Есть что улучшить? Предложите правку.
হ্যাঁ, আপাতত দারুণ সব রেস্তোরাঁ আর বাহারি বুটিকের জন্য এলমউড ভিলেজ হয়তো বাফেলোর সেরা পাড়া। স্থানীয় শিল্পী আর বাউণ্ডুলেদের আড্ডার জায়গা হলো অ্যালেনটাউন। আর পুরোনো শহরকে নতুন রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো সবার ওপরে ডাউনটাউন, যার সঙ্গে পশ্চিম নিউ ইয়র্কের মানুষ বেশ অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। তবে একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই বুঝবেন, এই তিন মুকুটই কেড়ে নিতে তৈরি হচ্ছে ওয়েস্ট সাইড। শহরের এই অংশের ভোল বদলের কাজ এখনো পুরো শেষ হয়নি ঠিকই, তবে একুশ শতকের গোড়ার দিকে নানা দেশ থেকে আসা প্রাণবন্ত অভিবাসী জনগোষ্ঠীর হাত ধরে এখানে সংস্কৃতির যে বর্ণিল মেলা বসেছে, তার একটা আলাদা টান আছে।

প্রসপেক্ট হিল পাড়ার ওপর প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে কানেটিকাট স্ট্রিট আর্মোরি । সামনের দিকে দেখা যাচ্ছে ওলমস্টেডের নকশা করা প্রসপেক্ট পার্ক । (ছবি: Andre Carrotflower, CC BY-SA 3.0)
বৈচিত্র্যই এখানকার মূল প্রাণ। খাঁটি আফ্রিকান হস্তশিল্পের দোকানে ঘুরে ঘুরে সিঙাড়ায় কামড় বসান, তারপর ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে লাইনে দাঁড়ান। দেখবেন পেছনের মানুষগুলো হয়তো নিজেদের মধ্যে বর্মী ভাষায় গল্প করছে, আর বাইরে রাস্তা দিয়ে তারস্বরে রেগেটন গান বাজিয়ে ছুটে যাচ্ছে কোনো গাড়ি। এটাই ওয়েস্ট সাইডের আসল রূপ। দিনভর ঘুরেফিরে ক্লান্ত হয়ে পড়লে চলে যান নদীর পাড়ে। ছায়াঘেরা রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা ভিক্টোরীয় আমলের অপূর্ব সব বাড়ি পেরিয়ে নদীর হাওয়ায় গা জুড়ান, আর চোখ মেলে দেখুন উত্তাল নায়াগ্রা নদীর রূপ।
যাঁরা একটু সেকেলে ধরনের স্থানীয়, তাঁরা হয়তো আপনাকে রিচমন্ড অ্যাভিনিউ পেরিয়ে পশ্চিমে যেতে বারণ করবেন। বলবেন ওদিকটা নাকি "বিপজ্জনক", ওটা একটা "বস্তিপাড়া"। সত্যি বলতে, গত অর্ধশতকে ওয়েস্ট সাইডকে অনেক চড়াই-উতরাই পেরোতে হয়েছে। অপরাধ, দারিদ্র্য আর সামাজিক নানা টানাপোড়েন এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে ছাই থেকে ফিনিক্স পাখির মতো বাফেলোর নতুন করে বেঁচে ওঠার গল্প যদি কোনো পাড়াকে দেখে সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়, তবে সেটা এই ওয়েস্ট সাইডই। তাই যাঁরা ভয় দেখান, তাঁদের কথায় কান দেবেন না। তবে আভিজাত্যের ছোঁয়ায় এই পাড়ার খাঁটি রূপটা বদলে যাওয়ার আগেই ঘুরে আসা ভালো।
পরিচিতি
ওয়েস্ট সাইড আসলে একক কোনো পাড়া নয়, বরং অনেকগুলো এলাকার এক চমৎকার মেলবন্ধন। পাড়াগুলোর চালচলনে মিল থাকলেও প্রতিটিরই নিজস্ব একটা রূপ আছে, যা ঘুরে দেখলে বেশ ভালো লাগবে।
নতুন রূপ পাওয়া আধুনিক ওয়েস্ট সাইডের কেন্দ্রবিন্দু নিশ্চিতভাবেই গ্রান্ট-ফেরি। জমজমাট এই ব্যবসায়ী এলাকাটি গত পঞ্চাশ বছরে বারবার নিজের খোলস বদলেছে। প্রথমে ছিল লিটল ইতালি, পরে এলো পুয়ের্তো রিকান ছোঁয়া, আর এখন এটি বর্মী, ভিয়েতনামী, নেপালি, আফ্রিকান, আরবসহ প্রথম প্রজন্মের বহু অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মিলনমেলা। সেই সঙ্গে কাছের বাফেলো স্টেট কলেজ-এর কল্যাণে এখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও বাড়ছে। লোয়ার ওয়েস্ট সাইড এখনো হিস্পানিক বা লাতিন জনগোষ্ঠীর আধিক্য বেশি। তবে অ্যালেনটাউন আর এলমউড ভিলেজ থেকে তরুণ মধ্যবিত্ত দল এখানে এসে বাসা বাঁধছে। তাঁরা প্রসপেক্ট হিল, ওয়েস্ট ভিলেজ আর ফাইভ পয়েন্টস-এর মতো জায়গাগুলোতে পুরোনো ভিক্টোরীয় বাড়ি কিনে সেগুলোর সংস্কার করছেন। বিশেষ করে রোড আইল্যান্ড, ব্রেটন আর ওয়েস্ট ইউটিকা স্ট্রিটের সংযোগস্থলে গড়ে উঠেছে আর্ট গ্যালারি, অভিজাত রেস্তোরাঁ আর বিশেষায়িত কিছু দোকানপাট।
উত্তরের তিনটি এলাকা ওয়েস্ট সাইডের মূল অংশ থেকে কিছুটা আলাদা, অনেকে এদের আলাদা জেলা হিসেবেই দেখেন। ব্ল্যাক রক একটি শান্ত, ঐতিহাসিক আবাসিক এলাকা। উনিশ শতকে ওয়েস্ট সাইডে আসা জার্মান শ্রমজীবী মানুষের উত্তরসূরিরা এখনো এখানে বাস করেন, স্থানীয়ভাবে যাঁদের আদর করে ডাকা হয় "রিভার র্যাটস"। একই নামের দুটি রাস্তার মোড় ঘিরে গড়ে ওঠা গ্রান্ট-অ্যামহার্স্ট বাণিজ্যিক এলাকাটি ব্ল্যাক রকেরই একটি অংশ। নিউ ইয়র্ক সেন্ট্রাল রেলপথের কারণে মূল ব্ল্যাক রক থেকে এটি কিছুটা আলাদা। তাই অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটের বাতিস্তম্ভে ঝুলানো ব্যানারে লেখা থাকে "ডাউনটাউন ব্ল্যাক রকে স্বাগতম"। এলাকাটির বৈশিষ্ট্যও আলাদা। এটি যেন পুরো ওয়েস্ট সাইডেরই এক ক্ষুদ্র সংস্করণ। এখানে অভিবাসী, হিস্পানিক, কলেজ শিক্ষার্থী আর ব্ল্যাক রকের শ্রমজীবী শ্বেতাঙ্গরা সবাই মিলেমিশে থাকেন। আরও উত্তরে রয়েছে রিভারসাইড। এটি শ্রমজীবী মানুষের বাড়িঘর আর পাড়ার ছোটখাটো দোকানে ঘেরা একটু নিরিবিলি এলাকা। এর কেন্দ্রে রয়েছে রিভারসাইড পার্ক, যেখান থেকে নায়াগ্রা নদীর চমৎকার দৃশ্য চোখে পড়ে।
ইতিহাস
স্থানীয় অনেকের কাছেই হয়তো অজানা, কিন্তু ওয়েস্ট সাইড বাফেলোর অন্যতম ঐতিহাসিক একটি এলাকা। ১৮০২ সালে ফেডারেল সরকার এখান থেকে উত্তর দিকে লুইস্টন পর্যন্ত ৪৮ কিমি (৩০ মাইল) দীর্ঘ মিলিটারি রোড তৈরি করার মাধ্যমে এর ইতিহাস শুরু হয়। বিপ্লবোত্তর বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে বেশ উত্তেজনা ছিল। কানাডা থেকে ব্রিটিশরা হামলা চালালে এই সামরিক পথ ধরে খুব দ্রুত ফোর্ট নায়াগ্রা এবং অচিরেই নায়াগ্রা ও হ্যাম্পশায়ার স্ট্রিটের কোণে গড়ে ওঠা ফোর্ট টম্পকিন্স-এর মধ্যে সৈন্য আনা-নেওয়া করা যেত। এর দুই বছর পর বাফেলোর প্রতিষ্ঠাতা জোসেফ এলিকটের সহযোগী এবং ক্যানানডাইগুয়ার স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান পিটার পোর্টার বাফেলো থেকে প্রায় ৩.২ কিমি (২ মাইল) উত্তরে মিলিটারি রোডের পাশে তাঁর নদীর তীরের বিশাল জমিতে একটি বসতি স্থাপন শুরু করেন। বর্তমান পিস ব্রিজের ঠিক উত্তরে নায়াগ্রা নদীতে জেগে থাকা কালো চুনাপাথরের চড়ার নামানুসারে তিনি এই নতুন জনপদের নাম দেন "ব্ল্যাক রক"। বর্তমান ব্ল্যাক রক এলাকার চেয়ে পোর্টারের ব্ল্যাক রক আকারে অনেক বড় ছিল, বলতে গেলে আজকের পুরো ওয়েস্ট সাইডই এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর তিনটি ভাগ ছিল: বর্তমান আপার ওয়েস্ট সাইডের বড় অংশজুড়ে ছিল আপার ব্ল্যাক রক, যা নায়াগ্রা ও ওয়েস্ট ফেরি স্ট্রিটের মোড় ঘিরে গড়ে ওঠে; ছোট অংশটি ছিল লোয়ার ব্ল্যাক রক (পরবর্তীতে ১৮৩৩ সালে ইরি খালে বাঁধ ও লক বসানোর পর এটি ব্ল্যাক রক ড্যাম নামেও পরিচিত হয়), যা বর্তমানের ব্ল্যাক রক পাড়া; আর নদীর তীরের সমান্তরালে বিশেষ গ্রিড নকশায় গড়ে ওঠা বর্তমানের লোয়ার ওয়েস্ট সাইড ছিল সাউথ ব্ল্যাক রক। তবে তখন এলাকাটি ছিল বনজঙ্গলে ভরা, ১৮৩০ ও ১৮৪০ সালের আগে এখানকার রাস্তাগুলো বাস্তবে তৈরিই হয়নি। আপার ও লোয়ার ব্ল্যাক রকের মাঝামাঝি জায়গায় স্কাযাকুয়াদা খাঁড়ির মুখে একটি পোতাশ্রয় ছিল, যেখানে পোর্টারের একটি জাহাজ তৈরির কারখানা গড়ে ওঠে।
ব্ল্যাক রকের প্রতিষ্ঠাতা ও সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিত্ব পিটার পোর্টার রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। তিনি নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ও মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ছিলেন, এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জন কুইন্সি অ্যাডামসের যুদ্ধসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। (ছবি: Daniel Huntington / After Matthew Harris Jouett, Public domain)
যে বছর ব্ল্যাক রককে গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, সে বছরই নায়াগ্রা নদীজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ১৮১২ সালের যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন বাহিনী জেনারেল জর্জ ম্যাকক্লুরের নেতৃত্বে কানাডা আক্রমণ করে এবং সীমান্ত শহর ইয়র্ক (বর্তমান টরন্টো) ও নিউয়ার্ক (বর্তমান নায়াগ্রা-অন-দ্য-লেক) তছনছ ও লুটপাট করে। এর জবাবে ১৮১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ব্রিটিশ সৈন্যরা নদী পার হয়ে ব্ল্যাক রকে নামে এবং পুরো এলাকা আগুনে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়ে একই উদ্দেশ্যে বাফেলোর দিকে এগিয়ে যায়। যুদ্ধের পর ব্ল্যাক রক দ্রুত পুনর্নির্মিত হলেও এটি যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত সংঘাতের কেন্দ্র ছিল। কমোডর অলিভার হ্যাজার্ড পেরির যুদ্ধজাহাজের বহর তৈরিতে পোর্টারের জাহাজ কারখানা তখন দারুণ ব্যস্ত ছিল। ১৮১৪ সালের আগস্টে স্কাযাকুয়াদা ক্রিক ব্রিজের যুদ্ধে ব্রিটিশদের দ্বিতীয় অভিযান ঠেকিয়ে দেওয়া হয়। ১৮১৫ সালে যুদ্ধ শেষ হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। হাডসন নদী ও ইরি হ্রদকে যুক্ত করার জন্য যখন এক বিশাল খালের পরিকল্পনা শুরু হয়, তখন ১৮১৬ সালের দিকে ব্ল্যাক রক ও বাফেলোর মধ্যকার রেষারেষি চরমে পৌঁছায়। সবাই বুঝতে পেরেছিল যে ইরি খাল বাণিজ্যের নতুন দুয়ার খুলে দেবে এবং এটি শুরু হবে অ্যালবানি থেকে। কিন্তু এর পশ্চিম প্রান্ত ঠিক কোথায় শেষ হবে, তা ঠিক করা বাকি ছিল। পোর্টার তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাফেলোর বদলে ব্ল্যাক রককে টার্মিনাস করার জোর দাবি তোলেন। শুরুতে শক্তিশালী নায়াগ্রা নদীর স্রোত থেকে ইউনিটি দ্বীপের আড়ালে সুরক্ষিত চমৎকার পোতাশ্রয় এবং বাফেলো পর্যন্ত খাল নিতে আরও ৩ কিমি বাড়তি খনন করার ঝামেলা এড়াতে ব্ল্যাক রকই এগিয়ে ছিল। ইরি হ্রদের প্রথম স্টিমবোট ওয়াক-ইন-দ্য-ওয়াটার ব্ল্যাক রকের পোতাশ্রয় থেকেই সফলভাবে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে বাফেলোবাসী দ্রুত একজোট হয়ে তাঁদের পোতাশ্রয় গভীরভাবে ড্রেজিং করার পর ১৮২১ সালে বাফেলোকেই খালের শেষ প্রান্ত হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। ১৮২৫ সালে যখন ইরি খাল চালু হয়, তখন তা ব্ল্যাক রকের ভেতর দিয়েই চলে যায়। চরম অপমান হিসেবে যে কালো পাথরের জন্য ব্ল্যাক রকের নাম হয়েছিল, খালের পথের বাধা কাটাতে সেই পাথরটিকেই ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিতে হয়।
অনুমিতভাবেই বাফেলোর দ্রুত বিস্তার ঘটে এবং ১৮৩২ সালে সাউথ ব্ল্যাক রককে বাফেলোর সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিশাল প্রতিবেশীর ছায়াতলে ব্ল্যাক রক হয়তো স্বাধীন জনপদ হিসেবে টিকে থাকতে পারত, কিন্তু খালের পরের বছরগুলো ছিল অত্যন্ত কঠিন। এর কিছুদিন আগে এক প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই ১৮৩৭ সালের অর্থনৈতিক মন্দায় ব্ল্যাক রকের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং অর্ধেক ব্যবসাই বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও তা স্বাতন্ত্র্য বিসর্জন দিয়েই আসে। এলাকার প্রথম রেলপথ বাফেলো অ্যান্ড নায়াগ্রা ফলস রেলপথ আপার ব্ল্যাক রককে ময়দা কল ও পিপে তৈরির বড় কেন্দ্রে পরিণত করে। ফলে এখানে জার্মান ও আইরিশ শ্রমিকদের ঢল নামে, যার মাধ্যমে ব্ল্যাক রকের অর্থনীতি বাফেলোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়ে। তবে লোয়ার ব্ল্যাক রক তার নিজস্ব গ্রামীণ রূপ ও স্বাতন্ত্র্য অনেকটাই ধরে রাখতে পেরেছিল। বিশেষ করে মার্কেট স্কয়ারের আশপাশের রাস্তাগুলোতে তখনো ছোট শহরের আবহ ছিল। অবশেষে ১৮৫৩ সালে বাফেলোর নগর সনদে সংশোধনের মাধ্যমে পুরো ব্ল্যাক রককে বাফেলোর সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়া হয়, যার ফলে স্বাধীন গ্রাম হিসেবে ব্ল্যাক রকের ইতিহাসের ইতি ঘটে।
এত কিছুর পরেও পরবর্তী দশকগুলোতে বাফেলোর অন্তর্ভুক্ত এই ওয়েস্ট সাইডের দ্রুত বিকাশ ঘটে। ১৮৫০ সালের দিকে সাবেক মেয়র এবিনেজার জনসন টেনেসিতে চলে যাওয়ার সময় লোয়ার ওয়েস্ট সাইডে তাঁর বিশাল ভূসম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেন। এই ভূসম্পত্তি কেটে রাস্তা ও বাড়িঘর বানানো হয়, যা দ্রুত শ্রমজীবী মানুষের এলাকায় পরিণত হয়। খাল ছিল মাত্র কয়েক ব্লক দূরে, তাই ফার্স্ট ওয়ার্ডের ঘিঞ্জি বস্তি থেকে মুক্তি পেতে আইরিশ খাল-শ্রমিকরা এখানে চলে আসতে শুরু করেন। আইরিশরা যেমন উত্তরের দিকে এগিয়ে যায়, তেমনি ডাউনটাউনের কাছের ব্লকগুলোতে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ইতালীয়রা। ১৮৭০-এর দশক থেকে তারা খাল ও রেলপথের কাজের জন্য আইরিশদের সঙ্গে পাল্লা দিতে থাকে। আরও উত্তরে বিশিষ্ট ল্যান্ডস্কেপ স্থপতি ফ্রেডেরিক ল ওলমস্টেডের পরিকল্পিত পার্ক ব্যবস্থা প্রসপেক্ট হিলের দিকে মানুষের নজর কাড়ে। এর পশ্চিম বাহু ছিল সুদৃশ্য এলম গাছে ঘেরা পোর্টার অ্যাভিনিউ, যা পুরোনো সাউথ ব্ল্যাক রকের গ্রিড ভেদ করে প্রসপেক্ট পার্ক পেরিয়ে গিয়ে ঠেকেছিল ইরি হ্রদের তীরের মনোরম সবুজ প্রান্তর দ্য ফ্রন্টে (বর্তমান ফ্রন্ট পার্ক)। একইভাবে পূর্বাঞ্চলীয় সীমানা ধরে ডেলাওয়্যার পার্কের দিকে বিস্তৃত হয়েছিল মনোরম রিচমন্ড অ্যাভিনিউ।
পরের বছরগুলোতে ওয়েস্ট সাইডের ব্যাপ্তি ও বৈচিত্র্য আরও বাড়ে। ১৮৮৩ সালে বাফেলোর বাইরের পাড়াগুলোর মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া নিউ ইয়র্ক সেন্ট্রাল রেলপথের বৃত্তাকার লোকাল লাইন বেল্ট লাইন ব্ল্যাক রকের অনাবাদি পূর্ব প্রান্তে বসতি গড়তে সাহায্য করে। গ্রান্ট ও অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটের কোণে নতুন গড়ে ওঠা চার্চ অব দ্য অ্যাজাম্পশন-কে ঘিরে পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও ইউক্রেনের একদল শিল্প-শ্রমিক বসবাস শুরু করেন। এদিকে সচ্ছল জার্মান ও আইরিশরা যখন আরও বাইরের দিকে ছড়াতে থাকেন, তখন ক্রমবর্ধমান শিল্পাঞ্চল ব্ল্যাক রকের উত্তরের জমিও রূপ নিতে থাকে। প্রায় ১৯০০ সালের দিকে বাফেলোর উত্তর-পশ্চিম কোণে তৈরি হয় দ্বিতীয় ওলমস্টেড পার্ক জার্মানিয়া পার্ক (যার বর্তমান নাম রিভারসাইড পার্ক), যা বর্তমানে রিভারসাইড নামে পরিচিত। শুরুতে বাফেলোর ধনী অভিজাতদের বাগানবাড়ির জন্য পরিচিত এই এলাকাটি পরে ব্ল্যাক রকের এক মনোরম সবুজ উপশহরে পরিণত হয়, যেখানে ছিল খোলামেলা জায়গা, বড় বড় বাড়ি আর অবস্থাপন্ন মানুষের বাস।
উনিশ শতকের শেষের দিকে রেলপথের প্রসারের সাথে সাথে ইরি খালের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায় এবং তা পরিত্যক্ত হয়। তবে তা সত্ত্বেও বিশ শতকের প্রথমার্ধে ওয়েস্ট সাইডের পরিবেশ ছিল বেশ স্থিতিশীল। কিন্তু শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে যা এই অঞ্চলের ভিত নাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক পরেই বাফেলোর জনসংখ্যা বৃদ্ধি থমকে যায়। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারের কারণে মানুষ ডাউনটাউনের চাকরি ধরে রেখেও কম ভিড়ের শহরতলিতে বাসা বাঁধতে থাকে। মোটরগাড়ির উত্থানের ফলে রেলপথের গুরুত্ব কমে যায়। আর বাফেলোকে পাশ কাটিয়ে মালবাহী জাহাজের সমুদ্রে যাওয়ার বিকল্প পথ হিসেবে সেন্ট লরেন্স সিওয়ে চালু হওয়ায় অভ্যন্তরীণ বন্দর হিসেবে বাফেলোর সোনালী যুগের অবসান ঘটে। আরও খারাপ হয় যখন সংকটের মুখে পড়ে নেওয়া শহরের ভুল নগর-উন্নয়ন পরিকল্পনা বাফেলোর অনেক এলাকার মতো ওয়েস্ট সাইডকেও ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। লোয়ার ওয়েস্ট সাইডের সারি সারি চমৎকার লাল ইটের ভিক্টোরীয় বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গরিব হলেও ইতালীয়দের এই প্রাণবন্ত পাড়াগুলোকে নগরপিতারা "বস্তি" আখ্যা দিয়ে সেখানে সরকারি আবাসন প্রকল্প তৈরি করেন, যা আগের চেয়ে কোনো অংশেই ভালো ছিল না। ফলে ইতালীয়রা শহরের নানা দিকে (বিশেষ করে হার্টেল অ্যাভিনিউ এলাকায়) ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়। একই সাথে পরিত্যক্ত ইরি খালের ওপর তৈরি হয় দানবীয় মহাসড়ক ইন্টারস্টেট ১৯০ (আই-১৯০)। ১৯৫৮ সালে এই মহাসড়ক চালুর ফলে বাফেলো কার্যত তার নিজস্ব জলভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফ্রন্ট আর রিভারসাইড পার্কের শান্ত নদীদর্শনের জায়গা দখল করে নেয় গর্জনশীল এক এক্সপ্রেসওয়ে। তবে সৌভাগ্যবশত ষাটের দশকের শেষভাগে সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ভার্জিনিয়া স্ট্রিট বরাবর লোয়ার ওয়েস্ট সাইডকে দ্বিখণ্ডিত করার আরেক মহাসড়ক পরিকল্পনা ওয়েস্ট সাইড আর্টেরিয়াল বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। আই-১৯০ এর নায়াগ্রা স্ট্রিটের বিশাল এক্সিটটি দেখলেই বোঝা যায় এলাকাটির ওপর কেমন বিপর্যয় নেমে আসতে পারত।
আশির দশকে এসে ওয়েস্ট সাইডের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। লোয়ার ওয়েস্ট সাইডে ইতালীয়দের জায়গা নেওয়া হিস্পানিক সম্প্রদায় (যারা পরবর্তীতে প্রসপেক্ট হিল ও আপার ওয়েস্ট সাইডের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে) এলাকাটিকে টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও মাদক, অপরাধ আর দারিদ্র্যের সাথে লড়াইয়ে তারা কুলিয়ে উঠতে পারছিল না। তবে নতুন সহস্রাব্দের শুরুতে আশার আলো দেখা যায়। এলাকাটিকে রক্ষা করে তার ঐতিহ্যবাহী জাতিগত বৈচিত্র্য। কম ভাড়ায় বাড়ি আর জীবনযাত্রার স্বল্প খরচের কারণে নতুন আসা অভিবাসীরা এই এলাকায় ভিড় জমাতে থাকেন। আপার ওয়েস্ট সাইডে নিজের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ২০০৩ সালে ড. মাইরন গ্লিক যখন শরণার্থীদের খাদ্য, বাসস্থান, অর্থ, শিক্ষা ও সাক্ষরতার সহায়তা দিতে জেরিকো রোড মিনিস্ট্রিজ গড়ে তোলেন, তখন নতুন অভিবাসীদের গন্তব্য হিসেবে বাফেলো নিউ ইয়র্ক সিটিকেও ছাড়িয়ে যায়। একই সময় এলমউড ভিলেজের মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে সেখান থেকে চলে আসা ছাত্রবান্ধব দোকানপাটগুলোকে গ্রান্ট স্ট্রিটে জায়গা করে দিতে সাহায্য করে বাফেলো স্টেট কলেজ। ২০০০-এর দশকে প্রসপেক্ট হিল এলাকায় ব্যাপক বিনিয়োগ করে কাছের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডি'ইউভিল কলেজ। এই রূপান্তর দেখে আকৃষ্ট হয়ে মধ্যবিত্ত তরুণরা এখানে আসেন, সেই সঙ্গে আসেন ঐতিহ্যপ্রেমী উদ্যোক্তারা। ২০০৭ সালে প্রিশ মোরানের হাতে গড়ে ওঠা কফি শপ সুইট_নেস ৭ চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে গ্রান্ট-ফেরি বাফেলোর সবচেয়ে ট্রেন্ডি পাড়া হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সম্পত্তির মূল্যবৃদ্ধির যে জোয়ার তখন শুরু হয়েছিল তা আজও চলছে। আজকের ওয়েস্ট সাইড সত্যিই ভস্ম থেকে আবার নতুন করে জেগে উঠছে।
আবহাওয়া
বাফেলো ডাউনটাউনের মতো হলেও অতটা চরম নয়, তবে ওয়েস্ট সাইডের নদী তীরবর্তী এলাকা শহরের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশ ঠান্ডা আর বাতাসমুখর। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে স্বস্তির শীতল হাওয়া পেতেই স্থানীয়রা ভিড় জমান নদীর তীরের লাসাল পার্কের মতো জায়গায়। তবে একই কারণে বসন্ত বা হেমন্তে যাঁরা বার্ড আইল্যান্ড পিয়ারে হাঁটতে যেতে চান, তাঁদের অবশ্যই উইন্ডব্রেকার জ্যাকেট আর ফুলপ্যান্ট পরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বাফেলোয় এসে এমন কোনো সাইনবোর্ড চোখে পড়লে ধরে নিতে পারেন আপনি ওয়েস্ট সাইডেই আছেন। ধারণা করা হয় বাফেলোয় প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি ভাষাভাষী মানুষ বাস করেন, আর এই বৈচিত্র্যময় অঞ্চলের রাস্তায় বেরোলেই তার সত্যতা বোঝা যায়। (ছবি: Andre Carrotflower, CC BY-SA 3.0)
ভাষা
বাফেলোর হিস্পানিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ঠিকানা হওয়ায় ওয়েস্ট সাইডে ইংরেজির প্রায় সমান তালে স্প্যানিশ ভাষা শোনা যায়। তবে এখানে স্প্যানিশ চর্চা করতে চাইলে কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন। এখানকার ক্যারিবীয় ঘরানার স্প্যানিশের টান অত্যন্ত দ্রুত আর কিছুটা অস্পষ্ট, যা সাধারণ স্প্যানিশে অভ্যস্তদের পক্ষে বোঝা একটু কঠিন হতে পারে।
তবে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে স্প্যানিশের একচ্ছত্র আধিপত্য এখন অনেকটাই কমতির দিকে। গ্রান্ট স্ট্রিট এবং আশপাশের এলাকায় নতুন অভিবাসীদের আগমনের ফলে এখানে হরহামেশাই বর্মী, ভিয়েতনামী, তাইওয়ানি, সোমালি আর আমহারিক ভাষা শোনা যায়।
যাঁরা শুধু একটি ভাষাই জানেন, তাঁদের চিন্তার কিছু নেই। অভিবাসীদের জাতীয়তা যাই হোক না কেন, ওয়েস্ট সাইডে একেবারে ইংরেজি বলতে পারেন না এমন মানুষের দেখা মেলা বেশ বিরল।
শহরে ঘোরাফেরা
গাড়িতে
ডাউনটাউন থেকে টোনাওয়ান্ডা (এবং সেখান থেকে নায়াগ্রা জলপ্রপাত ও কানাডা সীমান্ত) পর্যন্ত পুরো ওয়েস্ট সাইডের নদীর পাড় ঘেঁষে গেছে ইন্টারস্টেট ১৯০ (আই-১৯০)। এই মহাসড়ক দিয়ে খুব সহজেই গোটা এলাকায় পৌঁছানো যায়:
- এক্সিট ৮ (নায়াগ্রা স্ট্রিট) দিয়ে ওয়েস্ট ভিলেজ, লোয়ার ওয়েস্ট সাইড এবং ডাউনটাউনে যাওয়া যায়।
- এক্সিট ৯ (উত্তরমুখী লেনের জন্য পিস ব্রিজ; দক্ষিণমুখী লেনের জন্য পোর্টার অ্যাভিনিউ) ধরে প্রসপেক্ট হিল এবং পিস ব্রিজ হয়ে অন্টারিওর ফোর্ট ইরিতে যাওয়া যায়। দক্ষিণমুখী গাড়িগুলো সরাসরি পোর্টার অ্যাভিনিউতে নামে, আর ওভারপাসের উল্টো দিকের গোলচত্বর দিয়ে পিস ব্রিজে ওঠার পথ পাওয়া যায়। উত্তরমুখী গাড়িগুলো হয় সরাসরি কাস্টমস পেরিয়ে সেতুর ওপরে চলে যেতে পারে, অথবা বাঁ দিকের লেন ধরে বাসটি ও ম্যাসাচুসেটস অ্যাভিনিউর মোড়ে নামতে পারে। (সাইনবোর্ডে যা-ই লেখা থাকুক না কেন, উত্তরমুখী ১৯০ থেকে পোর্টার অ্যাভিনিউতে সরাসরি ওঠার কোনো পথ নেই)।
- এক্সিট ১২ (অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট) আর এক্সিট ১৩ (অস্টিন স্ট্রিট) কেবল উত্তরমুখী লেন থেকেই ব্যবহার করা যায়। এগুলো দিয়ে ব্ল্যাক রকে এবং ১২ নম্বর এক্সিট দিয়ে একটু দূরের গ্রান্ট-অ্যামহার্স্টে যাওয়া যায়।
- এক্সিট ১৪ (উত্তরমুখী লেনে ভালকান স্ট্রিট; দক্ষিণমুখী লেনে অন্টারিও স্ট্রিট) রিভারসাইডে অবস্থিত।
এ ছাড়া আই-১৯০ এর এক্সিট ১১ থেকে ব্ল্যাক রকে শুরু হয়েছে সংক্ষিপ্ত মহাসড়ক স্কাযাকুয়াদা এক্সপ্রেসওয়ে (এনওয়াই ১৯৮)। এটি ওয়েস্ট সাইড ও নর্থ বাফেলোর মধ্য দিয়ে পূর্ব দিকে চলে গিয়ে ইস্ট সাইডে কেনসিংটন এক্সপ্রেসওয়েতে মিশেছে। স্কাযাকুয়াদার গ্রান্ট স্ট্রিট এক্সিটটি গ্রান্ট-ফেরি, গ্রান্ট-অ্যামহার্স্ট আর বাফেলো স্টেট কলেজে যাওয়ার দারুণ এক পথ। কেবল পশ্চিমমুখী যানবাহনের জন্য নায়াগ্রা স্ট্রিটেও একটি এক্সিট আছে।
ওয়েস্ট সাইডের প্রধান সড়ক হলো নায়াগ্রা স্ট্রিট (এনওয়াই ২৬৬)। এটি ডাউনটাউনের নায়াগ্রা স্কয়ার থেকে শুরু হয়ে লোয়ার ওয়েস্ট সাইডের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিম কোণ বরাবর সোজা চলে গেছে। হ্যাম্পশায়ার স্ট্রিট পার হওয়ার ঠিক পরেই এটি উত্তর দিকে মোড় নেয় এবং আপার ওয়েস্ট সাইড, ব্ল্যাক রক ও রিভারসাইড পেরিয়ে নায়াগ্রা নদীর সমান্তরালে শহরের সীমানা ছাড়িয়ে এগিয়ে যায়। এ ছাড়া ওয়েস্ট সাইডের মূল কেনাকাটার রাস্তা হলো গ্রান্ট স্ট্রিট। এটি হ্যাম্পশায়ার স্ট্রিট থেকে উত্তর দিকে আপার ওয়েস্ট সাইডের বুক চিরে ব্ল্যাক রকে ঢুকে মিলিটারি রোডে গিয়ে শেষ হয়েছে।
ওয়েস্ট সাইডের অন্য প্রধান রাস্তাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রেডেরিক ল ওলমস্টেডের নকশা করা সবুজ গাছে ঘেরা মনোরম বুলভার্ড রিচমন্ড অ্যাভিনিউ। এটি সিম্ফনি সার্কেল থেকে ফরেস্ট অ্যাভিনিউ পর্যন্ত ওয়েস্ট সাইডের ভেতরের সীমানা বরাবর চলে গেছে। আর ব্ল্যাক রক ও রিভারসাইডের মূল রাস্তা হলো টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট। এটি স্কাযাকুয়াদা খাঁড়ির ঠিক উত্তরে নায়াগ্রা স্ট্রিট থেকে আলাদা হয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে শহরের সীমানা পেরিয়ে টোনাওয়ান্ডায় চলে গেছে। দক্ষিণ থেকে উত্তরে ওয়েস্ট সাইডের প্রধান আড়াআড়ি রাস্তাগুলোর মধ্যে লোয়ার ওয়েস্ট সাইডে রয়েছে ভার্জিনিয়া স্ট্রিট, পোর্টার অ্যাভিনিউ, কানেটিকাট স্ট্রিট, ম্যাসাচুসেটস অ্যাভিনিউ আর হ্যাম্পশায়ার স্ট্রিট। আপার ওয়েস্ট সাইডে রয়েছে ওয়েস্ট ফেরি স্ট্রিট, লাফায়েত অ্যাভিনিউ, ওয়েস্ট ডেলাভান অ্যাভিনিউ আর ফরেস্ট অ্যাভিনিউ। আর ব্ল্যাক রক ও রিভারসাইডে রয়েছে অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট, হার্টেল অ্যাভিনিউ আর ভালকান স্ট্রিট। এ ছাড়া রিভারসাইডের হার্টেল অ্যাভিনিউ ও রিভারসাইড পার্কের মাঝামাঝি নায়াগ্রা স্ট্রিটের একটি বিন্দু থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে কেনমোর অ্যাভিনিউ পর্যন্ত গেছে অন্টারিও স্ট্রিট, যা নায়াগ্রা ও টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিটকে সূক্ষ্ম কোণে ছেদ করেছে।
লোয়ার ওয়েস্ট সাইডে অনেক একমুখী রাস্তা থাকায় গাড়ি চালানো একটু গোলমেলে হতে পারে। তবে পথ চেনার সহজ একটা ফন্দি আছে, যা সাউথ ব্ল্যাক রকের আদি নকশার সময় থেকেই চলে আসছে। নায়াগ্রা স্ট্রিটের সাথে আড়াআড়ি থাকা বেশিরভাগ রাস্তার নাম রাখা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের অঙ্গরাজ্যগুলোর নামে। দক্ষিণের রাজ্যগুলোর নামের রাস্তা ডাউনটাউনের কাছে, আর উত্তরের রাজ্যগুলোর রাস্তা দূরের দিকে। তাই মার্কিন ভূগোলের প্রাথমিক ধারণা থাকলেই বোঝা যায় আপনি কোন দিকে যাচ্ছেন এবং গন্তব্য আর কত ব্লক দূরে। তবে নিয়মটা একদম নিখুঁত নয়। রাস্তার নাম থেকে "নিউ" শব্দটি বাদ পড়েছে (যেমন নিউ জার্সি স্ট্রিটের বদলে কেবল "জার্সি স্ট্রিট")। নর্থ আর সাউথ ক্যারোলাইনার বদলে আছে কেবল একটি ক্যারোলাইনা স্ট্রিট। ১৮৭০-এর দশকের শুরুতে ওয়েস্ট অ্যাভিনিউর পশ্চিমের ইয়র্ক স্ট্রিট বদলে ওলমস্টেডের নকশা করা পোর্টার অ্যাভিনিউ হয়েছে। মেরিল্যান্ড ও পেনসিলভেনিয়া স্ট্রিটের মাঝে ঢুকে পড়েছে হাডসন স্ট্রিট। আর মেইন স্ট্রিটের সাথে যাতে গুলিয়ে না যায় এবং শহরে ইতোমধ্যে অন্য জায়গায় ডেলাওয়্যার অ্যাভিনিউ থাকায় মেইন ও ডেলাওয়্যার রাজ্যের নামে কোনো রাস্তা রাখা হয়নি। হ্যাম্পশায়ার স্ট্রিটের পরেই এই রাজ্যের নামের ধারাবাহিকতা শেষ হয়ে যায়।
ওয়েস্ট সাইডের মধ্যে একমাত্র গ্রান্ট-ফেরিতেই রাস্তার পাশে গাড়ি পার্ক করার জায়গা পেতে একটু বেগ পেতে হয়। ওয়েস্ট ডেলাভান অ্যাভিনিউ ও ওয়েস্ট ফেরি স্ট্রিটের মাঝখানের গ্রান্ট স্ট্রিটে এবং গ্রান্টের দুই পাশের আধা ব্লক পর্যন্ত ওয়েস্ট ফেরি স্ট্রিটে পার্কিং মিটার বসানো আছে। রবিবার ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত এগুলো চালু থাকে, ফি ঘণ্টায় ৫০ সেন্ট এবং সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা রাখা যায়। ওয়েস্ট ডেলাভানের উত্তরে পার্কিং নিখরচায় হলেও রবিবার বাদে গ্রান্টের ওপর এই ২ ঘণ্টার সর্বোচ্চ সময়সীমার নিয়ম পটোম্যাক অ্যাভিনিউ পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
ওয়েস্ট সাইডের অন্য সব জায়গায় পার্কিং করা একদম সহজ। হাডসন স্ট্রিটের দক্ষিণে নায়াগ্রা স্ট্রিট বরাবর লোয়ার ওয়েস্ট সাইডে (গ্রান্টের মতোই নিয়ম, তবে ফি ঘণ্টায় ১.০০ ডলার) এবং হান্ট ও ক্রাউলি অ্যাভিনিউর মাঝামাঝি টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট বরাবর রিভারসাইডে পার্কিং মিটার রয়েছে। রিভারসাইডে রবিবার বাদে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পার্কিং ফি ঘণ্টায় ৫০ সেন্ট এবং সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা রাখার সাইনবোর্ড থাকলেও শোনা যায় এখানকার অনেকগুলো মিটার নষ্ট এবং সেগুলো সরিয়ে ফেলার কথা রয়েছে। এ ছাড়া টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট ও কেনমোর অ্যাভিনিউর মাঝামাঝি অন্টারিও স্ট্রিটেও ২ ঘণ্টার সর্বোচ্চ সময়সীমার নিয়ম চালু আছে।
গ্রান্ট-অ্যামহার্স্টে কোনো পার্কিং মিটার বা বিধিনিষেধ নেই। তবে এই পাড়ায় যাঁরা যাবেন তাঁদের মাথায় রাখা উচিত যে হাওয়েল ও বুশ স্ট্রিটের মাঝে অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটের উত্তর পাশের লটটি কেবল কেসিজ ট্যাভার্ন আর নিক্স প্লেসের গ্রাহকদের জন্য সংরক্ষিত, আর এ ব্যাপারে বেশ কড়াকড়ি করা হয়। অ্যামহার্স্ট বরাবর রাস্তার পাশে জায়গা না পেলে গ্রান্ট স্ট্রিটের মোড়ে টপস প্লাজার বিশাল লটে গাড়ি রাখতে পারেন।
ভাড়া গাড়ি
- হার্টজ, ৩৬৯ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৫, ২৯ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৫৪-৫৪৪১। স্যামিজ কলিশনে অবস্থিত।
গাড়ি ভাগাভাগি
জিপকারের সদস্যরা ক্যাম্পাসে গ্রান্ট স্ট্রিট ফটকের উল্টো দিকে বাফেলো স্টেট কলেজের পার্কিং লট জি-২২ তে রাখা তিনটি গাড়ির সুবিধা পেতে পারেন। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার হোন্ডা সিভিক বা ফোর্ড ফোকাস সেডানের ভাড়া ঘণ্টায় ৭.৫০ ডলার বা দিনে ৬৯ ডলার; শুক্র থেকে রবি ঘণ্টায় ৮.৫০ ডলার বা দিনে ৭৭ ডলার। ফোর্ড এস্কেপ এসইউভির ভাড়া সোম থেকে বৃহস্পতি ঘণ্টায় ৮.৫০ ডলার বা দিনে ৭৭ ডলার; শুক্র থেকে রবি ঘণ্টায় ৯.৫০ ডলার বা দিনে ৮৩ ডলার। সব ভাড়াতেই জ্বালানি, বিমা এবং দিনে ১৮০ মাইল (প্রায় ২৯০ কিলোমিটার) পর্যন্ত নিখরচায় চলার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত।
গণপরিবহনে
বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় গণপরিবহন চালায় নায়াগ্রা ফ্রন্টিয়ার ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এনএফটিএ)। এনএফটিএ মেট্রো ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে একটি সিঙ্গেল-লাইন লাইট-রেল র্যাপিড ট্রTransit (এলআরআরটি) ব্যবস্থা এবং একটি বিস্তৃত বাস নেটওয়ার্ক। দূরত্ব যাই হোক না কেন, বাস বা ট্রেনে একমুখী যাত্রার ভাড়া ২.০০ ডলার। বাস ও ট্রেনের মাঝে কোনো ট্র্যান্সফার টিকিট দেওয়া হয় না। তাই দিনে একাধিকবার যাতায়াত করতে চাইলে ৫.০০ ডলার দিয়ে ডে-পাস কেনাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
গণপরিবহনে ওয়েস্ট সাইডে ঘনঘন যাতায়াত করলে নায়াগ্রা ও অন্টারিও স্ট্রিটের মোড়ে অবস্থিত ব্ল্যাক রক-রিভারসাইড ট্রানজিট হাব আপনার গাড়ি বদলানোর সম্ভাবনা খুব বেশি। ওয়েস্ট সাইড, নর্থ বাফেলো এবং উত্তর-পশ্চিমের শহরতলি টোনাওয়ান্ডা ও অ্যামহার্স্টে যাতায়াতকারী বহু মেট্রো বাসের এটি একটি প্রধান সংযোগস্থল।
বাসে
ওয়েস্ট সাইড দিয়ে এনএফটিএ মেট্রোর বেশ কয়েকটি বাস চলাচল করে:
ডাউনটাউনে যাতায়াত
**এনএফটিএ মেট্রো বাস ৩: গ্রান্ট**। টোনাওয়ান্ডা ও ভালকান স্ট্রিটের মোড়ে শহরের সীমানা থেকে শুরু হয়ে বাস ৩ ভালকান ও স্কিলেন স্ট্রিট হয়ে রিভারসাইডে যায়। সেখান থেকে মিলিটারি রোড ও গ্রান্ট স্ট্রিট ধরে ব্ল্যাক রক ও আপার ওয়েস্ট সাইড পার হয়ে বাফেলো স্টেট কলেজে থামে। এরপর হ্যাম্পশায়ার স্ট্রিটে ডান দিকে মোড় নিয়ে নরমাল অ্যাভিনিউ, ইয়র্ক স্ট্রিট ও ওয়েস্ট অ্যাভিনিউ হয়ে লোয়ার ওয়েস্ট সাইড পেরিয়ে ক্যারোলাইনা স্ট্রিটে ওঠে এবং এলমউড অ্যাভিনিউ হয়ে ডাউনটাউনের দিকে যায়। শহর থেকে ফেরার পথে বাসটি হাডসন স্ট্রিট ও প্লাইমাউথ অ্যাভিনিউ হয়ে লোয়ার ওয়েস্ট সাইডে যায় এবং হ্যাম্পশায়ার স্ট্রিটে ডানে মোড় নিয়ে আগের রুটে ফিরে আসে।
**এনএফটিএ মেট্রো বাস ৫: নায়াগ্রা-কেনমোর**। ইউনিভার্সিটি মেট্রো রেল স্টেশন থেকে শুরু হয়ে বাস ৫ কেনমোর অ্যাভিনিউ দিয়ে ওয়েস্ট সাইডে ঢোকে। এরপর অন্টারিও স্ট্রিট, টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট ও ভালকান স্ট্রিট হয়ে রিভারসাইডে যায়। বাসটি নায়াগ্রা স্ট্রিটে বাঁয়ে মোড় নিয়ে ব্ল্যাক রক পার হয় এবং ব্ল্যাক রক-রিভারসাইড ট্রানজিট হাবে থামে। সেখান থেকে মূল ওয়েস্ট সাইডের ভেতর দিয়ে গিয়ে ডাউনটাউনে শেষ হয়।
**এনএফটিএ মেট্রো বাস ৪০: বাফেলো-নায়াগ্রা জলপ্রপাত**। নায়াগ্রা ফলসের পোর্টেজ রোড ট্রানজিট সেন্টার থেকে শুরু হয়ে বাস ৪০ নায়াগ্রা স্ট্রিট ধরে ওয়েস্ট সাইড অতিক্রম করে। ডাউনটাউনে যাওয়ার পথে এটি ব্ল্যাক রক-রিভারসাইড ট্রানজিট হাবে থামে। মনে রাখবেন, হার্টেল অ্যাভিনিউর দক্ষিণের স্থানীয় যাত্রীদের জন্য এই ৪০ নম্বর বাস সেবা দেয় না।
শহরের আড়াআড়ি রুট
**এনএফটিএ মেট্রো বাস ১২: ইউটিকা**। নায়াগ্রা স্ট্রিট ও বাসটি অ্যাভিনিউর মোড় থেকে পূর্বমুখী ১২ নম্বর বাসগুলো নায়াগ্রা স্ট্রিট ধরে উত্তর দিকে যায়, তারপর ওয়েস্ট ফেরি স্ট্রিট হয়ে আপার ওয়েস্ট সাইড ও গ্রান্ট-ফেরি পেরিয়ে পূর্ব দিকে এগোয়। এরপর রিচমন্ড অ্যাভিনিউতে দক্ষিণ দিকে ঘুরে ওয়েস্ট ইউটিকা স্ট্রিটে এলমউড ভিলেজে ঢোকে এবং ইউনিভার্সিটি মেট্রো রেল স্টেশনে গিয়ে যাত্রা শেষ করে।
**এনএফটিএ মেট্রো বাস ২২: পোর্টার-বেস্ট**। জার্সি স্ট্রিট ও লেকভিউ অ্যাভিনিউর মোড় থেকে শুরু হয়ে পূর্বমুখী ২২ নম্বর বাসগুলো জার্সি স্ট্রিট, সেভেন্থ স্ট্রিট ও পোর্টার অ্যাভিনিউ হয়ে প্রসপেক্ট হিলে যায়। এরপর সিম্ফনি সার্কেল দিয়ে এলমউড ভিলেজে ঢুকে চিখতোয়াগার থ্রুওয়ে মল ট্রানজিট সেন্টারে শেষ হয়। পশ্চিমমুখী বাসগুলো পোর্টার ধরে লেকভিউ পর্যন্ত আসে, তারপর বাঁয়ে মোড় নিয়ে জার্সি স্ট্রিট পর্যন্ত যায়।
**এনএফটিএ মেট্রো বাস ২৩: ফিলমোর-হার্টেল**। ব্ল্যাক রক-রিভারসাইড ট্রানজিট হাব থেকে শুরু হয়ে ২৩ নম্বর বাস নায়াগ্রা স্ট্রিট হয়ে ব্ল্যাক রকে যায় এবং পরে হার্টেল অ্যাভিনিউতে পূর্ব দিকে মোড় নেয়। সেখান থেকে বাসটি নর্থ বাফেলোয় ঢোকে, ফিলমোর অ্যাভিনিউ হয়ে ইস্ট সাইড পার হয় এবং পরিশেষে সাউথ বাফেলোয় গিয়ে শেষ হয়।
**এনএফটিএ মেট্রো বাস ২৬: ডেলাভান**। নায়াগ্রা স্ট্রিট ও ওয়েস্ট ডেলাভান অ্যাভিনিউর মোড় থেকে পূর্বমুখী ২৬ নম্বর বাসগুলো ওয়েস্ট ডেলাভান অ্যাভিনিউ ধরে আপার ওয়েস্ট সাইড পেরিয়ে চিখতোয়াগার থ্রুওয়ে মল ট্রানজিট সেন্টারে শেষ হয়। পশ্চিমমুখী বাসগুলো ওয়েস্ট ডেলাভান থেকে হারকিমার স্ট্রিটে বাঁয়ে ঘোরে, তারপর লাফায়েত অ্যাভিনিউ হয়ে আবার পশ্চিমে যায় এবং নায়াগ্রা স্ট্রিট দিয়ে ওয়েস্ট ডেলাভানে ফিরে আসে।
**এনএফটিএ মেট্রো বাস ৩২: অ্যামহার্স্ট**। ব্ল্যাক রক-রিভারসাইড ট্রানজিট হাব থেকে শুরু হয়ে ৩২ নম্বর বাস নায়াগ্রা স্ট্রিট হয়ে ব্ল্যাক রকে যায় এবং পরে অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটে পূর্ব দিকে মোড় নেয়। সেখান থেকে বাসটি নর্থ বাফেলোয় ঢোকে এবং চিখতোয়াগার থ্রুওয়ে মল ট্রানজিট সেন্টারে যাত্রা শেষ করে।
**এনএফটিএ মেট্রো বাস ৩৫: শেরিডান**। মেরিনা ভিস্তা অ্যাপার্টমেন্টস থেকে শুরু হয়ে ৩৫ নম্বর বাস নায়াগ্রা স্ট্রিট ধরে উত্তর দিকে যায় এবং ব্ল্যাক রক ও রিভারসাইড পার হয়ে ব্ল্যাক রক-রিভারসাইড ট্রানজিট হাবে থামে। সেখান থেকে শহরের সীমানা পেরিয়ে টোনাওয়ান্ডায় ঢোকে এবং অ্যামহার্স্টে ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোর নর্থ ক্যাম্পাসে শেষ হয়।
মেট্রো রেলে
মেট্রো রেল অনেক পুবে মেইন স্ট্রিট বরাবর চলে। তবে অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট, ডেলাভান-ক্যানিসিয়াস কলেজ, ইউটিকা এবং সামার-বেস্ট মেট্রো রেল স্টেশন থেকে যথাক্রমে ৩২, ২৬, ১২ ও ২২ নম্বর এনএফটিএ মেট্রো বাস ধরে খুব সহজেই ওয়েস্ট সাইডে পৌঁছানো যায়। বাস ও পাতাল রেল দুটোই ব্যবহার করতে চাইলে ৫.০০ ডলার দিয়ে ডে-পাস কেটে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সাইকেলে

পিস ব্রিজের দিকে এগিয়ে যাওয়া নায়াগ্রা নদীর তীর ঘেঁষে গেছে শোরলাইন ট্রেইল , যা পেছনে ফেলে এসেছে ফন্টানা বোটহাউস । (ছবি: Andre Carrotflower, CC BY-SA 4.0)
যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে সাইকেলকে উৎসাহিত করতে বাফেলো অনেক দূর এগিয়েছে। আমেরিকান সাইক্লিস্ট লীগের কাছ থেকে ব্রোঞ্জ স্তরের "বাইসাইকেল-ফ্রেন্ডলি কমিউনিটি" হিসেবে স্বীকৃতিও পেয়েছে শহরটি। ওয়েস্ট সাইডে সাইকেলের পথের মান সব জায়গায় এক রকম নয়, তবে এখানকার মানদণ্ডে বেশ ভালো এবং শহরের অন্যান্য অংশের মতো দিন দিন উন্নত হচ্ছে। লোয়ার ওয়েস্ট সাইড নিশ্চিতভাবেই সবচেয়ে সাইকেলবান্ধব এলাকা। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ অভিবাসী, যাঁরা নিজ দেশ থেকেই সাইকেলসহ অন্যান্য বিকল্প যানবাহনে অভ্যস্ত। সেই সাথে আছেন তরুণ মধ্যবিত্ত দল, যাঁদের কাছে গাড়ি না চালানো সচেতন এক পছন্দের ব্যাপার।
বাফেলোর সবচেয়ে পুরোনো, দীর্ঘ ও সবচেয়ে পরিচিত সাইকেল পথ হলো শোরলাইন ট্রেইল। এটি ওয়েস্ট সাইডের নদীর পাড় হয়ে লাকাওয়ানার বেথলেহেম স্টিল থেকে নর্থ টোনাওয়ান্ডার গ্র্যাটউইক পার্ককে যুক্ত করেছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৩৬.৪ কিমি (২২.৬ মাইল)। অভিজাত ওয়াটারফ্রন্ট ভিলেজ কন্ডোর কাছ দিয়ে শোরলাইন ট্রেইল ওয়েস্ট সাইডে ঢুকেছে এবং ইরি হ্রদ ও নায়াগ্রা নদীর তীর ঘেঁষে চলে গেছে। পথ চলতে চলতে জলের অপূর্ব রূপ চোখে পড়ে। সেই সাথে সহজে পৌঁছানো যায় নদীর তীরের বহু আকর্ষণে, যেমন লাসাল পার্ক, ফন্টানা বোটহাউস, ফ্রিডম পার্ক, ইউনিটি আইল্যান্ড পার্ক আর রিভারসাইড পার্ক। সবচেয়ে চমৎকার ব্যাপার হলো, পথের বেশিরভাগ অংশই মূল রাস্তার বাইরে সম্পূর্ণ আলাদা ট্রেইল হওয়ায় কোনো গাড়ির ঝামেলা পোহাতে হয় না। কেবল হ্যাম্পশায়ার ও ওয়েস্ট ফেরি স্ট্রিটের মাঝে বাসটি অ্যাভিনিউ ও নায়াগ্রা স্ট্রিটের ৭০০ মিটারের (০.৪ মাইল) একটি অংশে কোনো চিহ্ন নেই, তবে সেখানে চওড়া ফুটপাত থাকায় সাইকেল চালানো বেশ নিরাপদ। পুরো পথেই পিচ ঢালা এবং ঘণ্টায় ২৪ কিমি (১৫ মাইল) সর্বোচ্চ গতির সীমা কড়াকড়িভাবে মানা হয়।
নিজে একটি সুন্দর পথ হওয়ার পাশাপাশি বাফেলোর বিস্তৃত সাইকেল নেটওয়ার্কের মেরুদণ্ড হিসেবেও কাজ করে শোরলাইন ট্রেইল। এর থেকে বেরিয়ে গেছে জেসি ক্রেগাল পাথওয়ে। এক্সপ্রেসওয়ের উল্টো দিকে স্কাযাকুয়াদা খাঁড়ির উত্তর তীর ধরে এই পথটি ৩.৮ কিমি (২.৪ মাইল) এগিয়ে গেছে, যেখান থেকে ব্ল্যাক রক আর গ্রান্ট-অ্যামহার্স্টের বিভিন্ন জায়গায় সহজেই পৌঁছানো যায়। ওয়েস্ট সাইড থেকে বেরিয়ে এই ট্রেইলটি ডেলাওয়্যার পার্কে ঢুকে বাফেলো হিস্ট্রি মিউজিয়ামের কাছে শেষ হয়েছে। টোনাওয়ান্ডায় এর উত্তরের প্রান্তে এটি যুক্ত হয়েছে ইরি ক্যানালওয়ে ট্রেইলের সাথে।
বিশেষ করে প্রসপেক্ট হিল ও লোয়ার ওয়েস্ট সাইডের সড়কগুলোতেও সাইকেল লেন যোগ করা হয়েছে। ফরেস্ট অ্যাভিনিউ ও কলোনিয়াল সার্কেলের মাঝামাঝি রিচমন্ড অ্যাভিনিউতে আঁকা হয়েছে "শ্যারো" বা যৌথ পথচিহ্ন (রাস্তা খুব সরু হওয়ায় আলাদা লেন করা না গেলে চালকদের সাইকেল সম্পর্কে সতর্ক করতে এই চিহ্ন ব্যবহার করা হয়)। আর কলোনিয়াল সার্কেল থেকে দক্ষিণে সিম্ফনি সার্কেল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশেই আলাদা সাইকেল লেন আছে। নায়াগ্রা স্ট্রিট সংস্কারের অংশ হিসেবে সাউথ এলমউড অ্যাভিনিউ ও হাডসন স্ট্রিটের মাঝে সাইকেল লেন করা হয়েছে, এবং সেখান থেকে উত্তরে পোর্টার অ্যাভিনিউ পর্যন্ত শ্যারো রয়েছে। আরও উত্তরে রিভারসাইডে অন্টারিও স্ট্রিট থেকে রিভারসাইড পার্ক হয়ে শহরের সীমানা পর্যন্ত নায়াগ্রা স্ট্রিটেও সাইকেল লেন আছে। এ ছাড়া সিম্ফনি সার্কেল ও নায়াগ্রা স্ট্রিটের মাঝে পোর্টার অ্যাভিনিউর দুই পাশেই আলাদা সাইকেল লেন রয়েছে, আর নায়াগ্রা স্ট্রিটের পশ্চিমে লাসাল পার্ক পর্যন্ত গেছে একটি পথ যা শোরলাইন ট্রেইলে গিয়ে মিশেছে। হাডসন স্ট্রিটে প্লাইমাউথ ও বাসটি অ্যাভিনিউর মাঝে দুই পাশেই সাইকেল লেন আছে, সেখান থেকে পূর্বে ওয়াডসওয়ার্থ স্ট্রিট পর্যন্ত এবং পশ্চিমে ফোর্থ স্ট্রিট পর্যন্ত শ্যারো চিহ্ন রয়েছে (যেখান থেকে পথচারী সেতু দিয়ে আই-১৯০ পেরিয়ে লাসাল পার্কে যাওয়া যায়)। ওয়েস্ট অ্যাভিনিউ ও পেনসিলভেনিয়া স্ট্রিট হয়ে হাডসন স্ট্রিট থেকে সিম্ফনি সার্কেল পর্যন্ত শ্যারো আছে। এ ছাড়া নায়াগ্রা ও রিচমন্ডের মাঝে কানেটিকাট স্ট্রিট, সিম্ফনি সার্কেল থেকে অ্যালেন স্ট্রিট পর্যন্ত ওয়াডসওয়ার্থ স্ট্রিট, ফরেস্ট থেকে হ্যাম্পশায়ার পর্যন্ত গ্রান্ট স্ট্রিট, নায়াগ্রা থেকে রিচমন্ড পর্যন্ত ফরেস্ট অ্যাভিনিউ (যেখান থেকে সাইকেল চালিয়ে এলমউড ভিলেজে যাওয়া যায়), গ্রান্ট স্ট্রিট থেকে শোরলাইন ট্রেইল পর্যন্ত পুরো হ্যাম্পশায়ার স্ট্রিট এবং ব্ল্যাক রকে ব্রিজম্যান স্ট্রিট থেকে পূর্বে নর্থ বাফেলো পর্যন্ত অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটে সাইকেল চলাচলের চিহ্ন দেওয়া আছে।
বাইক শেয়ারিং
ওয়েস্ট সাইডে রেডি বাইকশেয়ারের এগারোটি স্ট্যান্ড আছে:
- ভার্জিনিয়া ও ক্যারোলাইনা স্ট্রিটের মাঝে নায়াগ্রা স্ট্রিটের পূর্ব পাশে, টার্নার ব্রাদার্স বিল্ডিংয়ের পার্কিং লটের পেছনের দিকে
- ফারগো অ্যাভিনিউর কোণে পোর্টার অ্যাভিনিউর দক্ষিণ পাশে, ডি'ইউভিল কলেজ সেন্টারের সামনে
- জার্সি স্ট্রিট ও নরমাল অ্যাভিনিউর কোণে পোর্টার অ্যাভিনিউর দক্ষিণ পাশে, গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড হাই স্কুলের উল্টো দিকে
- নরমাল অ্যাভিনিউর কোণে কানেটিকাট স্ট্রিটের উত্তর পাশে, হর্সফিদার্স মার্কেটের সামনে
- ওয়েস্ট ও ফারগো অ্যাভিনিউর মাঝে ভারমন্ট স্ট্রিটের দক্ষিণ পাশে, ওয়েস্ট সাইড কমিউনিটি সার্ভিসেসের সামনে
- ওয়েস্ট ও প্লাইমাউথ অ্যাভিনিউর মাঝে রোড আইল্যান্ড স্ট্রিটের উত্তর পাশে
- ফাইভ পয়েন্টস মোড়ে রোড আইল্যান্ড স্ট্রিটের কোণে ওয়েস্ট ইউটিকা স্ট্রিটের দক্ষিণ পাশে, ব্ল্যাক মোনার্কির উল্টো দিকে
- ল্যান্ডিস প্লেসের কোণে রোড আইল্যান্ড স্ট্রিটের দক্ষিণ পাশে, লেফট ব্যাংকের সামনে
- লাফায়েত অ্যাভিনিউর কোণে গ্রান্ট স্ট্রিটের পূর্ব পাশে, আওয়ার লেডি অব হোপ ক্যাথলিক চার্চের সামনে এবং সুইট_নেস ৭-এর আড়াআড়ি উল্টো দিকে
- বুশ ও হাওয়েল স্ট্রিটের মাঝে অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটের উত্তর পাশে, দ্য ড্যাপার গুজের উল্টো দিকে
- অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটের ঠিক উত্তরে মিলিটারি রোডের পূর্ব পাশে, হট মামাস ক্যান্টিনের পাশে
হেঁটে
ওয়েস্ট সাইডের পাড়াগুলো বেশ বড় এলাকাজুড়ে বিস্তৃত, তাই গাড়ি, সাইকেল বা গণপরিবহন ছাড়া সব ঘুরে দেখা সম্ভব নয়। তবে হেঁটে বেড়ানোর মতো চমৎকার অনেক জায়গা এখানে আছে। ওপরে বলা সাইকেলের পথ আর নদীর তীরের ট্রেইল ছাড়াও পথচারীদের জন্য দারুণ হলো গ্রান্ট-ফেরির প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক এলাকা আর ছিমছাম গ্রান্ট-অ্যামহার্স্ট। তবে রাত নামলে একটু সাবধানে থাকাই ভালো। ওয়েস্ট সাইডে অপরাধের হার বাফেলোর অন্যান্য এলাকার চেয়ে এখনো বেশি, আর সন্ধ্যার পর এই রাস্তাগুলো কিছুটা শুনশান ও অনিরাপদ হয়ে ওঠে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিরাপত্তা অনুচ্ছেদটি দেখুন।
দর্শনীয় স্থান
ইতিহাস
- ব্ল্যাক রক হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি, ১৯০২ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ৩২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৪-২৮৬৩। বৃহস্পতি ও শুক্র: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা। ২০১৫ সালে ব্ল্যাক রক রিভারসাইড অ্যালায়েন্সের সাথে যৌথ ভবনে ব্ল্যাক রক হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির এই ছোট প্রদর্শনী কেন্দ্রটি চালু হয়। এখানকার প্রদর্শনীগুলো মিউজিয়াম কিউরেটরদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ এবং পাড়ার বাসিন্দা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে গত দশ বছর ধরে পাওয়া অনুদানের ফসল। ঐতিহাসিক ছবি, নানা স্মারক আর প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ব্ল্যাক রক, রিভারসাইড, গ্রান্ট-অ্যামহার্স্ট আর ওয়েস্ট হার্টেল পাড়ার ২০০ বছরের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ব্ল্যাক রক হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি নিজের মতো ঘুরে দেখার জন্য চমৎকার কিছু নির্দেশিকা পুস্তিকাও দেয়, যাতে ১৮১২ সালের যুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান থেকে শুরু করে আজকের সামাজিক বাগানগুলোর বিবরণ রয়েছে।
- ফ্রান্সেস ফলসম ক্লিভল্যান্ড হাউস, ১৬৮ এডওয়ার্ড স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ১১, ২০, ২৫ বা ২৯)। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, ভেতরে ঢোকা নিষেধ। এডওয়ার্ড স্ট্রিটের এই মনোরম কটেজটিতে ১৮৬৪ সালে জন্মের পর থেকে ১৮৮০ সালের দিকে ওয়েলস কলেজে পড়তে যাওয়ার আগে পর্যন্ত বাস করতেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের স্ত্রী ফ্রান্সেস ফলসম ক্লিভল্যান্ড। ফ্রান্সেসের বাবা প্রখ্যাত আইনজীবী অস্কার ফলসম তরুণ বয়সেই ঘোড়ার গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর তাঁর বন্ধু ও সহকর্মী গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড তাঁর বিধবা স্ত্রী ও দুই মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে ফ্রান্সেসের সাথে ক্লিভল্যান্ডের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ১৮৮৬ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এটিই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র রাষ্ট্রপতির বিয়ের ঘটনা। ফলসম ক্লিভল্যান্ড তখন দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর রূপ, ব্যক্তিত্ব আর বুদ্ধিমত্তা মানুষকে মুগ্ধ করত, আর সেকালের নারীরা তাঁর ফ্যাশন অন্ধের মতো অনুকরণ করতেন। তিনিই আজও মার্কিন ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফার্স্ট লেডি। ১৬৮ এডওয়ার্ড স্ট্রিটের বাড়িটিতে সাধারণের প্রবেশের অনুমতি নেই, তবে শহরের পক্ষ থেকে সামনে একটি স্মৃতিফলক বসানো হয়েছে যেখানে ফলসম ক্লিভল্যান্ডের জীবন, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও অবদানের বিবরণ রয়েছে। লোয়ার ওয়েস্ট সাইডে এখনো জনপ্রিয় উনিশ শতকের মাঝামাঝি লাল ইটের ইতালীয় স্থাপত্যশৈলীর এক চমৎকার নিদর্শন এটি।
- কার্পেলেস ম্যানুস্ক্রিপ্ট লাইব্রেরি (পোর্টার হল), ৪৫৩ পোর্টার অ্যাভিনিউ (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২২), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৫-৪১৩৯। রবি থেকে মঙ্গল: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা। ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন ব্যবসায়ী ডেভিড কার্পেলেসের উদ্যোগে গড়ে ওঠা কার্পেলেস ম্যানুস্ক্রিপ্ট লাইব্রেরি হলো ঐতিহাসিক দলিল ও পাণ্ডুলিপির বিশ্বের সর্ববৃহৎ ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা। দেশজুড়ে এর বারোটি শাখা রয়েছে, যার দুটি খোদ বাফেলোয়। একটি হলো প্রসপেক্ট হিলে সুন্দরভাবে সংস্কার করা সাবেক প্লাইমাউথ মেথোডিস্ট চার্চের ভবনে অবস্থিত পোর্টার হল, আর অন্যটি অ্যালেনটাউনের নর্থ হল। বারোটি শাখার মধ্যে আবর্তিত ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীর পাশাপাশি পোর্টার হলে কার্পেলেস লাইব্রেরির বাফেলো শাখার স্থায়ী সংগ্রহ প্রদর্শিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে উইলিয়াম ম্যাককিনলি কক্ষ, যেখানে ১৯০১ সালে বাফেলোর প্যান-আমেরিকান এক্সপোজিশনে রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম ম্যাককিনলি হত্যাকাণ্ডের মূল নথিপত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। বিনামূল্যে।
শিল্পকলা
অ্যালেনটাউন আর এলমউড ভিলেজের সাম্প্রতিক রূপান্তরের পর একুশ শতকে বাফেলোর শিল্পচর্চার নতুন আস্তানা হয়ে উঠেছে এই ওয়েস্ট সাইড। গ্রান্ট-অ্যামহার্স্ট আর ফাইভ পয়েন্টসে বহু পুরনো শিল্পী দল থাকলেও এখন আসল আসর জমেছে নায়াগ্রা স্ট্রিটে। আপার ওয়েস্ট সাইড আর ব্ল্যাক রকের অনেক পুরোনো গুদামঘরকে এখন রূপ দেওয়া হয়েছে চমৎকার গ্যালারিতে, যেখানে স্থানীয় প্রথিতযশা শিল্পীরা তাঁদের কাজ প্রদর্শন করেন।
- আর্গাস গ্যালারি, ১৮৯৬ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ৩২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৮২-৮১০০। মিডটাউনের মেইন স্ট্রিটের ইলেভেন টোয়েন্টি প্রজেক্টস গ্যালারি পরিচালনাকারী দলটির হাত ধরেই ২০১৭ সালের বসন্তে ব্ল্যাক রকে যাত্রা শুরু করে আর্গাস গ্যালারি। শিল্পজগতে প্রান্তিক বা কম সুযোগ পাওয়া সমাজের উদীয়মান শিল্পীদের সহায়তা ও তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে এটি কাজ করে। বিভিন্ন মাধ্যমে তৈরি এমন সব সমসাময়িক শিল্পকর্ম এখানে প্রদর্শন করা হয় যা মানুষের ভাবনার খোরাক জোগায় এবং মাঝে মাঝে বিতর্কিত নানা বিষয়কেও তুলে ধরে।
- আর্টসফিয়ার স্টুডিও অ্যান্ড গ্যালারি, ৪৪৭ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৪-২৮৬৩। বৃহস্পতি ও শুক্র: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা, শনি: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা অথবা সাক্ষাতের সময় নিয়ে। গ্রান্ট-অ্যামহার্স্টের বিকাশমান শিল্পজগতে অন্যতম পথিকৃৎ হলো আর্টসফিয়ার স্টুডিও, যা ২০০৩ সালে বর্তমান ভবনের উল্টো দিকে চালু হয়েছিল। আলো-বাতাসে ভরা বিশাল এই গ্যালারিতে এর মালিক চিত্রশিল্পী, আলোকচিত্রী ও গয়না প্রস্তুতকারক ডোরিন বোয়ার ডি'বোথ এবং তাঁর স্বামী বিশিষ্ট মৃৎশিল্পী ডগলাস ডি'বোথের তৈরি কাজ প্রদর্শন ও বিক্রি হয়। সেই সাথে নানা মাধ্যমে কাজ করা অন্যান্য স্থানীয় শিল্পীর সৃষ্টিও স্থান পায়। প্রায়ই এখানে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় যার বিষয়বস্তু থাকে ব্ল্যাক রক ও গ্রান্ট-অ্যামহার্স্টের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও স্বাতন্ত্র্য। বোয়ার ডি'বোথ হলেন ব্ল্যাক রক হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং তিনি ব্ল্যাক রক হিস্টোরিক ফটো প্রজেক্টের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যার অংশ হিসেবে অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটের বেশ কয়েকটি ভবনের বাইরের দেওয়ালে ঐতিহাসিক ছবি দেখা যায়। এ ছাড়া স্থানীয় ইতিহাস ও শিল্পের ওপর বাছাই করা কিছু বইও এখানে কিনতে পাওয়া যায়।

ব্ল্যাক রকের বিশাল যে চত্বরে এককালে ২০০৭ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার ক্যাথলিক চার্চ ছিল, সেটাই এখন বাফেলো রিলিজিয়াস আর্টস সেন্টারের স্থায়ী ঠিকানা। (ছবি: Andre Carrotflower, CC BY-SA 3.0)
- বাফেলো রিলিজিয়াস আর্টস সেন্টার, ১৫৭ ইস্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ৩২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৪৮১-২৩৫০। আগে থেকে সময় ঠিক করে। ঐতিহাসিক ব্ল্যাক রকের প্রাণকেন্দ্রে সাবেক সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার রোমান ক্যাথলিক চার্চে গড়ে ওঠা বাফেলো রিলিজিয়াস আর্টস সেন্টারের লক্ষ্য হলো বাফেলোর জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন চার্চ ও উপাসনালয়ের (বিশেষ করে ইস্ট সাইডের) অমূল্য ধর্মীয় শিল্পকর্ম উদ্ধার ও প্রদর্শন করা। কিউরেটর মেরি হল্যান্ড সংগ্রহ করেছেন নানা গির্জার দুষ্প্রাপ্য সব কাজ, যার মধ্যে রয়েছে সেন্ট মেরি অব সরোজের ভাস্কর্য, এসএস. পিটার অ্যান্ড পল রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চের আইকন এবং টেম্পল বেথ এলের নানা সামগ্রী। সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার চার্চের নিজস্ব ভবনটিও অপরূপ সুন্দর এবং এটি জাতীয় ঐতিহাসিক স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। বহুদিন ধরে এটি ব্ল্যাক রক সমাজের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ১০ ডলার, শিক্ষার্থীদের ৫ ডলার, সদস্যদের নিখরচায়।
- এসেক্স আর্টস সেন্টার, ৩০ এসেক্স স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৬৬৭-২৮০৮। চারটি ভবনের এই চত্বরটি চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, আলোকচিত্রী, সংগীতশিল্পীসহ নানা ধরনের শিল্পীদের বাসস্থান, স্টুডিও এবং প্রদর্শনী কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গত চার দশক ধরে এসেক্স আর্টস সেন্টার ওয়েস্ট সাইডের শিল্পচর্চার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর ইতিহাস শুরু হয় ১৯৬৯ সালে, যখন স্থানীয় ইস্পাত ভাস্কর ল্যারি গ্রিফিস এবং তাঁর অ্যাশফোর্ড হলো ফাউন্ডেশন (যা ক্যাটারগাস কাউন্টিতে ১৬০ হেক্টরের ভাস্কর্য পার্ক পরিচালনার জন্য তিন বছর আগে গঠিত হয়েছিল) সাবেক ওয়েবস্টার-সিটিজেন্স কোম্পানি আইস হাউস কিনে নিয়ে শিল্পীদের স্টুডিও ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলেন। সত্তরের ও আশির দশকে বাফেলোর বাঘা বাঘা শিল্পীরা এখানে যুক্ত হন। সময়ের সাথে সাথে এটি এমন বহু প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছে যা পরবর্তীতে স্থানীয় শিল্পজগতের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। যেমন হলওয়ালস কনটেম্পোরারি আর্টস সেন্টার, সেপা গ্যালারি এবং সবার প্রিয় সাবেক আর্টিস্টস কমিটি গ্যালারি সবাই ৩০ এসেক্সে শুরু করার পর নিজেদের মতো করে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিগ অরবিট গ্যালারি মূল ভবনেই সেই ধারা বজায় রেখেছে। গ্যালারি ছাড়াও এখানে নিয়মিত শিল্পকর্ম নিলাম, সংগীতানুষ্ঠান এবং নানা শিক্ষামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হয় যার পুরো আয় স্থানীয় শিল্পীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়।
- বিগ অরবিট গ্যালারি, ☏ +১ ৭১৬-৫৬০-১৯৬৮। শুক্র থেকে সোম: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা অথবা সাক্ষাতের সময় নিয়ে। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিগ অরবিট গ্যালারি হলো শিল্পীদের দ্বারা পরিচালিত একটি মুক্ত সংগঠন, যেখানে বিভিন্ন মাধ্যমে তৈরি নিরীক্ষাধর্মী শিল্পকর্মের আবর্তনশীল প্রদর্শনী হয়। পুরোনো এক গুদামঘরে গড়ে ওঠা এই বিশাল গ্যালারির উঁচু ছাদ, ভেতরের সংলগ্ন উঠান আর সাধারণ সাজসজ্জা একে এক খোলামেলা ও গম্ভীর রূপ দিয়েছে। পেইন্টিং আর ফটোগ্রাফির মতো সাবেকি মাধ্যম থেকে শুরু করে পারফরম্যান্স আর্ট, শব্দ ভাস্কর্য কিংবা চিরাচরিত সংজ্ঞার বাইরের সব সৃষ্টিই এখানে স্থান পায়। বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাবনার মেলবন্ধন ঘটানোই এর লক্ষ্য। বাফেলোর প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন ও প্রান্তিক শিল্পীদের পরিচিতি বাড়াতেও বিগ অরবিট গর্ববোধ করে। একটি বিষয় মনে রাখা ভালো, এদের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তথ্য খুব কমই পাওয়া যায়, তাই কী চলছে জানতে ফেসবুক বা আর্টভয়েস দেখাই ভালো।
- দ্য ফারগো হাউস, ২৮৭ ফারগো অ্যাভিনিউ (মেট্রো বাস ৩, ৫, ২২ বা ৪০)। আগে থেকে সময় ঠিক করে দেখা যায়। প্রসপেক্ট হিলের এই চমৎকার পুরোনো ভিক্টোরীয় বাড়িটি একাধারে ব্যক্তিগত বাসস্থান, প্রত্নতাত্ত্বিক খননকেন্দ্র আর আর্ট গ্যালারি। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী, স্থপতি, লেখক ও ইউবি অধ্যাপক ডেনিস মেহের ২০০৯ সালে বাড়িটি ভাঙার তালিকায় থাকার সময় কিনে নেন এবং তখন থেকেই এতে বাস করে সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায় বাড়িটি থেকে উদ্ধার করা পুরোনো কাঠামো ও অলংকরণের নানা উপাদান তিনি সংগ্রহ করেছেন। এর সাথে পুরোনো সামগ্রীর দোকান ও অন্যান্য জায়গা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস মিলিয়ে তৈরি করেছেন চমৎকার সব কোলাজ, যা বাড়ির নিচতলার গ্যালারিতে সাজানো থাকে। এই কাজের জন্য তিনি নিউ ইয়র্ক ফাউন্ডেশন ফর দ্য আর্টস এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস সহ নানা মাধ্যমে প্রশংসা পেয়েছেন। মেহেরের নিজের কাজের বাইরে মাঝে মাঝে স্থানীয় অন্যান্য শিল্পীদের প্রদর্শনীও এখানে হয়।
- সুগার সিটি। সুগার সিটি হলো শিল্পীদের একটি মুক্ত দল, যারা শহরের বিভিন্ন কোণে হঠাৎ আয়োজিত গেরিলা ধাঁচের প্রদর্শনী ও অনুষ্ঠানের জন্য বেশি পরিচিত। অ্যালেনটাউনের ওয়াডসওয়ার্থ স্ট্রিটের পুরোনো আস্তানা ছেড়ে আপার ওয়েস্ট সাইডের নায়াগ্রা স্ট্রিটে দ্বিতীয় কেন্দ্র খোলার মধ্যবর্তী দুই বছর তারা এভাবে কাজ করেছে। দলের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে নতুন কেন্দ্রের বেশিরভাগ সংস্কার কাজ করেছেন সাতজন "সুগার সিটিজেন" নিজেরাই। তবে একে শুধু একার কাজ না বলে "সবাই মিলে করার শিল্প" বলাই ভালো। নায়াগ্রা স্ট্রিটের ঠিকানাটি ২০২০ সালের আগস্টে বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ গ্যালারিতে জায়গা না পাওয়া শিল্পীদের সহায়তা করার জন্য দলটি এখন নতুন পথের সন্ধান করছে। প্রচলিত শিল্প আর সাধারণ সৃষ্টির ভেদাভেদ মুছে ফেলাই তাদের লক্ষ্য। বাফেলোর এই খেয়ালী শিল্পীদের কাজ কোনো সাধারণ সংজ্ঞায় ফেলা যায় না, তাই এখানে গেলে বাঁধাধরা নিয়মের বাইরের অভিজ্ঞতাই আশা করতে পারেন।
- দ্য ওয়াশ প্রজেক্ট, ৫৯৩ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৭), ☏ +১ ৭১৬-২৫৩-১০৬৮। সোম থেকে শুক্র: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময়। ম্যাসাচুসেটস অ্যাভিনিউর সাধারণ এক লন্ড্রি শপ ওয়েস্ট সাইড ভ্যালু লন্ড্রোম্যাট যে পাড়ার সাংস্কৃতিক খবরাখবরের বড় কেন্দ্র হতে পারে, কিংবা সেখানে আর্ট স্টুডিও, ছোট লাইব্রেরি আর নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতে পারে, তা ভাবাই কঠিন। তবে ওয়াশ প্রজেক্টে (যার পুরো নাম "ওয়েস্টসাইড আর্ট স্ট্র্যাটেজি হ্যাপেনিংস") ঠিক এটাই ঘটে। এর স্বত্বাধিকারী জ উইন নিজ দেশে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকা ওয়েস্ট সাইডের এক বর্মী শরণার্থী। ২০১২ সালে স্থানীয় সমাজকর্মী ব্যারেট গর্ডন এবং হিউটন কলেজ ও স্থানীয় আমেরিকর্পসের সহযোগিতায় তিনি লন্ড্রিটিকে পাড়ার সাংস্কৃতিক জীবনের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করেন। এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ওয়েস্ট সাইডে মিলেমিশে থাকা বৈচিত্র্যময় অভিবাসী সংস্কৃতিকে। ছোট্ট এই গ্যালারিতে প্রতি মাসে বদলে যাওয়া স্থানীয় শিল্পীদের কাজ দেখতে পারেন, অংশ নিতে পারেন নানা সৃজনশীল ক্লাসে, আবার নিজের হাতে কিছু বানিয়েও নিতে পারেন (গরমের দিনে ভবনের বাইরের ফুটপাতে চকের আঁকাআঁকি বেশ জমে)। সেই সাথে জামাকাপড় ধোয়ার কাজটাও সেরে নিতে পারেন। বর্তমানে ম্যাসাচুসেটস অ্যাভিনিউর মূল ভবনে সংস্কার কাজ চলায় প্রকল্পটি সাময়িকভাবে গ্রান্ট-ফেরিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। কাপড় ধোয়ার জন্য উল্টো দিকের দ্য লন্ড্রি স্পট ব্যবহার করা যায়। এখানে দেওয়া ঠিকানা ও দিকনির্দেশনা এই অস্থায়ী অবস্থানের জন্যই প্রযোজ্য।
ব্রুয়ারি
ইদানীং বাফেলোর ক্রাফট বিয়ার ও মদ্যশিল্পের কেন্দ্র হিসেবে লার্কিনভিল ও ওল্ড ফার্স্ট ওয়ার্ড এগিয়ে গেলেও স্থানীয় অঙ্গনের দুই পরাশক্তিকে ধারণ করে ওয়েস্ট সাইড এখনো বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
- কমিউনিটি বিয়ার ওয়ার্কস, ৫২০ সেভেন্থ স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ২২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৭৫৯-৪৬৭৭। কমিউনিটি বিয়ার ওয়ার্কস তাদের সদ্য সম্প্রসারিত কারখানায় বিনামূল্যে অনানুষ্ঠানিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করে। এখানেই তৈরি হয় বাফেলোর জনপ্রিয় সব ক্রাফট বিয়ার, যেমন হালকা ঝাঁঝালো "ফ্র্যাঙ্ক" আমেরিকান পেল এল কিংবা ৫.৯% অ্যালকোহলযুক্ত "হোয়েল" ব্রাউন এল। ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে স্থায়ী পরিদর্শনের সময়সূচি শীঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে। বিস্তারিত জানতে তাদের কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করুন।
- রিসার্জেন্স ব্রিউয়িং, ১২৫০ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ১২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৩৮১-৯৮৬৮। আগে থেকে সময় ঠিক করে। বাফেলোর নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়কে ধারণ করে ২০১৪ সালের জুনে সাবেক স্টার্লিং ইঞ্জিন কোম্পানির গুদামে যাত্রা শুরু করে রিসার্জেন্স ব্রিউয়ারি, যেখানে একই সাথে রয়েছে বাফেলো নায়াগ্রা রিভারকিপারের দপ্তর। যদিও তাদের উৎপাদনের সিংহভাগ এখন ওল্ড ফার্স্ট ওয়ার্ডের অনেক বড় কারখানায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবু মৌসুমি ও সীমিত সংস্করণের বিশেষ বিয়ার তৈরিতে এই মূল কেন্দ্রটি এখনো চালু আছে। সেই সাথে নতুন স্বাদ উদ্ভাবন ও পরীক্ষার কাজও এখানেই চলে। এদের বিয়ার পানের স্থান ও বিয়ার গার্ডেন আগের মতোই খোলা থাকে।
পার্ক ও উন্মুক্ত প্রান্তর
ফ্রিডম পার্কের চিরচেনা দৃশ্য: ওপরের নায়াগ্রা নদীর পানিতে ছিপ ফেলে মাছ ধরার অপেক্ষায় বসে আছেন শিকারিরা। (ছবি: Andre Carrotflower, CC BY-SA 3.0)
পার্ক
বাফেলোর সবচেয়ে সবুজ অংশ হলো ওয়েস্ট সাইড। গ্রীষ্মের রোদ পোহাতে আর হ্রদ ও নদীর শীতল হাওয়া উপভোগ করতে নদীর পাড়ে বাফেলোবাসী নিয়মিত ভিড় জমান। ওয়েস্ট সাইডের পার্কগুলোর মধ্যে দুটি পার্কের নকশা করেছেন বিশিষ্ট ল্যান্ডস্কেপ স্থপতি ফ্রেডেরিক ল ওলমস্টেড, যাঁর সেরা কিছু কাজ ছড়িয়ে রয়েছে খোদ বাফেলোয়।
- ফ্রিডম পার্ক (ব্রোডেরিক পার্ক), ওয়েস্ট ফেরি স্ট্রিটের পশ্চিম প্রান্ত, ফেরি স্ট্রিট লিফট ব্রিজ দিয়ে যেতে হয় (মেট্রো বাস ৫, ১২ বা ৪০)। ইউনিটি দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে নদীর তীরে অবস্থিত একটি ছোট্ট সবুজ পার্ক। আন্ডারগ্রাউন্ড রেলপথের মাধ্যমে দাসত্ব থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের কানাডায় প্রবেশের অন্যতম প্রধান সীমান্ত বিন্দু হিসেবে জায়গাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম, যার সাক্ষ্য দেয় এখানের একটি বড় স্মৃতিফলক এবং মাঝে মাঝে আয়োজিত ঐতিহাসিক নাট্যাভিনয়। পিস ব্রিজ তৈরির আগে এখান থেকেই অন্টারিওর ফোর্ট ইরিতে যাওয়ার ফেরি ছাড়ত। আগে এর নাম ব্রোডেরিক পার্ক থাকলেও ২০২৩ সালে ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এর নাম বদলে "ফ্রিডম পার্ক" রাখা হয়। বর্তমানে এটি মাছ শিকারের বেশ জনপ্রিয় এক জায়গা। নায়াগ্রা নদীর দেশি পার্চ, পাইক, বাস আর মাসকেলুঞ্জ মাছ ধরতে এখানে অনেকেই ভিড় করেন। সেই সাথে শোরলাইন ট্রেইল ধরে সাইকেল চালানো মানুষ, পিকনিককারী আর রোদ পোহাতে আসা মানুষদের এক শান্ত আশ্রয় এটি। পার্কে রয়েছে পিকনিকের ছাউনি, নতুন তৈরি উন্মুক্ত মঞ্চ, বাগান আর ঐতিহাসিক নানা তথ্যফলক। নিচে বর্ণিত বার্ড আইল্যান্ড পিয়ারের উত্তর প্রান্তও এই ফ্রিডম পার্ক।
- ফ্রন্ট পার্ক, বাসটি অ্যাভিনিউ ও আই-১৯০ এর মাঝে পোর্টার অ্যাভিনিউর উত্তর পাশ (মেট্রো বাস ৫, ২২ বা ৪০)। বাফেলোর অনেকগুলো ওলমস্টেড পার্কের একটি হলো ফ্রন্ট পার্ক (শুরুতে যার নাম ছিল দ্য ফ্রন্ট)। পিস ব্রিজের ঠিক দক্ষিণে পোর্টার অ্যাভিনিউ বরাবর এটি অবস্থিত। এখানে রয়েছে ফুটবল মাঠ, টেনিস কোর্ট এবং পিকনিকের সুবিধা। সেই সাথে ওলমস্টেডের আদি নকশার "হিপোড্রোম" নামের ১.৫ হেক্টরের লন রয়েছে যা পিকনিক বা খেলার জন্য দারুণ। রয়েছে ঘোড়ার গাড়ি ঘোরানোর চত্বর যেখানে দাঁড়িয়ে আছে কমোডর অলিভার হ্যাজার্ড পেরির সুন্দর একটি মূর্তি। নায়াগ্রা নদী ও ইরি হ্রদের সৌন্দর্য তুলে ধরতে এবং বাফেলোর ইতিহাসে জলের গুরুত্ব তুলে ধরতে এককালে পার্কে চমৎকার বাগান ছিল। পার্কের উত্তর মাথায় ১৮৪০-এর দশকের মাঝামাঝি তৈরি কাস্টমস হাউস ও সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট পোর্টার দাঁড়িয়ে ছিল। পরবর্তীতে ওলমস্টেডকে খাল পেরিয়ে একেবারে নদীর কিনারা পর্যন্ত পার্কটি বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে খেলার মাঠ, সৈকত আর হাঁটার কাঠের পথ থাকার কথা থাকলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। বিশ শতকের মাঝামাঝি নগর-উন্নয়নের ধকলে রিভারসাইড পার্কের মতো ফ্রন্ট পার্কও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাবেক খালের ওপর আই-১৯০ মহাসড়ক তৈরির ফলে শান্ত হ্রদের দৃশ্য হারিয়ে যায়। আর ১৯৫১ সালে পিস ব্রিজের নতুন প্লাজা বানাতে গিয়ে পার্কের আড়াই হেক্টর জমি কেটে নেওয়া হয়, ফোর্ট পোর্টার ভেঙে ফেলা হয় এবং কানাডামুখী পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচলের পথ পার্কের ভেতর দিয়ে নেওয়া হয়।
- লাসাল পার্ক, আই-১৯০ ও হ্রদের তীরের মাঝে পোর্টার অ্যাভিনিউর দক্ষিণ পাশ (মেট্রো বাস ২২ বা ২৯)। ওলমস্টেড পার্ক না হলেও লাসাল পার্ক হলো বাফেলোর জলসীমার সবচেয়ে বড় পার্ক। বেসবল ও ফুটবলের মাঠ, সুইমিং পুল, স্কেট পার্ক আর কুকুরদের খেলার জায়গা ("দ্য বার্কইয়ার্ড") থাকার কারণে এটি স্থানীয়দের কাছে ভীষণ প্রিয়। ১৯৩২ সালে বাফেলোর শতবর্ষ পূর্তিতে ৩৬ হেক্টর (৮৯ একর) আয়তনের এই পার্কটি যখন জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়, তখন এর নাম ছিল সেন্টেনিয়াল পার্ক। পরবর্তীতে ১৬৭৯ সালে ইরি হ্রদের তীর ধরে প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে বাফেলোর জমিন প্রত্যক্ষকারী ফরাসি অভিযাত্রী রনে-রবার্ট কাভালিয়ের দ্য লা সালের সম্মানে এর নাম বদলানো হয়। স্থাপত্যপ্রেমীদের নজর কাড়বে বাফেলো ওয়াটার অথরিটির ঐতিহাসিক কর্নেল ফ্রান্সিস জি. ওয়ার্ড পাম্পিং স্টেশন, যা ১৯০৯ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে স্থানীয় আর্কিটেকচার ফার্ম এসেনওয়াইন অ্যান্ড জনসনের নকশায় বোজার্টস ও রোমানেস্ক স্থাপত্যের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছিল।
- রিভারসাইড পার্ক, ভালকান স্ট্রিট ও ক্রাউলি অ্যাভিনিউর মাঝে টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিটের পশ্চিম পাশ (মেট্রো বাস ৫, ৩৫ বা ৪০)। শহরের সুদূর উত্তর-পশ্চিম কোণে ১৬ হেক্টরের এই রিভারসাইড পার্কে সব ধরনের খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে। বেসবল, ফুটবল, বাস্কেটবল আর টেনিস কোর্ট ছাড়াও আছে সুইমিং পুল, শিশুদের খেলার মাঠ এবং বিখ্যাত রুবেন "বাড" বেকওয়েল আইস রিঙ্ক। বাফেলোর ওলমস্টেড পার্ক ব্যবস্থায় এটিই ছিল সর্বশেষ সংযোজন। ফ্রেডেরিক ল ওলমস্টেডের মৃত্যুর পর ১৮৯৮ সালে শহরের অনুরোধে তাঁর দুই ছেলে এই পার্কের নকশা করেন। শহরের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জলবেষ্টিত পার্ক গড়ে তোলার স্বপ্ন পূরণে এখানে যুক্ত করা হয়েছিল খোলা প্রান্তর, হাঁটার পথ, বনানী, গাড়ি ঘোরানোর পথ এবং উত্তরের সীমানায় ছোট মাছের কৃত্রিম পুকুর। ডেলাওয়্যার পার্কের সাথে এটিকে যুক্ত করতে রোশ অ্যাভিনিউ পার্কওয়ের পরিকল্পনা থাকলেও তা কখনো তৈরি হয়নি। খালের ওপর দিয়ে মহাসড়ক আই-১৯০ নির্মাণ এবং ওলমস্টেড আমলের অনেক বৈশিষ্ট্য মুছে ফেলার কারণে রিভারসাইড পার্কটি হয়তো আগের মতো সংরক্ষিত নেই। তবে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর পথচারী সেতু দিয়ে নদীর কিনারায় গিয়ে নায়াগ্রা নদীর রূপ এখনো দারুণভাবে উপভোগ করা যায়। আর ২০১৪ সালে পুরোনো পুকুরের জায়গায় বাফেলো ওলমস্টেড পার্কস কনজারভেন্সি গড়ে তুলেছে মনোরম পাথুরে রেইন গার্ডেন রিভার রক গার্ডেনস, যার মাঝখানে রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন পাথুরে খিলান সেতু।
উপরে বলা বড় পার্কগুলো ছাড়াও ওয়েস্ট সাইডে বেশ কিছু মনোরম ছোট সবুজ উদ্যান আছে। বিশাল কানেটিকাট স্ট্রিট আর্মোরির ছায়ায় পোর্টার অ্যাভিনিউ ও নায়াগ্রা স্ট্রিটের কোণে দুই ব্লক জুড়ে রয়েছে প্রসপেক্ট পার্ক। বাফেলোয় কাজের সময় ওলমস্টেড এই আগের থেকেই থাকা পার্কটির নতুন নকশা করেছিলেন। আরও উত্তরে ২০০৪ সাল থেকে ইউনিটি দ্বীপের উত্তর মাথায় রয়েছে ইউনিটি আইল্যান্ড পার্ক, যা মাছ ধরা ও পিকনিকের জন্য দারুণ। নায়াগ্রা ও অন্টারিও স্ট্রিটের কাছে ব্ল্যাক রক ক্যানাল পার্ক আছে ডগ রান, মাছ ধরার ঘাট ও নৌকা ভাসানোর ব্যবস্থা। আর ওয়েস্ট ভিলেজে রয়েছে বাফেলোর প্রথম মেয়র ড. এবিনেজার জনসনের সাবেক এস্টেটে গড়ে ওঠা ছোট কিন্তু শান্ত আবাসিক পার্ক জনসন পার্ক।
অন্যান্য উন্মুক্ত আকর্ষণ
- বার্ড আইল্যান্ড পিয়ার, ফ্রিডম পার্ক দিয়ে প্রবেশ (মেট্রো বাস ৫, ১২ বা ৪০)। ইরি খাল ও নায়াগ্রা নদীর উদ্দাম স্রোতের মাঝে বাফার হিসেবে ১৮২২ সালে তৈরি হয় এই বার্ড আইল্যান্ড পিয়ার। এককালে এটি ছিল মাছ ধরার কুঁড়েঘর, খালের নৌকা আর কানাডামুখী প্রমোদতরীর জমজমাট ঠিকানা। সেগুলো হারিয়ে গেলেও ২০১০-এর দশকের শুরুতে ঘাটটির পূর্ণ সংস্কার করে একে পায়ে হাঁটার এক চমৎকার পথ হিসেবে খুলে দেওয়া হয়। ফ্রিডম পার্ক থেকে শুরু করে পিস ব্রিজ পেরিয়ে প্রায় ২ কিমি পথ হেঁটে লাসাল পার্কের সমান্তরালে যাওয়া যায়। ডান পাশে নায়াগ্রা নদী আর ফোর্ট ইরির অনিন্দ্য রূপ দেখতে দেখতে বাঁ দিকে নজর দিলে চোখে পড়বে খালের পানিতে বিভিন্ন হাই স্কুলের রোয়িং দলের প্রস্তুতি। পথের শেষ মাথায় এসে মিলবে বাফেলোর জলসীমার সেরা দৃশ্য, যেখানে সামনে থাকবে ইরি বেসিন মেরিনা আর দূরে দেখা যাবে ডাউনটাউনের স্কাইলাইন ও ঐতিহাসিক শস্যভাণ্ডার।
- ম্যাসাচুসেটস অ্যাভিনিউ প্রজেক্ট, ৩৮৯ ম্যাসাচুসেটস অ্যাভিনিউ (মেট্রো বাস ৩), ☏ +১ ৭১৬-৮৮২-৫৩২৭। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা এবং শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কর্মীদের সাথে ঘুরে দেখা যায়। ১৯৯২ সালে ওয়েস্ট সাইডের বাসিন্দাদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ম্যাসাচুসেটস অ্যাভিনিউ প্রজেক্টের লক্ষ্য হলো সবার জন্য পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী খাদ্যের জোগান দেওয়া, অবহেলিত শহুরে জমিকে উর্বর বাগানে রূপান্তর করা এবং সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা। এর মূল আকর্ষণ হলো বাফেলোর প্রথম নগর খামার গ্রোয়িং গ্রিন আরবান ফার্ম, যা ৪,০০০ বর্গমিটার আয়তনের তেরোটি পতিত জমিতে গড়ে উঠেছে। বড় গ্রিনহাউস ও উন্মুক্ত জমিতে নানা ফসল ফলানো হয়। সেই সাথে আছে ছোট ফলের বাগান, দেশি মুরগি আর মাছের হ্যাচারি। ২০০৯ সালে চালু হওয়া অত্যাধুনিক বৃষ্টির পানি নির্ভর অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে খামারটিকে সবুজ রাখা হয়। সিটি মেয়রের সামার ইয়ুথ প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের খামারের কাজে লাগানো হয়, যার ফলে তারা কাজের দক্ষতার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে জানতে পারে। উৎপাদিত তাজা ফলমূল বিক্রির জন্য একটি ফার্ম স্ট্যান্ডও রয়েছে। পরামর্শিত অনুদান ২ ডলার।

পোর্টার ও নরমাল অ্যাভিনিউর কোণে অবস্থিত লাইফ মেমোরিয়াল পার্ক হলো ফারগো এস্টেট হিস্টোরিক ডিস্ট্রিক্টের এমন একটি অংশ যা এলাকার ইতিহাসের সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দিক তুলে ধরে। আশির দশকের শেষের দিকে ও নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সস্তা বাড়ির খোঁজে অ্যালেনটাউন থেকে আসা এলজিবিটিকিউ সমাজ এখানে বসতি গড়ে তুলেছিল। এইচআইভি/এইডস মহামারীর চরম দুঃসময়ে জার্সি স্ট্রিটে অবস্থিত এইডস রোগীদের আশ্রয়স্থল বেনেডিক্ট হাউস ছিল তাদের জন্য বড় ভরসা। এই মরণব্যাধিতে প্রাণ হারানো বাফেলোবাসীদের স্মরণে স্থানীয় বাসিন্দারা তৎকালীন একটি পরিত্যক্ত জমিতে এই স্মৃতি উদ্যানটি গড়ে তোলেন। (ছবি: Andre Carrotflower, CC BY-SA 4.0)
নায়াগ্রা অঞ্চলের ছয়টি ফ্রাঙ্ক লয়েড রাইট ভবনের একটির দেখা মিলবে প্রসপেক্ট হিলে:
- ফন্টানা বোটহাউস, ৪০ পোর্টার অ্যাভিনিউ (মেট্রো বাস ২২), ☏ +১ ৭১৬-৩৬২-৩১৪০। ঘুরে দেখার জন্য খোলা (এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর: ওয়েবসাইটে সময় দেখে নিন, অক্টোবর থেকে মার্চ: কেবল সাক্ষাতের সময় নিয়ে)। প্রখ্যাত স্থপতি ফ্রাঙ্ক লয়েড রাইটের নকশা করা বিশ্বের একমাত্র বোটহাউস। পরিদর্শন ফি ১০ ডলার।
যা করবেন
উৎসব ও অনুষ্ঠান
ওয়েস্ট সাইডের উৎসবের দিনপঞ্জির দিকে তাকালে আবারও সেই "বৈচিত্র্য" কথাটিই সবার আগে মাথায় আসবে। পাড়ার প্রতিটি অংশের পরিচয়ের সাথে মানানসই কোনো না কোনো বার্ষিক উৎসব এখানে রয়েছে, তা সে গ্রান্ট-ফেরির অভিবাসীদের অনুষ্ঠান হোক, ব্ল্যাক রকের জার্মান শ্রমজীবীদের মেলা হোক, কিংবা তরুণদের প্রিয় বাফেলো স্মল প্রেস বুক ফেয়ারই হোক।
বসন্তকাল
- বাফেলো স্মল প্রেস বুক ফেয়ার। প্রতি বছর এপ্রিলের শুরুতে আয়োজিত এই বইমেলায় লেখক, শিল্পী, কবি, প্রকাশক আর বইপ্রেমীরা কার্পেলেস ম্যানুস্ক্রিপ্ট লাইব্রেরির পোর্টার হলে আড্ডা দিতে, ভাবনা বিনিময় করতে এবং পাঠক ও নতুন লেখকদের সাথে মিশতে জড়ো হন। বই, ম্যাগাজিন, শিল্পকর্ম কেনাবেচার পাশাপাশি এখানে বক্তৃতা, আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ আর নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকে। সবার জন্য উন্মুক্ত এই মেলায় প্রবেশের কোনো ফি নেই।
গ্রীষ্মকাল
- ডিসকভার ডাউনটাউন ব্ল্যাক রক। ১৯৯৭ সাল থেকে প্রতি বছর জুনের তৃতীয় শনিবারে এই উৎসবের মাধ্যমে নবরূপ পাওয়া অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটের ব্যবসাগুলোকে তুলে ধরা হয়। সারা দিন ধরে নানা রকম কার্যক্রম, বিনোদন আর বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা থাকে। উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু ঐতিহাসিক ফ্লেমিশ রেনেসাঁ ধাঁচের ল্যাডার ১২ ফায়ারহাউস থেকে দুপুর ১২টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। পুরো দুপুর জুড়ে অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটে চলে ট্রলি ও ঘোড়ার গাড়ি, পাড়ার নানা কোণে বসে গানের আসর। আর স্পারস ইউরোপীয় সসেজের বার্ষিক সসেজ খাওয়ার প্রতিযোগিতার কথা তো বলাই বাহুল্য!
- টেস্ট অব ডাইভারসিটি। ২০০৩ সাল থেকে প্রতি গ্রীষ্মে গ্রান্ট স্ট্রিটে বিভিন্ন তারিখে এই উৎসবটি হয়ে আসছে এবং এটি ওয়েস্ট সাইডের সবচেয়ে জনপ্রিয় পথোৎসবে পরিণত হয়েছে। লাফায়েত ও অবার্ন অ্যাভিনিউর মাঝে পাড়ার প্রাণকেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার মানুষ এসে ভিড় জমান। নাম থেকেই বোঝা যায়, ওয়েস্ট সাইডের প্রতিটি বর্ণিল অভিবাসী সমাজের সুস্বাদু আর বৈচিত্র্যময় খাবারগুলোই এখানে তুলে ধরা হয়। তবে একে ডাউনটাউনের বিশাল আয়োজনের টেস্ট অব বাফেলোর সাথে মেলাবেন না। বড় বড় নামী রেস্তোরাঁর পুরস্কার আর প্রচারের লড়াইয়ের বদলে এখানে রয়েছে সম্পূর্ণ আন্তরিক এক ছোঁয়া। পাড়ার সাধারণ রেস্তোরাঁ আর ফুড ট্রাকগুলো নিজেদের সেরা আর খাঁটি রান্না নিয়ে হাজির হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ওয়েস্ট সাইডের বৈচিত্র্য আর বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মিলেমিশে এক চমৎকার সমাজ গড়ে তোলার আনন্দ উদযাপন করা। খাবারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী গান, নাচ আর নানা পরিবেশনায় উৎসবটি মুখর থাকে।
হেমন্তকাল
- ব্ল্যাক রক রিভারসাইড অক্টোবরফেস্ট। বাফেলোর জার্মান বংশোদ্ভূত ও জার্মানপ্রেমী মানুষদের আকৃষ্ট করতে ২০১৬ সালে এই বড় উৎসবটির সূচনা হয়। বিকেলে অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটের আর্টিসান কিচেনস অ্যান্ড বাথস গুদামে ঐতিহ্যবাহী ওম্পাহ সংগীত, বিশেষ অক্টোবরফেস্ট বিয়ারের পিপা উন্মোচন এবং পাড়ার বিভিন্ন দোকানের স্টল দিয়ে উৎসব শুরু হয়। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত ব্ল্যাক রক, রিভারসাইড, গ্রান্ট-অ্যামহার্স্ট ও ওয়েস্ট হার্টেলের নানা বার ও রেস্তোরাঁয় এর রেশ চলে (রাত ১টা পর্যন্ত বিভিন্ন বারের মাঝে শাটল বাস চলে)। প্রতিটি জায়গায় বিশেষ পানীয়, সুস্বাদু জার্মান খাবার আর গানের দারুণ আয়োজন থাকে।
আইস স্কেটিং
- রুবেন (বাড) বেকওয়েল আইস রিঙ্ক, ২৬০৭ নায়াগ্রা স্ট্রিট (রিভারসাইড পার্কে; মেট্রো বাস ৫, ৩৫ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৫-৪৮২০। রবি ও শুক্র: দুপুর ২টা থেকে বেলা ৩টা ৫০ মিনিট; সোম: বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিট; বৃহস্পতি: বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট; শনি: দুপুর ১টা থেকে দুপুর ২টা ৫০ মিনিট (বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া, কেবল অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি)। শহরের বাসিন্দাদের ২ ডলার, অন্যদের ৩ ডলার, স্কেট ভাড়া ৩ ডলার।
নৌকায় ভ্রমণ
- বাফেলো নায়াগ্রা রিভারকিপার ট্যুরস, ☏ +১ ৭১৬-৮৫২-৭৪৮৩। সময়সূচির জন্য ওয়েবসাইট দেখুন। বাফেলোর জলপথ সংস্কারের মাধ্যমে শহরের পুনর্জাগরণে কাজ করা সামাজিক সংস্থা বাফেলো নায়াগ্রা রিভারকিপার শহর ও নায়াগ্রা ফলসের মধ্যবর্তী নানা স্থানে শিক্ষামূলক কায়াক সফরের আয়োজন করে থাকে। প্রতি বছর সফরের তালিকায় নতুনত্ব থাকে। উদাহরণ হিসেবে ২০১৪ সালে ওয়েস্ট সাইডে বার্ষিক স্কাযাকুয়াদা ক্রিক রেগাটার আয়োজন করা হয়েছিল, যা পোর্টার অ্যাভিনিউর কাছের গ্রেট লেকস সেন্টার থেকে শুরু হয়ে ব্ল্যাক রক খাল ও স্কাযাকুয়াদা খাঁড়ির শান্ত জলে অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের কায়াক আনতে পারেন অথবা সংস্থার সীমিত সরবরাহ থেকে আগে বুক করে নিতে পারেন। বিনামূল্যে।
- ক্লাসিক ক্রুজেস, ১ ড্যান স্ট্রিট (রিচ মেরিনায়; মেট্রো বাস ৫, ৩২, ৩৫ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৯৪৬-৭২৪৬। আগে থেকে সময় ঠিক করে। সর্বোচ্চ ছয় জনের জন্য নিজস্ব পছন্দের জলভ্রমণের সুযোগ দেয় সামারলাভ নামের ১৯৫৬ সালের একটি ক্রিস ক্রাফট প্রমোদতরী। ডেকটিতে আরাম করে বসে চারপাশের রূপ দেখার বা রোদ পোহানোর দারুণ ব্যবস্থা রয়েছে। ক্যাপ্টেন রিচ আর ফার্স্ট মেট প্যাট আপনাকে আপার নায়াগ্রা নদীর যে কোনো প্রান্তে নিয়ে যাবেন, তা সে ঐতিহাসিক ব্ল্যাক রক লকের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ হোক, ক্যানালসাইডের দিকে যাওয়া হোক, কিংবা গ্র্যান্ড আইল্যান্ডকে পুরো এক চক্কর দেওয়াই হোক। জল চিরে জাহাজের এগিয়ে যাওয়া, পুরোনো মেহগনি কাঠের উজ্জ্বল রূপ আর ভিনটেজ ইঞ্জিনের মৃদু গর্জন সব মিলিয়ে দিনটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। খারাপ আবহাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই দিন বদলানো যায় অথবা পুরো টাকা ফেরত পাওয়া যায়। ঘণ্টায় ৫০ ডলার।
নাট্যমঞ্চ
- কাভিনোকি থিয়েটার, ৩২০ পোর্টার অ্যাভিনিউ (মেট্রো বাস ৩, ৫, ২২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮২৯-৭৬৬৮। প্রসপেক্ট হিলে ডি'ইউভিল কলেজের ক্যাম্পাসে অবস্থিত এই নাট্যশালা। কাভিনোকি থিয়েটার কেবল সাবেক ঐতিহাসিক পোর্টার-ভিউ রুমটিকেই চমৎকারভাবে সংস্কার করেনি, বরং পেশাদার অভিনেতাদের এই স্থানীয় নাট্যদলটি প্রায় ১৫০টি নাটক ও মিউজিক্যাল সফলভাবে মঞ্চস্থ করেছে এবং বাফেলোর অন্য যে কোনো দলের চেয়ে বেশি পুরস্কার জিতেছে। এখানকার বহু স্থানীয় অভিনেতা এই মঞ্চ থেকেই তাঁদের অভিনয় জীবন শুরু করেছেন।
- নিউ ফিনিক্স থিয়েটার অন দ্য পার্ক, ৯৫ জনসন পার্ক (মেট্রো বাস ৩, ৫, ১১, ২০, ২৫ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৫৩-১৩৩৪। বাফেলোর সেরা বিকল্প নাট্যমঞ্চ এটি। ১৯৯৬ সালে ওয়েস্ট ভিলেজের একটি ঐতিহাসিক বাড়িতে শুরু হওয়া এই থিয়েটার তাদের ছোট্ট পরিসরে দুর্দান্ত সব সাহসী ও সমসাময়িক নাটক এবং ধ্রুপদী নাটকের আধুনিক রূপান্তরের জন্য ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে। শুধু রোমাঞ্চকর নাট্য পরিবেশনাই নয়, ওয়েস্ট ভিলেজের পুনর্জাগরণেও এটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে।
সরাসরি গানবাজনা
ওয়েস্ট সাইডে সরাসরি গান শোনার জন্য সেরা জায়গা হলো গ্রান্ট-অ্যামহার্স্ট, যেখানে বাফেলোর সবচেয়ে প্রিয় তিনটি গানের আসর বসে। সেই সাথে সিম্ফনি সার্কেলে রয়েছে বিশ্বখ্যাত বাফেলো ফিলহারমনিক অর্কেস্ট্রার রাজকীয় স্থায়ী মঞ্চ।
- জিপসি পার্লার, ৩৭৬ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৫৫১-০০০১। গ্রান্ট-ফেরিতে সরাসরি গানের সবচেয়ে সেরা আস্তানা। ইন্ডি রক ব্যান্ড থেকে শুরু করে একুস্টিক গায়ক, আধুনিক ইলেকট্রনিকা সংগীতের ডিজে কিংবা বিগ-ব্যান্ড জ্যাজ, সব রকম সুরই এখানে শোনা যায়। এমনকি ড্রাম সার্কেল, বেলি ড্যান্স আর কবিতার আসরও বসে। প্রতি মঙ্গলবার রাত ৮টায় ওপেন-মাইক আসর বসে।
- হট মামাস ক্যান্টিন, ১২ মিলিটারি রোড (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৭৮৩-৮২২২। অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত বাফেলোর শাফলবোর্ড ও হট সস প্রেমীদের এই প্রিয় আড্ডাস্থলে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন (প্রায়ই আরও বেশি!) স্থানীয় ফাঙ্ক, ব্লুজ ও রক ব্যান্ডের গানবাজনা হয়।
- ইমাজিন ইভেন্ট সেন্টার, ৭১ মিলিটারি রোড (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৫৫৩-৬৭৯৪। স্পোর্টসমেনস ট্যাভার্ন পরিচালকদের হাত ধরে গড়ে উঠলেও সেই জায়গার চঞ্চল ও হৈচৈপূর্ণ পরিবেশ থেকে এটি একেবারেই আলাদা। তাদের নিজেদের ভাষায়, এটি হলো দুর্দান্ত অ্যাকোস্টিকসের এমন এক অন্তরঙ্গ সংগীতালয় যেখানে ওয়াইন আর ক্রাফট বিয়ারের চুমুকে দারুণ সব সুর উপভোগ করা যায়। রক, জ্যাজ থেকে শুরু করে ভক্তিগীতি কিংবা হিপ-হপ ও কবিতার আসরও এখানে নিয়মিত বসে।
- ক্লাইনহ্যান্স মিউজিক হল, ৩ সিম্ফনি সার্কেল (মেট্রো বাস ৭ বা ২২), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৩-৩৫৬০। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পিতা-পুত্র এলিয়েল ও এরো সারিনেনের নকশা করা ক্লাইনহ্যান্স মিউজিক হল বাফেলোর স্থাপত্যের এক অবিস্মরণীয় কীর্তি। লন্ডনের ফেস্টিভ্যাল হলসহ বহু ভবনের জন্য এটি আদর্শ হিসেবে কাজ করেছে এবং এর বিশ্বখ্যাত অ্যাকোস্টিকস অনন্য। বাফেলো ফিলহারমনিকের নিয়মিত পরিবেশনা ছাড়াও এখানে অন্যান্য অর্কেস্ট্রা, নাটিকা এবং জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীদের অনুষ্ঠান হয়।
- রোহালস কর্নার, ৫৪০ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ২০ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৯৩৯-২০৮৭। গ্রান্ট-অ্যামহার্স্টের প্রাণকেন্দ্রে সাধারণ অথচ ফ্যাশনেবল এই বারে নানা ধরনের অনুষ্ঠান দেখা যায়। তবে মূল আকর্ষণ হলো প্রতি মাসের প্রথম শনিবারের ব্ল্যাক রক ফিডল জ্যাম। স্থানীয় সংগীতশিল্পীরা এখানে পুরোনো দিনের একুস্টিক সুর তুলতে এক হন। বেহালা, ম্যান্ডোলিন, ব্যাঞ্জো আর গিটারের সেই সুরের মেলা এক কথায় দারুণ। শুধু দেখার বদলে যাঁরা বাজাতে চান, তাঁদের জন্য সব স্তরের বিনামূল্যের পাঠও দেওয়া হয়।
- শো-প্লেস থিয়েটার, ১০৬৫ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৭-২২০০। নব্বইয়ের দশক আর দুই হাজারের দশকের শুরুতে বাফেলোয় এমন কোনো রকপ্রেমী ছিলেন না যিনি শো-প্লেসের নাম শোনেননি। বিরাট সব তারকা হওয়ার ঠিক আগে বহু পাঙ্ক, অল্টারনেটিভ আর ইন্ডি ব্যান্ড এই সাবেক নির্বাক সিনেমার হলে তাদের গান পরিবেশন করেছে। বারো বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৯ সালে এটি আবার আলো ঝলমলে রূপ নিয়ে ফিরে এসেছে। নতুন মালিক জো রক্সবুরি আশির ও নব্বইয়ের দশকের গ্ল্যাম-মেটাল ঘরানার জনপ্রিয় দলগুলোকে মঞ্চে আনার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
- স্পোর্টসমেনস ট্যাভার্ন, ৩২৬ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৪-৭৭৩৪। আসল মেঠো সরাইখানার আমেজ নিয়ে চলা এই জায়গাটিকে বলা হয় শহরের সেরা বিয়ার ও গানের ঠিকানা। স্থানীয় কান্ট্রি, ফোক, ব্লুজ আর রুটস-রক সংগীতের জন্য এটি বাফেলোর সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। সংগীতশিল্পীদের জন্য সংগীতশিল্পীদের দ্বারাই পরিচালিত এই আস্তানাটি স্থানীয় শিল্পীদের দারুণ পছন্দের। ৩২৫টি আসনের এই হলে সব সময় ভিড় থাকে। এদের খাবারও সাধারণ পাবের খাবারের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও সুস্বাদু। অনন্য অভিজ্ঞতার জন্য দোতলার বারান্দায় বসার চেষ্টা করুন।
- সুগার সিটি, ১২৩৯ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ১২ বা ৪০)। সুগার সিটি আবার ফিরে এসেছে। অ্যালেনটাউনের আগের ঠিকানা ছেড়ে ২০১৪ সালের আগস্টে নায়াগ্রা স্ট্রিটের নতুন ঠিকানায় তারা হাজির হয়েছে। পেছনের দিকে থাকা ১৭০ আসনের পরিবেশনা কেন্দ্রে লোকাল হার্ডকোর পাঙ্ক, অ্যাম্বিয়েন্ট নয়েজ আর নিও-গ্যারেজ রকের নিয়মিত আসর বসে। নাট্যোৎসব আর কবিতার আসরও হয়। সব অনুষ্ঠানই সব বয়সের দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত এবং পুরোপুরি অ্যালকোহলমুক্ত।
- দ্য ট্যাবারন্যাকল, ২১১ লাফায়েত অ্যাভিনিউ (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৩-১৭৩৮। ২০১৮ সালে প্রিশ মোরান তাঁর জনপ্রিয় ক্যাফে সুইট_নেস ৭-এর ঠিক পাশেই এই পাব ও সঙ্গীতমঞ্চটি চালু করেন। রক, জ্যাজ আর একুস্টিক গানের পাশাপাশি এর চমৎকার সাইকেডেলিক সাজসজ্জা নব্বইয়ের দশকের আন্ডারগ্রাউন্ড কফি শপের নস্টালজিক আবহ মনে করিয়ে দেয়।
- দ্য ওয়াশ প্রজেক্ট, ৪১৭ ম্যাসাচুসেটস অ্যাভিনিউ (মেট্রো বাস ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-২৫৩-১০৬৮। পাড়ার এই লন্ড্রি ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় প্রতি দুই মাসে একবার আয়োজিত হয় ওপেন-মাইক সংগীত আসর **ওয়াশ দ্য মাইক!**। সেই সাথে প্রতি মাসে স্থানীয় নিরীক্ষাধর্মী সংগীতশিল্পীদের নিয়ে নিয়মিত কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।
বিবিধ
- গ্যাদার অ্যান্ড গেম, ২১২ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-২৪৮-১৮৮৩। বুধ ও বৃহস্পতি: সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা; শুক্র ও শনি: সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা; রবি: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা। ওয়েস্ট সাইডের বাসিন্দাদের জন্য আড্ডা আর বোর্ড গেম খেলার চমৎকার এক বন্ধুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ৩ ডলার দিয়ে এক দিনের জন্য অথবা ২৫ ডলার বার্ষিক সদস্য ফি দিয়ে এদের বিশাল গেমের সংগ্রহ থেকে পছন্দের গেম খেলে দেখার সুযোগ মেলে। মনোপলির মতো ক্লাসিক গেম থেকে শুরু করে পোকেমন কিংবা ডাঞ্জিয়নস অ্যান্ড ড্রাগনসের মতো আরপিজি গেম সবই আছে। খেলার পাশাপাশি নানা প্রতিযোগিতার আয়োজনও থাকে, আর পছন্দ হলে গেমের সেট কিনেও নিতে পারেন।
শেখার সুযোগ
ডি'ইউভিল কলেজ ১৯০৮ সাল থেকে প্রসপেক্ট হিলে অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্যাথলিক কলেজ। মন্ট্রিলের বিখ্যাত গ্রে নানরা এটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠাতা সেন্ট মারি-মার্গেরিট ডি'ইউভিলের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। নারীদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এটি নায়াগ্রা অঞ্চলের প্রথম কলেজ যা নারী শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেয়। সত্তরের দশকে সহশিক্ষা চালু হলেও এখনো এর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থীই নারী। গত ২৫ বছরে কলেজটি এলাকার ব্যাপক সংস্কারে অংশ নিয়ে বহু নতুন ভবন তৈরি ও পুরোনো ভবন সংস্কার করেছে। বর্তমানে ২,৭০০ শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করেন যার মধ্যে এক হাজারেরও বেশি স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক ব্যবসা, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি নার্সিং, ডায়েটেটিক্স ও ফিজিওথেরাপির মতো স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে এখানে স্নাতক ও ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়।
শিল্পকলার ক্লাসে আগ্রহ থাকলে রিভারসাইডে ঘুরে দেখতে পারেন:
- কুইন সিটি ফাইন আর্টস, ১১১১ টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ৩৫ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-২২২-১৯২০। রিভারসাইড পার্কের কিনারায় জাস্টিন ডাহলের দুই বছরের একনিষ্ঠ পরিশ্রমে টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিটের একটি পরিত্যক্ত দোকান পরিণত হয়েছে একটি বহুমুখী আর্ট স্টুডিওতে। সব বয়সের ও সব দক্ষতার (বিশেষ করে নতুনদের) জন্য নানা মাধ্যমের চিত্রকলার ক্লাসের ব্যবস্থা থাকে। ২০১৯ সালের মে মাসে চালুর পর থেকে স্থানীয় শিল্পীরা পেনসিল ড্রয়িং, পেইন্টিং ও মৃৎশিল্পের প্রাথমিক পাঠ দেওয়ার পাশাপাশি গয়না তৈরির মতো বিষয়েও ক্লাস নিচ্ছেন। ক্লাস না করলেও তাদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের তৈরি চমৎকার সব শিল্পকর্ম ঘুরে দেখতে পারেন।
কেনাকাটা
গ্রান্ট-ফেরি ও আপার ওয়েস্ট সাইড
বাফেলোর প্রতিটি শপিং এলাকার যেন আলাদা আলাদা বিশেষত্ব আছে। এলমউডে মেলে হালফ্যাশনের আধুনিক পোশাক, অ্যালেনটাউন ভরা আর্ট গ্যালারিতে, আর পুরোনো ঐতিহ্যবাহী আসবাব ও ঘর সাজানোর জিনিস কিনতে মানুষ ছোটেন হার্টেল অ্যাভিনিউতে। আর গ্রান্ট স্ট্রিটের কথা বললে, আপনি যদি নানা দেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প বা অচেনা ভিনদেশি খাবারের খোঁজে থাকেন আর এখানে এসে তা না পান, তবে সম্ভবত আর কোথাও তা পাবেন না।
- ওয়েস্ট সাইড বাজার, ২৫ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৪৬৪-৬৩৮৯। মঙ্গল থেকে বৃহস্পতি: সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা, শুক্র ও শনি: সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা। হারলেমের ম্যালকম শাবাজ মার্কেট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং এককালে বাফেলোর সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী পাবলিক মার্কেটের (যেমন ইস্ট সাইডের ব্রডওয়ে মার্কেট) ঐতিহ্য ধরে রেখে গড়ে উঠেছে এই বাজার। গ্রান্ট স্ট্রিটের আন্তর্জাতিক আবহাওয়ালা এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি কেবল নতুন অভিবাসীদের সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সূতিকাগারই নয়, বরং নিজ দেশের স্মৃতি জাগিয়ে তোলার এক চমৎকার আড্ডাস্থলও বটে। ওয়েস্ট সাইড বাজারে বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও হস্তশিল্পের দোকানের পাশাপাশি রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক ফুড কোর্ট (ইন্টারন্যাশনাল কিচেন), যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্তের খাঁটি খাবার পরিবেশন করা হয়।

গ্রান্ট স্ট্রিটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ওয়েস্ট সাইড বাজার । এটি এমন একটি সামাজিক উদ্যোগ যেখানে নতুন অভিবাসীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পান। ভিনদেশি পোশাক, হস্তশিল্প ও খাবারের খোঁজে আসা মানুষের জন্য এটি সেরা গন্তব্য, সেই সাথে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের এক অপূর্ব মিলনমেলা। (ছবি: Andre Carrotflower, CC BY-SA 3.0)
- গ্যাজেট বাজার। স্বামীর সাথে গৃহযুদ্ধকবলিত শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে আসা রোমালা রাজেন্দ্রন এই দোকানের কর্ণধার। অদ্ভুত নামের এই গ্যাজেট বাজারে কিন্তু ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেলে না, বরং এখানে পাবেন দক্ষিণ এশীয় ও পশ্চিমা ঘরানার পোশাক, অনুষঙ্গ এবং উজ্জ্বল রঙের আকর্ষণীয় সব গয়না।
- গিসমাস আফ্রিকান স্টাইল। গৃহযুদ্ধে জর্জরিত দক্ষিণ সুদান থেকে ২০০২ সালে বাফেলোয় পাড়ি জমান গিসমা কুয়েনি। বাজারের এই স্টলটিতে তিনি আফ্রিকা থেকে আনা হাতে তৈরি নানা জিনিস বিক্রি করেন। এর মধ্যে রয়েছে কারিগরদের তৈরি গয়না, হ্যান্ডব্যাগ, স্কার্ফ, দস্তানা, শিয়া বাটার, ঘানার বিখ্যাত ব্ল্যাক সোপ এবং আফ্রিকার বন্যপ্রাণীর কাঠের ছোট ছোট ভাস্কর্য। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, এই দোকানের আয়ের একটি অংশ দক্ষিণ সুদানের কন্যাশিশুদের শিক্ষার প্রসারে দান করা হয়।
- জুলিয়েন বুটিক। জুলিয়েন নিরানজিশির পরিবারের সবাই হস্তশিল্পী, তা সে বাফেলোয় থাকা সদস্য হোক কিংবা রুয়ান্ডায় থেকে যাওয়া আত্মীয়। তাঁদের তৈরি জিনিসপত্রই বিক্রি হয় এই বুটিকে। পোশাক, গয়না, ঐতিহ্যবাহী ঝুড়ি আর আফ্রিকার রূপ আঁকা পোস্টকার্ডের পাশাপাশি এখানকার মূল আকর্ষণ হলো কাঠের খোদাই করা শিল্পকর্ম, যেমন ঐতিহ্যবাহী বাটি, মূর্তি ও তৈজসপত্র।
- ম্যাক্রামে বাই নাদিন, ☏ +১ ৭১৬-৫৪১-৮৮২৪। সুতোয় গিঁট দিয়ে জিনিসপত্র বানানোর প্রাচীন শিল্প ম্যাক্রামে আমেরিকায় হয়তো নতুন শখ হতে পারে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে এটি বেশ পরিচিত। ইরাকি বংশোদ্ভূত নাদিন ইউসুফ ২০০৯ সালে বাফেলোয় আসার আগেই এই শিল্পে নিজের নাম তৈরি করেছিলেন। এখানে ওয়াল আর্ট, গয়না, ঝুলন্ত টব রাখার নেটসহ নানা হস্তনির্মিত সামগ্রী পাওয়া যায় এবং ফরমায়েশ দিয়েও জিনিস বানিয়ে নেওয়া যায়।
- মুনলেডি আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস। ওয়েস্ট সাইড বাজারের পেছনের দেয়ালজুড়ে রয়েছে মা থেইন্টের বর্ণিল সংগ্রহ। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, ঘর সাজানোর জিনিস এবং সর্বোপরি বর্মী শিল্পকর্ম ও কারুশিল্পে সাজানো এই দোকান। ঐতিহ্যবাহী ট্যাপেস্ট্রি, বৌদ্ধধর্মীয় নানা সামগ্রী, ড্রাম ও বাদ্যযন্ত্র, লাক্ষাশিল্প, পুতুলসহ বহু বিচিত্র জিনিস পাওয়া যায়। বাফেলোয় বর্মী সংস্কৃতিকে তুলে ধরাই থেইন্টের মূল লক্ষ্য।
- ওয়ান্স আপন আ টাইম। ইরাকি মালিকানাধীন এই স্টলের সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে "মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কারুশিল্প, পোশাক, গৃহসজ্জা সামগ্রী ও উপহার সামগ্রী"। সুন্দর নামের এই দোকানে পাবেন উজ্জ্বল রঙের ঢিলেঢালা পোশাক, ফ্যাশনেবল হ্যান্ডব্যাগ, আরবি ক্যালিগ্রাফি খচিত মার্জিত ট্যাপেস্ট্রি এবং নানা বাদ্যযন্ত্র।
- জিগমা ন্যাচারালস। মিয়ানমারের সরকারি হাসপাতালের সাবেক নার্স রেন ম্যানুয়েল এখানে নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। দোকানের অর্ধেক অংশজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ত্বকের যত্ন সামগ্রী, ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট এবং প্রসাধন; আর বাকি অংশে রয়েছে সাধারণ পশ্চিমা ঘরানার ক্যাজুয়াল পোশাক।
বিশেষায়িত খাবারদাবার
- বুটলেগ বুচা, ১২৫০ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ১২ বা ৪০)। মঙ্গলবার ও শনিবার: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা; বুধ থেকে শুক্র: সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা; রবিবার: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা। বাফেলোর প্রথম কম্বুচা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান (পূর্ব এশিয়ার এক ধরনের ফারমেন্টেড বা গাঁজানো মিষ্টি চা যাতে হালকা বুদবুদ থাকে এবং যা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী বলে মনে করা হয়)। এখানে প্রায় চার ডজন স্বাদের কম্বুচা পাওয়া যায়, যার মধ্যে জিঞ্জার বিয়ার, গাজর-আনারস এবং ব্লুবেরি-ল্যাভেন্ডার সবচেয়ে জনপ্রিয়। প্লাস্টিকের বোতলে তো নিতে পারেনই, তবে পরিবেশের কথা ভেবে ২ ডলার দিয়ে কাচের বোতল কিনে তাতেও ভরে নিতে পারেন।
- কুকি, ১১৯৭ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ১২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৮-৮৮২১। সোম: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা; মঙ্গল: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা; বুধ: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা; বৃহস্পতি ও শুক্র: সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা; শনি: সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা। রাস্তার উল্টো দিকে সদর দপ্তর থাকা বিখ্যাত খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রিচ প্রোডাক্টসের পরিচালনায় পরিচালিত এই দোকানে কেবল তাদের নিজেদের তৈরি উপকরণের কুকি, পেস্ট্রি ও বেকারি পণ্য বিক্রি হয়। ভেতরের সাজসজ্জা পুরোনো দিনের মিষ্টির দোকানের মতো, মেঝেতে সাদা-কালো দাবাঘরের নকশা আর কাচের শোকেস ভরা সুস্বাদু সব খাবার। মূলত প্যাকেট নিয়ে চলে যাওয়ার জায়গা এটি, তবে টেবিল খালি পেলে সাথে এক কাপ গরম কফিও উপভোগ করতে পারেন।
- ফাইভ লোাভস ফার্ম, ৭০ ওয়েস্ট ডেলাভান অ্যাভিনিউ (মেট্রো বাস ৩, ৫, ২৬ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮০৩-৯২৪১। জুলাই থেকে আগস্ট: শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। ২০১২ সাল থেকে আপার ওয়েস্ট সাইডের দশটি পতিত জমিতে গড়ে ওঠা এই খামারটি পরিবেশবান্ধব উপায়ে শাকসবজি ফলিয়ে প্রতিবেশীদের পুষ্টিকর খাবারের জোগান দিচ্ছে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছে। উৎপাদিত ফসল মূলত স্থানীয় সদস্য এবং স্কুল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়, তবে গ্রীষ্মকালে শুক্রবার সন্ধ্যায় ওয়েস্ট ডেলাভান অ্যাভিনিউর ফার্মহাউসে সাধারণ ক্রেতাদের কাছেও তাজা সবজি বিক্রি করা হয়।
- গুয়ের্চিও অ্যান্ড সনস, ২৫৪ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৮৮২-৭৯৩৫। সোম থেকে শনি: সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। ১৯৬১ সাল থেকে যখন গ্রান্ট স্ট্রিট ছিল জমজমাট এক ইতালীয় পাড়া, তখন থেকে চলছে গুয়ের্চিওর ব্যবসা। বাফেলোর সেরা গুরমে মুদিদোকানগুলোর একটি হিসেবে এটি পরিচিত। সামনের ফুটপাতে রাখা ঠেলাগাড়িতে সাজানো তাজা শাকসবজি ও মসলা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে মন মাতানো সুবাস পাবেন। ক্যানজাত খাবার, ইতালি থেকে আনা পাস্তা, পছন্দের মাপে কেটে দেওয়া সসেজ ও মাংসের টুকরো আর সেরা মানের জলপাই তেলের বিশাল সম্ভার রয়েছে এখানে।
- লরিগোস মিটিং প্লেস, ১৮৫ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৫-৩৬২৩। সোম থেকে শনি: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। ১৯৮৬ সালে পুরোনো দিনের কসাইখানা হিসেবে শুরু হওয়া এই দোকানের মূল বিশেষত্ব ছিল পারিবারিক রেসিপিতে তৈরি ইতালীয় সসেজ ও মিটবল। তবে সময়ের সাথে সাথে গ্রান্ট স্ট্রিটের রূপ বদলেছে, আর সেই সাথে বদলেছে লরিগোসও। এখন এটি পুরোদস্তুর এক আন্তর্জাতিক মুদি দোকানে রূপ নিয়েছে যেখানে লাতিন, ক্যারিবীয়, সোমালি ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সব খাবার ও মসলা পাওয়া যায়। ভেতরের গলিগুলো বেশ ঘিঞ্জি আর প্রায়ই ভিড় থাকে, তবে এটাই এখানকার আসল মজা।
- হোয়াটস পপ-ইন গুরমে পপকর্ন, ৪১৮ ওয়েস্ট ফেরি স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৫৯৭-৮১২৯। বুধবার: বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা, বৃহস্পতি ও শুক্র: দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। আধুনিক শৌখিন দোকান মনে করে এড়িয়ে যাবেন না, এর স্বত্বাধিকারী স্টিফান কোকারের প্রতিদিন তৈরি করা ডিল পিকল (আচারের স্বাদযুক্ত) পপকর্নের একটা প্যাকেট মুখে দিলেই এর ভক্ত হয়ে যাবেন। এ ছাড়া বারবিকিউ আনারস, ব্ল্যাক ট্রাফেল, পিৎজা ও লেমনেডসহ মোট ২৩ রকমের স্বাদের পপকর্ন তৈরি হয় এখানে। তবে প্রথমবার গেলে ডিল পিকল দিয়েই শুরু করা ভালো।

বিশ্বের প্রায় সব দেশের রান্নার মশলা ও উপকরণ সমৃদ্ধ এশীয় ও আফ্রিকান মুদি দোকানগুলোর বিশাল সমাহারই হলো গ্রান্ট-ফেরির মূল আকর্ষণ। (ছবি: Andre Carrotflower, CC BY-SA 3.0)
এশীয় ও আফ্রিকান মুদিদোকান
- আফ্রিকান মার্কেট, ৩৫৫ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৮৮২-৮৭৮৬। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। নাম আফ্রিকান মার্কেট হলেও এখানে শুধু আফ্রিকারই নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তের আমদানি করা খাবার পাওয়া যায়। ক্যানজাত খাবার, মসলা ও চালের পাশাপাশি এখানকার মূল আকর্ষণ হলো হালাল ও কোশার মাংসের বিশাল সম্ভার। গরু ও মুরগির পাশাপাশি ছাগল ও খাসির মাংসও মেলে। গ্রান্ট স্ট্রিটের বেশিরভাগ ছোট দোকানের বিপরীতে এদের নিজস্ব পার্কিং লট রয়েছে।
- অল ইন ওয়ান গ্লোবাল আফ্রিকান ফ্যামিলি স্টোর, ৮৩ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৪৩৬-৯৩৩০। সোম থেকে বৃহস্পতি: সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা; শুক্র: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা; রবি: সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা। নামেই স্পষ্ট যে দোকানটি আফ্রিকান পণ্যের ওপর জোর দেয়। শুকনো শিম, ফুফু আটা, ভুট্টার গুঁড়ো ও চালের বিশাল বস্তার পাশাপাশি এখানে নানা শুষ্ক খাদ্যদ্রব্য এবং অল্প কিছু মাংস ও শাকসবজি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান গয়না, পোশাক, প্রসাধন আর ঘরকন্নার নানা জিনিসও মিলবে।
- এশিয়া সুপার বাজার, ২৯৪ ওয়েস্ট ফেরি স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৯৩৯-৩২১০। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা। দোকানটি নিজেদের বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়, বর্মী, ভিয়েতনামী, নেপালি, আরব, সোমালি, আফ্রিকান ও স্প্যানিশ খাবারের বিশেষায়িত দোকান হিসেবে দাবি করে। যদিও গ্রান্ট স্ট্রিটের মানদণ্ডে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার মোড়কজাত খাবারের সম্ভার খুব অসাধারণ কিছু নয়, তবু এদের ডিপ-ফ্রিজে রাখা ফ্রোজেন খাবারের বিভাগে কিছু চমৎকার ও দুর্লভ সামগ্রী পাওয়া যায়।
- বুংতলা এশিয়ান মার্কেট, ৫৪০ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৭), ☏ +১ ৭১৬-৭৬৮-২৬৫৫। সোম থেকে শুক্র: সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা, শনি: সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা। মিয়ানমারের চিন রাজ্যের এক দর্শনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নামানুসারে এই দোকানের নাম। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান খাদ্য যেমন চাল, শুকনো নুডলস, স্ন্যাকস, শুকনো সবজি ও মসলার পাশাপাশি পেছনের কুলারগুলোতে বেশ ভালো মানের তাজা শাকসবজি মেলে।
- ফ্যামিলি এশিয়ান গ্রোসারি স্টোর, ১৬৩ ওয়েস্ট ফেরি স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৫, ১২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৪২৪-১৪৮৯। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত ৯টা। ২০১৯ সালের জুনে চালু হওয়া বর্মী মালিকানাধীন এই দোকানটি বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, উজ্জ্বল আলোয় সাজানো এবং চমৎকারভাবে গোছানো। কুলার ও ফ্রিজারে রাখা শাকসবজি ও মসলার মান এক কথায় অসাধারণ।
- গোল্ডেন বার্মা, ৯২ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৫৫১-০১৭৫। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। বাফেলোর ওয়েস্ট সাইডে আসা বর্মী শরণার্থী ও অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় সব সামগ্রীর জোগান দেয় গোল্ডেন বার্মা। তাজা সামুদ্রিক মাছ, মাংস ও শাকসবজির পাশাপাশি ক্যানজাত ও হিমায়িত খাবার পাওয়া যায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রান্নার ভক্তদের জন্য বাফেলোর অন্য কোথাও না পাওয়া দুর্লভ মসলা ও উপাদান খুঁজে পেতে এটি সেরা এক জায়গা। সেই সাথে রান্নার পাত্র, কড়াই ও বিভিন্ন তৈজসপত্রও মিলবে।
- হাতিমি মার্কেট, ২৭৮ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৪-৮৮৩৬। সোম থেকে শনি: সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা, রবি: সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। পাড়ার মতোই বৈচিত্র্যময় এই বন্ধুভাবাপন্ন দোকানটি চালান সোমালি বংশোদ্ভূত ইউবি নার্সিং শিক্ষার্থী আলি মোহাম্মদ। ওয়েস্ট সাইডের প্রায় সব অভিবাসী সমাজের উপযোগী আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আরব বিশ্বের খাদ্যসামগ্রী এখানে পাওয়া যায়। অনেক ধরনের হালাল মাংসের পাশাপাশি রয়েছে সামুদ্রিক মাছ, চাল ও বৈচিত্র্যময় মসলা।
- জোমো ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট, ১৮৮ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-২৩৯-৩৪৭৪। প্রতিদিন সকাল ১০টায় খোলে, বন্ধের সময় নমনীয়। ২০১০ সালে মারকা হালাল মার্কেট নামে শুরু হওয়া এই দোকানটি আফ্রিকান ও আরব খাবারের বড় কেন্দ্র। সাধারণ মুদিপণ্যের বাইরে গরু ও মাছ থেকে শুরু করে খাসি এমনকি উটের মাংসসহ হালাল মাংসের বিপুল সংগ্রহের জন্য এর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।
- ক্যাট ফুড মার্কেট, ২৮৭ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-২৫৯-৯৭৮০। সোম থেকে শনি: সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রান্ট-ফেরির উত্তরের এই দোকানে আফ্রিকান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষ খাবার বিক্রি হয়। চাল ও ফুফু আটার মতো প্রধান খাদ্য থেকে শুরু করে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, মাছ ও মাংস সবই পাবেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রসাধন সামগ্রীও রয়েছে।
- উইন এশিয়ান মার্কেট, ১১৩ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৭-৩৯০৮। সোম থেকে শনি: সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা, রবি: সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। ছোট আকারের ও সাধারণ সাজসজ্জার দোকান হলেও এখানে বর্মী ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রকমারি খাদ্যপণ্য পাওয়া যায় যা স্থানীয় অভিবাসীদের রসনার তৃপ্তি মেটায়।
পোশাক ও অনুষঙ্গ
আধুনিক ফ্যাশনেবল বুটিকের দিক থেকে গ্রান্ট স্ট্রিট এখনো এলমউড ভিলেজ বা হার্টেল অ্যাভিনিউর চেয়ে বেশ পিছিয়ে। তবে ঐতিহ্যবাহী বাহারি রঙের ভিনদেশি পোশাক ও শহুরে স্ট্রিটওয়্যারের খোঁজে থাকলে এই এলাকার দোকানগুলো আপনাকে হতাশ করবে না।
- এম্পায়ার কিকস, ২৮১ ওয়েস্ট ফেরি স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৩৩২-০৮২০। রবি থেকে বৃহস্পতি: সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা, শুক্র ও শনি: সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা। শহুরে মেজাজের ট্রেন্ডি পোশাকের জন্য এম্পায়ার কিকস বেশ পরিচিত। নাইকি, টিম্বারল্যান্ড, পোলো ও রিবকের মতো ব্রান্ডের অনুমোদিত বিক্রেতা এই দোকানটি গ্রান্ট স্ট্রিটের কাছের একটি ছোট প্লাজায় অবস্থিত। ডিজাইনার টি-শার্ট, হুডি, জিন্স ও স্নিকার্সের এক বিশাল সম্ভার পাবেন এখানে। ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য বিভিন্ন দলের লোগোওয়ালা বেসবল ক্যাপও রয়েছে।
- গ্লোবাল ভিলেজেস, ২১৬ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৭-৩৮৮৯। সোম থেকে শনি: সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা। রুয়ান্ডায় জন্ম নেওয়া লুইস সানোর পরিচালিত এই দোকানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তৈরি চমৎকার পোশাক, অনুষঙ্গ, সাবান ও ফেয়ার-ট্রেড হস্তশিল্প বিক্রি হয়। আফ্রিকান বিষয়ের ওপর বইয়ের ছোট একটি বিভাগও রয়েছে। কেনিয়া বা থাইল্যান্ডের গ্রামীণ কারিগর থেকে শুরু করে ওয়েস্ট সাইডের স্থানীয় শিল্পী এমনকি সানোর নিজের ডিজাইন করা অনেক গয়না এখানে স্থান পায়।
- পালোমা এক্সচেঞ্জ, ৩৬৩ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৪৩৬-৭০০২। সোম থেকে শনি: সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা, রবি: দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। ভিনটেজ বা পুরোনো ধাঁচের পোশাকের শখ মেটাতে গিয়ে পকেট খালি হওয়ার ভয় থাকলে চলে আসুন পালোমা এক্সচেঞ্জে। অভিজ্ঞ স্থানীয় তরুণের হাত ধরে সংগৃহীত নারী ও পুরুষের পুরোনো কাপড়ের এই দোকানটিতে সস্তায় দারুণ সব পোশাক ও বাফেলো স্মারক পাওয়া যায়। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত কাচের জানালায় ঘেরা এই দোকানের ভেতরটা যেমন পরিপাটি, তেমনি এর আধুনিক সাজসজ্জা ক্রেতাদের কেনাকাটায় এক মনোরম অনুভূতি এনে দেয়।
- পজিটিভ অ্যাপ্রোচ প্রেস, ৬৩১ ফারগো অ্যাভিনিউ (মেট্রো বাস ৫, ১২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৯৩৯-২৬৩২। সোম থেকে শুক্র: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, শনি: সাক্ষাতের সময় নিয়ে। গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী স্ক্রিন-প্রিন্ট করা টি-শার্ট, সোয়েটশার্ট, জ্যাকেট ও প্যান্টের কাস্টম ডিজাইন তৈরি করে দেয় পজিটিভ অ্যাপ্রোচ প্রেস। দক্ষ ডিজাইনারদের তত্ত্বাবধানে তৈরি এসব পোশাক যেমন ভালো মানের, তেমনি নির্ধারিত সময়ের (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাত দিনেরও কম) মধ্যেই ডেলিভারি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভিজিটিং কার্ড, পোস্টার আর বিয়ের দাওয়াতপত্রও তারা সুন্দরভাবে ডিজাইন করে দেয়।
- সান-বর স্পোর্টস, ১১৬ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৮৮১-৫৯২২। সোম থেকে শুক্র: সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, শনি: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। গত চল্লিশ বছর ধরে পাড়ার উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়ে খেলাধুলার সামগ্রী ও স্পোর্টসওয়্যার বিক্রি করে আসছে এই দোকান। কনভার্স ও এয়ার জর্ডান স্নিকার্স, বেসবল ক্যাপ, জার্সি ও জিন্সের পাশাপাশি শীতকালে বাফেলোর প্রচণ্ড ঠান্ডার জন্য জ্যাকেট ও বুট জুতো মেলে। একদম স্থানীয় ছোঁয়া পেতে চাইলে বাফেলোর নিজস্ব বুটিক লেবেল স্ট্যাকস অ্যান্ড কিকসের ডিজাইনার টি-শার্ট বেছে নিতে পারেন।
- ইউনিক, ১৮৩ ওয়েস্ট ফেরি স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৫, ১২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৩৭০-৩৫৯৪। মঙ্গল থেকে শুক্র: সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা; শনি: দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা। বাইরে থেকে সাধারণ মনে হলেও এর নামের সার্থকতা রয়েছে। গুচ্চি, ফেন্ডি ও লুই ভিটনের মতো বিশ্বখ্যাত ডিজাইনার লেবেলের পণ্য এখানে চোখে পড়ে। নারী ও পুরুষ উভয়ের পোশাকের পাশাপাশি সাইজ নির্বিশেষে একদামে (জোড়া ১০০ ডলার) স্নিকার্স জুতো এবং ডিজাইনার সানগ্লাস পাওয়া যায়।
- ইউনিটি ট্র্যাডিশনাল ক্লোদস অ্যান্ড গ্রোসারি, ৮৫ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৩৯৮-৬৩৬৬। ওয়েস্ট সাইড বাজারের এক কোণ থেকে ২০১৮ সালে রাস্তার পাশের নিজস্ব দোকানে স্থানান্তরিত হয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। মালিক এজগিয়ামন আকা তাঁর জন্মভূমি ইরিত্রিয়া ও হর্ন অব আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী উজ্জ্বল পোশাক, গয়না ও অনুষঙ্গের পাশাপাশি এখন আফ্রিকান মুদিপণ্যও বিক্রি করছেন। পোশাকের কাটছাঁট ও অলটারেশনের প্রয়োজন হলে নির্দ্বিধায় এখানে আসতে পারেন।
বই
- রাস্ট বেল্ট বুকস, ৪১৫ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৫-৯৫৩৫। সোম: দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা; মঙ্গল ও বুধ: সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা; বৃহস্পতি থেকে শনি: সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৮টা; রবি: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা। বাফেলোর অন্যতম সেরা ও প্রিয় পুরোনো বইয়ের দোকান। পুরোনো রান্নার বই, সত্তরের দশকের সঙ্গীত সাংবাদিকতা থেকে শুরু করে নারীবাদী প্রবন্ধ কিংবা চিরায়ত সাহিত্য, সব ধরনের বইয়ের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে এখানে। কর্মীদের আন্তরিক ব্যবহার আর চমৎকার পাঠকদের আড্ডা চোখে পড়ার মতো। সেই সাথে এখানে নিয়মিত কবিতা পাঠ, নাটক ও সামাজিক নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংগীত
- ব্ল্যাক ডটস, ৩৬৮ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৭২৫-০০১০। সোম থেকে শনি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা, রবি: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা। ভৌত রেকর্ডের বিক্রি যখন তলানিতে, তখন ২০১৩ সালের জুনে একটি বেসমেন্টে যাত্রা শুরু করেছিল ব্ল্যাক ডটস। তাদের সেই দুঃসাহসিক উদ্যোগ এতটাই সাড়া ফেলেছিল যে খোদ বাফেলো নিউজ এতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ১৯৭৯ সালে ওয়াশিংটন ডিসির পাঙ্ক ব্যান্ড ব্যাড ব্রেইনসের বিখ্যাত অ্যালবামের নামে এই দোকানের নামকরণ। ভিনাইল রেকর্ড ও ক্যাসেটে পুরোনো ও নতুন পাঙ্ক, হার্ডকোর ও ইন্ডি সঙ্গীতের এক অনন্য ঠিকানা এটি।
- সুইট সাউন্ড মিউজিক, ২৫৭ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৮৮২-৪৪২৩। সোম থেকে বুধ: সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা; বৃহস্পতি: সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা; শুক্র ও শনি: সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা; রবি: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা। ২০০৬ সাল থেকে লুইস রদ্রিগেজের পরিচালিত এই ছোট রেকর্ড দোকানে র্যাপ, আরঅ্যান্ডবি, রেগে ও লাতিন সঙ্গীতের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। বাফেলোর স্থানীয় হিপ-হপ অঙ্গনের সাথে পরিচিত হতে চাইলে এই দোকানটি সেরা, যেখানে স্থানীয় র্যাপারদের নতুন সব কাজ একদম সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়।
বিবিধ
- মামান সামি ওয়া আবনদোকি, ৩১৪ হ্যাম্পশায়ার স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৪-০৬৭১। সোম থেকে শুক্র: সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা, শনি ও রবি: সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা। "১০০% আফ্রিকান" নীতি নিয়ে চলা এই দোকানে সৌন্দর্য সামগ্রী, মুদিপণ্য, পুরোনো পোশাক, ডিভিডি এবং ঘর সাজানোর নানা জিনিস মেলে।
- স্টিচ বাফেলো, ১২১৫ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ১২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৪৯৫-৯৬৪২। মঙ্গল ও বৃহস্পতি: দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা; শুক্র: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা; শনি: সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা। শরণার্থী নারীদের অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করা এই সামাজিক উদ্যোগে ৫৫ জনের বেশি দক্ষ কারিগর নারী নিজ দেশের নকশায় হাতে সেলাই করা নানা জিনিস তৈরি করেন। পোশাক ছাড়া সূচিকর্মের পিন, হেয়ার ক্লিপ বা কাপড়ের পুতুলের মতো সুন্দর সব স্মারক কিনতে এখানে ঢুঁ মারতে পারেন।
গ্রান্ট-অ্যামহার্স্ট
উন্নতির ছোঁয়া লাগলেও অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট তার শ্রমজীবী মানুষের আদি অকৃত্রিম "খাঁটি বাফেলো" মেজাজ ধরে রেখে একটি স্বাধীন ব্যবসা এলাকা হিসেবে নিজের নাম ধরে রেখেছে। শিল্পকর্ম ও প্রাচীন স্মারক এখানকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এ ছাড়া ক্যাম্পাসের কাছে হওয়ায় সেতুর ওপারে গ্রান্ট ও অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত টপস প্লাজা বাফেলো স্টেটের শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কেনাকাটার দারুণ সুবিধা দেয়। এখানে রয়েছে ফ্যামিলি ডলার ও টপস সুপারমার্কেট, সেই সাথে বার্গার কিং, একটি পিৎজার দোকান এবং চাইনিজ টেক-আউট।
পোশাক ও অনুষঙ্গ

ওয়েস্ট সাইড বাফেলোর অন্যতম জনপ্রিয় কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটের দোকান ও রেস্তোরাঁগুলোতে পুরোনো পাড়ার সহজ-সরল রূপ ফুটে ওঠে। (ছবি: Andre Carrotflower, CC BY-SA 3.0)
গ্রান্ট-অ্যামহার্স্টের ছোট ছোট দোকানগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি শহুরে ফ্যাশনের দোকান রয়েছে।
- ডল হাউস বুটিক, ৪৪০ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৭-১৫৫৫। মঙ্গল থেকে শনি: দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। হাঁটু পর্যন্ত উঁচু ডেনিম হিল বুট কিংবা উলের কাজ করা ঝলমলে পোশাকের শখ থাকলে এই দোকানে আপনার চাহিদামতো সবকিছুই পাবেন। জুতো এদের প্রধান বিশেষত্ব হলেও মার্জিত গয়না, সানগ্লাস, স্কার্ফ আর হ্যান্ডব্যাগও মেলে। দোকানের পেছনের অংশে রয়েছে ডল ফেস বাই অ্যাশলে নামের একটি মেকআপ ও বিউটি বার, যার মালিক ভিএইচ-ওয়ানের ব্ল্যাক ইংক ক্রুর বিউটিশিয়ান হিসেবেও কাজ করেছেন।
অ্যান্টিক ও পুরোনো সামগ্রী
গ্রান্ট-অ্যামহার্স্ট প্রাচীন ও দুর্লভ সামগ্রীপ্রেমীদের জন্য স্থানীয় এক নতুন ঠিকানা।
- চচকিস অ্যান্টিকস অ্যান্ড কালেক্টিবলস, ৩৫২ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৭-৯৬৯২। সাক্ষাতের সময় নিয়ে বা সুযোগ বুঝে খোলা। বিজ্ঞাপনের সাথে কাজের শতভাগ মিল পাবেন এখানে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এক পরিবারের সংগ্রহ করা ঘরকন্নার তৈজসপত্র, খেলনা, ঘড়ি, ঝুড়ি আর রকমারি ছোটখাটো স্মৃতিস্মারকে কানায় কানায় ভরা এই দোকান। বিশাল সংগ্রহ থাকলেও এটি মূলত একটি ছোট পারিবারিক উদ্যোগ, ১৯৯৮ সালে চালুর পর থেকে এর মালিক ক্যাথলিন আরিজ একাই পুরো দোকান সামলাচ্ছেন। ডাকযোগেও এরা প্রচুর পণ্য পাঠায়।
- জাঙ্ক অ্যান্ড ডিজঅর্ডারলি, ৯৭৯ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৬২৮-২৭৯২। শুক্র: সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা, শনি: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা। মালিকপক্ষ গত ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে যেসব ভিনটেজ ও অ্যান্টিক সামগ্রী সংগ্রহ করেছেন, তারই পসরা সাজানো হয়েছে এখানে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ঘর সাজানোর জিনিস, ল্যাম্প ও তৈজসপত্রের পাশাপাশি ক্রিসমাসের প্রাচীন অলংকরণ সামগ্রীর এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে এখানে।
আসবাবপত্র ও গৃহসজ্জা
- হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি রিস্টোর, ৫০১ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৮৫২-৬৬০৭। মঙ্গল থেকে শুক্র: সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, শনি: সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, রবি: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা। হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটির পরিচালিত বিশাল এই দোকানে স্বল্প ব্যবহৃত (এবং কিছু একদম নতুন) চেয়ার, টেবিল, সোফা, খাট, ল্যাম্প, আলমারি, দরজা, জানালা, নির্মাণ সামগ্রী এবং গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি সাশ্রয়ী মূল্যে মেলে। স্বেচ্ছাসেবকদের দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় পরিচালন ব্যয় খুব কম, ফলে ক্রেতাদের দেওয়া টাকার পুরোটাই অসহায় মানুষের বাড়ি তৈরি ও সংস্কারের কাজে ব্যয় হয়।
- ইন্টেরিয়র ডিজাইন রিসোর্সেস, ৪৬৩ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৪-১৭৩৭। সোম থেকে বুধ ও শুক্র: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা, বৃহস্পতি: সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা, অথবা সাক্ষাতের সময় নিয়ে। বাইরে থেকে ছোট মনে হলেও ভেতরে ঢুকলে এর বিশাল শোরুম দেখে চমকে যেতে হয়। মালিকের দাবি অনুযায়ী পূর্ব উপকূলের সবচেয়ে বড় কাপড়ের সংগ্রহ রয়েছে এখানে। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিখ্যাত ডিজাইনারদের তৈরি আসবাবপত্র, ল্যাম্প, ওয়ালপেপার এবং অন্দরসজ্জার দুর্লভ সামগ্রী বাজারের মূল দামের চেয়ে অনেক কম খরচে পাওয়া যায়।
বিশেষায়িত খাবারদাবার
গ্রান্ট-ফেরি বা লোয়ার ওয়েস্ট সাইডের মতো অতটা খাদ্যরসিকদের স্বর্গ না হলেও এখানকার বিশেষায়িত মুদি দোকানগুলোতে ওয়েস্ট সাইডের আসল রূপ খুঁজে পাওয়া যায়।
- ব্যারেল + ব্রাইন, ১৫৫ চ্যান্ডলার স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-২৪৮-২৭৬১। বুধ থেকে শুক্র: সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা, শনি: বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা, রবি: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা। চ্যান্ডলার স্ট্রিটে আসার পর ব্যারেল + ব্রাইন এখন শুধু দোকানই নয়, চমৎকার এক রেস্তোরাঁ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। সয়ারক্রাউট, কিমচি আর শসার আচারের বৈচিত্র্যময় রূপের পাশাপাশি চাইনিজ ধাঁচের চিনাবাদামের আচার, কোরিয়ান ক্কাকদুগি, তরমুজের খোসার আচার এবং স্পারসের সসেজের আচার মেলে। তারা নিজস্ব কম্বুচাও তৈরি করে।
- ফ্রেশ অ্যারাবিক সুইটস, ৫৬০ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ২০ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৭৬৮-৩৮২৬। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা। ২০১৬ সালে যুদ্ধপীড়িত সিরিয়ার হমস থেকে শরণার্থী হিসেবে আসা মোহাম্মদ আলতাহলা এই মিষ্টির দোকানটি চালান। পেস্তাবাদামে ভরা মাখনের সুবাসযুক্ত বাকলাভা এখানকার সেরা আকর্ষণ, যা পাউন্ডপ্রতি ৭.৯৯ ডলারে পাওয়া যায়। এ ছাড়া মামুল খেজুরের বিস্কুট এবং ভালো মানের শাওয়ার্মা ও ফালাফেল স্যান্ডউইচও মেলে।
- লাকি ৭ এশিয়ান মার্কেট, ১৫০ মিলিটারি রোড (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৫৪১-০৩৯৬। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। বাইরে থেকে ছোট মনে হলেও ভেতরটা বেশ বড় এবং চমৎকারভাবে সাজানো। মূলত বর্মী ও থাই খাদ্যপণ্যের এই দোকানে নুডলস, চাল, তাজা সবজি এবং হিমায়িত মাংস ও মাছ (এমনকি ব্যাঙ ও ইল মাছ) পাওয়া যায়। কর্মীদের অমায়িক ব্যবহার কেনাকাটায় সাহায্য করবে।
- স্পারস ইউরোপিয়ান সসেজ শপ, ৪০৫ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৬-৬৬০৭। মঙ্গল ও বুধ: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা, বৃহস্পতি ও শুক্র: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা, শনি: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা। অগসবার্গের সন্তান এরিক স্পারের প্রতিষ্ঠিত এই দোকানে ঐতিহ্যবাহী জার্মান সসেজ বা ভুরস্টের আধিক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে এর বাইরেও চোরিজো, আন্দুই, মারগেজ এবং পোলিশ কابانসি সসেজ সবই তাদের নিজস্ব কারখানায় হাতে তৈরি হয়। সসেজ ছাড়া ডেলি মাংস এবং স্থানীয় বিভিন্ন ব্রান্ডের বিশেষ মসলা ও পানীয় এখানে বিক্রি হয়।
- ইয়াসিন আফ্রিকান মার্কেট, ১০৪৪ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৮৭১-০৪৫৩। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। সোমালি মালিকানাধীন এই দোকানটি বিভিন্ন দেশীয় মুদিপণ্য এবং মাছ, ভেড়া, ছাগল ও মুরগির তাজা হালাল মাংসের জন্য স্থানীয়দের কাছে বেশ পরিচিত।
বিবিধ
- অ্যালেনটাউন মিউজিক, ৪৯৭ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৬-৮৭৪২। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। আগের নামের পাড়ায় না থাকলেও বাফেলোর সংগীতশিল্পীদের কাছে এটি সেই পুরোনো ও বিশ্বস্ত বাদ্যযন্ত্রের দোকান। ফেন্ডার, ইয়ামাহা, গিবসন গিটার, ড্রাম কিট, বেহালা থেকে শুরু করে উকুলেলে আর ব্যাগপাইপ পর্যন্ত মাঝারি মানের নানা বাদ্যযন্ত্র সাশ্রয়ী দামে এখানে পাওয়া যায়।
- বাইক অ্যান্ড সাইন শপ, ২৪৭ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-২৩৫-৭৯৩৫। বুধ থেকে শনি: সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। গ্রান্ট-অ্যামহার্স্টের পশ্চিম মুখে একই ছাদের নিচে দুটি ব্যবসা। জেক মসলোর সাইনবোর্ড আঁকার ব্যবসার পাশাপাশি জর্ডান কুবিচের "অল সাইকেলস" অংশে পুরোনো সাইকেল মেরামত, যন্ত্রাংশ বিক্রি এবং যত্ন সহকারে ঠিক করা সেকেন্ড-হ্যান্ড সাইকেল সাশ্রয়ী দামে বিক্রি করা হয়।
- দ্য ফ্রেটেড বাফেলো, ৪৬৬ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৯১৩-৬৪৮৭। মঙ্গল ও বৃহস্পতি: দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা, শনি: দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। নায়াগ্রা অঞ্চলের একমাত্র দোকান যা শুধুমাত্র অ্যাকোস্টিক গিটারের ওপর বিশেষায়িত। হাস অ্যান্ড ডালটন, ডানা বুর্জোয়া, ফুর্ক/স্টোনব্রিজ এবং অ্যাভালন ব্র্যান্ডের সেরা মানের গিটার এখানে পাওয়া যায়। পরিবেশ অত্যন্ত আরামদায়ক ও আন্তরিক।
প্রসপেক্ট হিল, ফাইভ পয়েন্টস ও লোয়ার ওয়েস্ট সাইড
নায়াগ্রা ও কানেটিকাট স্ট্রিট হলো লোয়ার ওয়েস্ট সাইডের প্রধান কেনাকাটার রাস্তা। কানেটিকাট স্ট্রিট আকারে ছোট হলেও কিছুটা অভিজাত, আর ব্যস্ত নায়াগ্রা স্ট্রিটে শহুরে পোশাক, গ্রান্ট স্ট্রিটের মতো জাতিগত মুদিদোকান ও অন্যান্য সাধারণ দোকানপাটের আধিক্য রয়েছে।
পোশাক ও অনুষঙ্গ
- কিংস অব দ্য ওয়েস্ট, ৪৬১ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৫, ২৯ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৫৫-০৫৫৫। সোম থেকে শুক্র: দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। নায়াগ্রা ও হাডসন স্ট্রিটের কোণে অবস্থিত এই দোকানটিতে নতুন ও পুরোনো শহুরে পোশাক, জুতো, গয়না ও অনুষঙ্গ বিক্রি হয়। পাশের দোকানে রয়েছে নারীদের জন্য কুইন্স অব দ্য ওয়েস্ট এবং মোবাইল সামগ্রী ও মেরামতের জন্য রয়েছে কিংস ওয়্যারলেস।
বিশেষায়িত খাবারদাবার
পুয়ের্তো রিকান সুস্বাদু খাবারের জন্য মুদি দোকানের চেয়ে রেস্তোরাঁয় যাওয়াই ভালো, কারণ সাধারণ সুপারমার্কেটগুলোতেও (যেমন নায়াগ্রা স্ট্রিটের টপস) লাতিন রান্নার সব উপকরণ সহজে মেলে। তবে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের পরিচালিত বিশেষ খাবারের দোকান লোয়ার ওয়েস্ট সাইডেও রয়েছে।
- কমিউনিটি বিয়ার ওয়ার্কস, ৫২০ সেভেন্থ স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ২২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৭৫৯-৪৬৭৭। সোম, বুধ ও বৃহস্পতি: বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা; শুক্র: বিকেল ৩টা থেকে রাত ১২টা; শনি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা; রবি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা। পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রাফট বিয়ারের জন্য পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দোকানে বিয়ারপ্রেমীরা বোতল বা ক্যান ভরে নিতে পারেন অথবা টি-শার্ট ও গ্লাসের মতো ব্রান্ডের নানা স্মারক কিনতে পারেন।
- ফাইভ পয়েন্টস বেকারি, ৪৪ ব্রেটন স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৪-৮৮৮৮। সোম থেকে শনি: সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা, রবি: সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব শস্য থেকে তৈরি মাল্টিগ্রেন, হোল-হুইট ও সিয়া বাটা রুটির জন্য এদের খ্যাতি রয়েছে। দাম কিছুটা বেশি হলেও খাবারের মান অসাধারণ। বিশেষ করে এদের বিশাল আকারের দারুচিনি রোল বা সিনামন রোল দারুণ সুস্বাদু।
- মিনিও অ্যান্ড স্যাপিয়ো ইতালিয়ান সসেজ, ৪১০ কানেটিকাট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৭), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৪-২৩৯৮। সোম থেকে শুক্র: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, শনি: সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা। ১৯২০ সাল থেকে কানেটিকাট স্ট্রিটে টিকে থাকা পুরোনো ইতালীয় পাড়ার এক ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। কোনো কৃত্রিম রং বা প্রিজারভেটিভ ছাড়া খাঁটি শুয়োরের মাংস ও মসলায় তৈরি ইতালীয় সসেজের সুবাস দোকানে ঢুকলেই টের পাওয়া যায়। সুপারমার্কেটের প্যাকেটজাত সসেজের চেয়ে এখানকার তাজা তৈরি সসেজ স্বাদে অতুলনীয়।

বাফেলোর লোয়ার ওয়েস্ট সাইডে হাডসন স্ট্রিটের কোণের কাছে নায়াগ্রা স্ট্রিটের দৃশ্য। (ছবি: Andre Carrotflower, CC BY-SA 3.0)
- প্যারাডাইস ওয়াইন, ৪৩৫ রোড আইল্যান্ড স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৩২২-৫৩৯৬। বুধ থেকে শুক্র: সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা, শনি: সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, রবি: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা। ফাইভ পয়েন্টসের এই ওয়াইন শপটিতে বড় বড় বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডের বদলে স্থানীয় পারিবারিক আঙুর বাগানে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ওয়াইন ও সাইডার প্রাধান্য পায়। সাশ্রয়ী দামেও দারুণ সব ওয়াইন মেলে। এর স্বত্বাধিকারী পলা প্যারাডাইস প্রতিটি গ্রাহককে তাঁদের পছন্দমতো ওয়াইন বেছে নিতে আন্তরিকভাবে সাহায্য করেন।
- ওয়েস্ট সাইড টিলথ ফার্ম, ২৫১ ভারমন্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩), ☏ +১ ৭১৬-৩৬১-৬৫৯১। মৌসুমে ফার্ম স্ট্যান্ড খোলা থাকে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। নিল ও ক্যারির পরিচালিত এই খামারটিতে খাঁটি জৈব পদ্ধতিতে নানা দুর্লভ ভেষজ, সুগন্ধি পাতা, শাকসবজি ও ফলমূল ফলানো হয়। মাটি দূষণের ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ মাটির বেড তৈরি করে চাষাবাদ করা হয়।
এশীয় ও আফ্রিকান মুদিদোকান
- আ চাউ ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট, ৮৩৩ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৮২-৩৮৬৭। সোম থেকে শনি: সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা, রবি: সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। আন্তর্জাতিক নাম হলেও এর বেশিরভাগ পণ্যই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার। তাজা মাছ ও মাংসের পাশাপাশি ডুরিয়ান, বক চয়, থাই কাঁচামরিচ ও নানা দুর্লভ মসলার বিপুল সমাহার রয়েছে। বড় সুপারমার্কেটের কৃত্রিম চাকচিক্যহীন এই বাজারটিতে খাঁটি ভিনদেশি কাঁচাবাজারের মেজাজ পাওয়া যায়।
- আরবিন গ্রোসারি অ্যান্ড ফ্রেশ মিটস, ৩৯৭ কানেটিকাট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৭), ☏ +১ ৭১৬-২৬২-০৯৮১। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা। কানেটিকাট স্ট্রিটে মসজিদ আল-ঈমানের কাছে অবস্থিত এই দোকানে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় অভিবাসী সমাজের প্রয়োজনীয় সব মসলা, ছোলার ডাল, চাল ও গৃহস্থালি পণ্য পাওয়া যায়।
- শে লা কামের অ্যান্ড রক সেন্টেরো মার্কেট, ৯৪১ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ১২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৭১৫-৫৯৬৯। সোম থেকে বুধ: সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা; বৃহস্পতি থেকে শনি: সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা; রবি: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা। পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি প্রসাধন সামগ্রী ও আফ্রিকান পোশাক পাওয়া যায়। নদীর পাড়ে মাছ ধরতে যাওয়া শিকারিদের জন্য এখানে জীবন্ত মাছের টোপও বিক্রি হয়।
- কারিবু মার্কেট, ৪৬৯ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ২৯ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৩২২-৬৬৩২। রবি থেকে শুক্র: সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা। ভুট্টার গুঁড়ো, সুজি ও কাসাভা ফুফুর মতো প্রধান খাদ্যের বিশাল বস্তার পাশাপাশি তাজা শাকসবজি এবং ছাগল ও খাসির মাংসের জন্য এই আফ্রিকান মুদি দোকানটি বেশ পরিচিত।
- ফু থাই এশিয়ান মার্কেট, ৩৫৬ কানেটিকাট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৭), ☏ +১ ৭১৬-৮৮১-১৪৫৭। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা। মূলত খাঁটি থাই খাদ্যপণ্যের দোকান। শুকনো খাদ্যসামগ্রী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোমল পানীয়ের পাশাপাশি হিমায়িত মাছ-মাংস এবং তাজা থাই কাঁচামরিচ ও আদা মেলে।
- রোজ মায়ানমার গ্রোসারি স্টোর, ৯৩১ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ১২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৫৪৫-৩৫১৭। বর্মী ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চাল, নুডলস, স্ন্যাকস, মসলা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় শুকনো খাদ্যপণ্যের দোকান।
চকলেট, ক্যান্ডি ও মিষ্টি
- ব্লু টেবিল চকোলেটস, ৪৪বি ব্রেটন স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৮৬৬-৩৭২৫। সোম থেকে শুক্র: সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, শনি: সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। হাতে তৈরি গুরমে চকলেট ট্রাফেলের জন্য এই দোকানটিকে শিল্পের কারখানা বললেও ভুল হবে না। লেবু-পেস্তা, নারকেল-প্যাশনফ্রুট কিংবা সূর্যমুখীর বীজের মতো অভিনব সব স্বাদের চকলেট এখানে মিলবে বেশ সাশ্রয়ী দামেই।
- দ্য চকোলেট শপ, ৮৭১ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ১২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৮২-৫০৫৫। সোম থেকে শুক্র: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। ১৯৫০ সাল থেকে ফ্রাঙ্ক কারুয়ানার হাত ধরে চলা এই দোকানে গ্রাহকদের পছন্দমাফিক নানা নকশার চকলেট বানিয়ে দেওয়া হয়। বাফেলোর বিখ্যাত স্পঞ্জ ক্যান্ডির পাশাপাশি খাঁটি উপাদানে তৈরি চকলেটের নানা উপহারের বাক্স পাওয়া যায়।
- লা ফ্লোর বেকারি, ৫৪৪ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ২২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮১২-০১৮৭। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা। সুস্বাদু পুয়ের্তো রিকান খাবারের পাশাপাশি এই বেকারিতে মেলে বিসকোচো কেক, ফ্ল্যান আর পাস্তেলিয়োসের মতো চমৎকার সব ক্রান্তীয় মিষ্টি।
বই
- বার্নিং বুকস, ৪২০ কানেটিকাট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৭ বা ২২), ☏ +১ ৭১৬-৮৮১-০৭১৯। বুধ থেকে রবি: সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। সাধারণ বইয়ের দোকানের চেয়ে একেবারেই আলাদা। সামাজিক আন্দোলন, বৈষম্যবিরোধী সংগ্রাম ও রাজনৈতিক ইতিহাসের ওপর বহু দুষ্প্রাপ্য বই, পত্রিকা ও তথ্যচিত্র এখানে পাওয়া যায়।
ব্ল্যাক রক ও রিভারসাইড
নায়াগ্রা স্ট্রিটের প্রধান সড়কে বেশ কিছু ভালো দোকান রয়েছে। তবে এলাকার মূল ব্যবসা কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে রিভারসাইডের টোনাওয়ান্ডা ও অন্টারিও স্ট্রিটের মোড় ঘিরে।
পোশাক ও অনুষঙ্গ
- ইভ ফ্যাশন অ্যান্ড বিউটি সাপ্লাই, ৪৩১ টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ২৩, ৩২ বা ৩৫), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৭-৪৭৮০। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত জামাকাপড়ে ঠাসা এই দোকানে শহুরে ফ্যাশন, প্রসাধন আর চুলের নানা অনুষঙ্গ আশ্চর্যজনক কম দামে মেলে।
- হার্টস থ্রিফট স্টোর, ৮৯০ টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ৩৫ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৬-৭৩৪৬। সোম থেকে শনি: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা। রিভারসাইডের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই দোকানে অফিসের মার্জিত পোশাক ও ফর্মাল পোশাক চমৎকার অবস্থায় নামমাত্র মূল্যে বিক্রি হয়। আয়ের পুরোটাই গৃহহীনদের কল্যাণে ব্যয় করে হার্টস ফর দ্য হোমলেস চ্যারিটি।
- ৩ স্টার ফ্যাশন, ২২১১ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ২৩, ৩২, ৩৫ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৯৯৫-৬০৩৯। রবি থেকে বৃহস্পতি: সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১০টা, শুক্র ও শনি: সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১১টা। ওয়েস্ট ফেরি স্ট্রিটের এম্পায়ার কিকসের সহোদর প্রতিষ্ঠান এটি। নাইকি, টিম্বারল্যান্ড ও এয়ার জর্ডান ব্র্যান্ডের জুতো, ডিজাইনার জিন্স আর নিউ এরা ক্যাপের বিপুল সম্ভার রয়েছে।
- টোমাহক গার্মেন্ট, ১৯৬৮ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ৩২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৩-১৬৬৭, নিঃশুল্ক ফোন নম্বর: +১ ৮৭৭ ৬২৫-৭২৩০। সোম থেকে শুক্র: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। পশ্চিম নিউ ইয়র্কেই তৈরি হওয়া টোমাহক ব্র্যান্ডের চামড়ার জ্যাকেট, কোট, বেল্ট, ব্যাগ ও মানিব্যাগ সাধারণ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের চেয়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে এই কারখানার আউটলেটে পাওয়া যায়।
অ্যান্টিক ও পুরোনো সামগ্রী
- কুকুকুল, ১১১ টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট, দোতলা (মেট্রো বাস ৫, ৩২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৪৩২-৬২১৬। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ও স্ক্যান্ডিনেভীয় আধুনিক আসবাব, ল্যাম্প, সজ্জাসামগ্রী আর বাদ্যযন্ত্রের এক অনন্য ভাণ্ডার। টরন্টো বা নিউ ইয়র্কের সেরা শপের সাথে পাল্লা দেওয়ার মতো সংগ্রহ রয়েছে এখানে।
- গথিক সিটি অ্যান্টিকস, ১৯৪০ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ৩২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৪-৪৪৭৯। বৃহস্পতি থেকে শনি: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা, রবি: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা। মহাসড়ক আই-১৯০ থেকে দেখা যাওয়া পুরোনো সাইনবোর্ডের পেছনের এই জায়গাটি কোনো সাধারণ ভাঙাড়ির দোকান নয়, বরং স্থাপত্য ও পুরোনো বাড়িঘরের ঐতিহাসিক উপাদান বিক্রির বাফেলোর প্রাচীনতম দোকান। প্রাচীন বাতিস্তম্ভ, দরজার নব, ভিনটেজ বাথটাব ও আসবাবের বিশাল মেলা এটি।
বিশেষায়িত খাবারদাবার
- ফাউলার্স চকোলেটস, ১০০ রিভার রক ড্রাইভ (মেট্রো বাস ২৩), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৭-০০৮৩। সোম থেকে শুক্র: সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা। বাফেলোর প্রিয় চকলেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মূল কারখানার বিক্রয়কেন্দ্র। তাজা স্পঞ্জ ক্যান্ডি ও চকলেট ট্রাফেল কিনতে কাজের দিনে এখানে চলে আসতে পারেন।
- গন্ডোলা ম্যাকারনি প্রোডাক্টস, ১৯৮৫ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ৩২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৪-৪২৮০। সোম থেকে শনি: সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। ১৯৫৮ সাল থেকে ইতালীয় অভিবাসী গুইডো কোলার নিজের তৈরি মেশিনে প্রস্তুত করা তাজা রাভিওলি পাস্তা বিক্রি করে আসছেন। কোনো রাসায়নিক উপাদান ছাড়া ডুরম আটা ও ডিম দিয়ে প্রতিদিন তৈরি করা এই পাস্তা স্বাদে অতুলনীয়।
এশীয় ও আফ্রিকান মুদিদোকান
- ফারতুন এক্সপ্রেস, ৮৬০ টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ৩৫ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৪৩১-০২১৮। সোম থেকে শুক্র: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা, শনি ও রবি: সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা। সোমালি মালিকানাধীন এই দোকানে গরু, মুরগি ও মাছের পাশাপাশি ছাগল ও উটের শতভাগ হালাল মাংস এবং প্রয়োজনীয় মুদিপণ্য মেলে।
- তার নি এশিয়ান মার্কেট, ৪৭২ অন্টারিও স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৫), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৬-৩০৮৫। সোম থেকে শনি: সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা, রবি: সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। বর্মী ও এশীয় ক্যানজাত খাবার, মসলা, ঝাল সস ও ফ্রোজেন খাবারের দারুণ সংগ্রহ রয়েছে।
- ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট, ৯১৬ টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ৩৫ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৫৯৭-২৩০৫। মঙ্গল ও বুধ: দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা; বৃহস্পতি থেকে শনি: সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা; রবি: দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা। ইথিওপীয় মসলা যেমন বারবারে, শিরো ও মিতমিতার পাশাপাশি বাফেলোয় রান্নার জন্য তাজা কলা পাতা পাওয়ার একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঠিকানা এটি।
- লিন এশিয়ান মার্কেট, ৯২৯ টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ৩৫ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-২৩৫-৮৯৮২। সোম থেকে শনি: সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা, রবি: সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। পাশের রেস্তোরাঁর সেরা বর্মী রান্নার স্বাদ ঘরে তৈরি করতে চাইলে প্রয়োজনীয় সব মসলা ও উপকরণ এই দোকানে পাবেন।
- অন্টারিও বাফেলো বেকারি, ২০৫ অন্টারিও স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৫-১৭০৯। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা। মালিক ওমর আলদুলাইমির প্রতিদিন নিজ হাতে তৈরি তাজা ও সুস্বাদু মধ্যপ্রাচ্যের রুটি, হুমুস, ফালাফেল ও ঐতিহ্যবাহী পেস্ট্রির জন্য বিখ্যাত।
শিল্পকলা
- স্টিল ক্রেজি আয়রন আর্ট, ৭০ টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৬-৭৫১০। সোম থেকে শুক্র: সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা। কম্পিউটার নকশা ও ইস্পাতের কাজে পারদর্শী শিল্পীদের তৈরি দেওয়াল সজ্জা, ঘড়ি, কি-র্যাকসহ নানা অভিনব ধাতব শিল্পকর্ম ও উপহার সামগ্রী মেলে।
বিবিধ
- বিগ ক্যাচ বেইট অ্যান্ড ট্যাকল, ২২৮৭ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ২৩, ৩২, ৩৫ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৭-০৯৭১। সোম থেকে শনি: সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, রবি: সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা। মাছ ধরার যে কোনো টোপ ও সাজসরঞ্জামের পাশাপাশি পেইন্টবল খেলার বন্দুক ও গ্যাস রিফিলের জন্য এটি স্থানীয়দের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।
- ওবারশাইমার্স সেইলার সাপ্লাই, ১৮৮৪ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ৩২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৭-৮২২১। সোম থেকে শনি: সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা, রবি: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা। পালতোলা ও মোটরচালিত নৌকার প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রাংশ, দড়ি ও পালের মেরামত এবং নতুন সরঞ্জামের এক বিশাল সংগ্রহশালা।
পানীয়
গ্রান্ট-ফেরি ও আপার ওয়েস্ট সাইড
গ্রান্ট স্ট্রিটে কফি শপের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও সত্যিকারের প্রাণবন্ত নৈশজীবনের দিক থেকে আপার ওয়েস্ট সাইড এখনো বেশ কিছুটা পিছিয়ে। সন্ধ্যার পর কোথাও বসে পানীয় উপভোগ করতে চাইলে সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি হলো পূর্ব দিকে এলমউড ভিলেজের দিকে যাওয়া।

সুইট_নেস ৭ শুধু কফি ও বেকারি পণ্যের জন্য দারুণ জায়গা তা-ই নয়, ওয়েস্ট সাইডের এই পাড়ার নবজাগরণেও এর ভূমিকা অনেক। (ছবি: Andre Carrotflower, CC BY-SA 3.0)
- অ্যালবার্ট'স, ২৯৬ ডব্লিউ. ফেরি স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৬-৩৬৪২। এদের স্লোগান হলো "পুরোনো দিনের স্বাদ", আর ওয়েস্ট সাইডের যে অংশে প্রতিনিয়ত সবকিছু বদলে যাচ্ছে, সেখানে অ্যালবার্টস নিঃসন্দেহে এক পুরোনো যুগের স্মৃতি বয়ে নিয়ে চলেছে। এটি সাধারণ মেহনতি মানুষের এক খাঁটি পানশালা, যেখানে কোনো বাড়তি বাহুল্য ছাড়াই সস্তায় বরফ-শীতল বিয়ার ও সাধারণ ককটেল পাওয়া যায়। সাথে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী গ্রিক ডিনারের খাবারের তালিকা এবং প্রতি শুক্রবারের অত্যন্ত জনপ্রিয় ফিশ ফ্রাই।
- ফ্রি স্ট্রিট ট্যাভার্ন, ১৪৬৯ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ২৬ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৪২৪-১০২২। ২০১৯ সালে চালু হওয়া এবং পানীয়ের তালিকায় হরেক রকম আধুনিক ক্রাফট বিয়ার থাকা সত্ত্বেও ফ্রি স্ট্রিট ট্যাভার্নের মধ্যে পুরোনো দিনের এক অদ্ভুত আকর্ষণ রয়েছে। এর ছিমছাম আকার, খোলা ইটের দেওয়ালে সাজানো পুরোনো মেয়র জিমি গ্রিফিনের আমলের স্মারক এবং তৃপ্তিদায়ক খাবার মিলিয়ে মালিক জোশুয়া হোয়াইট চেয়েছেন অতিথিদের এক নস্টালজিক ও নির্ভার পরিবেশ উপহার দিতে। পোর্টল্যান্ডে তার দাদীর বাড়ির রাস্তার নামানুসারেই এই পানশালার নাম রাখা হয়েছে। বিয়ার পছন্দ না হলে এদের চিরাচরিত ককটেলের তালিকা দেখতে পারেন, যা বেশ দক্ষতার সাথে তৈরি করা হয়।
- জিপসি পার্লার, ৩৭৬ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৫৫১-০০০১। পুরো ওয়েস্ট সাইডের বহুসংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং এমনকি এদের নিজেদের বৈচিত্র্যময় খাবারের মেনুর তুলনায় জিপসি পার্লারের মৃদু আলোর লাউঞ্জ বাররুমটিকে কিছুটা আলাদা মনে হতে পারে। তবে বৈচিত্র্যময় ঘোরাঘুরির মাঝে একটু ভিন্ন আমেজ চাইলে এটি দারুণ এক জায়গা। বিশেষ ককটেলের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় হলো "জিপসি জুস" (অ্যাপ্রিকট, আদা, লেবু ও ব্ল্যাককারেন্টের সাথে নিজের পছন্দের মদ মিলিয়ে তৈরি, যা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি উপাদেয়)।
- রিসার্জেন্স ব্রিউয়িং, ১২৫০ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ১২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৩৮১-৯৮৬৮। জনপ্রিয় এই ক্রাফট ব্রিউয়ারির মূল কারখানায় রয়েছে জার্মান ধাঁচের উন্মুক্ত বিয়ার গার্ডেন। সেখানে ঘরের তৈরি টাটকা ব্রিউ ও হালকা খাবারের সাথে বোচি খেলার কোর্ট ও আগুন পোহানোর ফায়ার পিট রয়েছে। শীতের সময় কার্যক্রম চলে ভেতরের ট্যাপ রুমে, যেখান থেকে বসে বিয়ার তৈরির কারখানা দেখা যায়।
- স্পোর্টস সিটি পিৎজা পাব, ১৪০৭ নায়াগ্রা স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ২৬ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৮৭১-৮০৮৮। বিকাশমান একটি এলাকার নিখুঁত প্রতিফলন এই স্পোর্টস সিটি পিৎজা পাব। আধুনিক তরুণদের জন্য প্রায় দুই ডজন ড্রাফট বিয়ার এবং বারের নিচে রঙিন এলইডি আলোর ছোঁয়া থাকলেও মূলত এটি সাধারণ পাড়ার এক আন্তরিক আড্ডাস্থল। নামের সাথে মিল রেখে এখানে এক ডজনেরও বেশি টেলিভিশন পর্দায় বিভিন্ন খেলা দেখানো হয়। বাফেলো বিলস ও সাবরেসের খেলার দিনে স্থানীয় দর্শকদের উল্লাসে পুরো বার গমগম করে।
- দ্য ট্যাবারনাকল, ২১১ লাফায়েট অ্যাভিনিউ (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৩-১৭৩৮। স্টেপ আউট বাফেলো পত্রিকা এই জায়গাকে স্বপ্নের মতো এক স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভেতরে পা রাখলেই বুঝতে পারবেন কেন; এখানকার প্রতিটি দেয়াল ও ছাদ উজ্জ্বল রঙের অদ্ভুত সব ফ্রেস্কো চিত্রে ঢাকা, যেন সুররিয়ালিস্ট কোনো আর্ট গ্যালারি। এটি আইরিশ পাবের এক অভিনব রূপ। এদের বিয়ারের তালিকায় গিনেস সবচেয়ে ওপরে, সাথে স্কচ ও আইরিশ হুইস্কির দারুণ সমাহার রয়েছে। এছাড়া হালকা খাবার এবং নিয়মিত গানের আসর বসে এখানে।
কফি শপ
- টেইলর্ড টি অ্যান্ড কফি, ৬৮ গ্রান্ট স্ট্রিট (গ্রান্ট স্ট্রিট বাজারে; মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ১২)। সোম থেকে শুক্র সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা, শনি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা, রবি সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। চা ও কফির পাশাপাশি গ্রান্ট স্ট্রিট বাজারের এই দোকানে রয়েছে সব পরিচিত ব্র্যান্ডের মিষ্টি সিরিয়ালের সমাহার, যা ছেলেবেলার সকালের নাস্তার স্মৃতি মনে করিয়ে দেবে। ১০-২৫ ডলার।
- সুইট_নেস ৭, ২২০ গ্রান্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩, ৭ বা ২৬), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৩-১৭৩৮। সোম থেকে শুক্র সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা, শনি সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা, রবি সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। ২০০৭ সাল থেকে প্রিশ মোরান গ্রান্ট স্ট্রিটের এই সুন্দর ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়ান ভবনে তার চমৎকার পুরোনো আমলের কফি শপটি পরিচালনা করছেন। শিল্পী, তরুণ সমাজ ও বাফেলো স্টেট কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে এটি অত্যন্ত প্রিয়। কফির পাশাপাশি এখানে তাজা স্যান্ডউইচ, সালাদ, স্যুপ, পিৎজা ও পেস্ট্রি পাওয়া যায়। এদের সকালের নাশতাও স্থানীয়দের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।
গ্রান্ট-অ্যামহার্স্ট
গ্রান্ট-অ্যামহার্স্টের বারগুলোর আধুনিকায়ন এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাই বাফেলোর সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের অকৃত্রিম জীবনধারা দেখার জন্য এটি দারুণ এক জায়গা। বিলস ও সাবরেসের খেলার দিনে এই পানশালাগুলোতে পা ফেলার জায়গা থাকে না, আর ভালো ফিশ ফ্রাই চাইলে এখানকার বারগুলো সেরা পছন্দ।
- ব্যারি'স বার অ্যান্ড গ্রিল, ২৭৭ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৩-১২০৬। ব্যারিস হলো পাড়ার এমন এক সহজ-সরল ঠেক যেখানে রাজমিস্ত্রি থেকে শুরু করে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সবাই মিলে সস্তায় ঠান্ডা বিয়ার খেতে আসেন। তবে এদের জনপ্রিয়তার মূল কারণ এদের দারুণ খাবারের মেনু, যার মধ্যে ইউয়েংলিং বিয়ারের ব্যাটারে ভাজা সুস্বাদু ফিশ ফ্রাই অন্যতম। তবে কর্মীদের কাছ থেকে খুব বেশি মিষ্টি ব্যবহারের আশা করবেন না, এরা সাধারণত একটু গম্ভীর প্রকৃতির।
- ব্ল্যাকবার্ড সিডার হল, ১৫৫ চ্যান্ডলার স্ট্রিট, স্যুইট ৪ (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-২৪০-৯৬৮৯। চ্যান্ডলার স্ট্রিটের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই সিডার হলটি নায়াগ্রা কাউন্টির বিখ্যাত সিডার প্রস্তুতকারকদের দ্বিতীয় শাখা (মূল শাখাটি বার্কারের ফলের বাগানের পাশে)। এখানে ৩০টিরও বেশি নিজস্ব ও স্থানীয় সিডার এবং বিয়ার পাওয়া যায়। পুরোনো কারখানার ঐতিহাসিক দেওয়ালঘেরা অন্দরমহলে বসে পান করতে পারেন, অথবা শরতের হিমেল সন্ধ্যায় বাইরের চত্বরে ফায়ার পিটের উষ্ণতায় বসে বোচি খেলায় মেতে উঠতে পারেন।
- কেসি'স ব্ল্যাক রক, ৪৮৪ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৪৩৬-৬৯৫৯। ব্যাপক সংস্কারের পর ঐতিহ্যবাহী কেসি'স ট্যাভার্ন নতুন উদ্যমে ফিরে এসেছে। নিছক সাধারণ মদের দোকান নয়, নতুন মালিকরা একে রূপ দিয়েছেন পুরোনো আমলের আর্কেড গেমের স্বর্গরাজ্যে। এখানে চারটি পিনবল মেশিন এবং সাবেকি প্যাক-ম্যান আর্কেড কনসোল রয়েছে। বিয়ারের তালিকা ও ক্ল্যাসিক ককটেল চমৎকার, আর খাবারের প্রশংসা করেছে স্থানীয় পত্রিকাগুলো (ক্ষুধা বেশি থাকলে চিকেন অ্যান্ড ওয়াফেল বাকেট ট্রাই করতে পারেন)। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এটি ক্যানসাস সিটি চিফস দলের সমর্থক বার; বাফেলোর মতো শহরে বিলসের ঘোর সমর্থকদের মাঝে অন্য দলের ঘাঁটি গড়ার সাহস সত্যিই প্রশংসনীয়।
- দ্য ড্যাপার গুজ, ৪৯১ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৫৫১-০৭১৬। খাবারের সুনাম থাকলেও ড্যাপার গুজের মূল খ্যাতি এদের বারের জন্য। প্যাস্টেল রঙের গ্রামীণ ডাইনিং রুমে পরিবেশন করা হয় বাছাই করা চমৎকার সব ককটেল, যাতে লকহাউস ও টমিরটারের মতো স্থানীয় ডিস্টিলারির উৎপাদিত মদ প্রাধান্য পায়। এছাড়া ফরাসি ও ইউরোপীয় ওয়াইনের এক সমৃদ্ধ সংগ্রহ এবং ক্রাফট বিয়ার ও সিডারও পাওয়া যায়।
- হট মামা'স ক্যান্টিন, ১২ মিলিটারি রোড (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৭৮৩-৮২২২। হট মামার বারে যেমন নানা পদের ড্রাফট বিয়ার রয়েছে, তেমনই রয়েছে পুরোনো আমলের শাফलबোর্ড টেবিল। সহ-মালিক ভ্যালেরি মেলি ও জেফ ডেভিস এখানে অ্যালেনটাউনের মতো এক প্রাণবন্ত আবহ তৈরি করেছেন, যা পুরোনো দিনের ক্লাসিক রেট্রো মেজাজের কথা মনে করিয়ে দেয়।
- দ্য ফিনিক্স অ্যাট ২৬৯, ২৬৯ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৪৪৭-১১০০। এদের মূল খাবারের সাথে পাল্লা দিয়ে বারেও রয়েছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। ওয়াইন ও স্পেশাল ককটেলের চমৎকার নির্বাচন এবং স্থানীয় বোতলজাত ক্রাফট বিয়ারের ভালো সমাহার মিলবে এখানে।
- রোহল'স কর্নার, ৫৪০ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ২০ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৯৩৯-২০৮৭। অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটের বারগুলোর মধ্যে রোহলস যেন সব মহলের মেলবন্ধন। পরিবেশটি মোটেই মলিন নয়, বরং ১৯৫০ বা ৬০-এর দশকের পুরোনো কোনো কর্নার ট্যাভার্নে ফিরে আসার অনুভূতি জাগায়। বারে বসলে বিদেশি বিয়ার, স্থানীয় মাইক্রোব্রিউ এবং পরিচিত ক্লাসিক বিয়ারের সমাহার পাবেন। আর পেছনের ঘরে গিয়ে পুল খেলতে পারেন, পিয়ানো বাজাতে পারেন কিংবা উপভোগ করতে পারেন লাইভ মিউজিক।
- থিন ম্যান ব্রিউয়ারি, ১৬৬ চ্যান্ডলার স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-৩৯৩-৪৩৫৩। ডাউনটাউনের তাপ্পো ও এলমউডের থিন ম্যানের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই শাখায় কাঠের চুলোয় সেঁকা পিৎজার পাশাপাশি রয়েছে থিন ম্যানের চমৎকার বিয়ারের সম্ভার। এখানে মূলত নিজেদের ব্রিউ করা বিয়ার ও নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সিডার ড্রাফটে পরিবেশন করা হয়। মিক্সড ড্রিঙ্কসও পাওয়া যায়, তবে পরিমাণের তুলনায় দাম কিছুটা চড়া।
- ইউক্রেনীয়-আমেরিকান সিভিক সেন্টার (নারোদনি দিম), ২০৫ মিলিটারি রোড (মেট্রো বাস ৩ বা ২৩), ☏ +১ ৭১৬-৮৭৭-৭২০০। বাফেলোর প্রাচীন সামাজিক ক্লাবগুলোর অন্যতম শেষ প্রতিনিধি হলো এই "ইউকি ক্লাব"। এটি শুধুমাত্র বৃহস্পতি ও শুক্রবার খোলা থাকে এবং এখানে ঢুকতে হলে সদস্য হতে হয় অথবা কোনো সদস্যের সুপারিশ লাগে (আগে থেকে ফোন করে কথা বলে নিলে সাধারণত ব্যবস্থা হয়ে যায়)। তবে শুক্রবারের দিন আসা সত্যিই সার্থক; কারণ এ দিন মারিয়ার হাতের তৈরি শহরের সেরা পিরোহি ও হোলুবৎসি পাওয়া যায় বরফ-শীতল ইউক্রেনীয় ও পোলিশ বিয়ারের সাথে। ছুটির মৌসুমে বাফেলো ডিস্টিলিং কোম্পানির তৈরি বিশেষ ক্রুপনিকও মেলে এখানে।
- ওয়াক্সলাইট বার আ ভ্যাঁ, ২৭ চ্যান্ডলার স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২)। এদের ওয়াইনের তালিকা বাফেলোর যেকোনো জায়গার চেয়ে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। কোন ওয়াইনটি আপনার খাবারের সাথে মানাবে তা বুঝতে না পারলে কর্মীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে পরামর্শ দেন। চায়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এদের সৃজনশীল ককটেলগুলোও সমান প্রশংসার দাবিদার।
কফি শপ ও জুস বার
- অ্যাশকার'স, ৪১৪ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৩ বা ৩২), ☏ +১ ৭১৬-২৩৫-৮৩২৮। সোম থেকে শনি সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা। এই স্থানীয় জুস বার চেইনের বিস্তারিত বিবরণের জন্য মূল বাফেলো নিবন্ধ দেখুন।
প্রসপেক্ট হিল, ফাইভ পয়েন্টস ও লোয়ার ওয়েস্ট সাইড
ডি'ইউভিল কলেজ প্রসপেক্ট হিলে অবস্থিত এবং এখানে বহু শিক্ষার্থীর বাস হলেও বাফেলো স্টেট বা ইউবি সাউথ ক্যাম্পাসের মতো এখানে পানশালার তেমন ভিড় গড়ে ওঠেনি। এর প্রধান কারণ হলো এলমউড ভিলেজ ও অ্যালেনটাউনের রাতের আড্ডা এখান থেকে খুব কাছেই। ফাইভ পয়েন্টসে কয়েকটি আড্ডার জায়গা রয়েছে, তবে সেগুলো মূলত তরুণ ফ্যাশনপ্রেমীদের আস্তানা, চিরাচরিত ছাত্রাবাসের বার নয়।
- দ্য ব্ল্যাক শিপ, ৩৬৭ কানেটিকাট স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৭), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৪-১১০০। স্থানীয় খাবারের সুস্বাদু পদের পাশাপাশি এখানে কমিউনিটি বিয়ার ওয়ার্কসের বাছাই করা বিয়ার পরিবেশন করা হয়। পুরোনো ভবন সংস্কারের সময় উদ্ধার করা প্রাচীন কাঠ দিয়ে তৈরি এদের বারে বসার অভিজ্ঞতা বেশ মনোরম।
- কমিউনিটি বিয়ার ওয়ার্কস, ৫২০ ৭ম স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৫, ২২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৭৫৯-৪৬৭৭। বাফেলোর প্রথম ন্যানোব্রিউয়ারি হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও লোয়ার ওয়েস্ট সাইডের এই বিশাল নতুন কারখানায় আসার পর সেই ক্ষুদ্র পরিচয় আর খাটে না। কারখানার সাথে লাগোয়া ট্যাপরুমে একসঙ্গে ২০টি বিয়ার ট্যাপে চালু থাকে, যার মধ্যে "ফ্র্যাঙ্ক" এবং "দ্য হোয়েল" সবচেয়ে বিখ্যাত। সাথে হালকা খাবার ও একটি গেম রুমও রয়েছে।
- এসেক্স স্ট্রিট পাব, ৫৯০ রোড আইল্যান্ড স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-৮৮৩-২১৫০। হৈচৈহীন নির্ভেজাল আড্ডার জন্য এসেক্স পাবের কোনো তুলনা নেই। ছিমছাম এই বারে সস্তায় পানীয়, ঘরে তৈরি বারবিকিউ, দুটি পুল টেবিল ও ডার্টবোর্ড রয়েছে। চিৎকার না করে শান্তিতে কথা বলার জন্য এটি দারুণ জায়গা। সোমবার রাতে ভিনাইল রেকর্ডের ডিজে সেট এবং মঙ্গলবার রাতে কারাওকের আসর বসে।
কফি শপ ও জুস বার
ডি'ইউভিল এলাকায় বারের ঘাটতি থাকলেও প্রসপেক্ট হিল ও ফাইভ পয়েন্টসের কফি শপের সংস্কৃতি পুরো বাফেলোর মধ্যে অন্যতম সেরা এবং দারুণ আধুনিক।
- রেমেডি হাউস, ৪২৯ রোড আইল্যান্ড স্ট্রিট (মেট্রো বাস ৭ বা ১২), ☏ +১ ৭১৬-২৫০-৭৭২৪। সোম থেকে বৃহস্পতি সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা, শুক্র ও শনি সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা, রবি সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা। বাফেলোর আধুনিক তরুণ সংস্কৃতির সবচেয়ে খাঁটি রূপ দেখা যায় এখানে। দুই পাশের বিশাল কাচের জানালা দিয়ে ফাইভ পয়েন্টসের মোড় দেখতে দেখতে উপভোগ করতে পারেন নিখুঁত রোস্ট করা কফি ও সুস্বাদু চা (বিশেষ করে কর্টাডো অসাধারণ)। স্থানীয় বেকারির পেস্ট্রি এবং বিয়ার ও ওয়াইনও মিলবে। কর্মীদের অমায়িক ও আন্তরিক ব্যবহারে মন ভরে যায়। জায়গাটি ছোট হওয়ায় ব্যস্ত সময়ে কিছুটা ভিড় হতে পারে, তবে ফুটপাতের প্যাটিওতে বসে আরামে সময় কাটানো যায়।
- তিপিকে কফি, ১২৮ ফার্গো অ্যাভিনিউ (মেট্রো বাস ৩, ৫, ২২ বা ৪০), ☏ +১ ৭১৬-৩৩১-৩৯৫৪। সোম থেকে শুক্র সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা, শনি সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা, রবি সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা। একটি শান্ত আবাসিক পাড়ার মাঝে অবস্থিত তিপিকে লোয়ার ওয়েস্ট সাইডের সবচেয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত কফি শপ; বাফেলোর বহু নামিদামি রেস্তোরাঁয় এদের কফি পরিবেশন করা হয়। স্থানীয়ভাবে রোস্ট করা এদের কফি দারুণ ঘন ও কড়া। তবে দাম কিছুটা চড়া এবং গ্রীষ্মকালে মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত জানালা খোলা রাখায় ঘরের ভেতরে মাছির উপদ্রব হতে পারে। পরিবেশটি একটু সাদামাটা ও বোহেমিয়ান ধাঁচের।
আর বিড়ালপ্রেমীদের জন্য নায়াগ্রা স্ট্রিটে রয়েছে...
ব্ল্যাক রক ও রিভারসাইড
ব্ল্যাক রক ও রিভারসাইডের বারগুলো সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আড্ডাস্থল। কোনো কৃত্রিম আভিজাত্য নেই, সারাদিনের পরিশ্রম শেষে পাড়ার মানুষ এখানে ঠান্ডা বিয়ারে চুমুক দিতে আসেন। স্থানীয় মানুষের অকৃত্রিম জীবন দেখতে চাইলে এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হয় না।
থাকার জায়গা
পোর্টার অ্যাভিনিউ পিয়ে-আ-তের বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রায় এক দশক ধরে ওয়েস্ট সাইডে থাকার মতো নিজস্ব কোনো হোটেল ছিল না। ২০১৮ সালে ওয়াডসওয়ার্থ স্ট্রিটের সাবেক ডক্টর হাবার্ড এ. ফস্টার হাউসটিকে একটি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্টে রূপান্তরের মাধ্যমে সেই অভাব দূর হয়। এটি পছন্দ না হলে সবচেয়ে কাছের হোটেলগুলো ডাউনটাউনে অবস্থিত। আর কম খরচে থাকতে চাইলে উত্তরে টোনাওয়ান্ডায় পাঁচ মিনিটের পথ গেলেই ইন্টারস্টেট ১৯০-এর ১৫ নম্বর এক্সিট ও ইন্টারস্টেট ২৯০-এর ১ নম্বর এক্সিটের আশেপাশে বেশ কিছু সাশ্রয়ী মোটেল পেয়ে যাবেন।

বাফেলো হারমনি হাউস ওয়েস্ট সাইডের একমাত্র থাকার জায়গা হলেও এটি পুরো শহরের অন্যতম সেরা বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট। (ছবি: Andre Carrotflower, CC BY-SA 4.0)
যোগাযোগ
আপার ওয়েস্ট সাইডের ৪৬৫ গ্রান্ট স্ট্রিটে রয়েছে টেমপ্লেট:Marker।
ওয়াইফাই (WiFi) ব্যবহারের প্রয়োজন হলে ওয়েস্ট সাইডে অবস্থিত দুটি পাবলিক লাইব্রেরির যেকোনো একটিতে যাওয়া সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি: একটি হলো প্রসপেক্ট পার্কের কাছে ২৮০ পোর্টার অ্যাভিনিউতে অবস্থিত টেমপ্লেট:Marker, এবং অন্যটি হলো ৮২০ টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিটে অবস্থিত টেমপ্লেট:Marker। ওয়াইফাই ছাড়াও বাফেলোর সব পাবলিক লাইব্রেরিতে ইন্টারনেট সুবিধাসহ কম্পিউটার টার্মিনাল রয়েছে (ইসাইয়াস গনসালেস-সোতোতে ১৮টি এবং এলেইন এম. প্যান্টিতে ১১টি), যা সবার জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য।
নিরাপত্তা
১৯৯০-এর দশক থেকে বাফেলোয় অপরাধের হার ধারাবাহিকভাবে কমলেও সমআকারের মার্কিন শহরগুলোর জাতীয় গড়ের তুলনায় এটি এখনো বেশ বেশি। ওয়েস্ট সাইড নাকি ইস্ট সাইড কোথায় অপরাধ বেশি, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সরকারি পরিসংখ্যানে দুই এলাকা কাছাকাছি হলেও ইস্ট সাইড সম্ভবত কিছুটা বেশি বিপজ্জনক। একদিকে ইস্ট সাইডে পুলিশের প্রতি দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও সন্দেহের কারণে অনেক অপরাধের ঘটনাই পুলিশের অগোচরে থেকে যায়; অন্যদিকে ওয়েস্ট সাইডে নবীন উদ্যমী তরুণ মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানকার অপরাধের ঘটনা অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি নিয়মিতভাবে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা হয়।
তা সত্ত্বেও ওয়েস্ট সাইডে অপরাধ যে এখনো একটি গুরুতর সমস্যা, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এই হুমকি কতটা মারাত্মক তা মূলত নির্ভর করে আপনি ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন এবং সময়টি কখন। দুঃখজনক হলেও সত্যি, ওয়েস্ট সাইডের মূল প্রাণকেন্দ্র গ্রান্ট-ফেরি এলাকাটিই এখানকার সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চল। বিশেষ করে হ্যাম্পশায়ার স্ট্রিট ও অবার্ন অ্যাভিনিউয়ের মাঝামাঝি গ্রান্ট স্ট্রিটের অংশে চুরি, ছিনতাই এবং মাঝেমধ্যে সহিংস অপরাধের ঘটনা দুঃখজনকভাবে নিয়মিতই ঘটে থাকে। অন্যান্য সমস্যাবহুল এলাকার মধ্যে রয়েছে লোয়ার ওয়েস্ট সাইড (বিশেষ করে কানেটিকাট স্ট্রিটের উত্তরের এবং ১৫তম স্ট্রিটের পশ্চিমের ব্লকগুলো) এবং ব্ল্যাক রক (অস্টিন স্ট্রিট ও হার্টেল অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী নায়াগ্রা স্ট্রিটের অংশ)। আপনি যদি বাফেলো ভ্রমণে আসেন, তবে এই বর্ণিল এলাকাগুলোর সৌন্দর্য অবশ্যই উপভোগ করুন, তবে একটু সাধারণ সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। গাড়িতে কোনো মূল্যবান জিনিস কখনোই বাইরে থেকে দৃশ্যমান রাখবেন না এবং গাড়ি সব সময় লক করে রাখুন; কোনো পরিবেশ অস্বস্তিকর মনে হলে নিজেকে সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিন। এছাড়া সন্ধ্যার পর পায়ে হেঁটে একা ঘোরাঘুরি থেকে বিরত থাকুন গ্রান্ট-ফেরির মতো যেসব এলাকা দিনের আলোতে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রাণবন্ত মনে হয়, সূর্য ডোবার পর তা বেশ অনিরাপদ রূপ ধারণ করতে পারে। অন্ততপক্ষে পর্যাপ্ত আলোযুক্ত প্রধান রাস্তা ধরে চলুন এবং চারপাশের গতিবিধির ওপর সতর্ক নজর রাখুন।
তুলনামূলকভাবে, অপরাধের দিক থেকে রিভারসাইড ও ফাইভ পয়েন্টস মোটামুটি মাঝারি মানের, আর প্রসপেক্ট হিল এবং গ্রান্ট-অ্যামহার্স্টে অপরাধের হার একেবারেই কম।
বাফেলোর অন্যান্য এলাকার তুলনায় এখানে ভিক্ষাবৃত্তির সমস্যা তেমন তীব্র নয়। রিভারসাইডের টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিটের আশ্রয়কেন্দ্রের আশপাশে মাঝেমধ্যে দু-একজনকে দেখা যেতে পারে, আর ওয়েস্ট সাইড বাজারে কখনো কখনো কিছু ভিক্ষুক বিরক্তির কারণ হতে পারে। তবে আপাতত এগুলো সাধারণ কোনো চিত্র নয়, বরং নিতান্তই ব্যতিক্রম। বাফেলোর অন্যান্য অংশের মতো এখানেও জোরজবরদস্তিমূলক ভিক্ষাবৃত্তি প্রায় চোখেই পড়ে না; সাহায্য দিতে না চাইলে সরাসরি এক কথায় দৃঢ়ভাবে "না" বলাই যথেষ্ট।
জরুরি সেবা
সংবাদপত্র
ওয়েস্ট সাইড টাইমস এবং রিভারসাইড রিভিউ নিজ নিজ এলাকার স্থানীয় খবর ও ব্যবসা-বাণিজ্যের খবরাখবর জানার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
হাসপাতাল
সবচেয়ে কাছের হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিকেল করিডোরের ১০০ হাই স্ট্রিটে অবস্থিত বাফেলো জেনারেল হসপিটাল এবং টোনাওয়ান্ডার ২৯৫০ এলমউড অ্যাভিনিউতে অবস্থিত কেনমোর মার্সি হসপিটাল।
জরুরি নয় এমন সাধারণ তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজনে লোয়ার ওয়েস্ট সাইডের জার্সি ও পেনসিলভেনিয়া স্ট্রিটের মাঝে ৫৬৪ নায়াগ্রা স্ট্রিটে রয়েছে টেমপ্লেট:Marker।
গ্রান্ট-ফেরি ও আপার ওয়েস্ট সাইড
প্রসপেক্ট হিল, ফাইভ পয়েন্টস ও লোয়ার ওয়েস্ট সাইড
ব্ল্যাক রক ও রিভারসাইড
রোমান ক্যাথলিক
ওয়েস্ট সাইডে ক্যাথলিক গির্জার এক শক্তিশালী উপস্থিতি এখনো বিদ্যমান থাকলেও এলাকার ধর্মীয় জীবনে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য হিস্পানিক ইভানজেলিকালিজমের উত্থানের কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইস্ট সাইডের মতো অতটা তীব্র না হলেও, যেসব রাজকীয় গির্জায় একসময় ক্যাথলিক ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হতো তার অনেকগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে এবং নানা নতুন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে; যেমন ব্ল্যাক রকের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সাবেক সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার, যা বর্তমানে বাফেলো রিলিজিয়াস আর্টস সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, কিংবা হার্টেল অ্যাভিনিউয়ের সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্ট।
এছাড়া ভৌগোলিকভাবে ডাউনটাউনের অংশ হিসেবে গণ্য হলেও, সেন্ট অ্যান্থনি অব পাদুয়া রোমান ক্যাথলিক চার্চে প্রতি সপ্তাহের ইতালীয় ভাষার মাস ৫০ বা ৬০ বছর আগের ওয়েস্ট সাইড কেমন ছিল তার স্বাদ পাওয়ার এক দারুণ সুযোগ। পুরোনো দিনের লোয়ার ওয়েস্ট সাইডের বাসিন্দারা এখনো সেখানে ভিড় জমান প্রতিবেশীদের সাথে কুশল বিনিময় করতে এবং অতীতের সোনালী দিনের স্মৃতিচারণে মেতে উঠতে।
গ্রান্ট স্ট্রিট থেকে এক ব্লক পূর্বে অ্যামহার্স্ট স্ট্রিটের ওপর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে চার্চ অব দ্য অ্যাজাম্পশনের জোড়া চূড়া। (ছবি: Andre Carrotflower, CC BY-SA 3.0)
প্রোটেস্ট্যান্ট
এগুলো মূলত ব্ল্যাক রক ও রিভারসাইড এলাকায় কেন্দ্রীভূত, যেখানে ওয়েস্ট সাইডের অবশিষ্ট প্রোটেস্ট্যান্টদের সিংহভাগ বসবাস করেন।
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
হিস্পানিক প্রোটেস্ট্যান্ট
লাতিন বা হিস্পানিক সম্প্রদায় এখনো বিপুলভাবে ক্যাথলিক হলেও ইভানজেলিকাল প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মমত বাফেলোর হিস্পানিকদের মাঝেও দ্রুত প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। ওয়েস্ট সাইডের হিস্পানিক প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জাগুলো মাঝেমধ্যে মূল গির্জা ভবনে উপাসনা করার মতো বড় হলেও (যেমনটি ইস্ট সাইডের আফ্রিকান-আমেরিকান গির্জাগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়), বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো ছোট ছোট ধর্মসভা যা রূপান্তরিত দোকানঘর কিংবা বসতবাড়িতে বসে থাকে। এই তালিকায় স্থান দেওয়ার মতো গির্জার সংখ্যা অনেক বেশি; নিচে সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উল্লেখ করা হলো। উল্লেখ না থাকলে সমস্ত উপাসনা সাধারণত স্প্যানিশ ভাষায় অনুষ্ঠিত হয়।
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
- টেমপ্লেট:Listing
কৃষ্ণাঙ্গ চার্চ
অর্থোডক্স
যিহোবার সাক্ষী
মুসলিম
আফ্রিকার শৃঙ্গসহ (হর্ন অব আফ্রিকা) বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা অভিবাসীদের অবিরাম আগমনের ফলে ওয়েস্ট সাইড পশ্চিম নিউ ইয়র্কের মুসলিম সংস্কৃতির এক বিকাশমান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
পরবর্তী গন্তব্য
ফ্রিডম পার্ক এবং বার্ড আইল্যান্ড পিয়ার থেকে নদীর ওপারে তাকালে যা চোখে পড়ে, তা হলো অন্টারিওর ফোর্ট ইরি। শিল্পনগরী ওয়েস্ট সাইড থেকে খুব কাছে হলেও ফোর্ট ইরি যেন একেবারেই অন্য এক ভুবন। এই ছোট্ট ও মনোরম শহরে সবার জন্যই কিছু না কিছু আছে: পায়ে হেঁটে ঘোরার মতো ছিমছাম ডাউনটাউন, ১৮১২ সালের যুদ্ধে অংশ নেওয়া সতর্কতার সাথে পুনর্নির্মিত ঐতিহাসিক দুর্গ ওল্ড ফোর্ট ইরি, রোমাঞ্চকর ঘোড়দৌড়ের মাঠ ফোর্ট ইরি রেসট্র্যাক, এবং একটু দূরে দিগন্তজোড়া কৃষিজমি ও ইরি হ্রদের তীরের কানাডার সেরা কিছু মিষ্টি জলের সৈকত। এছাড়া ফোর্ট ইরি হলো নদী তীরবর্তী ৫৪ কিমি (৩৪ মাইল) দীর্ঘ অপূর্ব সুন্দর সাজানো সড়ক নায়াগ্রা পার্কওয়ের দক্ষিণ প্রান্ত, যা স্বয়ং স্যার উইনস্টন চার্চিলের ভাষায় ছিল "রবিবারের বিকেলে গাড়ি ভ্রমণের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা।"
ভাবছেন এই নিবন্ধে বারবার উল্লেখ করা সেই পুরোনো ইতালীয়রা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেলেন? কিংবা হয়তো ব্ল্যাক রকের ফাসো'স বা প্রসপেক্ট হিলের আর্মোরি রেস্তোরাঁয় তৃপ্তিদায়ক রাতের খাবার শেষ করে আরও নতুন কিছুর সন্ধানে আছেন? তবে সোজা চলে যান নর্থ বাফেলোয়, যা বাফেলোর নিজস্ব লিটল ইতালি। হার্টেল অ্যাভিনিউ হলো পিৎজার দোকান, ঘরোয়া ইতালীয় রেস্তোরাঁ, চমৎকার আমদানি করা পণ্যের বুটিক এবং এমন সব বারে জমজমাট এক রাস্তা যা জার্সি শোর অনুষ্ঠানের কলাকুশলীদেরও গর্বিত করবে। তবে নর্থ বাফেলো কেবল এতেই সীমাবদ্ধ নয়: এখানে আরও রয়েছে পার্কসাইড, সেন্ট্রাল পার্ক ও পার্ক মেডোর বিশ্বমানের স্থাপত্যকলা, ইউনিভার্সিটি হাইটসের প্রাণবন্ত ছাত্রছাত্রীদের আড্ডা, এবং জলপ্রপাতের পর নায়াগ্রা ফ্রন্টিয়ারের দ্বিতীয় সর্বাধিক পরিদর্শন করা পর্যটন আকর্ষণ বাফেলো চিড়িয়াখানা।
আগামী দশ বছরে ওয়েস্ট সাইড দেখতে কেমন হতে পারে তার একটা পূর্বরূপ দেখতে চান? তবে এক ঝলক দেখে আসতে পূর্ব দিকে অ্যালেনটাউনে চলে যান। গাছপালায় ঘেরা শান্ত গলিগুলোতে দেখতে পাবেন এক ও দুই তলাবিশিষ্ট ভিক্টোরীয় আমলের চমৎকার লাল ইটের কটেজ যা লোয়ার ওয়েস্ট সাইড এবং প্রসপেক্ট হিলেও আছে, তবে অ্যালেনটাউনে এগুলো অনেক বেশি সুসংরক্ষিত ও সুন্দর। গ্রান্ট-অ্যামহার্স্টের আর্ট গ্যালারির ভক্তরা বাফেলোর এই শিল্পকলা জগতের কেন্দ্রবিন্দুতে এলে মুগ্ধ হবেন। অ্যালেন স্ট্রিটের জমজমাট নৈশজীবনও ওয়েস্ট সাইডের সীমিত বারের চেয়ে অনেক এগিয়ে: ফ্যাশনেবল তরুণ, স্থানীয় সঙ্গীতের অনুরাগী এবং শহরের নানা বৈচিত্র্যময় মানুষের জন্য এটি বাফেলোর প্রধান গন্তব্য।
সবশেষে, যাঁদের অনাবিষ্কৃত রত্নের প্রতি টান রয়েছে এবং ব্ল্যাক রকের রাজকীয় গির্জা সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার ও সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্টের মতো স্থাপত্যের ভক্ত তাঁরা ঘুরে আসতে পারেন ইস্ট সাইড থেকে। স্থানীয়রা হয়তো অপরাধ, দারিদ্র্য আর ধ্বংসের গল্প শুনিয়ে আপনাকে ভয় দেখাতে চাইবে, এবং সত্যি বলতে ইস্ট সাইডের এমন দুর্নাম সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনও নয়। তবে মেইন স্ট্রিটের পূর্ব দিকে বিনিয়োগ আর পুনর্বাসন প্রকল্পগুলোকে বাধাগ্রস্ত করা দীর্ঘদিনের সামাজিক কুখ্যাতি কিন্তু স্থাপত্যের দিক থেকে চোখধাঁধানো গির্জা যেমন সেন্ট অ্যান ও সেন্ট স্ট্যানিসলাস, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী জাতিগত বাজার ব্রডওয়ে মার্কেট, কিংবা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান যেমন বাফেলো মিউজিয়াম অব সায়েন্স ও কালার্ড মিউজিশিয়ানস ক্লাবের আবেদনকে এতটুকুও ম্লান করতে পারেনি। এগুলো শহরের সত্যিকারের লুকানো গুপ্তধন, তাই স্থানীয়দের অনেকেই যা দেখতে ভুল করেন, সেই সুযোগ আপনি কেন হাতছাড়া করবেন?
টেমপ্লেট:Guidedistrict
টেমপ্লেট:Geo
এই পাতা কোথা থেকে এসেছে
এই পাতাটি উইকিভ্রমণ থেকে আনা হয়েছে। “বাফেলো/ওয়েস্ট সাইড” — উইকিভ্রমণ থেকে, এর অবদানকারীদের লেখা, CC BY-SA 4.0 লাইসেন্সে। এখানে যা বদলানো হয়েছে: পাতা হিসেবে সাজানো; সম্পাদনা-লিংক, মানচিত্র ও তালিকার মেটাডেটা বাদ; প্রতিটি ছবি নিজস্ব লাইসেন্সে, ক্যাপশনে উল্লেখসহ।
এটি এখনও কেউ লেখেননি: এটি নতুন ঠিকানায় রাখা মূল উপাদান, তাই সার্চ ইঞ্জিনকে এটি সূচিভুক্ত না করতে বলা হয়েছে এবং এ থেকে কেউ আয় করেন না। পাতাটি খালি: দায়িত্ব নিন, তাহলে এটি নতুন করে লেখা ও এ থেকে আয় করা আপনার।
Лицензия: CC BY-SA 4.0 · По материалам bn.wikivoyage.org
1
0
0
0

Комментарии






