিয়, তাই সময় পেলে অবশ্যই এখানে একবার যাওয়া উচিত। ¥৪৩০।

চলচ্চিত্র শিল্প

জাপানি চলচ্চিত্র শিল্পের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র কিয়োতো। ১৯৫০-এর দশকের সোনালি সময়ের পর ভাটা পড়লেও আজও অধিকাংশ জাপানি পিরিয়ড ড্রামা ( জিদাইগেকি) কিয়োতোতেই নির্মিত হয়।

  • তোয়েই কিয়োতো স্টুডিও পার্ক (তোয়েই উজুমাসা এগামুরা), কিয়োতো, উকিও ওয়ার্ড, উজুমাসা হিগাশিহাচিওকাচো ১০ (কিয়োতো স্টেশন থেকে ৭৫ নম্বর বাসে), ☏ +৮১-৫৭-০০৬-৪৩৪৯। ০৯:৩০ - ১৬:৩০। তোয়েই কিয়োতো স্টুডিও পার্ক একটি সচল ফিল্ম স্টুডিও, যেখানে এখনো পিরিয়ড ড্রামার শুটিং হয়। দর্শনার্থীরা সামুরাই চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত আউটডোর সেট ঘুরে দেখতে পারেন। ভাগ্য ভালো হলে সরাসরি শুটিংও দেখা যেতে পারে। ¥২,২০০।

ধ্যান

ঐতিহাসিক স্থানের প্রাচুর্যের জন্য বিখ্যাত কিয়োতোতে অনেকেই জাপানি ঐতিহ্য কাছ থেকে দেখতে চান। বৌদ্ধ ধ্যানসাধনা তাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। উত্তর কিয়োতোর মিওশিন-জির উপ-মন্দির তাইজো-ইন ও শুনকোইন- উভয়েই ব্যাখ্যাসহ আসল জেন ধ্যানের সেশন পরিচালনা করে। আগাম সংরক্ষণ প্রয়োজন।

চেরি ফুল

কিয়োতোর মারুয়ামা পার্কে চেরি ফুল

কিয়োতোর মারুয়ামা পার্কে চেরি ফুল (ছবি: Oren Rozen, CC BY-SA 4.0)

চেরি ফুল দেখার জন্য জাপানে কিয়োতোকে সবচেয়ে বিখ্যাত স্থানগুলোর একটি ধরা হয়, আর বিকল্পেরও অভাব নেই। অফিশিয়াল টপ ১০০ চেরি ব্লসম স্পট তালিকায় কিয়োতোতে রয়েছে তিনটি স্থান- আরাশিয়ামা, দাইগো-জি ও নিন্না-জি।

বিশেষ করে পূর্ব কিয়োতোতে চেরি মৌসুমে ভিড় বেশি থাকে। দার্শনিকের পথের ধারে নানজেন-জি থেকে গিনকাকু-জি পর্যন্ত চেরি গাছে ঘেরা পথ হাঁটতে ভালো লাগে; পথে পথে নানা মন্দির ও উপাসনালয়ে থামতে পারেন। দার্শনিকের পথের কাছেই হেইয়ান মন্দিরের বাগানে দেখা যায় গোলাপি ফুল, যা সেখানকার সাদা ফুলের সঙ্গে সুন্দর বৈপরীত্য তোলে। মারুয়ামা পার্কের বিখ্যাত চেরি গাছটি সন্ধ্যায় আলোকসজ্জায় সবার নজর কেড়ে নেয়। সেখানে যাওয়ার পথে সারি সারি খাবারের দোকানে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কিয়োমিজু-দেরা ও কোদাই-জি মৌসুমের শুরুতে রাত পর্যন্ত খোলা থাকে, তখন আলোকসজ্জার সঙ্গে ফুল দেখার সুযোগ মেলে। কামোগাওয়া নদীর ধারে ধারেও চেরি ফুল ফোটে। বসন্তে পুরো এলাকা সত্যিই ফুলে-ফেঁপে ওঠে!

কেন্দ্রীয় কিয়োতোর ইম্পেরিয়াল পার্কের উত্তর অংশে নানা ধরনের চেরি গাছ আছে। নিঝো প্রাসাদে হয় নিজস্ব নিঝো লাইট-আপ, যেখানে সাধারণত ১০–১৪ দিন রাতে চেরি ফুলের ভেতর প্রাসাদের আঙিনা হাঁটা যায়। মনে রাখবেন, লাইট-আপ চলাকালীন প্রাসাদে ঢোকা যায় না; ভেতর দেখতে চাইলে দিনে আসা ভালো। কিয়োতো স্টেশনের ঠিক দক্ষিণে তো-জি মন্দিরের প্রাঙ্গণ প্যাগোডার নিচে দারুণভাবে ফুলে ভরে ওঠে।

আরাশিয়ামায় পাহাড়ের বড় অংশ চেরি ফুলে ঢেকে যায়; হানক্যু আরাশিয়ামা স্টেশনের আশেপাশেও রঙিন দৃশ্য। দিনে অনেকেই আরাশিয়ামা দিয়ে চলা “রোমান্টিক ট্রেন” থেকে পাহাড়ের ঢালভরা চেরি দেখেন। রাতে আলোকসজ্জা হয় ও নানা রকম খাবারের স্টল বসে।

উত্তর কিয়োতোতে হিরানো মন্দির ও কিয়োতো বোটানিক্যাল গার্ডেনে চেরি-ফুল-শিকারিদের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করে। আর দক্ষিণ কিয়োতোর দাইগো-জির বিশাল প্রাঙ্গণে পূর্ণ বিকশিত ফুল হাঁটাকে স্মরণীয় করে তোলে।

প্লাম ফুল

বিদেশি পর্যটকেরা সাধারণত চেরি ফুলেই মন দেন, তাই প্লাম ফুল ততটা পরিচিত নয়। কিন্তু যারা মাঝ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঝ মার্চের মধ্যে কিয়োতোতে আসার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য প্লাম ফুল দেখাও চমৎকার বিকল্প। জনপ্রিয় দুটি জায়গা হলো কিতানো তেনমানগু ও কিয়োতো বোটানিক্যাল গার্ডেন (উভয়ই উত্তর কিয়োতোতে)। কিতানো তেনমানগুর প্রবেশপথের বাইরে বড় প্লামবাগান আছে; ¥৬০০ দিয়ে ভেতরে হেঁটে দেখা যায়। মন্দিরের ভেতরেও আরও অনেক গাছ (সেখানে বিনামূল্যে দেখা যায়)। প্লাম ফুলের সুবাস মনোমুগ্ধকর। জাপানি উমে গাছ আসলে এপ্রিকটের কাছের আত্মীয়; তবে পুরোনো এক ভুল অনুবাদের কারণে এদের “প্লাম” বলা প্রচলিত হয়েছে।

উৎসব ও অনুষ্ঠান

  • সেতসুবুন (৩ বা ৪ ফেব্রুয়ারি) ইয়োশিদা মন্দিরে বড় অগ্নিকুণ্ড ও শিন্তো আচার হয়।
  • চেরি ফুলের মৌসুম (১–১৫ এপ্রিল; আবহাওয়া অনুযায়ী দিনভেদে পরিবর্তিত) কেবল ফুল দেখা নয়, শহরজুড়েই নানা বিশেষ আয়োজন হয়। (উপরে “চেরি ফুল” অংশ দেখুন)

নিচেরগুলো সাধারণত কিয়োতোর তিন মহা উৎসব ( কিয়োতো সানদাই মাতসুরি) নামে পরিচিত-

  • আওই মাতসুরি ( ১৫ মে) কিয়োতো ইম্পেরিয়াল প্যালেস থেকে শুরু হয়ে হিয়ান যুগের পোশাকে এক বিশাল শোভাযাত্রা শিমোগামো মন্দিরে গিয়ে কামিগামো মন্দিরে শেষ হয়।
  • গিয়ন মাতসুরি (১৭ জুলাই) বহু মিকোশি (বহনযোগ্য শিন্তো মন্দির) শহরজুড়ে মিছিল করে। এটি জাপানের সেরা তিন উৎসবের একটি ধরা হয়।
  • জিদাই মাতসুরি (২২ অক্টোবর) ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শোভাযাত্রা হেইয়ান মন্দিরের দিকে যায়।

আরও একটি বিখ্যাত আয়োজন :

  • দাইমোনজি গোজান ওকুরিবি (দাই-মোন-জি গো-জান ও-কু-রি-বি, ১৬ আগস্ট) উত্তর-পশ্চিম কিয়োতোর পাহাড়ে আগুন জ্বালিয়ে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। হিরোসাওয়া পুকুরে ভাসানো হয় প্রদীপ।

শেখা

  • কিয়োতো বিশ্ববিদ্যালয় (কিয়োতো দাইগাকু)। জাপানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়; খ্যাতির দিক থেকে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক পরেই ধরা হয়। জাপানি শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি প্রতিযোগিতা খুব কঠিন, তবে জাপানি ভাষাজ্ঞান ভালো থাকলে বিদেশিদের জন্য তুলনামূলক সহজ। আদ্যক্ষরে পরিচিত (রোমাজি) নামে।

কেনাকাটা

স্বতন্ত্র তালিকাগুলি কিয়োতো-এর জেলা নিবন্ধে পাওয়া যেতে পারে।

পশ্চিম কিয়োতোর আরাশিয়ামা স্টেশনের আশেপাশে অনেক সুন্দর, নিরাভরণ (বিনাসাজগোজ) ঐতিহ্যবাহী সুভেনিরের দোকান আছে হাতপাখা, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ইত্যাদি মেলে। তুলনায় বেশি চটকদার (ট্যাকি) দোকান পাবেন গিয়নে ও কিয়োমিজু মন্দিরের পথে- কী-রিং, নরম খেলনা, ঝলমলে শোপিস ইত্যাদি। কিয়োতো থেকে আরও যে ঐতিহ্যবাহী জিনিস নেওয়া যায়, তার মধ্যে আছে ছাতা ও খোদাই করা কাঠের পুতুল।

অপ্রচলিত হলেও রঙচঙে (এবং তুলনামূলক সস্তা) সুভেনির হিসেবে শিন্তো মন্দিরের কাঠের মানতফলকও ভালো- একপিঠে থাকে মন্দির-সম্পর্কিত ছবি, আরেক পিঠে ভক্তরা প্রার্থনা লিখে ঝুলিয়ে দেন। ইচ্ছা করলে নিজেরটা সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন- তাতে বাধা নেই।

মাঙ্গা ও অ্যানিমে-প্রেমীদের জন্য তেরামাচি স্ট্রিটে যাওয়া উচিত- প্রধান শিজো-দোরি থেকে বেরোনো ঢাকনা দেওয়া কেনাকাটার রাস্তা। এখানে আছে দুই তলার বড় মাঙ্গা স্টোর, গেমার্স চেইনের দুই তলার আউটলেট, আর ছোট দুই তলার অ্যানিমে ও কালেক্টিব্‌লসের দোকান।

কিয়োতোর অনেক এটিএমে বিদেশি কার্ড চলে না। তবে পোস্ট অফিস ( ইউবিনক্যোকু, বা কমলা অক্ষরে জেপি) ও সেভেন-ইলেভেনের এটিএমে সাধারণত বিদেশি কার্ড ব্যবহার করা যায়। আপনার কার্ডে যে লোগো আছে- প্লাস (PLUS) বা সিররাস (Cirrus)- সেটিই খুঁজুন। আরেকটি বিকল্প সিটিব্যাঙ্ক। শিজো/কাওয়ারামাচির তাকাশিমায়া ডিপার্টমেন্ট স্টোরের সর্বোচ্চ তলার “ক্যাশ কর্নার”-এ এক পুরোনো আন্তর্জাতিক এটিএম আছে। কিয়োতো টাওয়ারের শপিং সেন্টারের বেসমেন্টেও (জেআর কিয়োতো স্টেশনের বিপরীতে) এমন একটি মেশিন রয়েছে যেখানে আন্তর্জাতিক কার্ডে লেনদেন করা যায়।

বিলাসী কেনাকাটা

কিয়োমিজুদেরা মন্দিরপারের (কামো নদীর ওধারে) বাজারে আসল সামুরাই তলোয়ার ও সেরা মানের কিমোনো কেনা যায়- তবে দামের জন্য প্রস্তুত থাকুন; যেকোনোটিরই দাম ¥৩,০০০,০০০-এর বেশি হতে পারে। নতুন কিমোনোর দাম ছোট একটি গাড়ির সমান হতে পারে। যদিও সেকেন্ড-হ্যান্ড কিমোনোর দোকানে একই মানের জিনিস অনেক কম দামে মিলতে পারে।

কিয়োতোর আগরবাতিও বিখ্যাত, সুগন্ধ কোমল ও টেকসইয়ের কারণে। দাম তুলনামূলক সহনীয় (¥৪০০–¥২,০০০)। নিশি ও হিগাশি হোঙ্গানজির মাঝামাঝি এলাকায় অনেক দোকান পাবেন।

দামাসিন

দামাসিন হলো ধাতুর ওপর অন্য ধাতু বসিয়ে (ইনলে) বানানো বিশেষ অলংকৃত ধাতু- যার উদ্ভব দামেস্ক, সিরিয়ায় দুই হাজার বছরেরও বেশি আগে। ৮ম শতকে এটি জাপানে আসে। বর্তমানে বিশ্বে কার্যত কেবল কিয়োতোতেই এই কারুকাজ টিকে আছে। কিয়োতোর দামাসিন তৈরির প্রক্রিয়া জটিল। ধাতুকে ক্ষয় করানো, মরচে ধরানো, চায়ে সেদ্ধ করা, সঙ্গে বহু স্তরে ধাতু জড়ানো সব মিলিয়ে পণ্যটি তৈরি হয়। এখানে এই কৌশলে বানানো নানা অলংকার, ফুলদানী, চা উপকরণ, লাইটার ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী কেনা যায়।

খাওয়া

স্বতন্ত্র তালিকাগুলি কিয়োতো-এর জেলা নিবন্ধে পাওয়া যেতে পারে।
আরও দেখুন: জাপানি রান্না

সাঁঝবেলায় কামো নদীর ধারে রেস্তোরাঁ (ছবি: yajico from Kyoto, CC BY 2.0)

ট্রেন থেকে নেমেই যদি খিদের কথা মনে পড়ে, কিয়োতো স্টেশনের সঙ্গে থাকা ইসেতান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ১০ম ও ১১তম তলায় বেশ কিছু রেস্তোরাঁ পাবেন। বেশিরভাগই জাপানি এমনকি ছোট্ট এক “রামেন ভিলেজও” রয়েছে; সাথে কয়েকটি নৈমিত্তিক ইতালীয় ক্যাফে।

ফাইন ডাইনিং

বাজেট যদি বড় হয়, অনেক জাপানির চোখে কাইসেকির আধ্যাত্মিক জন্মভূমি কিয়োতো। ছোট ছোট বহু পদের এই ভোজ জাপানি ফাইন ডাইনিংয়ের আদর্শ; কিয়োতোতে সাধারণত ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের ব্যক্তিগত কক্ষে এটি পরিবেশন করা হয়। তবে বেশিরভাগ কাইসেকি রেস্তোরাঁ সরাসরি বিদেশিদের থেকে বুকিং নেয় না; নতুন অতিথিদের প্রায়ই স্থায়ী অতিথির পরিচয়ে যেতে হয়। বেশ আগেভাগে যোগাযোগ করলে হোটেল কনসিয়ার্জ বুকিং করে দিতে পারেন- তবে সাধারণত কেবল সবচেয়ে বিলাসবহুল হোটেলগুলোরই সেই প্রভাব থাকে। জাপানের অন্যত্রের মতোই, অধিকাংশ ফাইন ডাইনিং রেস্তোরাঁ ক্রেডিট কার্ড নেয় না; খাবারের দাম নগদে দিতে হয়।

কিয়োতোর শীর্ষ রিওকানে থাকলে আড়ম্বরপূর্ণ কাইসেকি ডিনারই থাকে মূল আকর্ষণগুলোর একটি। অনেক রিওকান খাবারের জন্যই সমান খ্যাত। অসুবিধা হলো অধিকাংশ রিওকান কেবল টেলিফোনে রিজার্ভেশন নেয়; তাই অন্তত কথোপকথনের মতো জাপানি জানা প্রয়োজন।

মাচা

কিয়োতো ও কাছের উজি শহর মাচা (মাচ্চা) বা সবুজ চায়ের জন্য বিখ্যাত। কেবল চা পান নয়- মাচা-স্বাদের নানা মিষ্টি ও খাবারও জনপ্রিয়। মাচা আইসক্রিম বিশেষ পছন্দের; যেখানে আইসক্রিম মেলে, সেখানেই সাধারণত এটি থাকবে। নানা স্ন্যাকস ও উপহারেও মাচা ব্যবহৃত হয়। অনন্য অভিজ্ঞতা চাইলে ঐতিহ্যবাহী জাপানি চা-আচার (茶道 সাদো) করতে পারেন।

ইয়াতসুহাশি

পিচ-স্বাদের একধরনের ইয়াতসুহাশি

পিচ-স্বাদের একধরনের ইয়াতসুহাশি (ছবি: en:Nightshadow28, CC BY-SA 3.0)

ইয়াতসুহাশি কিয়োতোর সুস্বাদু এক মিষ্টান্ন চালের গুঁড়ো ও চিনি দিয়ে বানানো। তিন ধরনের বেক করা, কাঁচা, আর কাঁচার ভেতরে পুর। ঐতিহ্যগত শক্ত ইয়াতসুহাশিতে থাকে দারুচিনি; বিস্কুটের মতো খসখসে এটিই সংকীর্ণ অর্থে আসল ইয়াতসুহাশি। এখন শক্ত ইয়াতসুহাশিতে মাচা বা স্ট্রবেরি গ্লেজও মেলে। সাধারণ কাঁচা ধরন (নামা-ইয়াতসুহাশি) এসেছে ১৯৬০-এর দশকে।

এর পর এল শেষ ধাপ- কাঁচা ইয়াতসুহাশির মাঝে মিষ্টি আজুকি বীন পেস্টের পুর। ব্যাখ্যামূলক নাম ( আন-ইরি নামা-ইয়াতসুহাশি) বাজারজাতকরণের জন্য বড় হওয়ায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডনেম চালু হয়। প্রথম ছিল ওতাবে, পরে আসে হিজিরি , ইউকো ইত্যাদি। এই ধরনেও দারুচিনি থাকে, তবে দারুচিনি পুরের সঙ্গে মিশে ত্রিভুজ আকারে ভাঁজ করা হয়, কিছুটা গিয়োজার মতো। এখন স্বাদের বিপুল বৈচিত্র আছে ; মাচা, চকলেট-কলা, কালো খেসারি ইত্যাদি; অনেক স্বাদ মৌসুমি- বসন্তে সাকুরা (চেরি ফুল), আর মে-অক্টোবর পযর্ন্ত আম, পিচ, ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি। আজ এতটাই জনপ্রিয় যে ইয়াতসুহাশি বলতে অনেক সময় এই স্যান্ডউইচ-ধরনটিকেই বোঝায়।

বেশিরভাগ সুভেনির দোকানেই ইয়াতসুহাশি মেলে; তবে কাঁচা ইয়াতসুহাশির সেরা জায়গা বিখ্যাত হোনকেনিশিও ইয়াতসুহাশি- এখানে মৌসুমি সব স্বাদই মেলে, আর ফ্রি স্যাম্পলও থাকে। অধিকাংশ দোকান হিগাশিয়ামা এলাকায়; পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনকটি কিয়োমিজু-জাকার দোকান- কিয়োমিজু-দেরার প্রবেশপথের ঠিক নিচেই।

অনেকে কাঁচা ইয়াতসুহাশিকে সুস্বাদু (এবং খুব সাশ্রয়ী) সুভেনির মনে করেন, তবে এটি কেনার পর মাত্র এক সপ্তাহ টিকে। অপরদিকে বেক করা ইয়াতসুহাশি প্রায় তিন মাস ভালো থাকে।

অন্যান্য বিশেষত্ব

কিয়োতোর আরও খাবারের মধ্যে আছে হামো (উমেসহ সুশি আকারে পরিবেশিত একধরনের সাদা মাছ), তোফু (নানজেনজির আশেপাশে চেষ্টা করুন), সুপ্পন (দামি কচ্ছপের পদ), কাইসেকি-রিওরি (শেফ-নির্বাচিত বহু পদের ভোজ, খুব ভালো কিন্তু দামি হতে পারে), আর মন্দির বেশি থাকার কারণে নিরামিষ পদ, বিশেষ করে ভেগান শোজিন রিওরি; দামি হলেও গুণমানে খ্যাত।

পানীয়

স্বতন্ত্র তালিকাগুলি কিয়োতো-এর জেলা নিবন্ধে পাওয়া যেতে পারে।
কিয়োতোর রাতের আড্ডা মূলত স্থানীয়দের উপযোগী বারে ঘুরপাক খায়; এর বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় কিয়োতোর শিজো ও সাঞ্জোর মাঝে কিয়ামাচির আশেপাশে। নানা রুচির মানুষের জন্য এখানে বিকল্পের কমতি নেই। হোস্ট ও হোস্টেস বারগুলিও খুঁজে পেতে সমস্যা হবে না- রাস্তার সামনে দাঁড়ানো কর্মীরা নিজেই ডাকেন। এই এলাকায় ঘনত্ব বেশি হলেও, শহরের অন্য অংশেও অনেক বিকল্প আছে; তবে একই জায়গায় এত বার থাকায় নিজের পছন্দমতো জায়গা বেছে নেওয়া সহজ।

নাইটক্লাব খুঁজলে কয়েকটি পাবেন বটে, কিন্তু কিয়োতো নাচঘরের জন্য বিখ্যাত নয়। জাপানি নাইটলাইফের সেই জমজমাট দিক দেখতে চাইলে ওসাকায় ট্রেনে যাওয়া ভাবতে পারেন, সেখানকার অনেক ক্লাব টোকিওi ক্লাবগুলোকে টক্কর দেয়। (অন্যভাবে, কিয়োতোতে থেকে বারবার ওসাকা যাওয়ার বদলে, ওসাকায় থেকে কিয়োতোতে দিনের ভ্রমণ করাও যুক্তিযুক্ত হতে পারে।)

সাকে

কিয়োতোর বিখ্যাত সাকেগুলোর অনেকটাই আসে [|দক্ষিণ কিয়োতো|দক্ষিণ কিয়োতোর]]র ফুশিমি এলাকার গেক্কেইকান ব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এই কারখানায় এখনো দারুণ সাকে তৈরি হয়, আর [কারখানা ভ্রমণের ব্যবস্থাও আছে।

হুইস্কি

জাপানের সবচেয়ে পুরোনো হুইস্কি ডিস্টিলারি ইয়ামাজাকি প্রিফেকচার সীমানা পেরিয়ে তাকাতসুকি, ওসাকায়। ফ্যাক্টরি ট্যুর ও টেস্টিংয়ের জন্য আগেভাগে বুকিং করুন।

রাত্রিযাপন

স্বতন্ত্র তালিকাগুলি কিয়োতো-এর জেলা নিবন্ধে পাওয়া যেতে পারে।

এই নির্দেশিকাটি একটি আদর্শ ডাবল রুমের জন্য নিম্নলিখিত মূল্য সীমাগুলি ব্যবহার করে:
বাজেট¥১১,০০০ এর নিচে
মধ্য-পরিসীমা¥১১,০০০–২০,০০০
ব্যয়বহুল¥২০,০০০ এর উপরে

কিয়োতো শহরে থাকার জন্য নানা ধরণের ব্যবস্থা আছে, যার অনেকটাই বিদেশি পর্যটকদের লক্ষ্য করে তৈরি। ভ্রমণের ব্যস্ত মৌসুমে যেমন এপ্রিলের চেরি ফুল ফোটার সময় কিংবা গোল্ডেন উইকের সময়, যখন হোটেল পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়-তখন ওসাকায় থাকার কথা ভাবা যেতে পারে। কিয়োতো স্টেশন থেকে ওসাকা স্টেশন পর্যন্ত ট্রেনে যেতে ৩০ মিনিট লাগে এবং একমুখী ভাড়া হয় ¥৫৪০। যেহেতু কিয়োতো একটি প্রধান পর্যটনকেন্দ্র, তাই এখানে চাহিদা সবসময়ই বেশি এবং দামও সেই অনুযায়ী বাড়তি।

শহরের বেশিরভাগ থাকার জায়গা কেন্দ্রীয় অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত, বিশেষ করে কিয়োতো স্টেশন এবং কারাসুমা ওইকের আশেপাশে। বাইরের এলাকাতেও কিছু সস্তা থাকার জায়গা আছে, তবে সেগুলো সাধারণত রেল বা মেট্রো স্টেশন থেকে অনেক দূরে।

যারা জাপানের ঐতিহ্যবাহী থাকার অভিজ্ঞতা পেতে চান, তাদের জন্য কিয়োতোতে দেশের সবচেয়ে বিলাসবহুল কিছু রিয়োকান আছে। তবে এগুলোর দাম এত বেশি যে সাধারণ বিমানের টিকিট সস্তা মনে হয়।

কিয়োতো শহরে একটি হোটেল ট্যাক্স রয়েছে: প্রতি রাতের জন্য ¥২০ হাজারের কম মূল্যের কক্ষে ট্যাক্স ¥২০০। এটি অনেক সময় তালিকাভুক্ত মূল্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে না। মার্চ ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম চালু হবে: প্রতি রাত ¥২০,০০০-এর নিচের কক্ষে ট্যাক্স হবে ¥৪০০ (তবে ¥৬ হাজার ইয়েনের নিচের কক্ষের জন্য ¥২০০)। দামি কক্ষের ক্ষেত্রে করও বেশি হবে (কমপক্ষে ¥১,০০,০০০ প্রতি রাতের কক্ষের জন্য সর্বোচ্চ ¥১০,০০০ পর্যন্ত ট্যাক্স)।

স্বল্প বাজেট

জাপানি ধাঁচের রিয়োকান (ছবি: Melanie M, CC BY 2.0)

সবচেয়ে সস্তা দামের মধ্যে কিয়োতোর অনেক মন্দিরেই নিজেদের অতিথিশালা আছে, যাকে বলা হয় শুকুবো , সাধারণত মন্দির প্রাঙ্গণ বা কাছাকাছি। অতিথিরা এখানে ভোরের প্রার্থনাতে (ওতসুতোমে) অংশ নিতে পারেন। তবে এসব আস্তানায় ইংরেজিভাষী রিসেপশন সাধারণত থাকে না, এবং এখানে কড়া সময়সূচি মানতে হয়। বেশিরভাগই উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।

ছাত্রদের মধ্যে হোস্টেল জনপ্রিয়। সস্তা হোটেলগুলোতে খুব বেশি সুবিধা থাকে না, তবে দামের তুলনায় জাপানের জন্য অবাক করার মতো সস্তা। এগুলো শহরের সর্বত্রই পাওয়া যায়, বিশেষ করে শহরতলির অঞ্চলে।

এই বাজেট রেঞ্জে থাকা অধিকাংশ তথাকথিত রিয়োকান আসলে মিনশুকু (পারিবারিক গেস্টহাউস)। ছোট পারিবারিক ব্যবসা হিসেবেই এগুলো চলে, এবং বিদেশি অতিথিদের অভ্যস্তভাবে সেবা দেয়। সাধারণত পুরো ভাড়াটাই আগাম দিতে হয়।

ইন্টারনেট ও মাঙ্গা ক্যাফে

এই ধরণের থাকার জায়গাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এখানে খারাপ কিছু নেই। তবে মনে রাখতে হবে, বেশিরভাগ মানুষ এধরনের জায়গায় কয়েক রাতের বেশি থাকেন না।

অন্য জাপানি শহরের মতো, এখানে ইন্টারনেট ক্যাফে এবং ক্যাপসুল হোটেলও আছে, যারা সত্যিকারের সস্তায় থাকতে চান তাদের জন্য। প্রায় ¥২০০০ খরচে এক রাত ইন্টারনেট ক্যাফেতে থাকা যায়। এর মধ্যে কম্পিউটার, আরামদায়ক চেয়ার এবং যত খুশি চা বা হট চকোলেট পাওয়া যায়।

বেশিরভাগ জায়গায় ধূমপায়ী ও অধূমপায়ীদের জন্য আলাদা জায়গা নেই। মাঙ্গা সাধারণত শুধু জাপানিতেই পাওয়া যায়। এখানে কুশন, কম্বল এবং সীমাহীন সফট ড্রিঙ্কস দেওয়া হয়। শাওয়ারও থাকে, তবে অনেক সময় অতিরিক্ত খরচ দিতে হয়।

এগুলোতে দিনে লাগেজ রাখা যায় না। ফলে প্রতিদিন সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হয়, অথবা ফ্রি স্টোরেজ খুঁজে নিতে হয়, না হলে ¥৩০০–৬০০ দিয়ে কয়েন লকার ব্যবহার করতে হয়। তাই খরচে হোস্টেলের সমান হলেও সুবিধার দিক থেকে কম।

মধ্যম বাজেট

বাজেট ও মধ্যম বাজেটের সীমারেখা প্রায়ই অস্পষ্ট, বিশেষ করে রিয়োকানের ক্ষেত্রে। এই শ্রেণীর হোটেলগুলো কেন্দ্রীয় কিয়োতোতে বেশি পাওয়া যায়, যেখানে ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুবিধা থাকে এবং পরিবহনও কাছাকাছি।

বিলাসিতা

ডাউনটাউন এবং হিগাশিয়ামা কামোগাওয়া নদীর দুই তীরে এই শ্রেণীর বিলাসবহুল হোটেলগুলো অবস্থিত। পশ্চিমা ধাঁচের হোটেল বেশি, আর রিয়োকানগুলোতে সাধারণত জাপানি ভাষা না জানলে বুকিং পাওয়া যায় না।

মাচিয়া-স্টে

কিয়োতোতে ঐতিহ্যবাহী কাঠের টাউনহাউস আছে, যেগুলোকে বলা হয় কিয়ো মাচিয়া বা মাচিয়া। বহু শতাব্দী ধরে এগুলো ডাউনটাউন কিয়োতোর স্থাপত্যের পরিচয় বহন করছে এবং জাপানজুড়ে মাচিয়ার মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়।

ভ্রমণকারীদের জন্য এসব মাচিয়াতে ব্যক্তিগতভাবে থাকার সুবিধা আছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী কিয়োতো জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়। এগুলো মূলত কেন্দ্রীয় কিয়োতোতে অবস্থিত, তাই দর্শনীয় স্থানগুলোতে যাওয়া সহজ হয়। সাধারণত খাবার দেওয়া হয় না, তবে স্থানীয় রেস্তোরাঁ থেকে ডেলিভারির ব্যবস্থা আছে।

অতিথিরা এখানে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে থাকেন, যেন নিজের বাড়িতে আছেন। গড় আয়তন প্রায় ৮০㎡। ২ জন থেকেও থাকা যায়, তবে ৪–৬ জনের দল বা পরিবারের জন্য বেশি উপযোগী। কিছু মাচিয়াতে ১৪ জন পর্যন্ত থাকতে পারে। দাম শুরু হয় ¥২৫,০০০ থেকে।

সংযোগ

কিয়োতোর অনেক স্থানে ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই পাওয়া যায়।

এরপর কোথায় যাবেন

উজি – জাপানের সেরা চা, বিখ্যাত বিয়োদো-ইন মন্দির এবং নিনটেন্ডো জাদুঘর।

  • বিওয়া হ্রদ – গরমকালে পশ্চিম তীরে অবস্থিত শান্ত সৈকতে সাঁতার কাটতে পারেন। জনপ্রিয় সৈকতের মধ্যে আছে ওমি মাইকো এবং shiga বিচ, যেখানে জেআর কোসে লাইনে ৪০ মিনিটে পৌঁছানো যায়।
  • হিয়েই পর্বত – প্রাচীন মন্দির কমপ্লেক্স, যা একসময় কিয়োতোর রক্ষক ছিল।
  • ওত্সু – ঐতিহাসিক মন্দির, হিয়েই পর্বত এবং বিওয়া হ্রদের একটি বন্দর।
  • কোকা – নিনজা গ্রাম এবং মিহো জাদুঘর।
  • নারা – কিয়োতো স্টেশন থেকে জেআর নারা লাইনে এক ঘণ্টারও কম সময়ে পৌঁছানো যায়। কিয়োতোর থেকেও পুরোনো রাজধানী, যেখানে বিশাল পার্কে অসংখ্য মন্দির রয়েছে।
  • ওসাকা – দ্রুতগতির জেআর ট্রেনে আধা ঘণ্টার দূরত্বে, কেনাকাটার স্বর্গ আর কেন্দ্রীয় দুর্গসহ জমজমাট শহর।
  • আমানোহাশিদাতে – অর্থ “স্বর্গের সেতু”, জাপানের সেরা তিনটি দর্শনীয় স্থানের একটি। এটি একটি সরু ভূখণ্ড, মিয়াজু উপসাগরের ওপর দিয়ে বিস্তৃত। দর্শনার্থীদের প্রচলিত রীতি হলো পিছন ঘুরে পায়ের ফাঁক দিয়ে দৃশ্য দেখা।
  • হিমেজি – শিনকানসেনে এক ঘণ্টায়, জাপানের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রাচীন দুর্গ।
  • সেকিগাহারা – কিয়োতো থেকে উত্তর-পূর্বে এক ঘণ্টার ট্রেনযাত্রায়। জাপানি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে টোকুগাওয়া ইয়েয়াসু ক্ষমতা একীভূত করে শোগুনত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

টেমপ্লেট:Routebox-2

{{#assessment:শহর|নির্দেশিকা}}

এই পাতা কোথা থেকে এসেছে

এই পাতাটি উইকিভ্রমণ থেকে আনা হয়েছে। “কিয়োতো” — উইকিভ্রমণ থেকে, এর অবদানকারীদের লেখা, CC BY-SA 4.0 লাইসেন্সে। এখানে যা বদলানো হয়েছে: পাতা হিসেবে সাজানো; সম্পাদনা-লিংক, মানচিত্র ও তালিকার মেটাডেটা বাদ; প্রতিটি ছবি নিজস্ব লাইসেন্সে, ক্যাপশনে উল্লেখসহ।

এটি এখনও কেউ লেখেননি: এটি নতুন ঠিকানায় রাখা মূল উপাদান, তাই সার্চ ইঞ্জিনকে এটি সূচিভুক্ত না করতে বলা হয়েছে এবং এ থেকে কেউ আয় করেন না। পাতাটি খালি: দায়িত্ব নিন, তাহলে এটি নতুন করে লেখা ও এ থেকে আয় করা আপনার।

ЯзыкиবাংলাEnglish中文РусскийFrançaisEspañolDeutschItaliano日本語

Лицензия: CC BY-SA 4.0 · По материалам bn.wikivoyage.org

1

0

0

0

Spinner Logo

Комментарии

Spinner Logo
Версия: 1CC BY-SA 4.0
**[ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর]( (**DEL** [আইএটিএ]( ভারতের [দিল্লি]( মেট্রোপলিটন এলাকার প্রধান বিমানবন্দর। ভারতে সমস্ত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ট্রাফিকের প্রাথমিক কেন্দ্র হিসেবে, এটি ভারতের ব্যস্ততম বিমানবন্দর, যা ৭০ মিলিয়নেরও বেশি যাত্রী পরিচালনা করে যাত্রী ও পণ্যবাহী উভয় ট্রাফিকের ক্ষেত্
Версия: 1CC BY-SA 4.0
ঘূর্ণিঝড়