Hub Nexus
Actualizado

AutorAún sin autorAsumirla

¿Ves algo que mejorar? Propón un cambio.

Apoyo

তুরস্কের তালিয়েন শহরের সাথে বিভ্রান্ত হবেন না।
তালিয়েন (大连) হল উত্তর-পূর্ব চীনের ডংবেই অঞ্চলের অন্তর্গত লিয়াওনিং প্রদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং উত্তর চীনের বৃহত্তম বন্দর। চীনা পর্যটকদের কাছে তালিয়েন একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যস্থল। লিয়াওডং উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই শহর। শহরের মূল অংশটি উপদ্বীপ অঞ্চলের কিছু এলাকায় বিস্তৃত। শহরের কেন্দ্রস্থলের উত্তরদিকে বন্দরের অবস্থান এবং পূর্ব ও দক্ষিণ দিক বেষ্টন করে রয়েছে সমুদ্র উপকূলরেখা।

কিভাবে আসবেন

বিমানে

  • তালিয়েন ঝোশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (দালিয়ান ঝুশুইজি গুওজিজিচাং ডিএলসি আইএটিএ), ☏ +৮৬ ৪১১ ৮৬৬৫ ২০৭১। শহরের কেন্দ্রস্থলের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটির মাধ্যমে বেইজিং, চাংচুন, চাংশা, চেংডু , চংকিং, গুয়াংজু , গুইয়াং, হ্যাংজু, হারবিন, হেফেই, হোহোট, জিনান, কুনমিং, লিনি, মুদানজিয়াং, নানজিং, নানিং, নিংবো, কিংদাও, সাংহাই, শেনিয়াং, শেনজেন, শিজিয়াজুয়াং, তিয়ানজিন, ওয়েইহাই, উহান, শি'আন, জিয়ামেন, ইয়ানতাই ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সাথে অভ্যন্তরীণ বিমান সংযোগ রক্ষিত হয়। এখান থেকে বিমানে করে কিছু আন্তর্জাতিক গন্তব্যস্থলে যাওয়া যায়, যেমন- বুসান, ফুকুওকা, হংকং, খবরোভস্ক, ওসাকা, পিয়ংইয়ং, সাপ্পোরো, সিউল, তাইপেই, টোকিও এবং ভ্লাদিভোস্টক। মাঝে মাঝে এই বিমানবন্দরে বেশ ভিড় থাকে। বিমানবন্দরটি পরিচালনা করা মোটামুটি সহজ। এখানে শুধুমাত্র একটি বিমান অবতরন ক্ষেত্র আছে এবং বিমানবন্দরের বিন্যাসও খুব সহজ। পশ্চিম প্রান্তে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের প্রবেশ সংক্রান্ত ব্যাপার যাচাই করা হয়।

বিমানবন্দরটি সরাসরি তালিয়ান মেট্রোর ২ নং লাইনের মাধ্যমে শহরের ঝংশান স্কোয়ার এবং বন্দর এলাকার সাথে সংযুক্ত। প্রতিটি বিমান অবতরণের পরে বিমানবন্দর থেকে একটি বাসও ছাড়ে যা শহরের মূল রেল স্টেশন (এই বাস ছোট শাহেকু ট্রেন স্টেশনেও থামে তাই খুব তাড়াতাড়ি নামার বিষয়ে সতর্ক থাকুন) এবং রেনমিন লুতে যায় ।

যদি আপনি বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি নেন, তাহলে পূর্ব দিকে অবস্থিত অনুমোদনপ্রাপ্ত ট্যাক্সি লাইন থেকে নেওয়ার চেষ্টা করুন। বিমানবন্দরের নিচতলায় কাচের দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসুন এবং মাত্র কয়েক ফুট হাঁটলেই ট্যাক্সি স্ট্যান্ড পেয়ে যাবেন। এখান থেকে ট্যাক্সি না নিলে পরে সমস্যা হতে পারে (যদি আপনি শহরের কেন্দ্রস্থলের বাইরে কোন দূরের জায়গায় যেতে চান, তাহলে ট্যাক্সি লাইনে অপেক্ষারত বেশিরভাগ ড্রাইভার যেতে রাজি হবেনা)।

বিদেশগামী বিমানের টিকিট কাটতে চাইলে, জিওয়াং স্কোয়ারের ঠিক বিপরীতে, ঝংশান লুতে অবস্থিত বিমানবন্দরের টিকিট দপ্তর থেকে আপনি টিকিট সংরক্ষণ করতে পারবেন।

ট্রেনে

  • তালিয়েন রেলওয়ে স্টেশন (তালিয়েন হুচেজান), ২৫৯ চাংজিয়াং রোড, ঝংশান জেলা (ভিক্টরি স্কোয়ারের উত্তর দিকে; স্টেশনের উত্তর দিকে একই নামের একটি মেট্রো স্টেশন পাওয়া যাবে), ☏ +৮৬ ৪১১ ৮২৬০ ৩৩৩১। ডংবেইয়ের বেশিরভাগ শহর এবং বেইজিং থেকে সরাসরি ট্রেন আসে। দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি শেনিয়াং অবধিও চলাচল করে। তালিয়েন রেলওয়ে স্টেশন এবং তালিয়েন উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে দ্রুতগামী ডি ট্রেনগুলি নিয়মিতভাবে তালিয়েন, শেনিয়াং এবং হারবিনের মধ্যে চলাচল করে। তালিয়েন রেলওয়ে স্টেশন থেকে বেইজিংগামী ডি ট্রেন পরিচালনা করা হয়। টিকিট স্টেশন থেকে সর্বোচ্চ দশ দিন আগে পর্যন্ত বুক করা যায়, যদিও এর জন্য চীনা ভাষায় দক্ষতা বা ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন কারো সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে। স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্ট এবং বড় হোটেলগুলো সাধারণত আরও আগেভাগে টিকিট বুকিং করতে পারে, যদিও এর জন্য অতিরিক্ত চার্জ দিতে হতে পারে। চীনে ট্রেন ভ্রমণ সংক্রান্ত বিভিন্ন শ্রেণি, সুবিধা ও নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে দেখুনঃ- চীন।
  • তালিয়েন উত্তর রেলওয়ে স্টেশন (大连北站, তালিয়েনবেইজহান), হুয়াবেই রোড, গঞ্জিংজি জেলা (স্টেশনের দক্ষিণ দিকে একই নামের একটি মেট্রো স্টেশন পাওয়া যাবে।)। এই স্টেশন থেকে দ্রুতগামী ট্রেন ছারে যা উত্তর-পূর্ব চীনের শেনইয়াং, চাংচুন, হারবিন এবং দানডংয়ের সাথে শহরকে সংযুক্ত করে। বেইজিং এবং সাংহাইয়ের বেশিরভাগ উচ্চ গতির ট্রেনও এখান থেকে ছাড়ে। এছাড়াও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের অন্যান্য শহরগুলির উদ্দেশ্যে (ইচুন, টংলিয়াও) কিছু ট্রেন এখান থেকে ছাড়ে, যদিও তা সংখ্যায় কম। ১ নং লাইনের মেট্রোর মাধ্যমে স্টেশন্টি শহরের সাথে সংযুক্ত। এছাড়াও শহর থেকে বেশ কয়েকটি বাস এই রেল স্টেশনে যাতায়ত করে।

কোনও অবৈধ উপায়ে ট্রেনের টিকিট কাটবেন না। অবৈধ টিকিট সংরক্ষণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে যতটা সম্ভব স্টেশন থেকে টিকিট কাটার চেষ্টা করুন। অবৈধ টিকিট নিয়ে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করলে জরিমানা দিতে হবে অথবা মামলাও হতে পারে। অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটা অনেক সহজ। এমনকি ট্রেনে অনেক যাত্রীর ভিড় থাকলেও টিকিট উপলব্ধ থাকে (গ্রীষ্মে, বসন্ত উৎসব বা অন্যান্য ছুটির কয়েক দিন আগে ট্রেনে ভিড় হয়)। যদি আপনি চীনা ভাষা বোঝেন অথবা আপনার কোন চীনা বন্ধু থাকে তাহলে অনলাইনে টিকিট কাটা বেশ সহজ।

বাসে

তালিয়েনের আশেপাশের বেশিরভাগ গন্তব্যে দূরপাল্লার বাস যাতায়ত করে। চ্যাংজিয়াং লু বরাবর ট্রেন স্টেশনের দক্ষিণে জিয়ানশে জিতে একটি জনপ্রিয় বাস স্টেশন রয়েছে যেখান থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়ে। ছোট বাস স্টেশনগুলি থেকে মূলত স্থানীয় শহরগুলির উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ে। এই বাস স্টেশনগুলি ফেরি অবতরন স্থলের পাশে, আনশান লু এবং জিনকাই লু ( বেই গং কিয়াও স্টেশন) -এর সংযোগস্থলে, ট্রেন স্টেশন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত, যা শাহেকোউ জেলার হেইশিজিয়াওতে অঞ্চলের অন্তর্গত।

নৌকায়

ফেরিগুলি মূলত ঝংশান জেলার পূর্ব দিকে (গাংওয়ান জি বরাবর) অবস্থিত যাত্রী ফেরি অবতরন স্থল (তালিয়েন গ্যাং কেইন ঝান) থেকে ছাড়ে। এই ফেরিগুলি মূলত পীতসাগরের তীরবর্তী শহর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিয়ন অবধি যাতায়ত করে। তালিয়েন থেকে একটি দ্রুতগামী ফেরি ইয়ানতাই পর্যন্ত চলে এবং এতে ৩, ১২ বা ৬ ঘন্টা যাত্রা করতে চাইলে সময় অনুসারে নির্দিষ্ট পরিষেবা রয়েছে। ফেরির টিকিট অবতরন স্থল থেকে অথবা ট্রেন স্টেশনের অস্থায়ী ও অনুমোদিত টিকিট কেন্দ্র থেকে কেনা যায়। দীর্ঘ দূরত্বের অভ্যন্তরীণ ফেরিগুলিতে (দ্রুত ফেরি ব্যতীত) প্রথম শ্রেণীর কক্ষগুলিতে সাধারণত স্নানকক্ষ সহ দুটি শয্যা থাকে। দ্বিতীয় শ্রেণীর কক্ষগুলিতে মুখ ধোয়ার জায়গা এবং চারটি শয্যা থাকে। নিম্ন শ্রেণীর কক্ষগুলি একটি বৃহৎ ঘর যেখানে ভাগভাগি করে থাকতে হয়। এই কক্ষে কোনও সংরক্ষিত স্থান থাকে না।

কি দেখবেন

ঝংশান স্কোয়ার

ঝংশান স্কোয়ার (ছবি: MR+G from Wakayama, Japan, CC BY 2.0)

জিংহাই স্কোয়ার

জিংহাই স্কোয়ার (ছবি: Vladimir Zhdanov (WT…, CC BY-SA 3.0)

  • স্কোয়ার বা চত্বর – চীনের মধ্যে তালিয়েন শহরটি তার প্রশস্ত স্কোয়ার বা চত্বর এবং সবুজ উন্মুক্ত স্থানগুলোর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই স্কোয়ারগুলোর প্রতিটিরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ঝংশান স্কোয়ার শহরের আর্থিক কেন্দ্র এবং সেখানে কিছু সুন্দর পুরাতন জাপানি ভবন আছে। পিপলস স্কোয়ার হল নগর সরকারের সদর দপ্তর এবং এখানে একটি চিত্তাকর্ষক ঝর্ণা রয়েছে। জিংহাই স্কোয়ার হল এশিয়ার বৃহত্তম স্কোয়ার যেখানে বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে।
  • পুরাতন ঔপনিবেশিক ভবন - তালিয়ান একটি নবীন শহর, কিন্তু ইতিহাস প্রেমীদের কাছে এই শহরের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, কারণ তালিয়েন ছিল রাশিয়া এবং জাপান উভয়েরই প্রাক্তন উপনিবেশ যার প্রভাবে এই শহরে স্থাপত্য শৈলীর এক অনন্য সংমিশ্রণ পরিলক্ষিত হয়। পর্যায়ক্রমিক সংস্কারের সময় মধ্য তালিয়েনের অনেক পুরানো ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে:

তালিয়েনের জিগাং জেলার চাংজিয়াং রোডের কাছে অবস্থিত ডংগুয়ান এলাকা এক ঐতিহাসিক অঞ্চল হিসাবে পরিচিত, যা ২০২৪ সালের শরৎকালীন সংস্কারের পর পর্যটকদের কাছে আবার জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই অঞ্চলের ডালং, হুয়াশেং এবং জিগাংয়ের মতো রাস্তার ধারে যে পুরাতন জাপানি স্থাপত্য শৈলী ছিল সেগুলি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এই অঞ্চলে এখন পানশালা, কফিপান রেস্তোরাঁ, বেকারি, জামাকাপড়ের দোকান এবং একটি অনুষ্ঠান মঞ্চ রয়েছে। ঐতিহাসিক আকর্ষণ এবং আধুনিক সংস্কৃতির মিশ্রণ এই অঞ্চলটিকে এটি দ্রুত স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকদের কাছে প্রিয় গন্তব্য করে তুলেছে।

  • ঝংশান জেলার ঝংশান চত্বরের ঠিক দক্ষিনে এবং শ্রমিক উদ্যানের (লেবার পার্ক) পূর্বে আছে নানশান সড়ক ও তৎসংলগ্ন এলাকা। এখানে রয়েছে কিকি, হারবিন এবং কিংলিনের মতো মনোরম সব রাস্তা এবং শিশু উদ্যান। এই অঞ্চলে রয়েছে অনেক পুরনো জাপানি ধাঁচের বাড়ি, যাদের মধ্যে অনেকগুলি যত্ন সহকারে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এই এলাকার আরামদায়ক পরিবেশের মধ্যে রয়েছে কিছু জনপ্রিয় পানশালা, কফিপান রেস্তোরাঁ এবং রেস্তোরাঁ। ব্যস্ত ঝংশান চত্বর থেকে মাত্র অল্প দূরে অবস্থিত এই অঞ্চলে ঐতিহাসিক স্থাপত্য দর্শনের পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও উপলব্ধ রয়েছে। সফরের শেষে বিশ্রাম নেওয়ার জন্যও এটি একটি দুর্দান্ত জায়গা।
  • জিগাং জেলার ট্রেন স্টেশন থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত রাশিয়ান স্ট্রিট অঞ্চলে অনেক পুরোনো ভবন রয়েছে।
  • তালিয়েন ফরেস্ট জু - তালিয়েনে বিভিন্ন ধরণের পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে, তবে তার বেশিরভাগই মূলত স্থানীয় মানুষদের কথা খেয়াল রেখেই তৈরি হয়েছে। বিদেশী দর্শনার্থীদের কাছে এই সমস্ত জাউগা আকর্ষণের চেয়ে বরং পর্যটকদের বিভ্রান্ত করার ফাঁদ বলে মনে হতে পারে। তবে জিগাং জেলায় অবস্থিত ফরেস্ট চিড়িয়াখানা আন্তর্জাতিক ভ্রমণার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করার মতো একটি স্থান। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রানীর বিশাল প্রদর্শনী রয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলের দক্ষিণে পাহাড়ের ধারে অবস্থিত এই চিড়িয়াখানাটি দুটি ভাগে বিভক্ত। এখানে একটি অভ্যন্তরীণ রেইনফরেস্ট (শুধুমাত্র উদ্ভিদ প্রজাতি) আছে। এখানে প্রাণীদের নিয়ে বিভিন্ন ক্রীয়া প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। চিড়িয়াখানার প্রধান আকর্ষণ বৃহৎ প্রজাতির পান্ডা এবং লাল পান্ডা, তবে গন্ডার, বাঘ, সিংহ এবং মেরু ভালুকও রয়েছে। এখানে বেশ কয়েকটি আদিম প্রজাতির প্রাণী এবং পাখিও দেখতে পাওয়া যায়।
  • চেরি ফুল – এপ্রিল মাসের শেষের দিকে লুশুনকু জেলার লং ওয়াংটাং গ্রামে চেরি ফুলের সমারোহ দেখা যায়। ১৯২০ সালে লং ওয়াংটাং বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার পর জাপানি উপনিবেশবাদীরা গ্রামে ৩,০০০ চেরি গাছ রোপণ করেছিলেন। নুভো-শৈলীতে নির্মিত বাঁধটিও দেখার মতো। ২০৩ হাইট এলাকায় রাতের বেলা ফুল ফোটে, যা এক চিত্তাকর্ষক দৃশ্য। তবে এই স্থান কিছুটা দূরে অবস্থিত (১২ নং মেট্রো লাইনে ৩০ মিনিটের মতো যাত্রা করে শাটল বাস ধরে আরও ২০ মিনিট যেতে হয়)।
  • লাওদং (শ্রমিক) উদ্যান (劳动公园), (ঝংশান জেলা)। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য আপনি হেঁটে যেতে পারেন অথবা সিট-লিফট বাহনের ব্যবহার করতে পারেন। চূড়ায় পৌঁছানোর পর আপনি রিচ সাইটসিইং টাওয়ার নামক উঁচু মিনার থেকে নিম্নভূমির বিস্তৃত দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। একটি সুন্দর দিন নির্বাচন করে এখানে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গমন করুন যাতে এখানকার মনোরম দৃশ্য ভালোভাবে উপভোগ করতে পারেন। চূড়া থেকে নামার জন্য "ফার্স্ট ল্যান্ড স্লেড" নামক বাহন উপলব্ধ আছে যা সত্যিই একটি মজাদার অভিজ্ঞতা। এখানে ফুটবল প্রতিযোগীতার পাশাপাশি শীতকালে স্কিইং বা আইস-স্কেটিং উপভোগ করতে পারেন। এখানে শিশুদের জন্য অনেক মজার দোলনা রয়েছে। তবে এখানে ভ্রমণের জন্য আসতে চাইলে সাবধানতা অবলম্বন করুন কারণ ভ্রমণ সংস্থারা কখনও কখনও প্রতারণার চেষ্টা করে, যেমন পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার চেষ্টা করে। যদি আপনি এমন পরিস্থিতিতে পড়েন তবে পুলিশকে (১১০) ফোন করে জানান।
  • জিংহাই বে সৈকত। তালিয়েনের শাহেকোউ জেলায় অবস্থিত এই সৈকত জিংহাই আন্তর্জাতিক ব্যবসা কেন্দ্র অঞ্চলের অংশ। এর কাছেই আছে একটি সুপরিচিত চত্বর এবং উদ্যান। এটি চীন দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম সমুদ্রস্নান এলাকা।
  • গোল্ডেন পেবল সৈকত - তালিয়েনের শহরতলির প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) উত্তর-পূর্বে জিনঝো জেলায় অবস্থিত , গোল্ডেন পেবল সৈকত। এই অঞ্চলের অনন্য শিলা গঠনের উপর ভিত্তি করে এই সৈকতের নামকরণ করা হয়েছে। গোল্ডেন পেবল সৈকত তালিয়েনের সেরা সৈকত হিসাবে বিবেচিত। বিশেষভাবে আমদানি করা বালি ব্যবহার করে সৈকতটি গড়ে তোলা হয়েছে। সৈকতের আশেপাশে বেশ কিছু পর্যটন আকর্ষণ থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলোকে আকর্ষণের চেয়ে ফাঁদ বলাই শ্রেয়। সৈকত অঞ্চলটি অবশ্য পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বেশি আনন্দদায়ক স্থান। ঠান্ডা জল এবং পরিচ্ছন্নতার অভাবে এখানে সাঁতার খুব একটা জনপ্রিয় নয়, তাই বেশিরভাগ মানুষ হাঁটাচলা করে, ছবি তুলে বা গ্রিলিং পদ্ধতিতে রান্না করে সময় কাটান। আশেপাশের অন্যান্য আকর্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে কুংফু জাদুঘর; যেসকল ব্যাক্তি জেট লির মতো কুংফু শিখতে চান, তাদের জন্য এটি একটি শিক্ষাকেন্দ্র। এছাড়াও রয়েছে তালিয়েনের ছোট বিশেষায়িত উদ্যান কিংডম অফ ডিসকভারি। প্রধান পর্যটন এলাকার বাইরে সমুদ্র সৈকতের পাশে অনেক দোকান এবং অস্থায়ী ছাউনি রয়েছে যা খারাপ আবহাওয়ার সময় বন্ধ হয়ে যায়। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পরীক্ষা করা ভাল।
  • জিয়াংশুই মন্দির (জিনঝো জেলা) তালিয়েনের আশেপাশে বেশ কয়েকটি প্রাচীন স্থান আছে যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তাওবাদী জিয়াংশুই মন্দির। প্রায় এক হাজার বছর আগে প্রথম তাং রাজবংশের সময় নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে মন্দিরের যে অংশ অবশিষ্ট আছে তার বেশিরভাগই কিং রাজবংশের সময় সংস্কার করা হয়েছিল। মন্দিরটি একটি বৃহৎ গুহাকে ঘিরে নির্মিত, যার ভিতরে রয়েছে অনেক জলপ্রপাত, যার জন্য এই মন্দিরটিকে "ওয়াটার-সাউণ্ড টেম্পল" বা "জল-শব্দ মন্দির" হিসাবে অভিহিত করা হয়। বিগ ব্ল্যাক পর্বত অঞ্চলে অবস্থিত অসংখ্য মন্দির সমূহের মধ্যে এটি অন্যতম।
  • লুশুন - পূর্বে পোর্ট আর্থার নামে পরিচিত এই অঞ্চল লিয়াওডং উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি শহর যার বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে ৪০ কিমি (২৫ মাইল) দূরে অবস্থিত।

শহরজুড়ে এমন অনেক পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে যেগুলো তালিয়েন প্রশাসনিক এলাকার অন্তর্গত হলেও শহরের কেন্দ্র থেকে যথেষ্ট দূরে অবস্থিত। এই জায়গাগুলিতে ঘুরতে গেলে পুরো একটি দিন ব্যয় করার প্রয়োজন হয়।

  • "তালিয়েনের গুইলিন" নামে পরিচিত বিংইউ ভ্যালি একটি মনোরম নদী উপত্যকা যা ঝুয়াংহে শহরের ঠিক বাইরে এবং তালিয়েন থেকে প্রায় ২৫০ কিমি উত্তরে অবস্থিত। খাড়া পাহাড় ও আঁকাবাঁকা নদীপথে ঘেরা এই অঞ্চল মানবসভ্যতার কলুষতা থেকে মুক্ত, অবিকৃত গ্রামীণ প্রকৃতির মাঝে অবস্থান করছে। প্রবেশমূল্য ১০০ ইয়েন। প্রকৃতি উপভোগ, পর্বতারোহন ও নৌকা ভ্রমণের জন্য আদর্শ। নদীর ধারে ছড়িয়ে রয়েছে বৌদ্ধ ও তাও ধর্মের বেশ কিছু মন্দির, যা দর্শনার্থীদের কাছে এক অতিরিক্ত আকর্ষণ। এমনিতে এখানে একদিনে ঘুরে আসা যায় তবে চাইলে একরাত কাটাতে পারেন। স্থানীয় হোটেলে ৩০০ ইয়েন মূল্যে দ্বিশয্যাবিশিষ্ট ঘর পাওয়া যায় অথবা চাইলে স্থানীয় কৃষকের বাড়িতে মাত্র ১০ ইয়েনে থাকতে পারেন (যাদি আপনার সাথে একজন স্থানীয় মান্দারিন ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন সঙ্গী থাকে তাহলে, এই যাত্রা হয়ে উঠতে পারে এক অনন্য সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।)।
  • হুয়াংহাই সমুদ্রে অবস্থিত চাংশান দ্বীপপুঞ্জ এবং গুয়াংলু দ্বীপ দ্বীপ যা স্থানীয়দের কাছে একটি দুর্দান্ত আকর্ষণীয় স্থল। দর্শনার্থীরা দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রার পাশাপাশি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। এখানে যেতে হলে শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পিকো বন্দর থেকে ফেরি নিতে পারেন, অথবা ঝোশুইজি বিমানবন্দর থেকে বিমানে আসতে পারেন। দ্বীপপুঞ্জের খুব কম লোকই ইংরেজি বোঝে, তাই এখানে এলে একজন চীনা বন্ধু বা চীনা ভাষা বোঝে এমন কাউকে নিয়ে আসবেন।
  • বোহাই সাগরের পশ্চিমে অবস্থিত চ্যাংজিং দ্বীপ দুটি সেতুর মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত । এই দ্বীপে অবস্থিত চ্যাংজিং রিসোর্টটি একটি পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি, বিনোদন, অবসর এবং খেলাধুলায় অংশোগ্রহনের সুযোগ পাওয়া যায়।
  • জিংহাই পার্ক নামক পর্যটন স্থলে ১,৫০,০০০ বর্গমিটার জমির উপর বিস্তৃত একটি বাগান এবং ৮০০ মিটার দীর্ঘ খিলান-আকৃতির সমুদ্রসৈকত রয়েছে। এখানে উচ্চমানের সবুজ পরিবেশ বিরাজমান, যা ভিয়েনার রয়েল গার্ডেনের পরিবেশ ও শৈল্পিক ভাবনার প্রতিফলন ঘটায়। পার্কের পশ্চিম দিকে একটি বিশাল সুইমিং পুল নির্মিত হয়েছে, যা এটিকে তালিয়েনের অন্যতম বৃহৎ গ্রীষ্মকালীন বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত করেছে।
  • ঝংশান পার্ক নামইক উদ্যানটিতে ২০০৩ সালে “ইক্সিয়ান স্কয়ার” নামক একটি চত্বর নির্মিত হয়, যার কেন্দ্রস্থলে মিঃ সান ইয়াত-সেনের একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ব্রোঞ্জ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে।

কি করবেন

বিনহাই রোডের একাংশ (ছবি: Flickr user Jeremi, CC BY 2.0)

  • সৈকতে আরাম উপভোগ – তালিয়েন উপদ্বীপের দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে বেশ কয়েকটি সৈকত রয়েছে, যার মধ্যে বৃহত্তম হল জিংহাই সৈকত, ফুজিয়াজুয়াং সৈকত এবং বাংচুইদাও সৈকত। এই সৈকতগুলোর মধ্যে জিংহাই সৈকত প্রায় সর্বদাই জনাকীর্ণ, আর বাংচুইদাও সৈকতে পৌঁছানো কঠিন ও ব্যয়বহুল, কারণ সেটি একটি বিলাসবহুল রিসোর্টের অংশ। ফলে সৈকত স্নান এবং রৌদ্রস্নানের জন্য যারা আগ্রহী, তাদের কাছে সবচেয়ে উপযোগী বিকল্প হল ফুজিয়াজুয়াং সৈকত।
  • বিনহাই সড়কের আশেপেশে ঘুরুন –তালিয়েন উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত বরাবর বিস্তৃত বিনহাই রোড একটি সুন্দর, বাঁকানো উপকূলীয় সড়ক, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সুবিখ্যাত ফরাসি রিভিয়েরার সাথে তুলনা করা যায়। রাস্তাটি তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত। প্রথম ভাগ বিনহাই ওয়েস্ট রোড নামে পরিচিত যা জিংহাই স্কোয়ার থেকে ফুজিয়াজুয়াং পর্যন্ত বিস্তৃত। দ্বিতীয় ভাগ বিনহাই মিডল রোড নামে পরিচিত ফুজিয়াজুয়াং থেকে টাইগার বিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। তৃতীয় ভাগ হল বিনহাই সাউথ রোড ও বিনহাই নর্থ রোড যা টাইগার বিচ থেকে ডংহাই বিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। একদিনে পুরো ৩৫ কিলোমিটার (২২ মাইল) পথ হেঁটে পার হওয়া সম্ভব, তবে ইচ্ছুক পর্যটকেরা ফুজিয়াজুয়াং-টাইগার বিচ এবং টাইগার বিচ-ডংহাই বিচ অংশগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। ট্যাক্সিতে ভ্রমণ করলে এই উপকূলীয় রাস্তার সৌন্দর্য আরামদায়ক পদ্ধতিতে সহজেই উপভোগ করা যায়।
  • বিনোদন – তালিয়েন শহর বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের বিকল্প রয়েছে। সংস্কৃতিতে যারা আগ্রহী, তাদের জন্য ঝংশান জেলায় রয়েছে নাট্যমঞ্চ ও বিবিধ অনুষ্ঠান মঞ্চ, যেখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশনা উপস্থাপিত হয়। শহরজুড়ে কয়েক ডজন কেটিভি বার, পানশালা ও হোটেলে সঙ্গীত পরিবেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। সিনেমাপ্রেমীদের জন্য ইউহাও স্কোয়ারের আশেপাশে বেশ কয়েকটি সিনেমা হল রয়েছে, তবে এগুলোর বেশিরভাগই স্থানীয় দর্শকদের উপযোগী, ফলে ইংরেজি ভাষায় চলচ্চিত্র প্রদর্শন খুবই বিরল। যারা ম্যান্ডারিন ভাষায় সাবলীল নন, তাদের জন্য বেশ কিছু বিকল্প সিনেমা হল রয়েছে, যেমন: অলিম্পিক স্কোয়ারের উত্তরে জিগাং জেলার ওয়ার্নার-ওয়ান্ডা সিনেমা, জিংহাই স্কোয়ারের উত্তরে শাহেকো জেলার হি পিং শপিং সেন্টারে ওনার সিনেমাপ্লেক্স, অথবা রুজভেল্ট শপিং সেন্টারের থিয়েটার। ফুটবলপ্রেমী পর্যটকরা মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ফুটবল মৌসুমে জিগাং জেলার পিপলস স্টেডিয়ামে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে যারা ফুটবলকে তালিয়েনের পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন তারা এই সময়ে তালিয়েনে আসার ব্যাপারে বিবেচনা করতে পারেন। উত্তর চীনের শহরগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো যে, সেখানে রাত্রীজকালিন জীবন সেরকম প্রলম্বিত নয়। সাধারণত রাত ১২টার দিকে শহরটি নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে, যদিও পানশালাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে রাত ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
  • তালিয়েন বিয়ার উৎসব, জিংহাই স্কোয়ার। সাধারণত জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্টের শুরু পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী চলে। উৎসবে হাজার হাজার দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করেন। দিনের বেলায় মানুষ খাবার ও সঙ্গীতানুষ্ঠান উপভোগ করতে আসেন আর রাতের বেলায় বিয়ার সহযোগে সঙ্গীতের পরিবেশনা আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। উৎসবে দেশীয় ও আঞ্চলিক বিক্রেতারা অংশ নেন, এবং কিছু বিক্রেতা জার্মানি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা বিয়ার বিক্রি করেন। প্রবেশমূল্য ১০ ইয়েন যার সাথে খাবারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ ইয়েন এবং বিয়ারের জন্য ৫০ ইয়েন মূল্য ধার্য করা হয়।

উৎসব

  • ডিসকভারিল্যান্ড একটি জনপ্রিয় বিশেষায়িত পার্ক, যেখানে রয়েছে এশিয়ার দ্রুততম ক্যাটাপল্ট নাগরদোলা এবং বিশ্বের তৃতীয় দ্রুততম নাগরদোলা।
  • গ্রীষ্মকালে তালিয়েন শহরের একটি জনপ্রিয় বিনোদন হল চেরি তোলা, যা সপরিবারে উপভোগ করা যায়। বিশেষত মধ্যবয়সী ও বয়স্ক পর্যটকদের জন্য এটি বেশ উপভোগ্য। চেরি হল পেকে যাওয়ার পর আপনি শহরতলির বাছাই করা বাগানগুলোতে গিয়ে চেরি সংগ্রহের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। বেশিরভাগ বাগানেই পর্যটকদের চেরি চেখে দেখার সুযোগ দেওয়া হয় এবং চাইলে বাজার মূল্যের চেয়ে সামান্য বেশি দামে চেরি কিনতেও পারেন।
  • সমুদ্রতীরে শীতলতা উপভোগ করুন। গ্রীষ্ম ও শরৎকাল (মে থেকে অক্টোবর) তালিয়েন ভ্রমণের জন্য আদর্শ সময়, বিশেষ করে মে মাসে এখানকার আবহাওয়া উষ্ণ থাকে, কিন্তু কখোনোই অতিরিক্ত গরম পরেনা। এই সময়ে সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড় থাকে। প্রেমের শহর হিসেবে পরিচিত তালিয়েনের জিনশিতানে রয়েছে ১০ মাইল দীর্ঘ সোনালি সৈকত। এটি একটি বিস্তৃত প্রাকৃতিক সৈকত, যার চিত্র স্থানীয় পর্যটন পোস্টকার্ডে স্থান পেয়েছে। ফুজিয়াজুয়াং, বাংচুইদাও, এবং দাহেইশি—এই তিনটি সৈকত রিসোর্ট তালিয়েনের স্থানীয়দের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এখানে তারা সৈকত স্নান, রৌদ্রস্নান এবং অবসর যাপনের জন্য আসেন।

শিক্ষা

তালিয়েনে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশুনোর সুযোগ দেওয়া হয়। এই বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিদেশিরা বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর অবধি পড়াশুনো করতে পারে। এছাড়াও এসমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চীনা ভাষা শেখনোর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষনের আয়োজন করা হয়। নীচে উল্লিখিত সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশুনোর সুযোগ দেওয়া হয়;

কেনাকাটা

তালিয়েন শহরে লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ টাকার সেরকম গুরুত্ব নেই। রাস্তার অস্থায়ী ছাউনির দোকান থেকে বড় ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান এই সমস্ত জায়গাতেই মূলত উইচ্যাট বা আলিপে অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়। বিদেশি ভ্রমণার্থীদের ক্ষেত্রে লেনদেনের সবচেয়ে ভালো উপায় হল, পূর্বের বাক্যে উল্লিখিত যেকোন একটি অ্যাপকে তাদের মোবাইলে ডাউনলোড করা এবং অবশ্যই তাদের নিজদেশীয় লেনদেন কার্ডটিকে অ্যাপের সাথে সংযুক্ত (লিংক) করা। বিমানবন্দর, বেশিরভাগ তিন-তারকা ও উচ্চমানের হোটেল এবং প্রায় সমস্ত ব্যাংকে চীনা ইউয়ান (রেনমিনবি) মুদ্রা বিনিময় করা যায়। কিন্তু বিনিময়কারীর কাছে যদি চীনা নাগরিকের পরিচয়পত্র না থাকে তবে কিছু কিছু ব্যাংকে বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে মুদ্রা বিনিময়ে বিধিনিষেধ লাগু হতে পারে অথবা সীমিত পরিমাণে বিনিময়ের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। প্রায়শই বড় ব্যাংকের লবিতে অননুমোদিত মুদ্রা বিনিময়কারীদের ঘোরাফেরা করে। তাদের হাতে সাধারণত একটি কালো পার্স থাকে এবং তারা ব্যাংকের চেয়ে ভালো হারে আপনাকে মুদ্রা বিনিময় করার প্রস্তাব দেবে। তবে মনে রাখবেন যে তারা ব্যাংকের কর্মী নন এবং প্রতিটি ব্যাংকের লবিতে একজন নিরাপত্তারক্ষী বর্তমান। যদি আপনি মনে করেন, তাহলে মুদ্রা বিনিময়ের জন্য দর কষাকষি করতে পারেন বা সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে বিনিময় করতে পারেন। চীনের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ইউনিয়নপে লেনদেন পদ্ধতির গ্রহণযোগ্য আছে, তবে বিদেশি পর্যটকদের কাছে তা খুব বেশি সহায়ক নাও হতে পারে। চারতারা ও পাঁচতারা হোটেল ছাড়া কিছু নির্বাচিত স্থানে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করা হয়।

তালিয়েনের প্রধান পর্যটন স্থানগুলোর আশেপাশে অস্থায়ী ছাউনির তলায় অনেক দোকান রয়েছে যেখান থেকে স্মারক-সামগ্রী সংগ্রহ করা যায়। এখানকার স্থানীয় স্মারক হিসেবে আপনি রাশিয়ান-শৈলীতে নির্মিত সামগ্রী কিনতে পারেন (শহরের রাশিয়ান শাসনকালের ঐতিহাসিক চিহ্ন)। এছাড়াও আপনি শুকনো সামুদ্রিক খাবার কিনতে পারেন। তবে এই দুটি বিদেশি পর্যটকদের কাছে খুব একটা আকর্ষণীয় নয়। প্রথম বস্তুটি চীন থেকে কিনে নিয়ে গেলে তা বেশ অদ্ভুত মনে হতে পারে আর দ্বিতীয় বস্তুটি শুল্ক নিয়মে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে তালিয়েনে আরও অনেক আকর্ষণীয় বিপনন এলাকা রয়েছে, যেখানে চীনা ঐতিহ্যবাহী স্মারক পাওয়া যায়, যেমন জেড ভাস্কর্য, সামুদ্রিক শামুক-ঝিনুকের কারুকার্যখচিত বাক্স, সুন্দর ক্যালিগ্রাফিতে লেখা ভূর্জপত্র, পিকিং অঞ্চলের শৈলীতে নির্মিত অপেরা বা নাটকের মুখোশ ইত্যাদি। এসব বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সহজেই মিলবে। চীনের অন্যান্য অঞ্চলের মতো তালিয়েনেও কেনাকাটা করার সময় নামী সংস্থার বিভাগীয় দোকান ও বিপনন কেন্দ্র ছাড়া প্রায় সব জায়গায় দর কষাকষি করতে হয়। এমনকি কিছু নামী সংস্থার বিভাগীয় দোকানেও দরদাম করা স্বাভাবিক ব্যাপার। লেনদেনের জন্য ওয়েচ্যাট পেমেন্ট এবং আলিপে ব্যাবহার করুন যা শহরের প্রতিটি দোকান ও বড় বিপনন কেন্দ্রে গ্রহণযোগ্য। যদি এসমস্ত অনলাইন লেনদেন সাইটে আপনার অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে নগদ অর্থের ঝামেলা ছাড়াই ফোনে কোড স্ক্যান করে বিক্রিত সামগ্রীর মূল্য দিতে পারবেন।

যদি আপনি বিপনন কেন্দ্রে কেনাকাটা করেন বা কোনও মুদি দোকানে খাবার কিনতে যান, তাহলে মনে রাাখবেন যে চীনের কর্মীরা সাধারণত গণনায় অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা বাড়তি মূল্য ফেরতের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার বিল হয় ১৯১ ইয়েন, তাহলে হিসাবরক্ষক আপনার কাছ থেকে অতিরিক্ত ১ ইয়েন মূল্য চাইতে পারেন, যাতে সে আপনাকে একটি ১০ ইয়েনের নোট ফেরত দিতে পারে। সাধারণত খুচরার অভাব থাকলে তারা এইভাবে লেনদেন করেন। আবার, যদি কোনও দোকানে আপনার বিল হয় ১৯.৬ ইয়েন, তাহলে কর্মীরা আপনাকে নগদ ফেরত না দিয়ে তার পরিবর্তে ০.৪ ইয়েন মূল্যের কিছু ছোট পণ্য (যেমন ক্যান্ডি) দিতে পারেন। এই ধরনের লেনদেন চীনের অনেক স্থানে হয়, যদিও বর্তমানে তার হার কম। যদি আপনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তাহলে হিসাবরক্ষকের উপর আস্থা রাখা যেতে পারে, তবে আপনার ফেরত পাওয়া অর্থ সঠিক কিনা তা সবসময় যাচাই করা উচিতI

বিপননের জন্য প্রসিদ্ধ স্থল

  • ঝংশান জেলা
    তালিয়েন রেলওয়ে স্টেশনের সংলগ্ন কিংনিওয়া সেতু সবচেয়ে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক স্থল হিসাবে পরিচিত।
  • ১৯০৯ সালে নির্মিত তিয়ানজিন সড়ক তালিয়েন শহর বাণিজ্যের জন্মস্থান হিসাবে পরিচিত। এটি ১,৭২০ মিটার লম্বা। ২০০৫ সালে, এই সড়ককে "চীনের শীর্ষ দশটি বিখ্যাত বাণিজ্যিক রাস্তা" হিসাবে অভিহিত করা হয়েছিল।
  • রেনমিন সড়কে বিলাসবহুল বিপনন কেন্দ্র, উচ্চমানের হোটেল, বড় ব্যাংক ইত্যাদি সমস্ত সুবিধা রয়েছে।
  • এরকি স্কোয়ারে রয়েছে এরকি বানিজ্য কেন্দ্র, ওয়েনঝো সিটি, হুয়াচেন সিনেমার বিশেষায়িত দোকান। এটি উত্তর-পূর্ব এশিয়ার বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার বিপনন স্থল।
  • জিগাং জেলা

এখানকার উল্লেখযোগ্য বিপনন কেন্দ্র হল অলিম্পিক প্লাজা অলিম্পিক ইলেকট্রনিক্স সিটি, ওয়ান্ডা প্লাজা, ফ্যাশন পার্কসন, ম্যাকডোনাল্ডস ড্রাইভ-থ্রু, হ্যাং লাং প্লাজা ইত্যাদি

  • এছাড়াও এখানে রয়েছে জিয়াংলুজিয়াও লজিস্টিক পার্ক মেট্রো, আইকেইএ, ডেকাথলন, ওয়াল-মার্ট স্যামস ক্লাব, সেন্টেনিয়াল হারবার এবং বিভিন্ন সংস্থার দোকান।
  • শাহেকু জেলা

শি'আন রোড শহরের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক স্থল হিসাবে পরিচিত। এখানে মেট্রো লাইন ১ এবং ২ একে অপরকে ছেদ করে অগ্রসর হয়েছে।

  • এখানকার ক্যাপিটাল্যান্ড পিস প্লাজা হল উত্তর-পূর্ব চীনের বৃহত্তম বিস্তৃত আমেরিকান বিপনন কেন্দ্র।
  • গঞ্জিংজি জেলা

কেনাকাটার জন্য উল্লেখযোগ্য স্থানগুলি হল, ঝংহুয়া সড়ক (হুয়া নান প্লাজা) আনশেং বিপনন কেন্দ্র হুয়া নান স্টোর, ওয়াটার ফ্যাশন শপিং প্লাজা, ডেকাথলন হুয়া নান স্টোর, হুয়া নান ইন্টারন্যাশনাল মল, হুয়া নান হোম ফার্নিশিং ওয়ার্ল্ড, রেড স্টার ইন্টারন্যাশনাল প্লাজা ইত্যাদি

  • হাই-টেক পার্ক
    এখানকার সফটওয়্যার পার্ক রেস্তোরাঁর মাধ্যমে ম্যাকডোনাল্ডসের পন্য বিক্রি হয়। উল্লেখযোগ্য বিপনন কেন্দ্রগুলি হল জিনহুই শপিং প্লাজা শুক্সিয়াংইউয়ান স্টোর, হাই-টেক ওয়ান্ডা প্লাজা ইত্যাদি।

খাওয়া-দাওয়া

তালিয়েনের স্থানীয় খাবার মূলত ডংবেই অঞ্চলের রন্ধনশৈলী দ্বারা প্রভাবিত (এই খাবারের স্বাদ সাধারণত হালকা এবং পরিবেশনের ধরনও তুলনামূলকভাবে সরল)। শহরটি সমুদ্রের কাছাকাছি হওয়ায় সামুদ্রিক খাবার এখানে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। ভাত বা নুডলসের চেয়ে বান, প্যানকেক ও ডাম্পলিংই এখানে প্রধান খাদ্য হিসেবে প্রচলিত। তালিয়েনের সামুদ্রিক খাবারের যথেষ্ট খ্যাতি আছে এবং তা অবশ্যই একবার চেখে দেখা উচিত। তবে বিদেশি পর্যটকদের কিছু ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত, চীনে “সামুদ্রিক খাবার” বলতে সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত যেকোন ভোজ্য বস্তুকে বোঝানো হয়, যাদের মধ্যে অনেক কিছু হয়তো অন্যান্য অনেক দেশে খাদ্য হিসাবে গন্য হয়না। মাছের খাবারে সাধারণত অনেক ছোট হাড় থাকে, যা খাওয়ার সময় আলাদা করতে হয় বা স্থানীয় পদ্ধতিতে গুঁড়ো করে খাওয়া হয়। কোরিয়ান ও জাপানি সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক প্রভাবের কারণে, তালিয়েনে এই দুই দেশের খাবারের অনেক রেস্তোরাঁ রয়েছে।

বৈচিত্র্য এবং সংখ্যার দিকে বিচার করলে তালিয়েনে রেস্তোরাঁর কোনও অভাব নেই। তালিয়েনে বর্তমান রেস্তোরাঁর যেকোন প্রদত্ত তালিকা তুলে দেখুন, সেগুলি এই শহরের বৈচিত্র্যময় খাদ্য সংস্কৃতির সামান্য ঝলক মাত্র। তাই নিজেই পছন্দসই রেস্তোরাঁ অনুসন্ধানে উদ্যোগী। রেস্তোরাঁগুলিতে সাধারণত আগে থেকে টেবিল সংরক্ষনের প্রয়োজন হয় না, তবে যেসব রেস্তোরাঁয় সংরক্ষণের প্রয়োজন হয় সেগুলোর জন্য ফোন নম্বর দেওয়া থাকে। যারা তাদের পরিচিত স্বাদের খাবার পছন্দ করেন, তারা এখানে বহুলসংখ্যক পশ্চিমা, জাপানি ও কোরিয়ান রেস্তোরাঁ খুঁজে পাবেন। শহরে অসংখ্য চটজলদি খাবার পরিবেশনকারী আন্তর্জাতিক রেস্তোরাঁ শৃঙ্খলাও উপস্থিত রয়েছে।

ভালো খাবার খেতে চাইলে ঝংশান জেলা এবং জিগাং জেলার জনপ্রিয় রেস্তোরাঁগুলিতে যেতে পারেন।

যারা কম খরচে ঘুরতে চান তাদের জন্য তালিয়েন শহরে প্রচুর বিকল্প রয়েছে। শহরের প্রায় প্রত্যেক রাস্তার মোড়ে এক বা একাধিক রেস্তোরাঁ বর্তমান, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার পাওয়া যায় (বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রস্থলের বাইরের আবাসিক এলাকাগুলোতে)। এসব রেস্তোরাঁর পূর্ণ তালিকা তৈরি করা অসম্ভব, তাই ভালো রেস্তোরাঁর খোজ পেতে স্থানীয় জেলা-ভিত্তিক নিবন্ধগুলিতে চোখ রাখুন। এই সকল নিবন্ধে শহরের কেন্দ্রস্থলের আশেপাশে বেশ কিছু নির্বাচিত রেস্তোরাঁর নাম উল্লেখ করা হয়। তবে এই রেস্তোরাঁগুলোর মান ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তনশীল। শহিরে ভালো খাবারের সন্ধানে পেতে একটি কার্যকর নিয়ম মেনে চলুন, যদি কোনো রেস্তোরাঁর সাজসজ্জা পুরনো বা জীর্ণ দেখায় কিন্তু ভেতরে বেশ ভিড় থাকে, তাহলে সেখানকার সাধারণত খাবার ভালোই হয়। তবে যারা চীনা ভাষায় কথা বলতে পারেননা, স্থানীয় রেস্তোরাঁয় খাবার অর্ডার করতে তাদের কিছুটা সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে, কারণ সস্তা রেস্তোরাঁগুলিতে ইংরেজ শৈলীর খাবার খুবই বিরল এবং ইংরেজিভাষী কর্মীও অনুপস্থিত। তবে আপনারা রাস্তার ধারের অস্থায়ী জলখাবারের রেস্তোরাঁগুলির খাবার চেখে দেখতে পারেন, যেখানে খাবারের মূল্য ১ ইয়েন থেকে শুরু হয়। এইসমস্ত অস্থায়ী ছাউনিগুলিতে প্যানকেক, রোল, ভুনানো মাংস এবং চিনি-মিশ্রিত ফল পাওয়া যায়। তবে এই খাবারগুলি খাওয়ার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন, কারণ অপরিচিত বা অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে পেটের সমস্যা বা অসুখ হতে পারে।

কমদামী রেস্তোরাঁর মতোই তালিয়েনে মধ্য মানের রেস্তোরাঁর সংখ্যাও প্রচুর (সাধারণত বৃহৎ পরিসর ও উন্নত সাজসজ্জার নিরিখে এগুলি কমদামী রেস্তোরাঁ থেকে আলাদা হয়ে থাকে)। শহরে আপনার পছন্দসই রেস্তোরাঁ খুজে পেতে স্ব-অনুসন্ধান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাই মূল চাবিকাঠি। বিভিন্ন জেলা-ভিত্তিক নিবন্ধে কিছু বিশেষ রেস্তোরাঁর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে মাত্র। সস্তার রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে যেমন সতর্কতা প্রযোজ্য, তেমনি মাঝারি মানের রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। তবে এই সমস্ত রেস্তোরাঁয় খাবারের মানের তারতম্য সেভাবে দেখা যায়না।

তালিয়েনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রেস্তোরাঁগুলি মূলত সামুদ্রিক খাবারের জন্য বিশেষায়িত রেস্তোরাঁ। এইসমস্ত রেস্তোরাঁগুলিতে স্থানীয় টাটকা খাদ্য উপকরণে তৈরি খাবার পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও শহরে কিছু বিলাসবহুল জাপানি রেস্তোরাঁ রয়েছে, যারা খাঁটি জাপানি রান্না পরিবেশন করে। স্থানীয় খাদ্যশৈলী বা স্বাদের সাথে মিশ্রণ না ঘটিয়ে এই জাপানি রেস্তোরাঁগুলি তাদের খাদ্যতালিকায় অকৃত্রিম জাপানি খাবারের স্বাদ বজায় রেখেছে। পশ্চিমা খাদ্যশৈলীর রেস্তোরাঁগুলিতে ইংরেজ শৈলীর খাবার এবং ইংরেজিভাষী কর্মীদের উপস্থিতির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে অনেক মাঝারি মানের রেস্তোরাঁতেও ইংরেজি শৈলীর খাবার পাওয়া যায় (ছবি-সহ নির্দেশনা)।

তালিয়েনে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ আছে যেখানে সামুদ্রিক খাবার পরিবেশন করা হয়। সাধারণত শহরের কেন্দ্রস্থলে বা জিংহাই স্কোয়ারে সবচেয়ে ভালো সামুদ্রিক খাবার পাওয়া যায়, যাদের মধ্যে ওয়ানবাও এবং জিহান ফ্যান ডিয়ান বিশেষ উল্লেখযোগা।

প্রায় প্রত্যেক রেস্তোরাঁয় অনলাইন টাকা-পয়সা লেনদেনের জন্য ওয়েচেট পেমেন্ট এবং আলিপে সুবিধা উপলব্ধ।

রেস্তোরাঁয় ওয়েটার বা বেয়ারাদের আলাদা করে টিপস দেওয়ার দরকার নেই, কারণ তারা টিপস চায় না। টিপসের আলাধা মূল্য "পরিষেবা ফি" হিসাবে খাবারের বিলে অন্তর্ভুক্ত করা থাকে। বড় রেস্তোরাঁগুলিতে কখনও কখনও নির্ধারিত বিলের ২০% পর্যন্ত পরিষেবা ফি নেওয়া হয়।

রাত্রিযাপন

চীনের অন্যান্য শহরের মতো তালিয়েনেও বিদেশি পর্যটকদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের বিকল্প কিছুটা সীমিত, কারণ সস্তা হোটেলগুলি বিদেশিদের থাকতে অনুমতি দেয়না। তবে অল্প খরচে থাকার জন্য যুব আবাস বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথিশালা ভালো বিকল্প হতে পারে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ছুটির সময় বিদেশি ছাত্রদের ডরমিটরি ভাড়া দেয় (লিয়াওনিং নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডিইউটির চত্বরে সারা বছরই হোটেল সুবিধা উপলব্ধ)। মধ্যমানের ৩ তারকা বা ৪ তারকা চীনা পরিচালিত হোটেলগুলো সাধারণত পরিষ্কার, ঘর যথেষ্ট বড় এবং তার সাথে ভালো মানের রেস্তোরাঁও থাকে, যদিও সেখানে ইংরেজি-ভাষী কর্মচারীর সংখ্যা কম হতে পারে। শহরজুড়ে এমন অনেক হোটেল আছে, যেমনঃ- হোমিন, জিনজিয়াং ইন, হ্যান্টিং, সেভেন ডেজ্, গ্রিনহোটেল ইত্যাদি। কিছু আন্তর্জাতিক হোটেল যেমন সুপার ইন এবং হলিডে ইন এক্সপ্রেসের মূল্য কিছুটা বেশি হলেও পরিষেবা উন্নত। উচ্চমানের বিলাসবহুল হোটেলগুলো সাধারণত আন্তর্জাতিক সংস্থার দ্বারা পরিচলিত এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এই হোটেলগুলোতে সব ধরনের আধুনিক সুবিধা থাকে, তবে মূল্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, যা জাতীয় হোটেলের তুলনায় বেশি।

চীনে বেশিরভাগ হোটেলে একদিনের হিসাবে ঘরের ভাড়া ধার্য হয়। আরও তথ্যের জন্য বাইডু বা সিট্রিপের মতো চীনা অনলাইন সাইট দেখুন। অথবা আপনি কিছু হোটেলে ফোন করেও তথ্য পেতে পারেন।

কিছু যুব আবাসে বিদেশীদের থাকতে দেওয়া হয় না (আলোচনার পাতা দেখুন)।

সস্তা

তালিয়েনে ছোট হোটেলের অভাব নেই, তবে অবশ্যই আপনাকে প্রথমে তাদের নিরাপত্তা এবং বৈধতার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এছাড়াও, আপনি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশেষ মূল্যে হোটেলে ঘর সংরক্ষণ করতে পারেন। সস্তার হোটেল হিসাবে যুব আবাসও একটি বিকল্প।

মধ্যমান

তালিয়ানে অনেক মধ্যমানের হোটেল আছে। নিম্নমান ও উচ্চমানের হোটেল শহরে অনেক আছে। পর্যটন মৌসুমে শহরে আসতে চাইলে আগে থেকে ঘর সংরক্ষণ করে রাখুন, অন্যথায় পছন্দসই ঘর পাওয়া কঠিন হবে। রেলওয়ে স্টেশনের কাছে অনেক হোটেল সংস্থা আছে এবং তাদের দাম তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী।

  • তালিয়েন কেম্পিনস্কি হোটেল। ৪৫৪টি কক্ষ

বিলাসবহুল

শহরে বেশিরভাগ উচ্চমানের হোটেলগুলি কিংনিওয়া-ঝংশান স্কোয়ার এলাকা এবং হল জিংহাই এলাকায় কেন্দ্রীভূত । এই হোটেলগুলিতে থাকার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো এবং দাম অবশ্যই বেশি।

যে ধরণের আবাসন পরিকল্পনাই হোক না কেন, আগে থেকে অনলাইনে খোজখবর করে তারপরেই ঘর সংরক্ষণ করা উচিত।

বেশিরভাগ আবাসনগুলি ঝংশান জেলায় কেন্দ্রীভূত।

সংযোগ

তালিয়েনে অভ্যন্তরীন ফোন সংযোগের জন্য আঞ্চলিক কোড হল ০৪১১। স্থানীয়ভাবে কল করলে এই কোড প্রয়োজন হয় না, তবে বিদেশ থেকে কল করতে হলে +৮৬-৪১১ ডায়াল করতে হবে, যেখানে +৮৬ হলো চীনের আন্তর্জাতিক কোড। শহরের প্রায় সব হোটেলেই একটি মৌলিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র থাকে, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থাকে। তবে এই পরিষেবার মূল্য সাধারণত ইন্টারনেট ক্যাফের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে, উচ্চমানের হোটেলগুলোতে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক ফোন সংযোগের জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো ফোন বার, যেগুলো সাধারণত আবাসিক এলাকার আশেপাশেই থাকে। এই ফোন বারগুলি চীনা ভাষায় দিয়ানহুয়া বা নামে পরিচিত। কল করার জন্য আপনি ফোন বারের ভেতরে ঢুকে একটি খালি টেলিফোন বেছে নিন। প্রতিটি টেলিফোনের উপরে সাধারণত একটি নম্বর লেখা থাকে যা সেই টেলিফোন সেটের সনাক্তকারী নাম্বার। আপনার ফোন করা শেষ হলে ক্যাশিয়ারকে জানিয়ে দিন যে আপনি কোন নম্বরের ফোন ব্যবহার করেছেন। মূল্য ভিন্ন হতে পারে, তবে মাঝারি দৈর্ঘ্যের ফোন কলের জন্য ৫০ ইয়েনের বেশি খরচ হয় না। তবে ফোন বার এখন চীনে কম জনপ্রিয় তাই খুজে পাওয়া বেশ মুশকিল। আরেকটি বিকল্প হল (যদিও তাতে খরচ বেশি) কোন হোটেলের লবিতে ফোন ব্যবহারের অনুরোধ করা।

তালিয়েন শহরে মোবাইল ফোনের বহুল ব্যাবহার আছে এবং মোবাইল ফোনের দোকানও অনেক। যদি আপনার কাছে আন্তর্জাতিক রোমিং প্ল্যান থাকে, তাহলে আপনি নিজের ফোন ব্যবহার করে তালিয়েনের মধ্যে কল করতে পারবেন, তবে এই পরিষেবা খরচসাপেক্ষ হতে পারে। যদি আপনি এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় তালিয়েনে অবস্থান করেন, তাহলে স্থানীয় সিম কার্ড কেনা অর্থনৈতিকভাবে বেশি সুবিধাজনক। সাধারণত একটি সিম কার্ডের দাম ৫০ থেকে ১০০ ইয়েনের মধ্যে হয়। চীনের তিনটি প্রধান মোবাইল অপারেটর হলো: চায়না মোবাইল, চায়না টেলিকম এবং চায়না ইউনিকম। আপনার ফোনের নেটওয়ার্ক মানদন্ড অনুযায়ী উপরোক্ত তিনটির মধ্যে যেকোন একটিকে নির্বাচন করুন। যদি আপনার ফোন জিএসএম (গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন্‌স) সমর্থিত হয়, তাহলে চায়না মোবাইল বা চায়না ইউনিকম উপযুক্ত; আর সিডিএমএ (কোড ডিভিশন মাল্টিপ্‌ল অ্যাক্‌সেস) ফোনের জন্য চায়না টেলিকম ব্যবহার করুন।

চীনের অন্যান্য শহরের মতো তালিয়েনেও অনেক ইন্টারনেট ক্যাফে রয়েছে (স্থানীয় ভাষায় ওয়াং বা নামে পরিচিত) প্রচুর রয়েছে, বিশেষ করে আবাসিক এলাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের আশেপাশে। শহরের প্রায় প্রতিটি মোড়েই একটি না একটি ক্যাফে চোখে পড়বে। দোকানের সামনে 网吧 (ওয়াং বা) চিহ্ন থাকলে বুঝতে পারবেন সেটি ইন্টারনেট ক্যাফে। শহরের কেন্দ্রস্থলে এই ক্যাফেগুলো সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তবে রেলস্টেশন এবং ভিক্টোরী স্কোয়ারের আশেপাশে কিছু ইন্টারনেট ক্যাফে রয়েছে। সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় ইন্টারনেট বাবহারের খপ্রচ ১ ইয়েন থেকে ৫ ইয়েন। মনে রাখবেন বিদেশি নাগরিকরা বিশেষ আইডি কার্ড ছাড়া ইন্টারনেট ক্যাফেতে প্রবেশ করতে পারেন না এবং এই বিশেষ কার্ড শুধুমাত্র চীনা নাগরিকদেরই দেওয়া হয়। তবে শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমিকি, স্টারবাক্সের মতো কফিপান রেস্তোরাঁয় সহজেই ওয়াই-ফাই পরিষেবা উপভোগ করা যায়I

তালিয়েন শহরে বিভিন্ন স্থানে চায়না পোস্ট অফিসের বিভিন্ন শাখা ছড়িয়ে রয়েছে। দুটি প্রধান শাখার একটি রেলস্টেশনের পশ্চিমে, এবং অন্যটি ঝংশান স্কোয়ারে অবস্থিত। এই বড় পোস্ট অফিসগুলোতে সাধারণত ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর সুবিধা উপলব্ধ, তবে রেলস্টেশনের পাশের শাখাটি একমাত্র স্থান যেখানে টাকা গ্রহণের সুবিধাও রয়েছে।

চীনের অন্যান্য অঞ্চলের মতো, ইন্টারনেট ফায়ারওয়াল সুরক্ষা ব্যাবস্থা বেশিরভাগ বিদেশি ওয়েবসাইটের সাথে সংযোগে বাঁধাদান করে। তবে যদি আপনার কাছে ভিপিএন(ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) পরিষেবা উপলব্ধ থাকে তাহলে আপনি বিদেশি ওয়েবসাইটের সাথে সংযোগ করতে পারবেন। এখানে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এমনকি গুগল ম্যাপের মতো সাইটের ব্যবহার না করাই ভালো। এর পরিবর্তে বাইডুর মতো স্থানীয় পরিষেবা ব্যবহার করা উচিত। তবে উইকিপিডিয়া এবং উইকিভয়েজের মতো ওয়েবসাইট সাধারণত ব্যবহার করা যায়।

বেশিরভাগ হোটেলেই বিনামূল্যে গ্রহকদের ওয়াই-ফাই পরিষেবা দেওয়া হয়, কিন্তু যেহেতু এই ওয়াই-ফাই সংযোগগুলোকে “প্রাইভেট নেটওয়ার্ক” হিসেবে গণ্য করা হয় না, তাই ফায়ারওয়াল সংক্রান্ত সমস্যা থেকেই যায়।

সতর্ক থাকুন

চীনের অধিকাংশ শহরের ন্যায় তালিয়েনেও অপরাধের হার কম, বিশেষ করে এখানকার রাস্তাঘাটে সংঘটিত অপরাধের ঘটনা খুবই নগণ্য। তবে উত্তর-পূর্ব চীনের মানুষেরা সাধারণত দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় কিছুটা বেশি আগ্রাসী স্বভাবের, ফলে ঝগড়া বা হাতাহাতির ঘটনা ঘটতে থাকে, বিশেষ করে তারা যদি মদ্যপ অবস্থায় থাকে। বিদেশিদের সাধারণত আক্রমণ করা হয় না, তবুও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া শহরে পকেটমারদের উপস্থিতি রয়েছে, তাই জনবহুল বাজার এলাকা বা ভিড়ে ঠাসা বাস ও ট্রেনে মূল্যবান জিনিসপত্রের প্রতি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

তালিয়েনে যানজটের ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি। বর্তমানে শহরের বেশিরভাগ মানুষ মৌলিক ট্রাফিক নিয়ম জানে। আপনি যখন পায়ে হেঁটে রাস্তা পার করবেন, তখন কিছু চালক নিয়ম অনুযায়ী আপনার রাস্তা পার হওয়া অবধি অপেক্ষা করে থাকবে। তবে অধিকাংশ চালক তাড়াহুড়ো করে আগে যেতে চায় এবং সেক্ষেত্রে রাস্তা পার হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ট্রাফিক লাইটের সঠিক সংকেতের জন্য অপেক্ষা করুন, আর যদি লাইট না থাকে, তাহলে স্থানীয় মানুষেরা যেভাবে রাস্তা পার হচ্ছে, আপনিও সেভাবেই রাস্তা পার করুন। রাস্তার মোড়ে নির্দিষ্ট স্থানে কিছু বর্তনী দেখতে পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলি সাধারণত ট্রাফিক লাইটের সাথে সংযুক্ত নয়, তাই সেগুলো চাপলে লাইটের রং পরিবর্তন হবে—এটি আশা না করাই ভালো। ট্রাফিক লাইটের সংকেত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত না হওয়া অবধি অপেক্ষা করাই উত্তম।

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দিক থেকে তালিয়েন শহরে দূষণের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম, যার ফলে চীনের অন্যান্য শহরের মতো এখানে বায়ুজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা সেরকম দেখা যায়না। যদিও শহরের জল মানদন্ড অনুসারে পানযোগ্য, কিন্তু তাতে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি থাকে এবং শহরের পাইপলাইনগুলোর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়, তাই জল ফুটিয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক। বোতলজাত জল সাধারণত নিরাপদ। এখানজার স্থানীয়রা হয় কলের জল ফুটিয়ে নেয়, নয়তো পরিশ্রুত জল কিনে পান করে। তবে দাঁত ব্রাশ বা ধৌতকর্মের জন্য কলের জল ব্যবহার করা নিরাপদ। খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে এখানে কঠোর নিয়ম পালন করা হয়। কড়া পরিদর্শনের ফলে অধিকাংশ রেস্তোরাঁর খাবার নিরাপদ। তবুও কিছু ভালো মানের রেস্তোরাঁয় মাঝে মাঝে পুরনো সামুদ্রিক খাবার পরিবেশন করা হয়। যেসব রেস্তোরাঁগুলি অস্বাভাবিক রকমের ফাঁকা, সেগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো (কারণ, হয়তো সেখানকার খাবার খেয়ে আপনাকে এক সপ্তাহ পেটের রোগে ভুগতে হবে। এমন অভিজ্ঞতা হওয়ার পর মানুষ আর সেখানে খেতে আসে না)। তালিয়েনের বৈধ রেস্তোরাঁগুলিকে খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ থেকে বিভিন্ন রেটিং দেওয়া হয়। যদি এ রেটিং দেওয়া হয় তাহলে সেই রেস্তোরাঁটি চমৎকার, যদি বি রেটিং দেওয়া হয় তাহলে সেই রেস্তোরাঁর খাবারের গুনমান ভালো আর যদি সি রেটিং দেওয়া হয় তাহলে সেই রেস্তোরাঁটির খাবার মোটামুটি। যদি কোনো রেস্তোরাঁয় এই রেটিং চিহ্ন না থাকে তাহলে ধরে নিতে হয় যে, পরিদর্শনের সময় তারা গুনমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি অথবা তারা অবৈধভাবে ব্যাবসা চালাচ্ছে। তাই রেস্তোরাঁয় খাওয়ার খাওয়ার আগে রেটিং দেখে নেওয়াই ভালো। ভালো গুনমানের খাবার পেতে বি বা তার উপরের রেটিংযুক্ত রেস্তোরাঁ বেছে নিন। যাত্রার আগে আমাশয় জাতীয় পেট সংক্রান্ত রোগের কিছু ওষুধ সঙ্গে রাখা ভালো। তালিয়েন শহরে অনেক হাসপাতাল রয়েছে, যার মধ্যে উওউ লুতে অবস্থিত ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল (+৮৬ ০৪১১ ৮২৭১ ৮৮২২) এবং তালিয়েন আরোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংযুক্ত হাসপাতালে (চীনা ভাষায় "ফুয়ি" নামে পরিচিত) ইংরেজি জানা কর্মীদের উপস্থিতির সম্ভাবনা বেশি। চীনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অতিমাত্রায় পুঁজিবাদী নির্ভর, তাই চিকিৎসা পরিষেবা পেতে হলে আগে নগদ অর্থে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। চিকিৎসার প্রয়োজন হলে আপনার হাতে বেশ কিছু স্থানীয় ইউয়ান মুদ্রা রাখবেন।

আপাতকালীন ফোন নম্বরসমূহ

  • পুলিশের জন্য ১১০ নাম্বার ডায়াল করুন
  • ট্রাফিক পুলিশের জন্য ১১২ নাম্বার ডায়াল করুন (শুধু আপাতকালীন ক্ষেত্রে)
  • অগ্নিনির্বাপক বিভাগের নাম্বার ১১৯
  • চিকিৎসা সহায়তা বা অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ১২০ নাম্বার ডায়াল করুন

যদি খুব জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তাহলে প্রথমে ১১০ নম্বরে কল করুন।

মোকাবেলা

বর্তমানে শহরের ডিপার্টমেন্ট স্টোর (খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান যেখানে একই ছাদের নিচে বিভিন্ন ধরণের ভোগ্যপণ্য বিক্রয় করা হয়) ও সুপারমার্কেটে (বড় বিপণন কেন্দ্র) ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের ব্যবহার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু এর বাইরে অন্যান্য বেশিরভাগ দোকানে এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে এখনও শুধুমাত্র নগদ অর্থে লেনদেন হয়। শুধুমাত্র খুব বড় বা ব্যয়বহুল দোকানগুলোই বিদেশি ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করে। তাই, আপনি যদি শহরে ঘুরতে চান, তাহলে হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখা সবচেয়ে ভালো।এখানকার প্রায় সমস্ত ব্যাংকের শাখায় এটিএমের সুবিধা উপলব্ধ রয়েছে এবং অধিকাংশ বড় ব্যাংক এখন বিদেশি ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থের লেনদেন প্রক্রিয়াকে বৈধতা প্রদান করেছে। ব্যাংক অব চায়নার প্রতিটি শাখায় বিদেশি ব্যাংকের কার্ড গৃহীত হয় এবং বেশিরভাগ শাখায় ইংরেজি নির্দেশনাও দেওয়া হয়। আরও জটিল আর্থিক লেনদেনের জন্য, যেমন মুদ্রা বিনিময় বা ভ্রমণকারীদের চেক—এই সমস্ত পরিষেবা লাভ করতে চাইলে আপনি ঝংশান স্কোয়ারের উত্তর পাশে অবস্থিত ব্যাংক অব চায়নার শাখাতে যেতে পারেন। এছাড়াও, শাংরি-লা হোটেলের ঠিক পূর্বে রেনমিন লুতে অবস্থিত এইচএসবিসি ব্যাংকের শাখাতেও আপনি এই সমস্ত পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

উপাসনা স্থল

  • তালিয়েনের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য চেং'এন চার্চ, চাংজিয়াং লু ও বেইজিং জি। দুটি রাস্তার সংযোগস্থলে অবস্থিত এই উপাসনালয়ে পৌছাতে ২০১ নং ট্রলি ব্যাবহার করতে পারেন। এখানে স্থানীয় ও বিদেশি সকলকেই মান্দারিন ভাষায় পরিচালিত উপাসনা সংগীতের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়।
  • সুইসোতেলের চার্চ। একটি অননুমোদিত হোটেলে রবিবারের বিশেষ উপাসনার আয়োজন করা হয়। শুধুমাত্র বিদেশি পাসপোর্টধারীরাই এতে অংশ নিতে পারেন।
  • বেইজিং জিয়েতে (দিই ই দোংশুয়ের কাছে) একটি মসজিদও রয়েছে।

দূতাবাস ভবন

  • Japan

Flag of Japan

(ছবি: Various, Public domain)

পরবর্তী গন্তব্য

  • শেনইয়াং
  • বেনশি
  • আনশান
  • লিয়াওয়াং
  • দানডং

{{#assessment:শহর|ব্যবহারযোগ্য}}

এই পাতা কোথা থেকে এসেছে

এই পাতাটি উইকিভ্রমণ থেকে আনা হয়েছে। “তালিয়েন” — উইকিভ্রমণ থেকে, এর অবদানকারীদের লেখা, CC BY-SA 4.0 লাইসেন্সে। এখানে যা বদলানো হয়েছে: পাতা হিসেবে সাজানো; সম্পাদনা-লিংক, মানচিত্র ও তালিকার মেটাডেটা বাদ; প্রতিটি ছবি নিজস্ব লাইসেন্সে, ক্যাপশনে উল্লেখসহ।

এটি এখনও কেউ লেখেননি: এটি নতুন ঠিকানায় রাখা মূল উপাদান, তাই সার্চ ইঞ্জিনকে এটি সূচিভুক্ত না করতে বলা হয়েছে এবং এ থেকে কেউ আয় করেন না। পাতাটি খালি: দায়িত্ব নিন, তাহলে এটি নতুন করে লেখা ও এ থেকে আয় করা আপনার।

IdiomasবাংলাEnglish中文РусскийDeutsch

Licencia: CC BY-SA 4.0 · Adaptado de bn.wikivoyage.org

1

0

0

0

Spinner Logo

Comentarios

Spinner Logo
Versión: 1CC BY-SA 4.0
ভিডিও রেকর্ডিং
Versión: 1CC BY-SA 4.0
**স্টেরাইল ট্রানজিট** আন্তর্জাতিক ভ্রমণের একটি পদ, যেখানে একজন ভ্রমণকারী কোনো দেশের ভূখণ্ডের একটি অংশে ঢুকেই বেরোতে (ট্রানজিট করতে) পারেন কিন্তু আইনীভাবে সেই দেশে প্রবেশ করেন না, ফলে শুল্ক বা অভিবাসন আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগ করা হয় না। এটি সাধারণত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ